০৭:৩২ অপরাহ্ন, রবিবার, ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
স্কুলে সহিংসতা ঠেকাতে আগে বদলাতে হবে আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি জেন জি-র ‘ফ্রেন্ডস’ বানানোর চেষ্টা চলছে, কিন্তু কেন তা অসম্ভব সঙ্কুচিত পোশাক কি নষ্ট না করেই আগের মাপে ফেরানো সম্ভব? ডায়মন্ড লিগের ফাইনালে তৃতীয় অ্যামি হান্ট, দুর্দান্ত ছন্দে ছুটছেন ব্রিটিশ তারকা মারাঠি না জানলে ঝুঁকিতে লাইসেন্স, মহারাষ্ট্রে ট্যাক্সি ও অটোরিকশাচালকদের মিলল আরও এক বছর বয়স বাড়লেই জীবন থেমে যায় না, বরং আসে নিজের মতো বাঁচার স্বাধীনতা: প্রু লেইথ দাঁতের চিকিৎসকের কাছে যাওয়ার পথে বজ্রপাতে আহত, ‘ভয়াবহ’ অভিজ্ঞতার কথা জানালেন নিউইয়র্কের যুবক পেন্টাগনের নিয়ন্ত্রণ কি হারাচ্ছেন পিট হেগসেথ? আফ্রিকার প্রকৃত আয়তন তুলে ধরা মানচিত্রের পক্ষে জাতিসংঘের ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত সন্তান হত্যার মামলায় রায় হয়নি, লিন্ডসে ক্ল্যান্সিকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে তীব্র বিতর্ক

কাঁচা মরিচের ঝাল এখন বাজারেও, পাঁচ দিনে কেজিতে ৬০ টাকা পর্যন্ত দাম বেড়েছে

টানা বৃষ্টি ও উৎপাদন এলাকায় জলাবদ্ধতার কারণে রাজধানীর বাজারে কাঁচা মরিচের দাম হঠাৎ করেই ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে। মাত্র পাঁচ দিনের ব্যবধানে প্রতি কেজিতে ৪০ থেকে ৬০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে দাম। ব্যবসায়ীরা বলছেন, সরবরাহ কমে যাওয়ায় বাজারে এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। তবে অনেক ক্রেতার অভিযোগ, প্রাকৃতিক কারণের পাশাপাশি কিছু ব্যবসায়ী কৃত্রিম সংকট তৈরি করে দাম বাড়ানোর সুযোগ নিচ্ছেন।

বাজারে দ্রুত বেড়েছে দাম

সোমবার রাজধানীর বিভিন্ন খুচরা বাজার ঘুরে দেখা যায়, কাঁচা মরিচ প্রতি কেজি ২৬০ থেকে ৩০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। পাঁচ দিন আগেও একই পণ্য বিক্রি হয়েছে ২০০ থেকে ২৪০ টাকার মধ্যে।

কারওয়ান বাজার, তেজগাঁও কলোনি বাজার এবং মগবাজারে দামের মধ্যে কিছুটা পার্থক্য দেখা গেছে। মগবাজার ও তেজগাঁও কলোনি বাজারে কাঁচা মরিচের দাম ছিল প্রায় ৩০০ টাকা প্রতি কেজি। অন্যদিকে পাইকারি ও খুচরা বিক্রি একসঙ্গে হওয়া কারওয়ান বাজারে মানভেদে প্রতি কেজি ২৫০ থেকে ২৮০ টাকায় বিক্রি হয়েছে।

উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, মাত্র এক মাস আগেও কাঁচা মরিচের দাম ছিল প্রতি কেজি ৫০ থেকে ৭০ টাকার মধ্যে।

কেন বাড়ছে দাম

ব্যবসায়ীদের দাবি, ভারী বৃষ্টি ও জলাবদ্ধতার কারণে দেশের প্রধান উৎপাদন এলাকায় মরিচের গাছ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ফলে পাইকারি বাজারে সরবরাহ কমে গেছে।

