০২:৩৪ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
স্কুলে সহিংসতা ঠেকাতে আগে বদলাতে হবে আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি জেন জি-র ‘ফ্রেন্ডস’ বানানোর চেষ্টা চলছে, কিন্তু কেন তা অসম্ভব সঙ্কুচিত পোশাক কি নষ্ট না করেই আগের মাপে ফেরানো সম্ভব? ডায়মন্ড লিগের ফাইনালে তৃতীয় অ্যামি হান্ট, দুর্দান্ত ছন্দে ছুটছেন ব্রিটিশ তারকা মারাঠি না জানলে ঝুঁকিতে লাইসেন্স, মহারাষ্ট্রে ট্যাক্সি ও অটোরিকশাচালকদের মিলল আরও এক বছর বয়স বাড়লেই জীবন থেমে যায় না, বরং আসে নিজের মতো বাঁচার স্বাধীনতা: প্রু লেইথ দাঁতের চিকিৎসকের কাছে যাওয়ার পথে বজ্রপাতে আহত, ‘ভয়াবহ’ অভিজ্ঞতার কথা জানালেন নিউইয়র্কের যুবক পেন্টাগনের নিয়ন্ত্রণ কি হারাচ্ছেন পিট হেগসেথ? আফ্রিকার প্রকৃত আয়তন তুলে ধরা মানচিত্রের পক্ষে জাতিসংঘের ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত সন্তান হত্যার মামলায় রায় হয়নি, লিন্ডসে ক্ল্যান্সিকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে তীব্র বিতর্ক

এশিয়ার শেয়ারবাজারে বড় পতন, দক্ষিণ কোরিয়ায় ধস; উত্তেজনার মধ্যেও কমেছে তেলের দাম

এশিয়ার বেশিরভাগ শেয়ারবাজারে বৃহস্পতিবার দরপতন হয়েছে। বিশেষ করে দক্ষিণ কোরিয়ার শেয়ারবাজারে বড় ধরনের পতন দেখা গেছে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের চলমান সামরিক উত্তেজনা সত্ত্বেও আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম কিছুটা কমেছে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের শেয়ারবাজারের ফিউচার সূচক সামান্য ঊর্ধ্বমুখী ছিল।

দক্ষিণ কোরিয়ায় বড় ধাক্কা

দক্ষিণ কোরিয়ার প্রধান শেয়ার সূচক কোসপি ৬ দশমিক ৬ শতাংশ কমে ৬ হাজার ৮১৬ দশমিক ৭০ পয়েন্টে নেমে আসে। ২০২৩ সালের পর প্রথমবারের মতো সুদের হার বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর বাজারে বিক্রির চাপ বেড়ে যায়। মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।

প্রযুক্তি খাতের বড় প্রতিষ্ঠানগুলোর শেয়ারেও উল্লেখযোগ্য পতন দেখা যায়। এসকে হাইনিক্সের শেয়ার ১১ দশমিক ২ শতাংশ এবং স্যামসাং ইলেকট্রনিকসের শেয়ার ৮ দশমিক ২ শতাংশ কমেছে।

জাপান ও তাইওয়ানেও চাপ

জাপানের নিক্কেই ২২৫ সূচক ২ দশমিক ৯ শতাংশ কমে ৬৬ হাজার ৭৬৭ দশমিক ৬৪ পয়েন্টে দাঁড়ায়। চিপ উৎপাদন ও প্রযুক্তি খাতের বড় কোম্পানিগুলোর শেয়ারে ব্যাপক বিক্রি হয়। কিওক্সিয়ার শেয়ার ১৩ দশমিক ৫ শতাংশ, টোকিও ইলেকট্রনের ৫ দশমিক ২ শতাংশ, অ্যাডভানটেস্টের ৫ দশমিক ৬ শতাংশ এবং সফটব্যাংক গ্রুপের শেয়ার ৬ দশমিক ৪ শতাংশ কমেছে।

তাইওয়ানের প্রধান সূচকও সামান্য কমেছে। বৈশ্বিক সেমিকন্ডাক্টর শিল্প এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা খাতের চাহিদার গুরুত্বপূর্ণ সূচক হিসেবে বিবেচিত একটি বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের ত্রৈমাসিক আর্থিক প্রতিবেদন প্রকাশের আগে বিনিয়োগকারীরা সতর্ক অবস্থানে ছিলেন।

হংকংয়ে ব্যতিক্রমী উত্থান

অন্য বাজারগুলোর বিপরীতে হংকংয়ের হ্যাংসেং সূচক ১ দশমিক ৭ শতাংশ বেড়েছে। প্রযুক্তি খাতের শেয়ারের চাঙ্গাভাব এই উত্থানে ভূমিকা রাখে। বিশেষ করে একটি শীর্ষ প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক সেবা চীনে অনুমোদন পাওয়ার পর সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।

চীনের সাংহাই কম্পোজিট সূচক ০ দশমিক ৯ শতাংশ এবং অস্ট্রেলিয়ার প্রধান সূচক ০ দশমিক ২ শতাংশ কমেছে। তবে ভারতের প্রধান শেয়ার সূচক ০ দশমিক ৩ শতাংশ বেড়েছে।

কমেছে তেলের দাম, উদ্বেগ রয়েই গেছে

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের চলমান সংঘাতের কারণে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে উদ্বেগ অব্যাহত থাকলেও আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম বৃহস্পতিবার সামান্য কমেছে। তবুও সংঘাত শুরুর আগের তুলনায় তেলের দাম এখনো অনেক বেশি রয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, টানা কয়েক দিনের ঊর্ধ্বগতির পর বাজারে কিছুটা স্বাভাবিকতা ফিরলেও মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা এখনো পুরোপুরি কমেনি। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হওয়ায় বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ অব্যাহত রয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে ইতিবাচক প্রবণতা

