০৫:২১ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
স্কুলে সহিংসতা ঠেকাতে আগে বদলাতে হবে আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি জেন জি-র ‘ফ্রেন্ডস’ বানানোর চেষ্টা চলছে, কিন্তু কেন তা অসম্ভব সঙ্কুচিত পোশাক কি নষ্ট না করেই আগের মাপে ফেরানো সম্ভব? ডায়মন্ড লিগের ফাইনালে তৃতীয় অ্যামি হান্ট, দুর্দান্ত ছন্দে ছুটছেন ব্রিটিশ তারকা মারাঠি না জানলে ঝুঁকিতে লাইসেন্স, মহারাষ্ট্রে ট্যাক্সি ও অটোরিকশাচালকদের মিলল আরও এক বছর বয়স বাড়লেই জীবন থেমে যায় না, বরং আসে নিজের মতো বাঁচার স্বাধীনতা: প্রু লেইথ দাঁতের চিকিৎসকের কাছে যাওয়ার পথে বজ্রপাতে আহত, ‘ভয়াবহ’ অভিজ্ঞতার কথা জানালেন নিউইয়র্কের যুবক পেন্টাগনের নিয়ন্ত্রণ কি হারাচ্ছেন পিট হেগসেথ? আফ্রিকার প্রকৃত আয়তন তুলে ধরা মানচিত্রের পক্ষে জাতিসংঘের ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত সন্তান হত্যার মামলায় রায় হয়নি, লিন্ডসে ক্ল্যান্সিকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে তীব্র বিতর্ক

কানাডার জনপ্রিয় ‘বন কপ, ব্যাড কপ’ ফিরছে সিরিজে, নতুন মুখে নতুন রসায়নের বাজি

কানাডার জনপ্রিয় দ্বিভাষিক পুলিশ-কমেডি ফ্র্যাঞ্চাইজি ‘বন কপ, ব্যাড কপ’ আবারও ফিরছে দর্শকদের পর্দায়। তবে এবার বড় পর্দায় নয়, ছয় পর্বের টেলিভিশন সিরিজ হিসেবে। নির্মাতা ও অভিনেতা প্যাট্রিক হুয়ার্ড জানিয়েছেন, পুরোনো দুই চরিত্রের সম্পর্ককে নতুনভাবে বিস্তৃত করতেই সিনেমার বদলে সিরিজ ফরম্যাট বেছে নেওয়া হয়েছে।

নতুন সিরিজে আবারও দেখা যাবে কুইবেক পুলিশের বেপরোয়া কর্মকর্তা ডেভিড বুশার চরিত্রে প্যাট্রিক হুয়ার্ডকে। তবে আগের দুই ছবিতে অন্টারিওর পুলিশ কর্মকর্তা মার্টিন ওয়ার্ড চরিত্রে অভিনয় করা কোল্ম ফিওরের জায়গায় এবার এসেছেন অভিনেতা হেনরি চের্নি। নতুন এই পরিবর্তন নিয়েই এখন সবচেয়ে বেশি আলোচনা হচ্ছে দর্শকদের মধ্যে।

নতুন গল্পে আদিবাসী সম্প্রদায়ের সংযোগ

নতুন সিরিজের গল্প শুরু হয়েছে কানাডার গ্যাসপে উপদ্বীপের একটি আদিবাসী সম্প্রদায় থেকে এক ব্যক্তির নিখোঁজ হওয়ার ঘটনার মাধ্যমে। সেই তদন্তে আবার একসঙ্গে কাজ করতে বাধ্য হন ডেভিড ও মার্টিন। তাদের সঙ্গে যুক্ত হন আদিবাসী পুলিশ কর্মকর্তা জো ব্রুম। নির্মাতাদের মতে, এবার তারা কানাডার বহু সংস্কৃতির বাস্তবতাকে আরও গভীরভাবে তুলে ধরতে চেয়েছেন।

প্যাট্রিক হুয়ার্ড বলেন, আগের দুই ছবিতে ডেভিড ও মার্টিনের সম্পর্ক অনেক দূর এগিয়েছিল। প্রথম ছবিতে তারা একে অপরকে সহ্য করতে পারতেন না, কিন্তু দ্বিতীয় ছবির শেষে প্রায় ভাইয়ের মতো হয়ে ওঠেন। এবার সেই গল্পে নতুন প্রজন্ম, নতুন সম্প্রদায় এবং নতুন সম্পর্ক যুক্ত করা হয়েছে। তাই একটি সিনেমার সীমিত সময়ে সবকিছু দেখানো সম্ভব হতো না।

