০৭:৪১ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
স্কুলে সহিংসতা ঠেকাতে আগে বদলাতে হবে আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি জেন জি-র ‘ফ্রেন্ডস’ বানানোর চেষ্টা চলছে, কিন্তু কেন তা অসম্ভব সঙ্কুচিত পোশাক কি নষ্ট না করেই আগের মাপে ফেরানো সম্ভব? ডায়মন্ড লিগের ফাইনালে তৃতীয় অ্যামি হান্ট, দুর্দান্ত ছন্দে ছুটছেন ব্রিটিশ তারকা মারাঠি না জানলে ঝুঁকিতে লাইসেন্স, মহারাষ্ট্রে ট্যাক্সি ও অটোরিকশাচালকদের মিলল আরও এক বছর বয়স বাড়লেই জীবন থেমে যায় না, বরং আসে নিজের মতো বাঁচার স্বাধীনতা: প্রু লেইথ দাঁতের চিকিৎসকের কাছে যাওয়ার পথে বজ্রপাতে আহত, ‘ভয়াবহ’ অভিজ্ঞতার কথা জানালেন নিউইয়র্কের যুবক পেন্টাগনের নিয়ন্ত্রণ কি হারাচ্ছেন পিট হেগসেথ? আফ্রিকার প্রকৃত আয়তন তুলে ধরা মানচিত্রের পক্ষে জাতিসংঘের ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত সন্তান হত্যার মামলায় রায় হয়নি, লিন্ডসে ক্ল্যান্সিকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে তীব্র বিতর্ক

ঈদের উৎসব নয়, হাসপাতালের শয্যায় লড়াই

দেশজুড়ে ঈদুল আজহার আনন্দ-উৎসব চললেও অনেক পরিবারের কাছে এবারের ঈদ হয়ে উঠেছে উদ্বেগ আর অপেক্ষার সময়। কারণ চলমান হামের প্রাদুর্ভাবের মধ্যে অসংখ্য শিশু হাসপাতালের শয্যায় চিকিৎসাধীন। নতুন পোশাক, আত্মীয়স্বজনের সঙ্গে দেখা কিংবা ঈদের আনন্দ—সবকিছুই তাদের জন্য এখন দূরের বিষয়।

দেশের বিভিন্ন হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে প্রতিদিন নতুন রোগী ভর্তি হচ্ছে। চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীরাও ছুটির দিনেও দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন আক্রান্ত শিশুদের সেবা দিতে। ফলে হাসপাতালের ভেতরের পরিবেশ ঈদের উৎসবের চেয়ে অনেক বেশি উদ্বেগময়।

হাসপাতালে কাটছে ঈদ

নরসিংদীর পীরপুর এলাকার চার মাস বয়সী মোস্তাকিম গত ছয় দিন ধরে বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন। শনিবার তার শ্বাসকষ্ট মারাত্মক আকার ধারণ করলে দ্রুত নিবিড় পরিচর্যার প্রয়োজন দেখা দেয়। তবে শয্যা সংকটের কারণে কিছু সময় সাধারণ ওয়ার্ডেই থাকতে হয় তাকে। পরে তাকে এমন একটি হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়, যেখানে হামে আক্রান্ত শিশুদের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। পরিবারের সদস্যরা আশা করছেন, উন্নত চিকিৎসার মাধ্যমে তার অবস্থার উন্নতি হবে।

একই হাসপাতালে প্রায় এক বছর বয়সী রিফাতও টানা ১৩ দিন ধরে চিকিৎসাধীন। ঢাকার কলাবাগান এলাকার এই শিশুর মা নিজের সব কাজ স্থগিত রেখে সন্তানের পাশে অবস্থান করছেন। ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করার বদলে হাসপাতালের বিছানার পাশে বসেই কাটছে তার সময়।

অনেক পরিবারের একই গল্প

হাসপাতালের ওয়ার্ডগুলোতে এখন প্রায় সব শয্যাই রোগীতে পূর্ণ। করিডোরজুড়ে উদ্বিগ্ন অভিভাবকদের উপস্থিতি। বাইরে ঈদের আনন্দ থাকলেও ভেতরে প্রতিটি পরিবারের একটাই প্রত্যাশা—সন্তান দ্রুত সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরুক।

অভিভাবকদের অনেকেই বলছেন, এবারের ঈদ তাদের কাছে উৎসবের নয়, বরং সন্তানের সুস্থতার জন্য অপেক্ষার সময়। চিকিৎসা সরঞ্জামের শব্দ আর চিকিৎসকদের ব্যস্ততা যেন তাদের ঈদের বাস্তবতা হয়ে উঠেছে।

