০৭:৩৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
দুর্গাপূজার আগে সমান অধিকার ও নিরাপত্তার আশ্বাস সরকারের দেশের সবচেয়ে দুর্ঘটনাপ্রবণ ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক, ১৮ মাসে হতাহত ৯২৮ মূল্যস্ফীতি কমে ৮.২৬ শতাংশ, মজুরি বৃদ্ধিকে এখনো ছাড়িয়ে জীবনযাত্রার ব্যয় এলডিসি উত্তরণ পেছাতে জাতিসংঘে বাংলাদেশের শেষ কূটনৈতিক চেষ্টা জার্মানির ‘ফায়ারওয়াল’ ভাঙছে, ইউরোপের ডানপন্থার উত্থান থেকে ব্রিটেনের কী শিক্ষা? চাকরি বদলের সাহস হারাচ্ছেন মার্কিন কর্মীরা, জমে উঠেছে ‘কম নিয়োগ, কম ছাঁটাই’ বাজার চীনের বদলে ইউরোপেই তৈরি হবে ডাসিয়া স্প্রিং, ফিরছে জনপ্রিয় সাশ্রয়ী বৈদ্যুতিক গাড়ি শার্শায় বেওয়ারিশ কুকুরের আতঙ্ক, এক সপ্তাহে আক্রান্ত ১১০ জন প্রধান বিচারপতির সঙ্গে বাকবিতণ্ডা, এজলাস ছাড়লেন পুরো আপিল বিভাগ ধ্বংসস্তূপের নিচে ৯ দিন, তারপর অলৌকিক উদ্ধার—নেপালের বন্যায় দুই শ্রমিকের বেঁচে থাকার গল্প

এক বছর পেরোলেও কার্যকর হয়নি হিটু শেখের ফাঁসি, অপেক্ষায় আছিয়ার পরিবার

আলোচিত শিশু ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় বিচার মাত্র ১৪ কার্যদিবসে শেষ হলেও এক বছর পার হয়ে গেছে, এখনো কার্যকর হয়নি মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত হিটু শেখের সাজা। এতে বিচারপ্রক্রিয়ার গতি ও কার্যকারিতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। একই সঙ্গে ন্যায়বিচারের অপেক্ষায় দিন গুনছে নিহত শিশু আছিয়ার পরিবার।

গত ৬ মার্চ মাগুরা শহরের নিজনান্দুয়ালী গ্রামে বোনের শ্বশুরবাড়িতে বেড়াতে গিয়ে ধর্ষণের শিকার হয় আট বছরের শিশু আছিয়া। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে প্রথমে স্থানীয় হাসপাতাল এবং পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নেওয়া হয়। দীর্ঘ চিকিৎসার পর ১৩ মার্চ তার মৃত্যু হয়।

ঘটনার পর দেশজুড়ে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে শুরু করে রাজপথ পর্যন্ত সর্বত্র বিচার দাবিতে সোচ্চার হয় মানুষ। তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে আলোচনার কেন্দ্র থেকে সরে যায় ঘটনাটি।

দ্রুত বিচার, ধীর সাজা কার্যকর

আছিয়া ধর্ষণ-হত্যা: হিটু শেখের ডেথ রেফারেন্স নথি হ...

শিশু আছিয়াকে ধর্ষণ ও হত্যার দায়ে হিটু শেখকে গত বছরের ১৭ মে মৃত্যুদণ্ড দেন মাগুরার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল। রায়ের কয়েক দিনের মধ্যেই মামলার ডেথ রেফারেন্স হাইকোর্টে পাঠানো হয়।

কিন্তু রায় ঘোষণার এক বছর পূর্ণ হলেও মামলার পরবর্তী অগ্রগতির কোনো দৃশ্যমান খবর নেই। ফলে কবে সাজা কার্যকর হবে, তা নিয়েও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। বর্তমানে হিটু শেখ কারাগারে বন্দি থাকলেও রায়ের চূড়ান্ত বাস্তবায়ন হয়নি।