Protests as Venice Biennale opens in turmoil over Russian presence

দুই ভাষার মিশ্রণে আলাদা আকর্ষণ

সিরিজটির অন্যতম বিশেষ দিক হচ্ছে ফরাসি ও ইংরেজি ভাষার একসঙ্গে ব্যবহার। নির্মাতাদের মতে, কিছু রসিকতা ইংরেজিতে বেশি কার্যকর, আবার কিছু ফরাসিতে। এই সাংস্কৃতিক সংঘাতই পুরো সিরিজকে আলাদা মাত্রা দিয়েছে। পাশাপাশি এবার মিকম্যাক ভাষার ব্যবহারও যুক্ত হয়েছে, যাতে বহুসংস্কৃতির অনুভূতি আরও স্পষ্ট হয়।

এবারের সিরিজে আকাডিয়ান সংস্কৃতিকেও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এমনকি কাহিনিতে কানাডার প্রথম আকাডিয়ান প্রধানমন্ত্রী চরিত্রও রাখা হয়েছে। নির্মাতারা বলছেন, কানাডার বাস্তব সমাজের বিভিন্ন ভাষা ও সংস্কৃতিকে সামনে আনতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

নতুন অভিনেতা, নতুন চেহারা

শুটিং শুরুর মাত্র তিন সপ্তাহ আগে কোল্ম ফিওরে প্রকল্প ছেড়ে দিলে পুরো টিম বিপাকে পড়ে। পরে তার জায়গায় হেনরি চের্নিকে নেওয়া হয়। যদিও তিনি পুরোপুরি দ্বিভাষিক নন, তবুও নির্মাতারা মনে করছেন তিনি চরিত্রটিতে নতুন প্রাণ এনেছেন।

হেনরির গোঁফ নিয়েও আলোচনা হয়েছে ব্যাপক। নির্মাতাদের ভাষ্য অনুযায়ী, নতুন অভিনেতাকে পুরোনো চরিত্রের অনুকরণে না রেখে সম্পূর্ণ নতুনভাবে উপস্থাপন করতেই এই পরিবর্তন আনা হয়েছে। তারা শুরু থেকেই দর্শকদের জানিয়ে দিতে চেয়েছেন যে এটি একই চরিত্র হলেও নতুন উপস্থাপনা।

টেলিভিশন সিরিজ হিসেবে ‘বন কপ, ব্যাড কপ’-এর এই প্রত্যাবর্তন এখন কানাডার বিনোদন অঙ্গনে বড় আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে বহু ভাষা, বহু সংস্কৃতি এবং নতুন প্রজন্মের বাস্তবতাকে একসঙ্গে তুলে ধরার চেষ্টা দর্শকদের মধ্যে আলাদা আগ্রহ তৈরি করেছে।

কানাডার জনপ্রিয় ‘বন কপ, ব্যাড কপ’ এবার ছয় পর্বের সিরিজ হিসেবে ফিরছে নতুন অভিনেতা ও বহুসংস্কৃতির গল্প নিয়ে।

জনপ্রিয় সংবাদ

স্কুলে সহিংসতা ঠেকাতে আগে বদলাতে হবে আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি

কানাডার জনপ্রিয় ‘বন কপ, ব্যাড কপ’ ফিরছে সিরিজে, নতুন মুখে নতুন রসায়নের বাজি

০৫:৫৬:০৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৮ মে ২০২৬

কানাডার জনপ্রিয় দ্বিভাষিক পুলিশ-কমেডি ফ্র্যাঞ্চাইজি ‘বন কপ, ব্যাড কপ’ আবারও ফিরছে দর্শকদের পর্দায়। তবে এবার বড় পর্দায় নয়, ছয় পর্বের টেলিভিশন সিরিজ হিসেবে। নির্মাতা ও অভিনেতা প্যাট্রিক হুয়ার্ড জানিয়েছেন, পুরোনো দুই চরিত্রের সম্পর্ককে নতুনভাবে বিস্তৃত করতেই সিনেমার বদলে সিরিজ ফরম্যাট বেছে নেওয়া হয়েছে।

