০৮:৪৯ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
স্কুলে সহিংসতা ঠেকাতে আগে বদলাতে হবে আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি জেন জি-র ‘ফ্রেন্ডস’ বানানোর চেষ্টা চলছে, কিন্তু কেন তা অসম্ভব সঙ্কুচিত পোশাক কি নষ্ট না করেই আগের মাপে ফেরানো সম্ভব? ডায়মন্ড লিগের ফাইনালে তৃতীয় অ্যামি হান্ট, দুর্দান্ত ছন্দে ছুটছেন ব্রিটিশ তারকা মারাঠি না জানলে ঝুঁকিতে লাইসেন্স, মহারাষ্ট্রে ট্যাক্সি ও অটোরিকশাচালকদের মিলল আরও এক বছর বয়স বাড়লেই জীবন থেমে যায় না, বরং আসে নিজের মতো বাঁচার স্বাধীনতা: প্রু লেইথ দাঁতের চিকিৎসকের কাছে যাওয়ার পথে বজ্রপাতে আহত, ‘ভয়াবহ’ অভিজ্ঞতার কথা জানালেন নিউইয়র্কের যুবক পেন্টাগনের নিয়ন্ত্রণ কি হারাচ্ছেন পিট হেগসেথ? আফ্রিকার প্রকৃত আয়তন তুলে ধরা মানচিত্রের পক্ষে জাতিসংঘের ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত সন্তান হত্যার মামলায় রায় হয়নি, লিন্ডসে ক্ল্যান্সিকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে তীব্র বিতর্ক

ঋণের বদলে যুদ্ধবিমান: সৌদি অর্থ সহায়তা রূপ নিতে পারে জেএফ–সতেরো চুক্তিতে

ইসলামাবাদ: পাকিস্তান ও সৌদি আরবের মধ্যে সামরিক সহযোগিতায় নতুন মাত্রা যোগ হতে চলেছে। নির্ভরযোগ্য সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, প্রায় দুই বিলিয়ন ডলারের সৌদি ঋণকে পাকিস্তানের তৈরি জেএফ–সতেরো যুদ্ধবিমান সরবরাহের চুক্তিতে রূপান্তরের আলোচনা চলছে। সাম্প্রতিক পারস্পরিক প্রতিরক্ষা চুক্তির পর এই উদ্যোগ দুই দেশের কৌশলগত সম্পর্ককে আরও গভীর করতে পারে।

প্রতিরক্ষা জোট বাস্তবায়নের পথে

গত বছর সই হওয়া পারস্পরিক প্রতিরক্ষা চুক্তির ধারাবাহিকতায় এই আলোচনা শুরু হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যে নিরাপত্তা পরিস্থিতির অনিশ্চয়তা এবং যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্নের মধ্যেই সৌদি আরব তার নিরাপত্তা অংশীদারিত্ব নতুনভাবে সাজাচ্ছে। অন্যদিকে অর্থনৈতিক চাপে থাকা পাকিস্তান এই চুক্তিকে আর্থিক স্বস্তির পথ হিসেবেও দেখছে।

চুক্তির সম্ভাব্য পরিধি

সূত্রগুলো জানায়, আলোচনায় মূলত জেএফ–সতেরো থান্ডার যুদ্ধবিমান সরবরাহই প্রাধান্য পাচ্ছে। একটি সূত্রের মতে, পুরো চুক্তির মূল্য প্রায় চার বিলিয়ন ডলার হতে পারে। এর মধ্যে ঋণ রূপান্তরের বাইরে অতিরিক্ত সরঞ্জাম ও অস্ত্র ব্যবস্থার জন্য আরও প্রায় দুই বিলিয়ন ডলার ব্যয়ের সম্ভাবনা রয়েছে। পাকিস্তান ও সৌদি কর্তৃপক্ষ এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করেনি।

Image

শীর্ষ সামরিক পর্যায়ের আলোচনা

চলতি সপ্তাহে পাকিস্তানের বিমান বাহিনীর প্রধান জহির আহমেদ বাবর সিধু সৌদি আরব সফর করে দ্বিপাক্ষিক প্রতিরক্ষা সহযোগিতা, আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি এবং ভবিষ্যৎ যৌথ উদ্যোগ নিয়ে আলোচনা করেন। বৈঠকে দুই দেশের সামরিক নেতৃত্ব সহযোগিতা বাড়ানোর অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছে।

যুদ্ধক্ষেত্রে পরীক্ষিত সক্ষমতা

সাবেক এয়ার মার্শাল ও বিশ্লেষক আমির মাসুদের মতে, জেএফ–সতেরো যুদ্ধবিমান যুদ্ধক্ষেত্রে ব্যবহৃত ও পরীক্ষিত হওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে এর চাহিদা বেড়েছে। কম খরচে কার্যকর হওয়ায় এটি অনেক দেশের আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতে। পাকিস্তান দাবি করে, গত বছর ভারতের সঙ্গে সংঘাতে এই বিমান ব্যবহার করা হয়েছে।

অর্থনীতি ও অস্ত্র রপ্তানির কৌশল

পাকিস্তান সাম্প্রতিক সময়ে অস্ত্র রপ্তানি বাড়াতে সক্রিয় হয়েছে। লিবিয়ার পূর্বাঞ্চলীয় বাহিনীর সঙ্গে বড় অস্ত্র চুক্তি এবং বাংলাদেশের সঙ্গে সম্ভাব্য বিক্রয় আলোচনা তার উদাহরণ। দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রীর ভাষ্য, এই সাফল্য অর্থনীতির চেহারা বদলে দিতে পারে এবং আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের ওপর নির্ভরতা কমাতে সহায়ক হতে পারে।