বিচার চেয়ে পরিবারের অপেক্ষা

আছিয়ার মৃত্যুর পর থেকে তার পরিবার এখনো বিচার কার্যকরের অপেক্ষায় রয়েছে। পরিবারের সদস্যদের অভিযোগ, এত আলোচিত একটি মামলার রায় কার্যকর হতে দীর্ঘ সময় লেগে যাওয়ায় তাদের কষ্ট আরও বেড়েছে।

তাদের প্রত্যাশা, আদালতের দেওয়া সর্বোচ্চ শাস্তি দ্রুত কার্যকর করা হবে এবং এ ধরনের অপরাধের বিরুদ্ধে শক্ত বার্তা পৌঁছে যাবে সমাজে।

শিশু আছিয়া ধর্ষণ-হত্যা: হিটু শেখের মৃত্যুদণ্ড, খালাস ৩ - বিডি সমাচার২৪.কম

কেন আটকে থাকে মৃত্যুদণ্ডের মামলা

আইনজীবীদের মতে, হাইকোর্টে বিপুলসংখ্যক মৃত্যুদণ্ডসংক্রান্ত মামলা জমে থাকায় অনেক মামলার শুনানি নির্ধারিত হতে দীর্ঘ সময় লাগে। সাধারণত পুরোনো মামলাগুলো আগে এবং নতুন মামলাগুলো পরে শুনানির জন্য তালিকাভুক্ত হয়। ফলে কয়েক বছরের জট তৈরি হয়েছে।

এই পরিস্থিতিতে আলোচিত ও সংবেদনশীল মামলাগুলোর দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য বিশেষ বেঞ্চ গঠনের পরামর্শ দিয়েছেন আইন বিশেষজ্ঞরা। তাদের মতে, প্রয়োজন হলে প্রধান বিচারপতির উদ্যোগে পৃথক বেঞ্চ গঠন করে গুরুত্বপূর্ণ মামলাগুলোর শুনানি দ্রুত সম্পন্ন করা যেতে পারে।

সমান বিচার নিশ্চিতের দাবি

আইনজীবীরা মনে করেন, শুধু আলোচিত মামলাগুলোর ক্ষেত্রেই নয়, সব নাগরিকের জন্য সমান ও সময়োপযোগী বিচার নিশ্চিত করা জরুরি। বিচার পেতে দীর্ঘসূত্রতা মানুষের আস্থায় প্রভাব ফেলতে পারে। তাই বিচারব্যবস্থার গতি বাড়ানোর পাশাপাশি মামলার জট কমানোর উদ্যোগ নেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করছেন সংশ্লিষ্টরা।

 

 

জনপ্রিয় সংবাদ

দুর্গাপূজার আগে সমান অধিকার ও নিরাপত্তার আশ্বাস সরকারের

এক বছর পেরোলেও কার্যকর হয়নি হিটু শেখের ফাঁসি, অপেক্ষায় আছিয়ার পরিবার

০২:০১:৪৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২ জুন ২০২৬

আলোচিত শিশু ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় বিচার মাত্র ১৪ কার্যদিবসে শেষ হলেও এক বছর পার হয়ে গেছে, এখনো কার্যকর হয়নি মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত হিটু শেখের সাজা। এতে বিচারপ্রক্রিয়ার গতি ও কার্যকারিতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। একই সঙ্গে ন্যায়বিচারের অপেক্ষায় দিন গুনছে নিহত শিশু আছিয়ার পরিবার।

গত ৬ মার্চ মাগুরা শহরের নিজনান্দুয়ালী গ্রামে বোনের শ্বশুরবাড়িতে বেড়াতে গিয়ে ধর্ষণের শিকার হয় আট বছরের শিশু আছিয়া। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে প্রথমে স্থানীয় হাসপাতাল এবং পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নেওয়া হয়। দীর্ঘ চিকিৎসার পর ১৩ মার্চ তার মৃত্যু হয়।

ঘটনার পর দেশজুড়ে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে শুরু করে রাজপথ পর্যন্ত সর্বত্র বিচার দাবিতে সোচ্চার হয় মানুষ। তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে আলোচনার কেন্দ্র থেকে সরে যায় ঘটনাটি।

দ্রুত বিচার, ধীর সাজা কার্যকর

আছিয়া ধর্ষণ-হত্যা: হিটু শেখের ডেথ রেফারেন্স নথি হ...