প্রতিদিন হাজারের বেশি নতুন রোগী

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, শনিবার সকাল ৮টা পর্যন্ত আগের ২৪ ঘণ্টায় হাম-সদৃশ উপসর্গে আরও ৮ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এর ফলে গত ১৫ মার্চ থেকে মোট মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৫৮৩ জনে।

এর মধ্যে সন্দেহভাজন হামজনিত মৃত্যুর সংখ্যা ৪৯৩ এবং নিশ্চিত হামে মৃত্যুর সংখ্যা ৯০। নিশ্চিত মৃত্যুর সংখ্যা অপরিবর্তিত থাকলেও নতুন মৃত্যুগুলো পরিস্থিতির উদ্বেগ আরও বাড়িয়েছে।

একই সময়ে নতুন করে ১ হাজার ৩৩ জন সন্দেহভাজন হাম রোগী শনাক্ত হয়েছে। ফলে মোট সন্দেহভাজন আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬৯ হাজার ৬১২ জনে।

গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ৫৩ জনের হাম শনাক্ত হওয়ায় মোট নিশ্চিত আক্রান্তের সংখ্যা এখন ৮ হাজার ৯৯৬। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য বলছে, ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত ৫৫ হাজার ৭০৫ জন সন্দেহভাজন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। তাদের মধ্যে ৫২ হাজার ৫০ জন ইতোমধ্যে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন।

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা শিশুদের নিয়মিত টিকাদান নিশ্চিত করা, উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসা নেওয়া এবং সংক্রমণ প্রতিরোধে প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন। তবে হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডগুলোর বর্তমান চিত্রই বলে দিচ্ছে, অনেক পরিবারের কাছে এবারের ঈদের সবচেয়ে বড় প্রার্থনা উৎসব নয়, সন্তানের সুস্থতা।

ঈদের সময়ও হামের প্রাদুর্ভাব থামেনি। এক দিনে ১ হাজার ৩৩ জন নতুন সন্দেহভাজন রোগী শনাক্ত হয়েছে এবং আরও ৮ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। হাসপাতালের শয্যায় কাটছে অনেক শিশুর ঈদ।

হামের প্রাদুর্ভাব

ঈদের আনন্দের মাঝেও দেশের হাসপাতালগুলোতে চলছে শিশুদের সুস্থতার লড়াই। হামের প্রাদুর্ভাবে প্রতিদিন হাজারের বেশি নতুন রোগী শনাক্ত হচ্ছে, বাড়ছে উদ্বেগও। বিস্তারিত পড়ুন।

#হাম #হামের_প্রাদুর্ভাব #শিশুস্বাস্থ্য #ঈদুলআজহা #স্বাস্থ্য_সংকট #বাংলাদেশ #জনস্বাস্থ্য #শিশু_হাসপাতাল #স্বাস্থ্য_অধিদপ্তর #বাংলাদেশ_সংবাদ

জনপ্রিয় সংবাদ

স্কুলে সহিংসতা ঠেকাতে আগে বদলাতে হবে আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি

ঈদের উৎসব নয়, হাসপাতালের শয্যায় লড়াই

০৬:৪৬:০৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩০ মে ২০২৬

দেশজুড়ে ঈদুল আজহার আনন্দ-উৎসব চললেও অনেক পরিবারের কাছে এবারের ঈদ হয়ে উঠেছে উদ্বেগ আর অপেক্ষার সময়। কারণ চলমান হামের প্রাদুর্ভাবের মধ্যে অসংখ্য শিশু হাসপাতালের শয্যায় চিকিৎসাধীন। নতুন পোশাক, আত্মীয়স্বজনের সঙ্গে দেখা কিংবা ঈদের আনন্দ—সবকিছুই তাদের জন্য এখন দূরের বিষয়।

দেশের বিভিন্ন হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে প্রতিদিন নতুন রোগী ভর্তি হচ্ছে। চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীরাও ছুটির দিনেও দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন আক্রান্ত শিশুদের সেবা দিতে। ফলে হাসপাতালের ভেতরের পরিবেশ ঈদের উৎসবের চেয়ে অনেক বেশি উদ্বেগময়।