সৌদি সহায়তার ধারাবাহিকতা

অর্থনৈতিক সংকটে সৌদি আরব বারবার পাকিস্তানের পাশে দাঁড়িয়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকে আমানত, তেল সরবরাহ ও ঋণ মেয়াদ বাড়ানোর মাধ্যমে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ স্থিতিশীল রাখতে সহায়তা করেছে রিয়াদ। নতুন এই চুক্তি সেই সহযোগিতারই সামরিক রূপ হতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

জনপ্রিয় সংবাদ

স্কুলে সহিংসতা ঠেকাতে আগে বদলাতে হবে আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি

ঋণের বদলে যুদ্ধবিমান: সৌদি অর্থ সহায়তা রূপ নিতে পারে জেএফ–সতেরো চুক্তিতে

১১:০০:৫৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৮ জানুয়ারী ২০২৬

ইসলামাবাদ: পাকিস্তান ও সৌদি আরবের মধ্যে সামরিক সহযোগিতায় নতুন মাত্রা যোগ হতে চলেছে। নির্ভরযোগ্য সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, প্রায় দুই বিলিয়ন ডলারের সৌদি ঋণকে পাকিস্তানের তৈরি জেএফ–সতেরো যুদ্ধবিমান সরবরাহের চুক্তিতে রূপান্তরের আলোচনা চলছে। সাম্প্রতিক পারস্পরিক প্রতিরক্ষা চুক্তির পর এই উদ্যোগ দুই দেশের কৌশলগত সম্পর্ককে আরও গভীর করতে পারে।

প্রতিরক্ষা জোট বাস্তবায়নের পথে

গত বছর সই হওয়া পারস্পরিক প্রতিরক্ষা চুক্তির ধারাবাহিকতায় এই আলোচনা শুরু হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যে নিরাপত্তা পরিস্থিতির অনিশ্চয়তা এবং যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্নের মধ্যেই সৌদি আরব তার নিরাপত্তা অংশীদারিত্ব নতুনভাবে সাজাচ্ছে। অন্যদিকে অর্থনৈতিক চাপে থাকা পাকিস্তান এই চুক্তিকে আর্থিক স্বস্তির পথ হিসেবেও দেখছে।

চুক্তির সম্ভাব্য পরিধি

সূত্রগুলো জানায়, আলোচনায় মূলত জেএফ–সতেরো থান্ডার যুদ্ধবিমান সরবরাহই প্রাধান্য পাচ্ছে। একটি সূত্রের মতে, পুরো চুক্তির মূল্য প্রায় চার বিলিয়ন ডলার হতে পারে। এর মধ্যে ঋণ রূপান্তরের বাইরে অতিরিক্ত সরঞ্জাম ও অস্ত্র ব্যবস্থার জন্য আরও প্রায় দুই বিলিয়ন ডলার ব্যয়ের সম্ভাবনা রয়েছে। পাকিস্তান ও সৌদি কর্তৃপক্ষ এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করেনি।

Image

শীর্ষ সামরিক পর্যায়ের আলোচনা

চলতি সপ্তাহে পাকিস্তানের বিমান বাহিনীর প্রধান জহির আহমেদ বাবর সিধু সৌদি আরব সফর করে দ্বিপাক্ষিক প্রতিরক্ষা সহযোগিতা, আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি এবং ভবিষ্যৎ যৌথ উদ্যোগ নিয়ে আলোচনা করেন। বৈঠকে দুই দেশের সামরিক নেতৃত্ব সহযোগিতা বাড়ানোর অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছে।

যুদ্ধক্ষেত্রে পরীক্ষিত সক্ষমতা

সাবেক এয়ার মার্শাল ও বিশ্লেষক আমির মাসুদের মতে, জেএফ–সতেরো যুদ্ধবিমান যুদ্ধক্ষেত্রে ব্যবহৃত ও পরীক্ষিত হওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে এর চাহিদা বেড়েছে। কম খরচে কার্যকর হওয়ায় এটি অনেক দেশের আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতে। পাকিস্তান দাবি করে, গত বছর ভারতের সঙ্গে সংঘাতে এই বিমান ব্যবহার করা হয়েছে।

অর্থনীতি ও অস্ত্র রপ্তানির কৌশল

পাকিস্তান সাম্প্রতিক সময়ে অস্ত্র রপ্তানি বাড়াতে সক্রিয় হয়েছে। লিবিয়ার পূর্বাঞ্চলীয় বাহিনীর সঙ্গে বড় অস্ত্র চুক্তি এবং বাংলাদেশের সঙ্গে সম্ভাব্য বিক্রয় আলোচনা তার উদাহরণ। দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রীর ভাষ্য, এই সাফল্য অর্থনীতির চেহারা বদলে দিতে পারে এবং আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের ওপর নির্ভরতা কমাতে সহায়ক হতে পারে।

সৌদি সহায়তার ধারাবাহিকতা

অর্থনৈতিক সংকটে সৌদি আরব বারবার পাকিস্তানের পাশে দাঁড়িয়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকে আমানত, তেল সরবরাহ ও ঋণ মেয়াদ বাড়ানোর মাধ্যমে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ স্থিতিশীল রাখতে সহায়তা করেছে রিয়াদ। নতুন এই চুক্তি সেই সহযোগিতারই সামরিক রূপ হতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।