০৬:৩২ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
স্কুলে সহিংসতা ঠেকাতে আগে বদলাতে হবে আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি জেন জি-র ‘ফ্রেন্ডস’ বানানোর চেষ্টা চলছে, কিন্তু কেন তা অসম্ভব সঙ্কুচিত পোশাক কি নষ্ট না করেই আগের মাপে ফেরানো সম্ভব? ডায়মন্ড লিগের ফাইনালে তৃতীয় অ্যামি হান্ট, দুর্দান্ত ছন্দে ছুটছেন ব্রিটিশ তারকা মারাঠি না জানলে ঝুঁকিতে লাইসেন্স, মহারাষ্ট্রে ট্যাক্সি ও অটোরিকশাচালকদের মিলল আরও এক বছর বয়স বাড়লেই জীবন থেমে যায় না, বরং আসে নিজের মতো বাঁচার স্বাধীনতা: প্রু লেইথ দাঁতের চিকিৎসকের কাছে যাওয়ার পথে বজ্রপাতে আহত, ‘ভয়াবহ’ অভিজ্ঞতার কথা জানালেন নিউইয়র্কের যুবক পেন্টাগনের নিয়ন্ত্রণ কি হারাচ্ছেন পিট হেগসেথ? আফ্রিকার প্রকৃত আয়তন তুলে ধরা মানচিত্রের পক্ষে জাতিসংঘের ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত সন্তান হত্যার মামলায় রায় হয়নি, লিন্ডসে ক্ল্যান্সিকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে তীব্র বিতর্ক

ওসমান হাদির সন্তান ও ভাইয়ের নিরাপত্তা চেয়ে শাহবাগ থানায় সাধারণ ডায়েরি

হত্যাকাণ্ডের শিকার ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শহিদ শরিফ ওসমান বিন হাদির সন্তান ও ভাইয়ের জীবনের নিরাপত্তা নিয়ে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এই উদ্বেগ থেকে তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে রাজধানীর শাহবাগ থানায় সাধারণ ডায়েরি করা হয়েছে।

জিডি দায়েরের তথ্য
শনিবার রাত আটটার দিকে শাহবাগ থানায় সাধারণ ডায়েরিটি করা হয়। থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মনিরুজ্জামান বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, শহিদ ওসমান হাদির মেঝ ভাই ওমর বিন হাদি নিজে থানায় এসে এই জিডি করেছেন। অভিযোগের প্রেক্ষিতে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

নিরাপত্তাহীনতার আশঙ্কা
জিডিতে ওমর বিন হাদি উল্লেখ করেন, ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডের পর থেকে তিনি ও হাদির সন্তান চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। হত্যার সঙ্গে জড়িত চক্র এখনো গ্রেপ্তার না হওয়ায় যে কোনো সময় তাদের ওপর হামলা হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তিনি।

আল্লাহ আপনার সন্তানকে হেফাজত করুন।

হুমকি ও অপপ্রচারের অভিযোগ
জিডিতে আরও বলা হয়, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন গ্রুপ ও ফেসবুক আইডি থেকে তাদের পরিবারের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। একই সঙ্গে ওমর বিন হাদিকে হত্যার হুমকিও দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এসব কারণে পরিবারটি গভীর উদ্বেগ ও আতঙ্কের মধ্যে রয়েছে।

হত্যাকাণ্ডের পটভূমি
গত বারো ডিসেম্বর রাজধানীর পুরানা পল্টনের বক্স কালভার্ট সড়কে চলন্ত একটি মোটরসাইকেল থেকে দুর্বৃত্তরা রিকশায় থাকা ওসমান হাদিকে গুলি করে। সে সময় তিনি ঢাকা-৮ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনী প্রচারণায় যুক্ত ছিলেন।

কাঁধে থাকা সেই শিশুটি হাদির সন্তান নয়, জানা গেল পরিচয় | The Daily Campus

চিকিৎসা ও মৃত্যু
গুলিবিদ্ধ অবস্থায় ওসমান হাদিকে দ্রুত ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নেওয়া হয়। চিকিৎসকদের জানানো হয়, গুলি তার মাথার ডান দিক দিয়ে ঢুকে বাম দিক দিয়ে বের হয়ে গেছে। পরে পরিবারের সিদ্ধান্তে তাকে এভারকেয়ার হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয় এবং উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশে নেওয়া হয়। শেষ পর্যন্ত সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত আঠারো ডিসেম্বর রাতে তার মৃত্যু হয়।