বুধবার ওয়াল স্ট্রিটে প্রধান সূচকগুলো ঊর্ধ্বমুখী অবস্থায় লেনদেন শেষ করেছে। মূল্যস্ফীতির গতি কমে আসার ইঙ্গিত এবং প্রত্যাশার চেয়ে ভালো করপোরেট আর্থিক ফলাফল বিনিয়োগকারীদের আস্থা বাড়িয়েছে। ফলে প্রধান সূচকগুলোতে ইতিবাচক প্রবণতা দেখা যায়।

জনপ্রিয় সংবাদ

স্কুলে সহিংসতা ঠেকাতে আগে বদলাতে হবে আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি

এশিয়ার শেয়ারবাজারে বড় পতন, দক্ষিণ কোরিয়ায় ধস; উত্তেজনার মধ্যেও কমেছে তেলের দাম

০৫:২৬:৫২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২৬

এশিয়ার বেশিরভাগ শেয়ারবাজারে বৃহস্পতিবার দরপতন হয়েছে। বিশেষ করে দক্ষিণ কোরিয়ার শেয়ারবাজারে বড় ধরনের পতন দেখা গেছে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের চলমান সামরিক উত্তেজনা সত্ত্বেও আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম কিছুটা কমেছে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের শেয়ারবাজারের ফিউচার সূচক সামান্য ঊর্ধ্বমুখী ছিল।

দক্ষিণ কোরিয়ায় বড় ধাক্কা

দক্ষিণ কোরিয়ার প্রধান শেয়ার সূচক কোসপি ৬ দশমিক ৬ শতাংশ কমে ৬ হাজার ৮১৬ দশমিক ৭০ পয়েন্টে নেমে আসে। ২০২৩ সালের পর প্রথমবারের মতো সুদের হার বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর বাজারে বিক্রির চাপ বেড়ে যায়। মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।

প্রযুক্তি খাতের বড় প্রতিষ্ঠানগুলোর শেয়ারেও উল্লেখযোগ্য পতন দেখা যায়। এসকে হাইনিক্সের শেয়ার ১১ দশমিক ২ শতাংশ এবং স্যামসাং ইলেকট্রনিকসের শেয়ার ৮ দশমিক ২ শতাংশ কমেছে।

জাপান ও তাইওয়ানেও চাপ

জাপানের নিক্কেই ২২৫ সূচক ২ দশমিক ৯ শতাংশ কমে ৬৬ হাজার ৭৬৭ দশমিক ৬৪ পয়েন্টে দাঁড়ায়। চিপ উৎপাদন ও প্রযুক্তি খাতের বড় কোম্পানিগুলোর শেয়ারে ব্যাপক বিক্রি হয়। কিওক্সিয়ার শেয়ার ১৩ দশমিক ৫ শতাংশ, টোকিও ইলেকট্রনের ৫ দশমিক ২ শতাংশ, অ্যাডভানটেস্টের ৫ দশমিক ৬ শতাংশ এবং সফটব্যাংক গ্রুপের শেয়ার ৬ দশমিক ৪ শতাংশ কমেছে।

তাইওয়ানের প্রধান সূচকও সামান্য কমেছে। বৈশ্বিক সেমিকন্ডাক্টর শিল্প এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা খাতের চাহিদার গুরুত্বপূর্ণ সূচক হিসেবে বিবেচিত একটি বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের ত্রৈমাসিক আর্থিক প্রতিবেদন প্রকাশের আগে বিনিয়োগকারীরা সতর্ক অবস্থানে ছিলেন।

হংকংয়ে ব্যতিক্রমী উত্থান

অন্য বাজারগুলোর বিপরীতে হংকংয়ের হ্যাংসেং সূচক ১ দশমিক ৭ শতাংশ বেড়েছে। প্রযুক্তি খাতের শেয়ারের চাঙ্গাভাব এই উত্থানে ভূমিকা রাখে। বিশেষ করে একটি শীর্ষ প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক সেবা চীনে অনুমোদন পাওয়ার পর সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।

চীনের সাংহাই কম্পোজিট সূচক ০ দশমিক ৯ শতাংশ এবং অস্ট্রেলিয়ার প্রধান সূচক ০ দশমিক ২ শতাংশ কমেছে। তবে ভারতের প্রধান শেয়ার সূচক ০ দশমিক ৩ শতাংশ বেড়েছে।

কমেছে তেলের দাম, উদ্বেগ রয়েই গেছে

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের চলমান সংঘাতের কারণে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে উদ্বেগ অব্যাহত থাকলেও আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম বৃহস্পতিবার সামান্য কমেছে। তবুও সংঘাত শুরুর আগের তুলনায় তেলের দাম এখনো অনেক বেশি রয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, টানা কয়েক দিনের ঊর্ধ্বগতির পর বাজারে কিছুটা স্বাভাবিকতা ফিরলেও মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা এখনো পুরোপুরি কমেনি। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হওয়ায় বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ অব্যাহত রয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে ইতিবাচক প্রবণতা

বুধবার ওয়াল স্ট্রিটে প্রধান সূচকগুলো ঊর্ধ্বমুখী অবস্থায় লেনদেন শেষ করেছে। মূল্যস্ফীতির গতি কমে আসার ইঙ্গিত এবং প্রত্যাশার চেয়ে ভালো করপোরেট আর্থিক ফলাফল বিনিয়োগকারীদের আস্থা বাড়িয়েছে। ফলে প্রধান সূচকগুলোতে ইতিবাচক প্রবণতা দেখা যায়।