কারওয়ান বাজারের এক ব্যবসায়ী জানান, মানিকগঞ্জসহ গুরুত্বপূর্ণ উৎপাদন এলাকা থেকে সরবরাহ প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। বর্তমানে কুষ্টিয়া, খুলনা, ঝিনাইদহ ও রাজশাহী থেকে সীমিত পরিমাণে মরিচ আসছে। অতিবৃষ্টিতে গাছের শিকড় পচে যাওয়া এবং মরিচের ফুল নষ্ট হওয়ায় উৎপাদন ব্যাপকভাবে কমেছে।

মরিচের ঝাল এখন বাজারেও, রাজধানীতে কেজি ২৮০ টাকা -

তার ভাষ্য, আগে যেখানে প্রতিদিন প্রায় ১০ ট্রাক কাঁচা মরিচ বাজারে আসত, এখন তা কমে আট ট্রাকে নেমে এসেছে। ফলে সরবরাহ ও চাহিদার মধ্যে ব্যবধান তৈরি হয়েছে।

ভারত থেকে আমদানি শুরু না হওয়াও বাজারকে স্থিতিশীল হতে দিচ্ছে না বলে জানান ব্যবসায়ীরা। তাদের মতে, আবহাওয়ার উন্নতি না হওয়া বা আমদানি পুনরায় শুরু না হওয়া পর্যন্ত দাম উচ্চ পর্যায়েই থাকতে পারে।

ক্রেতাদের ক্ষোভ

অন্যদিকে অনেক ভোক্তা এই মূল্যবৃদ্ধির যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তাদের অভিযোগ, বর্ষাকালকে অজুহাত হিসেবে ব্যবহার করে কিছু অসাধু ব্যবসায়ী কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করছেন এবং অতিরিক্ত মুনাফা আদায়ের চেষ্টা করছেন।

তাদের দাবি, বাজারে নিয়মিত নজরদারি বাড়াতে হবে এবং অযৌক্তিক মূল্যবৃদ্ধি ও কারসাজির বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে।

নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাড়তি দামের চাপে থাকা সাধারণ মানুষের জন্য কাঁচা মরিচের এই নতুন মূল্যবৃদ্ধি পারিবারিক ব্যয়ে আরও চাপ সৃষ্টি করেছে।

রাজধানীর বাজারে টানা বৃষ্টির প্রভাবে কাঁচা মরিচের দাম পাঁচ দিনে কেজিতে ৬০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। সরবরাহ সংকট ও আমদানি বন্ধ থাকাকে কারণ বলছেন ব্যবসায়ীরা।

জনপ্রিয় সংবাদ

স্কুলে সহিংসতা ঠেকাতে আগে বদলাতে হবে আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি

কাঁচা মরিচের ঝাল এখন বাজারেও, পাঁচ দিনে কেজিতে ৬০ টাকা পর্যন্ত দাম বেড়েছে

০৭:৩৬:২৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৭ জুলাই ২০২৬

টানা বৃষ্টি ও উৎপাদন এলাকায় জলাবদ্ধতার কারণে রাজধানীর বাজারে কাঁচা মরিচের দাম হঠাৎ করেই ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে। মাত্র পাঁচ দিনের ব্যবধানে প্রতি কেজিতে ৪০ থেকে ৬০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে দাম। ব্যবসায়ীরা বলছেন, সরবরাহ কমে যাওয়ায় বাজারে এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। তবে অনেক ক্রেতার অভিযোগ, প্রাকৃতিক কারণের পাশাপাশি কিছু ব্যবসায়ী কৃত্রিম সংকট তৈরি করে দাম বাড়ানোর সুযোগ নিচ্ছেন।

