০৭:৩৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
এআই ও উচ্চপ্রযুক্তি পণ্যে ভর করে চীনের রপ্তানি বেড়েছে ২৫ শতাংশ দুর্গাপূজার আগে সমান অধিকার ও নিরাপত্তার আশ্বাস সরকারের দেশের সবচেয়ে দুর্ঘটনাপ্রবণ ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক, ১৮ মাসে হতাহত ৯২৮ মূল্যস্ফীতি কমে ৮.২৬ শতাংশ, মজুরি বৃদ্ধিকে এখনো ছাড়িয়ে জীবনযাত্রার ব্যয় এলডিসি উত্তরণ পেছাতে জাতিসংঘে বাংলাদেশের শেষ কূটনৈতিক চেষ্টা জার্মানির ‘ফায়ারওয়াল’ ভাঙছে, ইউরোপের ডানপন্থার উত্থান থেকে ব্রিটেনের কী শিক্ষা? চাকরি বদলের সাহস হারাচ্ছেন মার্কিন কর্মীরা, জমে উঠেছে ‘কম নিয়োগ, কম ছাঁটাই’ বাজার চীনের বদলে ইউরোপেই তৈরি হবে ডাসিয়া স্প্রিং, ফিরছে জনপ্রিয় সাশ্রয়ী বৈদ্যুতিক গাড়ি শার্শায় বেওয়ারিশ কুকুরের আতঙ্ক, এক সপ্তাহে আক্রান্ত ১১০ জন প্রধান বিচারপতির সঙ্গে বাকবিতণ্ডা, এজলাস ছাড়লেন পুরো আপিল বিভাগ

এক কলমের খোঁচায় রিজিক কেড়ে নেওয়া: অবসরপ্রাপ্ত সচিবের ক্ষোভ

অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে মাত্র ৮ মাস সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালনের পর বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো একজন সরকারি কর্মকর্তার জীবন এখন অনিশ্চয়তা আর আর্থিক কষ্টে প্রবৃত্ত। মৎস্য ও প্রাণী সম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব সাঈদ মাহমুদ বেলাল হায়দার বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) নিজের ফেসবুক আইডিতে পোস্ট দিয়ে এ অনাকাঙ্ক্ষিত অবসরের প্রতি গভীর ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।

কর্মজীবনের উজ্জ্বল শুরু

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের মেরিন সায়েন্স বিভাগ থেকে সমুদ্র বিজ্ঞানে মাস্টার্সে প্রথম শ্রেণিতে প্রথম স্থান অর্জন করা বেলাল হায়দার ১৩তম বিসিএসে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়ে ১৯৯৪ সালে ক্যাডার সার্ভিসে যোগ দেন। রাজশাহীতে কর্মজীবন শুরু করে কুমিল্লায় প্রথম শ্রেণির ম্যাজিস্ট্রেট, কক্সবাজার সদর উপজেলার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, চকরিয়া ও টেকনাফে সহকারী কমিশনার (ভূমি) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। পরবর্তীতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উপ-সচিব, বাংলাদেশ সমুদ্র গবেষণা ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক ও বাংলাদেশ মৎস্য উন্নয়ন কর্পোরেশনের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে ৭ সংস্থার চুক্তি

মাত্র ৮ মাস সচিবের দায়িত্ব, তারপর বাধ্যতামূলক অবসর

সর্বশেষ মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব পদে উন্নীত হওয়ার মাত্র ৮ মাসের মাথায় তাকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো হয়। নিজের পোস্টে তিনি লেখেন, “স‍্যার, আপনি নির্দয় ও নিষ্ঠুরভাবে আমার মতো একজন নিরীহ কর্মচারীর ওপর জুলুম করেছেন। অত‍্যন্ত গোপনীয়তার সঙ্গে আপনি এক কলমের খোঁচায় আমার রিজিক কেড়ে নিয়েছেন।”

বেলাল হায়দার আরও লিখেছেন, চাকরির সেই সময়টাতে যা দেশের জন্য কাজে লাগানো যেত, তা এখন জীবনের অন্ধকার, হতাশা ও বেকারত্বের মধ্যে হারিয়ে গেছে। সামাজিক মর্যাদা, পারিবারিক সম্মান এবং আর্থিক নিরাপত্তাও নষ্ট হয়েছে।

আপনি এক কলমের খোঁচায় আমার রিজিক কেড়ে নিয়েছেন : বেলাল হায়দার - বাংলাদেশ  টাইমস

ফেসবুক পোস্টে প্রতিক্রিয়া ও সমর্থন

তিনি পোস্টে বাংলাদেশ প্রতিদিন পত্রিকার একটি ফটোকার্ড শেয়ার করেছেন, যেখানে নোবেল বিজয়ী প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূসের ছবি এবং লেখা রয়েছে—‘দরিদ্র বাড়িয়ে বিদায় দারিদ্র্যের জাদুকরের’। পোস্টে অনেকে প্রফেসর ইউনূসের সমালোচনা করেছেন। জুয়েল মাহমুদ লিখেছেন, “আপনার মতো মেধাবীর কর্মসংস্থান কেড়ে নিয়েছে, এই সুদি ইউনূস। বাংলার মাটিতে বিচার হবে, ইনশাআল্লাহ।”

