০৮:০১ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
স্কুলে সহিংসতা ঠেকাতে আগে বদলাতে হবে আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি জেন জি-র ‘ফ্রেন্ডস’ বানানোর চেষ্টা চলছে, কিন্তু কেন তা অসম্ভব সঙ্কুচিত পোশাক কি নষ্ট না করেই আগের মাপে ফেরানো সম্ভব? ডায়মন্ড লিগের ফাইনালে তৃতীয় অ্যামি হান্ট, দুর্দান্ত ছন্দে ছুটছেন ব্রিটিশ তারকা মারাঠি না জানলে ঝুঁকিতে লাইসেন্স, মহারাষ্ট্রে ট্যাক্সি ও অটোরিকশাচালকদের মিলল আরও এক বছর বয়স বাড়লেই জীবন থেমে যায় না, বরং আসে নিজের মতো বাঁচার স্বাধীনতা: প্রু লেইথ দাঁতের চিকিৎসকের কাছে যাওয়ার পথে বজ্রপাতে আহত, ‘ভয়াবহ’ অভিজ্ঞতার কথা জানালেন নিউইয়র্কের যুবক পেন্টাগনের নিয়ন্ত্রণ কি হারাচ্ছেন পিট হেগসেথ? আফ্রিকার প্রকৃত আয়তন তুলে ধরা মানচিত্রের পক্ষে জাতিসংঘের ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত সন্তান হত্যার মামলায় রায় হয়নি, লিন্ডসে ক্ল্যান্সিকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে তীব্র বিতর্ক

উৎপাদন টিকিয়ে রাখা ও শ্রমিকদের চাকরি রক্ষায় নাসা গ্রুপকে বড় আর্থিক সহায়তা দিচ্ছে সরকার

দেশের অন্যতম বৃহৎ তৈরি পোশাক প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান নাসা গ্রুপের প্রায় ৪ হাজার কোটি টাকার ঋণ পুনঃতফসিলের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। উৎপাদন সচল রাখা এবং প্রায় ২২ হাজার শ্রমিকের চাকরি রক্ষার স্বার্থেই এই আর্থিক সহায়তা দেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছে অর্থ মন্ত্রণালয়ের একটি সূত্র।


বিপর্যস্ত নাসা গ্রুপের জন্য বিশেষ ছাড়

নাসা গ্রুপ, যা বাংলাদেশের পোশাক খাতে একটি শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান, প্রায় ৪ হাজার কোটি টাকার ঋণ পুনঃতফসিলের সুযোগ পাচ্ছে। সরকারের এই পদক্ষেপের উদ্দেশ্য হলো উৎপাদন ব্যাহত না করা এবং বিপুলসংখ্যক শ্রমিকের কর্মসংস্থান রক্ষা করা।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বলেন, “নাসা গ্রুপ রপ্তানি আয়ের পাশাপাশি কর্মসংস্থানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তাই সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আইনি প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে তাদের ঋণ পুনঃতফসিলের অনুমতি দেওয়া হচ্ছে।”


ঋণ পুনঃতফসিলের শর্ত ও মেয়াদ

সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ১ শতাংশ ডাউন পেমেন্টের বিনিময়ে নাসা গ্রুপকে ঋণ পুনঃতফসিলের সুযোগ দেওয়া হবে। এই পুনঃতফসিলের আওতায় প্রতিষ্ঠানটি এক বছরের গ্রেস পিরিয়ড পাবে এবং মোট মেয়াদ থাকবে আট বছর।

বাংলাদেশ ব্যাংকের গঠিত ঋণ পুনঃতফসিল কমিটি ইতিমধ্যেই এই প্রস্তাবে সম্মতি জানিয়েছে। অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের এক কর্মকর্তা জানান, “বিশেষ বিবেচনায় এই সুবিধা দেওয়া হয়েছে, কারণ প্রতিষ্ঠানটির প্রায় ২৫টি কারখানায় ২২ হাজারেরও বেশি শ্রমিক কাজ করেন।”


গ্রুপের মালিক নাজরুল ইসলাম মজুমদার কারাগারে

নাসা গ্রুপের চেয়ারম্যান নাজরুল ইসলাম মজুমদার বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন। তাকে ২০২৪ সালের ২ অক্টোবর গ্রেপ্তার করা হয়। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি ৭৮১ কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জন করেছেন এবং প্রায় ৩৫ কোটি টাকা যুক্তরাষ্ট্রে পাচার করেছেন।

বাংলাদেশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) জানিয়েছে, মজুমদার ফিরোজা গার্মেন্টস নামের প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে বাণিজ্যভিত্তিক মানি লন্ডারিং করেছেন। এছাড়া বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (BFIU) গত ২৫ আগস্ট তার ও তার স্ত্রীর ব্যাংক হিসাব ফ্রিজ করার নির্দেশ দেয়।