জানাজা ও দাফন
মরদেহ দেশে আনার পর বিশ ডিসেম্বর জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় ওসমান হাদির জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। লাখো মানুষের উপস্থিতিতে তার বড় ভাই আবু বকর সিদ্দিক জানাজায় ইমামতি করেন। জানাজায় প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস, উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য, তিন বাহিনীর প্রধান এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা অংশ নেন।

পরে বিকেল তিনটার দিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদ প্রাঙ্গণে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের সমাধির পাশে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের এই সম্মুখযোদ্ধাকে চিরনিদ্রায় শায়িত করা হয়।

জনপ্রিয় সংবাদ

স্কুলে সহিংসতা ঠেকাতে আগে বদলাতে হবে আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি

ওসমান হাদির সন্তান ও ভাইয়ের নিরাপত্তা চেয়ে শাহবাগ থানায় সাধারণ ডায়েরি

১২:২১:৩২ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৫ জানুয়ারী ২০২৬

হত্যাকাণ্ডের শিকার ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শহিদ শরিফ ওসমান বিন হাদির সন্তান ও ভাইয়ের জীবনের নিরাপত্তা নিয়ে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এই উদ্বেগ থেকে তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে রাজধানীর শাহবাগ থানায় সাধারণ ডায়েরি করা হয়েছে।

জিডি দায়েরের তথ্য
শনিবার রাত আটটার দিকে শাহবাগ থানায় সাধারণ ডায়েরিটি করা হয়। থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মনিরুজ্জামান বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, শহিদ ওসমান হাদির মেঝ ভাই ওমর বিন হাদি নিজে থানায় এসে এই জিডি করেছেন। অভিযোগের প্রেক্ষিতে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

নিরাপত্তাহীনতার আশঙ্কা
জিডিতে ওমর বিন হাদি উল্লেখ করেন, ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডের পর থেকে তিনি ও হাদির সন্তান চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। হত্যার সঙ্গে জড়িত চক্র এখনো গ্রেপ্তার না হওয়ায় যে কোনো সময় তাদের ওপর হামলা হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তিনি।

আল্লাহ আপনার সন্তানকে হেফাজত করুন।

হুমকি ও অপপ্রচারের অভিযোগ
জিডিতে আরও বলা হয়, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন গ্রুপ ও ফেসবুক আইডি থেকে তাদের পরিবারের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। একই সঙ্গে ওমর বিন হাদিকে হত্যার হুমকিও দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এসব কারণে পরিবারটি গভীর উদ্বেগ ও আতঙ্কের মধ্যে রয়েছে।

হত্যাকাণ্ডের পটভূমি
গত বারো ডিসেম্বর রাজধানীর পুরানা পল্টনের বক্স কালভার্ট সড়কে চলন্ত একটি মোটরসাইকেল থেকে দুর্বৃত্তরা রিকশায় থাকা ওসমান হাদিকে গুলি করে। সে সময় তিনি ঢাকা-৮ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনী প্রচারণায় যুক্ত ছিলেন।

কাঁধে থাকা সেই শিশুটি হাদির সন্তান নয়, জানা গেল পরিচয় | The Daily Campus

চিকিৎসা ও মৃত্যু
গুলিবিদ্ধ অবস্থায় ওসমান হাদিকে দ্রুত ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নেওয়া হয়। চিকিৎসকদের জানানো হয়, গুলি তার মাথার ডান দিক দিয়ে ঢুকে বাম দিক দিয়ে বের হয়ে গেছে। পরে পরিবারের সিদ্ধান্তে তাকে এভারকেয়ার হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয় এবং উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশে নেওয়া হয়। শেষ পর্যন্ত সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত আঠারো ডিসেম্বর রাতে তার মৃত্যু হয়।

জানাজা ও দাফন
মরদেহ দেশে আনার পর বিশ ডিসেম্বর জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় ওসমান হাদির জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। লাখো মানুষের উপস্থিতিতে তার বড় ভাই আবু বকর সিদ্দিক জানাজায় ইমামতি করেন। জানাজায় প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস, উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য, তিন বাহিনীর প্রধান এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা অংশ নেন।

পরে বিকেল তিনটার দিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদ প্রাঙ্গণে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের সমাধির পাশে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের এই সম্মুখযোদ্ধাকে চিরনিদ্রায় শায়িত করা হয়।