শিশু আছিয়াকে ধর্ষণ ও হত্যার দায়ে হিটু শেখকে গত বছরের ১৭ মে মৃত্যুদণ্ড দেন মাগুরার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল। রায়ের কয়েক দিনের মধ্যেই মামলার ডেথ রেফারেন্স হাইকোর্টে পাঠানো হয়।

কিন্তু রায় ঘোষণার এক বছর পূর্ণ হলেও মামলার পরবর্তী অগ্রগতির কোনো দৃশ্যমান খবর নেই। ফলে কবে সাজা কার্যকর হবে, তা নিয়েও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। বর্তমানে হিটু শেখ কারাগারে বন্দি থাকলেও রায়ের চূড়ান্ত বাস্তবায়ন হয়নি।

বিচার চেয়ে পরিবারের অপেক্ষা

আছিয়ার মৃত্যুর পর থেকে তার পরিবার এখনো বিচার কার্যকরের অপেক্ষায় রয়েছে। পরিবারের সদস্যদের অভিযোগ, এত আলোচিত একটি মামলার রায় কার্যকর হতে দীর্ঘ সময় লেগে যাওয়ায় তাদের কষ্ট আরও বেড়েছে।

তাদের প্রত্যাশা, আদালতের দেওয়া সর্বোচ্চ শাস্তি দ্রুত কার্যকর করা হবে এবং এ ধরনের অপরাধের বিরুদ্ধে শক্ত বার্তা পৌঁছে যাবে সমাজে।

শিশু আছিয়া ধর্ষণ-হত্যা: হিটু শেখের মৃত্যুদণ্ড, খালাস ৩ - বিডি সমাচার২৪.কম

কেন আটকে থাকে মৃত্যুদণ্ডের মামলা

আইনজীবীদের মতে, হাইকোর্টে বিপুলসংখ্যক মৃত্যুদণ্ডসংক্রান্ত মামলা জমে থাকায় অনেক মামলার শুনানি নির্ধারিত হতে দীর্ঘ সময় লাগে। সাধারণত পুরোনো মামলাগুলো আগে এবং নতুন মামলাগুলো পরে শুনানির জন্য তালিকাভুক্ত হয়। ফলে কয়েক বছরের জট তৈরি হয়েছে।

এই পরিস্থিতিতে আলোচিত ও সংবেদনশীল মামলাগুলোর দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য বিশেষ বেঞ্চ গঠনের পরামর্শ দিয়েছেন আইন বিশেষজ্ঞরা। তাদের মতে, প্রয়োজন হলে প্রধান বিচারপতির উদ্যোগে পৃথক বেঞ্চ গঠন করে গুরুত্বপূর্ণ মামলাগুলোর শুনানি দ্রুত সম্পন্ন করা যেতে পারে।

সমান বিচার নিশ্চিতের দাবি

আইনজীবীরা মনে করেন, শুধু আলোচিত মামলাগুলোর ক্ষেত্রেই নয়, সব নাগরিকের জন্য সমান ও সময়োপযোগী বিচার নিশ্চিত করা জরুরি। বিচার পেতে দীর্ঘসূত্রতা মানুষের আস্থায় প্রভাব ফেলতে পারে। তাই বিচারব্যবস্থার গতি বাড়ানোর পাশাপাশি মামলার জট কমানোর উদ্যোগ নেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করছেন সংশ্লিষ্টরা।