অবসরপ্রাপ্ত সচিবের মন্তব্য

সাঈদ মাহমুদ বেলাল জানান, তিনি শুধু একজন প্রশাসক নন, একজন স্বীকৃত সমুদ্রবিজ্ঞানীও। আন্তর্জাতিক জার্নালে তার ২০টি গবেষণা প্রকাশিত হয়েছে। তিনি বলেন, “চাকরি হারিয়ে স্কুল ও বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া সন্তানদের লেখাপড়ার খরচসহ ঢাকায় বাড়ি ভাড়া যোগাড় করা কঠিন হয়ে গেছে। আমার বিরুদ্ধে কোনো দুর্নীতির অভিযোগ নেই।”

 

জনপ্রিয় সংবাদ

এআই ও উচ্চপ্রযুক্তি পণ্যে ভর করে চীনের রপ্তানি বেড়েছে ২৫ শতাংশ

এক কলমের খোঁচায় রিজিক কেড়ে নেওয়া: অবসরপ্রাপ্ত সচিবের ক্ষোভ

০৩:৪৪:৫৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে মাত্র ৮ মাস সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালনের পর বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো একজন সরকারি কর্মকর্তার জীবন এখন অনিশ্চয়তা আর আর্থিক কষ্টে প্রবৃত্ত। মৎস্য ও প্রাণী সম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব সাঈদ মাহমুদ বেলাল হায়দার বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) নিজের ফেসবুক আইডিতে পোস্ট দিয়ে এ অনাকাঙ্ক্ষিত অবসরের প্রতি গভীর ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।

কর্মজীবনের উজ্জ্বল শুরু

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের মেরিন সায়েন্স বিভাগ থেকে সমুদ্র বিজ্ঞানে মাস্টার্সে প্রথম শ্রেণিতে প্রথম স্থান অর্জন করা বেলাল হায়দার ১৩তম বিসিএসে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়ে ১৯৯৪ সালে ক্যাডার সার্ভিসে যোগ দেন। রাজশাহীতে কর্মজীবন শুরু করে কুমিল্লায় প্রথম শ্রেণির ম্যাজিস্ট্রেট, কক্সবাজার সদর উপজেলার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, চকরিয়া ও টেকনাফে সহকারী কমিশনার (ভূমি) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। পরবর্তীতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উপ-সচিব, বাংলাদেশ সমুদ্র গবেষণা ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক ও বাংলাদেশ মৎস্য উন্নয়ন কর্পোরেশনের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে ৭ সংস্থার চুক্তি

মাত্র ৮ মাস সচিবের দায়িত্ব, তারপর বাধ্যতামূলক অবসর

সর্বশেষ মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব পদে উন্নীত হওয়ার মাত্র ৮ মাসের মাথায় তাকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো হয়। নিজের পোস্টে তিনি লেখেন, “স‍্যার, আপনি নির্দয় ও নিষ্ঠুরভাবে আমার মতো একজন নিরীহ কর্মচারীর ওপর জুলুম করেছেন। অত‍্যন্ত গোপনীয়তার সঙ্গে আপনি এক কলমের খোঁচায় আমার রিজিক কেড়ে নিয়েছেন।”

বেলাল হায়দার আরও লিখেছেন, চাকরির সেই সময়টাতে যা দেশের জন্য কাজে লাগানো যেত, তা এখন জীবনের অন্ধকার, হতাশা ও বেকারত্বের মধ্যে হারিয়ে গেছে। সামাজিক মর্যাদা, পারিবারিক সম্মান এবং আর্থিক নিরাপত্তাও নষ্ট হয়েছে।

আপনি এক কলমের খোঁচায় আমার রিজিক কেড়ে নিয়েছেন : বেলাল হায়দার - বাংলাদেশ  টাইমস

ফেসবুক পোস্টে প্রতিক্রিয়া ও সমর্থন

তিনি পোস্টে বাংলাদেশ প্রতিদিন পত্রিকার একটি ফটোকার্ড শেয়ার করেছেন, যেখানে নোবেল বিজয়ী প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূসের ছবি এবং লেখা রয়েছে—‘দরিদ্র বাড়িয়ে বিদায় দারিদ্র্যের জাদুকরের’। পোস্টে অনেকে প্রফেসর ইউনূসের সমালোচনা করেছেন। জুয়েল মাহমুদ লিখেছেন, “আপনার মতো মেধাবীর কর্মসংস্থান কেড়ে নিয়েছে, এই সুদি ইউনূস। বাংলার মাটিতে বিচার হবে, ইনশাআল্লাহ।”

অবসরপ্রাপ্ত সচিবের মন্তব্য

সাঈদ মাহমুদ বেলাল জানান, তিনি শুধু একজন প্রশাসক নন, একজন স্বীকৃত সমুদ্রবিজ্ঞানীও। আন্তর্জাতিক জার্নালে তার ২০টি গবেষণা প্রকাশিত হয়েছে। তিনি বলেন, “চাকরি হারিয়ে স্কুল ও বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া সন্তানদের লেখাপড়ার খরচসহ ঢাকায় বাড়ি ভাড়া যোগাড় করা কঠিন হয়ে গেছে। আমার বিরুদ্ধে কোনো দুর্নীতির অভিযোগ নেই।”