ব্যাংক কার্যক্রম স্থগিত ও রপ্তানিতে প্রভাব

অভিযোগ ওঠার পর বাংলাদেশ ব্যাংক নাসা গ্রুপের এলসি খোলা ও বৈদেশিক ব্যাংক লেনদেন স্থগিত করে। প্রতিষ্ঠানটি দেশের বিভিন্ন বাণিজ্যিক ব্যাংকের, যেমন এক্সিম ব্যাংকের, কাছে ঋণ খেলাপি হয়ে পড়ে, যা তারা নিজ মালিকানাধীন ব্যাংক হিসেবেই ব্যবহার করেছিল।

বর্তমানে নাসা গ্রুপের মোট ঋণ ৮,৬৭৬ কোটি টাকা, যা ২২টি ব্যাংক ও একটি আর্থিক প্রতিষ্ঠানের কাছে বকেয়া রয়েছে। ঋণচাপে জুলাই থেকে প্রতিষ্ঠানটি শ্রমিকদের বেতন পরিশোধ বন্ধ রেখেছে, ফলে দেশের বিভিন্ন স্থানে শ্রমিক অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।


শ্রমিক বেতন পরিশোধে সরকারের উদ্যোগ

সরকার ইতিমধ্যে একজন প্রশাসক নিয়োগ দিয়েছে এবং শ্রম মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যৌথভাবে জুলাই থেকে অক্টোবর পর্যন্ত শ্রমিকদের বেতন পর্যায়ক্রমে পরিশোধের পরিকল্পনা নিয়েছে। এই চুক্তির মাধ্যমে শ্রমিকদের ন্যূনতম প্রাপ্যতা নিশ্চিত করা হবে বলে জানানো হয়েছে।


প্রশাসনিক তদারকিতে নতুন কমিটি

অর্থ মন্ত্রণালয়ের সূত্র জানিয়েছে, বাংলাদেশ ব্যাংক ইতিমধ্যে ৯ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করেছে, যা নাসা গ্রুপের সম্পূর্ণ ব্যবসা ও আর্থিক কার্যক্রম তদারকি করবে। এই কমিটি ঋণ পুনঃতফসিলের বাস্তবায়ন, রপ্তানি উৎপাদন পুনরারম্ভ এবং শ্রমিক বেতন প্রদানের অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ করবে।


মালিকের সম্পদ বিক্রির সিদ্ধান্ত

সরকার ঘোষণা দিয়েছে যে নাসা গ্রুপ চেয়ারম্যান নাজরুল ইসলাম মজুমদারের ব্যক্তিগত সম্পদ বিক্রি করে বকেয়া শ্রমিকদের বেতন এবং ব্যাংক ঋণ পরিশোধ করা হবে। এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে সরকার বার্তা দিয়েছে যে বড় কর্পোরেট খেলাপিরাও ছাড় পাবে না, তবে জাতীয় স্বার্থে উৎপাদন ও কর্মসংস্থান রক্ষাই হবে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার।


#tনাসা_গ্রুপ, ঋণ_পুনঃতফসিল, নাজরুল_ইসলাম_মজুমদার, বাংলাদেশ_ব্যাংক, অর্থ_মন্ত্রণালয়, শ্রমিক_বেতন, রপ্তানি_খাত, মানি_লন্ডারিং, এক্সিম_ব্যাংক, পোশাক_শিল্প

জনপ্রিয় সংবাদ

স্কুলে সহিংসতা ঠেকাতে আগে বদলাতে হবে আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি

উৎপাদন টিকিয়ে রাখা ও শ্রমিকদের চাকরি রক্ষায় নাসা গ্রুপকে বড় আর্থিক সহায়তা দিচ্ছে সরকার

১২:৩৬:১৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৫

দেশের অন্যতম বৃহৎ তৈরি পোশাক প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান নাসা গ্রুপের প্রায় ৪ হাজার কোটি টাকার ঋণ পুনঃতফসিলের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। উৎপাদন সচল রাখা এবং প্রায় ২২ হাজার শ্রমিকের চাকরি রক্ষার স্বার্থেই এই আর্থিক সহায়তা দেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছে অর্থ মন্ত্রণালয়ের একটি সূত্র।


বিপর্যস্ত নাসা গ্রুপের জন্য বিশেষ ছাড়

নাসা গ্রুপ, যা বাংলাদেশের পোশাক খাতে একটি শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান, প্রায় ৪ হাজার কোটি টাকার ঋণ পুনঃতফসিলের সুযোগ পাচ্ছে। সরকারের এই পদক্ষেপের উদ্দেশ্য হলো উৎপাদন ব্যাহত না করা এবং বিপুলসংখ্যক শ্রমিকের কর্মসংস্থান রক্ষা করা।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বলেন, “নাসা গ্রুপ রপ্তানি আয়ের পাশাপাশি কর্মসংস্থানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তাই সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আইনি প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে তাদের ঋণ পুনঃতফসিলের অনুমতি দেওয়া হচ্ছে।”


