যশোরের শার্শা উপজেলায় বেওয়ারিশ কুকুরের উপদ্রব ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। মাত্র এক সপ্তাহে কুকুরের কামড় ও হামলায় নারী-পুরুষসহ অন্তত ১১০ জন আহত হয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিয়েছেন। এতে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
শার্শা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ১ সেপ্টেম্বর থেকে ৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত কুকুরের আক্রমণে আহত এসব মানুষ হাসপাতালে চিকিৎসা নেন। সর্বশেষ এই হিসাব যোগ হওয়ায় আগস্ট থেকে এ পর্যন্ত উপজেলায় কুকুরের আক্রমণের শিকার হয়েছেন মোট ৫৯৩ জন। এর মধ্যে শুধু আগস্ট মাসেই আক্রান্ত হন ৪৮৩ জন।
এক ঘণ্টায় ২০ জনকে আক্রমণ
স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য, বেওয়ারিশ কুকুরের দল বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে বেড়াচ্ছে এবং হঠাৎ করেই মানুষকে আক্রমণ করছে। আমড়াখালী গ্রামের বাসিন্দা মোর্শেদ আলী জানান, ১ সেপ্টেম্বর সকালে রেললাইন পার হয়ে একদল বেওয়ারিশ কুকুর তাদের গ্রামে ঢোকে। এরপর আকস্মিকভাবে মানুষকে তাড়া করে কামড়াতে শুরু করে।
তার ভাষ্য অনুযায়ী, মাত্র এক ঘণ্টার মধ্যে ওই কুকুরগুলো প্রায় ২০ জনকে আক্রমণ করে। এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক ভয় তৈরি হয়েছে। অনেকেই প্রয়োজন ছাড়া বাড়ির বাইরে বের হতে চাইছেন না। শিশুদের নিয়েও উদ্বিগ্ন অভিভাবকেরা। কুকুরের আতঙ্কে কেউ কেউ সন্তানদের স্কুলে পাঠাতেও ভয় পাচ্ছেন বলে জানান মোর্শেদ আলী।
প্রশাসনের দ্রুত পদক্ষেপ চায় স্থানীয়রা
বেওয়ারিশ কুকুরের সংখ্যা নিয়ন্ত্রণে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। মোর্শেদ আলী শার্শা উপজেলা প্রশাসন ও বেনাপোল পৌর কর্তৃপক্ষকে এ বিষয়ে জরুরি উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
শার্শা উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা তৌফিক পারভেজ জানান, কুকুরের আক্রমণে আহত সবাইকে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। তাদের অ্যান্টি-র্যাবিস টিকাও দেওয়া হয়েছে। চিকিৎসা শেষে তাদের হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র দেওয়া হয়।
তিনি বেওয়ারিশ কুকুরের ব্যাপারে সবাইকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন। কুকুর কামড়ালে দেরি না করে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও টিকা নেওয়ার ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।
র্যাবিস নিয়ে সতর্ক থাকার পরামর্শ
শার্শা উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা টপু কুমার সাহা বলেন, এলাকায় বেওয়ারিশ কুকুরের সংখ্যা বেড়ে যাওয়া স্থানীয় মানুষের জন্য গুরুতর উদ্বেগের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কুকুরের কামড় থেকে র্যাবিসের মতো প্রাণঘাতী রোগ হতে পারে উল্লেখ করে তিনি দ্রুত অ্যান্টি-র্যাবিস টিকা নেওয়ার পরামর্শ দেন।
তিনি আরও বলেন, র্যাবিসের লক্ষণ দেখা দিলে রোগটি প্রায় সব ক্ষেত্রেই প্রাণঘাতী হয়ে ওঠে। তাই কুকুরের কামড়কে কোনোভাবেই অবহেলা করা উচিত নয়। একই সঙ্গে পোষা কুকুরের মালিকদের নিয়মিত অ্যান্টি-র্যাবিস টিকা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