হাসপাতালে কাটছে ঈদ

নরসিংদীর পীরপুর এলাকার চার মাস বয়সী মোস্তাকিম গত ছয় দিন ধরে বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন। শনিবার তার শ্বাসকষ্ট মারাত্মক আকার ধারণ করলে দ্রুত নিবিড় পরিচর্যার প্রয়োজন দেখা দেয়। তবে শয্যা সংকটের কারণে কিছু সময় সাধারণ ওয়ার্ডেই থাকতে হয় তাকে। পরে তাকে এমন একটি হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়, যেখানে হামে আক্রান্ত শিশুদের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। পরিবারের সদস্যরা আশা করছেন, উন্নত চিকিৎসার মাধ্যমে তার অবস্থার উন্নতি হবে।

একই হাসপাতালে প্রায় এক বছর বয়সী রিফাতও টানা ১৩ দিন ধরে চিকিৎসাধীন। ঢাকার কলাবাগান এলাকার এই শিশুর মা নিজের সব কাজ স্থগিত রেখে সন্তানের পাশে অবস্থান করছেন। ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করার বদলে হাসপাতালের বিছানার পাশে বসেই কাটছে তার সময়।

অনেক পরিবারের একই গল্প

হাসপাতালের ওয়ার্ডগুলোতে এখন প্রায় সব শয্যাই রোগীতে পূর্ণ। করিডোরজুড়ে উদ্বিগ্ন অভিভাবকদের উপস্থিতি। বাইরে ঈদের আনন্দ থাকলেও ভেতরে প্রতিটি পরিবারের একটাই প্রত্যাশা—সন্তান দ্রুত সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরুক।

অভিভাবকদের অনেকেই বলছেন, এবারের ঈদ তাদের কাছে উৎসবের নয়, বরং সন্তানের সুস্থতার জন্য অপেক্ষার সময়। চিকিৎসা সরঞ্জামের শব্দ আর চিকিৎসকদের ব্যস্ততা যেন তাদের ঈদের বাস্তবতা হয়ে উঠেছে।

প্রতিদিন হাজারের বেশি নতুন রোগী

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, শনিবার সকাল ৮টা পর্যন্ত আগের ২৪ ঘণ্টায় হাম-সদৃশ উপসর্গে আরও ৮ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এর ফলে গত ১৫ মার্চ থেকে মোট মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৫৮৩ জনে।

এর মধ্যে সন্দেহভাজন হামজনিত মৃত্যুর সংখ্যা ৪৯৩ এবং নিশ্চিত হামে মৃত্যুর সংখ্যা ৯০। নিশ্চিত মৃত্যুর সংখ্যা অপরিবর্তিত থাকলেও নতুন মৃত্যুগুলো পরিস্থিতির উদ্বেগ আরও বাড়িয়েছে।

একই সময়ে নতুন করে ১ হাজার ৩৩ জন সন্দেহভাজন হাম রোগী শনাক্ত হয়েছে। ফলে মোট সন্দেহভাজন আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬৯ হাজার ৬১২ জনে।

গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ৫৩ জনের হাম শনাক্ত হওয়ায় মোট নিশ্চিত আক্রান্তের সংখ্যা এখন ৮ হাজার ৯৯৬। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য বলছে, ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত ৫৫ হাজার ৭০৫ জন সন্দেহভাজন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। তাদের মধ্যে ৫২ হাজার ৫০ জন ইতোমধ্যে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন।

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা শিশুদের নিয়মিত টিকাদান নিশ্চিত করা, উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসা নেওয়া এবং সংক্রমণ প্রতিরোধে প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন। তবে হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডগুলোর বর্তমান চিত্রই বলে দিচ্ছে, অনেক পরিবারের কাছে এবারের ঈদের সবচেয়ে বড় প্রার্থনা উৎসব নয়, সন্তানের সুস্থতা।

ঈদের সময়ও হামের প্রাদুর্ভাব থামেনি। এক দিনে ১ হাজার ৩৩ জন নতুন সন্দেহভাজন রোগী শনাক্ত হয়েছে এবং আরও ৮ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। হাসপাতালের শয্যায় কাটছে অনেক শিশুর ঈদ।

হামের প্রাদুর্ভাব

ঈদের আনন্দের মাঝেও দেশের হাসপাতালগুলোতে চলছে শিশুদের সুস্থতার লড়াই। হামের প্রাদুর্ভাবে প্রতিদিন হাজারের বেশি নতুন রোগী শনাক্ত হচ্ছে, বাড়ছে উদ্বেগও। বিস্তারিত পড়ুন।

#হাম #হামের_প্রাদুর্ভাব #শিশুস্বাস্থ্য #ঈদুলআজহা #স্বাস্থ্য_সংকট #বাংলাদেশ #জনস্বাস্থ্য #শিশু_হাসপাতাল #স্বাস্থ্য_অধিদপ্তর #বাংলাদেশ_সংবাদ