ঋণ পুনঃতফসিলের শর্ত ও মেয়াদ

সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ১ শতাংশ ডাউন পেমেন্টের বিনিময়ে নাসা গ্রুপকে ঋণ পুনঃতফসিলের সুযোগ দেওয়া হবে। এই পুনঃতফসিলের আওতায় প্রতিষ্ঠানটি এক বছরের গ্রেস পিরিয়ড পাবে এবং মোট মেয়াদ থাকবে আট বছর।

বাংলাদেশ ব্যাংকের গঠিত ঋণ পুনঃতফসিল কমিটি ইতিমধ্যেই এই প্রস্তাবে সম্মতি জানিয়েছে। অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের এক কর্মকর্তা জানান, “বিশেষ বিবেচনায় এই সুবিধা দেওয়া হয়েছে, কারণ প্রতিষ্ঠানটির প্রায় ২৫টি কারখানায় ২২ হাজারেরও বেশি শ্রমিক কাজ করেন।”


গ্রুপের মালিক নাজরুল ইসলাম মজুমদার কারাগারে

নাসা গ্রুপের চেয়ারম্যান নাজরুল ইসলাম মজুমদার বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন। তাকে ২০২৪ সালের ২ অক্টোবর গ্রেপ্তার করা হয়। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি ৭৮১ কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জন করেছেন এবং প্রায় ৩৫ কোটি টাকা যুক্তরাষ্ট্রে পাচার করেছেন।

বাংলাদেশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) জানিয়েছে, মজুমদার ফিরোজা গার্মেন্টস নামের প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে বাণিজ্যভিত্তিক মানি লন্ডারিং করেছেন। এছাড়া বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (BFIU) গত ২৫ আগস্ট তার ও তার স্ত্রীর ব্যাংক হিসাব ফ্রিজ করার নির্দেশ দেয়।


ব্যাংক কার্যক্রম স্থগিত ও রপ্তানিতে প্রভাব

অভিযোগ ওঠার পর বাংলাদেশ ব্যাংক নাসা গ্রুপের এলসি খোলা ও বৈদেশিক ব্যাংক লেনদেন স্থগিত করে। প্রতিষ্ঠানটি দেশের বিভিন্ন বাণিজ্যিক ব্যাংকের, যেমন এক্সিম ব্যাংকের, কাছে ঋণ খেলাপি হয়ে পড়ে, যা তারা নিজ মালিকানাধীন ব্যাংক হিসেবেই ব্যবহার করেছিল।

বর্তমানে নাসা গ্রুপের মোট ঋণ ৮,৬৭৬ কোটি টাকা, যা ২২টি ব্যাংক ও একটি আর্থিক প্রতিষ্ঠানের কাছে বকেয়া রয়েছে। ঋণচাপে জুলাই থেকে প্রতিষ্ঠানটি শ্রমিকদের বেতন পরিশোধ বন্ধ রেখেছে, ফলে দেশের বিভিন্ন স্থানে শ্রমিক অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।


শ্রমিক বেতন পরিশোধে সরকারের উদ্যোগ

সরকার ইতিমধ্যে একজন প্রশাসক নিয়োগ দিয়েছে এবং শ্রম মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যৌথভাবে জুলাই থেকে অক্টোবর পর্যন্ত শ্রমিকদের বেতন পর্যায়ক্রমে পরিশোধের পরিকল্পনা নিয়েছে। এই চুক্তির মাধ্যমে শ্রমিকদের ন্যূনতম প্রাপ্যতা নিশ্চিত করা হবে বলে জানানো হয়েছে।


প্রশাসনিক তদারকিতে নতুন কমিটি

অর্থ মন্ত্রণালয়ের সূত্র জানিয়েছে, বাংলাদেশ ব্যাংক ইতিমধ্যে ৯ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করেছে, যা নাসা গ্রুপের সম্পূর্ণ ব্যবসা ও আর্থিক কার্যক্রম তদারকি করবে। এই কমিটি ঋণ পুনঃতফসিলের বাস্তবায়ন, রপ্তানি উৎপাদন পুনরারম্ভ এবং শ্রমিক বেতন প্রদানের অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ করবে।


মালিকের সম্পদ বিক্রির সিদ্ধান্ত

সরকার ঘোষণা দিয়েছে যে নাসা গ্রুপ চেয়ারম্যান নাজরুল ইসলাম মজুমদারের ব্যক্তিগত সম্পদ বিক্রি করে বকেয়া শ্রমিকদের বেতন এবং ব্যাংক ঋণ পরিশোধ করা হবে। এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে সরকার বার্তা দিয়েছে যে বড় কর্পোরেট খেলাপিরাও ছাড় পাবে না, তবে জাতীয় স্বার্থে উৎপাদন ও কর্মসংস্থান রক্ষাই হবে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার।


#tনাসা_গ্রুপ, ঋণ_পুনঃতফসিল, নাজরুল_ইসলাম_মজুমদার, বাংলাদেশ_ব্যাংক, অর্থ_মন্ত্রণালয়, শ্রমিক_বেতন, রপ্তানি_খাত, মানি_লন্ডারিং, এক্সিম_ব্যাংক, পোশাক_শিল্প