বাজারে দ্রুত বেড়েছে দাম

সোমবার রাজধানীর বিভিন্ন খুচরা বাজার ঘুরে দেখা যায়, কাঁচা মরিচ প্রতি কেজি ২৬০ থেকে ৩০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। পাঁচ দিন আগেও একই পণ্য বিক্রি হয়েছে ২০০ থেকে ২৪০ টাকার মধ্যে।

কারওয়ান বাজার, তেজগাঁও কলোনি বাজার এবং মগবাজারে দামের মধ্যে কিছুটা পার্থক্য দেখা গেছে। মগবাজার ও তেজগাঁও কলোনি বাজারে কাঁচা মরিচের দাম ছিল প্রায় ৩০০ টাকা প্রতি কেজি। অন্যদিকে পাইকারি ও খুচরা বিক্রি একসঙ্গে হওয়া কারওয়ান বাজারে মানভেদে প্রতি কেজি ২৫০ থেকে ২৮০ টাকায় বিক্রি হয়েছে।

উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, মাত্র এক মাস আগেও কাঁচা মরিচের দাম ছিল প্রতি কেজি ৫০ থেকে ৭০ টাকার মধ্যে।

কেন বাড়ছে দাম

ব্যবসায়ীদের দাবি, ভারী বৃষ্টি ও জলাবদ্ধতার কারণে দেশের প্রধান উৎপাদন এলাকায় মরিচের গাছ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ফলে পাইকারি বাজারে সরবরাহ কমে গেছে।

কারওয়ান বাজারের এক ব্যবসায়ী জানান, মানিকগঞ্জসহ গুরুত্বপূর্ণ উৎপাদন এলাকা থেকে সরবরাহ প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। বর্তমানে কুষ্টিয়া, খুলনা, ঝিনাইদহ ও রাজশাহী থেকে সীমিত পরিমাণে মরিচ আসছে। অতিবৃষ্টিতে গাছের শিকড় পচে যাওয়া এবং মরিচের ফুল নষ্ট হওয়ায় উৎপাদন ব্যাপকভাবে কমেছে।

মরিচের ঝাল এখন বাজারেও, রাজধানীতে কেজি ২৮০ টাকা -

তার ভাষ্য, আগে যেখানে প্রতিদিন প্রায় ১০ ট্রাক কাঁচা মরিচ বাজারে আসত, এখন তা কমে আট ট্রাকে নেমে এসেছে। ফলে সরবরাহ ও চাহিদার মধ্যে ব্যবধান তৈরি হয়েছে।

ভারত থেকে আমদানি শুরু না হওয়াও বাজারকে স্থিতিশীল হতে দিচ্ছে না বলে জানান ব্যবসায়ীরা। তাদের মতে, আবহাওয়ার উন্নতি না হওয়া বা আমদানি পুনরায় শুরু না হওয়া পর্যন্ত দাম উচ্চ পর্যায়েই থাকতে পারে।

ক্রেতাদের ক্ষোভ

অন্যদিকে অনেক ভোক্তা এই মূল্যবৃদ্ধির যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তাদের অভিযোগ, বর্ষাকালকে অজুহাত হিসেবে ব্যবহার করে কিছু অসাধু ব্যবসায়ী কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করছেন এবং অতিরিক্ত মুনাফা আদায়ের চেষ্টা করছেন।

তাদের দাবি, বাজারে নিয়মিত নজরদারি বাড়াতে হবে এবং অযৌক্তিক মূল্যবৃদ্ধি ও কারসাজির বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে।

নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাড়তি দামের চাপে থাকা সাধারণ মানুষের জন্য কাঁচা মরিচের এই নতুন মূল্যবৃদ্ধি পারিবারিক ব্যয়ে আরও চাপ সৃষ্টি করেছে।

রাজধানীর বাজারে টানা বৃষ্টির প্রভাবে কাঁচা মরিচের দাম পাঁচ দিনে কেজিতে ৬০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। সরবরাহ সংকট ও আমদানি বন্ধ থাকাকে কারণ বলছেন ব্যবসায়ীরা।