নতুন সিরিজে আবারও দেখা যাবে কুইবেক পুলিশের বেপরোয়া কর্মকর্তা ডেভিড বুশার চরিত্রে প্যাট্রিক হুয়ার্ডকে। তবে আগের দুই ছবিতে অন্টারিওর পুলিশ কর্মকর্তা মার্টিন ওয়ার্ড চরিত্রে অভিনয় করা কোল্ম ফিওরের জায়গায় এবার এসেছেন অভিনেতা হেনরি চের্নি। নতুন এই পরিবর্তন নিয়েই এখন সবচেয়ে বেশি আলোচনা হচ্ছে দর্শকদের মধ্যে।

নতুন গল্পে আদিবাসী সম্প্রদায়ের সংযোগ

নতুন সিরিজের গল্প শুরু হয়েছে কানাডার গ্যাসপে উপদ্বীপের একটি আদিবাসী সম্প্রদায় থেকে এক ব্যক্তির নিখোঁজ হওয়ার ঘটনার মাধ্যমে। সেই তদন্তে আবার একসঙ্গে কাজ করতে বাধ্য হন ডেভিড ও মার্টিন। তাদের সঙ্গে যুক্ত হন আদিবাসী পুলিশ কর্মকর্তা জো ব্রুম। নির্মাতাদের মতে, এবার তারা কানাডার বহু সংস্কৃতির বাস্তবতাকে আরও গভীরভাবে তুলে ধরতে চেয়েছেন।

প্যাট্রিক হুয়ার্ড বলেন, আগের দুই ছবিতে ডেভিড ও মার্টিনের সম্পর্ক অনেক দূর এগিয়েছিল। প্রথম ছবিতে তারা একে অপরকে সহ্য করতে পারতেন না, কিন্তু দ্বিতীয় ছবির শেষে প্রায় ভাইয়ের মতো হয়ে ওঠেন। এবার সেই গল্পে নতুন প্রজন্ম, নতুন সম্প্রদায় এবং নতুন সম্পর্ক যুক্ত করা হয়েছে। তাই একটি সিনেমার সীমিত সময়ে সবকিছু দেখানো সম্ভব হতো না।

Protests as Venice Biennale opens in turmoil over Russian presence

দুই ভাষার মিশ্রণে আলাদা আকর্ষণ

সিরিজটির অন্যতম বিশেষ দিক হচ্ছে ফরাসি ও ইংরেজি ভাষার একসঙ্গে ব্যবহার। নির্মাতাদের মতে, কিছু রসিকতা ইংরেজিতে বেশি কার্যকর, আবার কিছু ফরাসিতে। এই সাংস্কৃতিক সংঘাতই পুরো সিরিজকে আলাদা মাত্রা দিয়েছে। পাশাপাশি এবার মিকম্যাক ভাষার ব্যবহারও যুক্ত হয়েছে, যাতে বহুসংস্কৃতির অনুভূতি আরও স্পষ্ট হয়।

এবারের সিরিজে আকাডিয়ান সংস্কৃতিকেও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এমনকি কাহিনিতে কানাডার প্রথম আকাডিয়ান প্রধানমন্ত্রী চরিত্রও রাখা হয়েছে। নির্মাতারা বলছেন, কানাডার বাস্তব সমাজের বিভিন্ন ভাষা ও সংস্কৃতিকে সামনে আনতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

নতুন অভিনেতা, নতুন চেহারা

শুটিং শুরুর মাত্র তিন সপ্তাহ আগে কোল্ম ফিওরে প্রকল্প ছেড়ে দিলে পুরো টিম বিপাকে পড়ে। পরে তার জায়গায় হেনরি চের্নিকে নেওয়া হয়। যদিও তিনি পুরোপুরি দ্বিভাষিক নন, তবুও নির্মাতারা মনে করছেন তিনি চরিত্রটিতে নতুন প্রাণ এনেছেন।

হেনরির গোঁফ নিয়েও আলোচনা হয়েছে ব্যাপক। নির্মাতাদের ভাষ্য অনুযায়ী, নতুন অভিনেতাকে পুরোনো চরিত্রের অনুকরণে না রেখে সম্পূর্ণ নতুনভাবে উপস্থাপন করতেই এই পরিবর্তন আনা হয়েছে। তারা শুরু থেকেই দর্শকদের জানিয়ে দিতে চেয়েছেন যে এটি একই চরিত্র হলেও নতুন উপস্থাপনা।

টেলিভিশন সিরিজ হিসেবে ‘বন কপ, ব্যাড কপ’-এর এই প্রত্যাবর্তন এখন কানাডার বিনোদন অঙ্গনে বড় আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে বহু ভাষা, বহু সংস্কৃতি এবং নতুন প্রজন্মের বাস্তবতাকে একসঙ্গে তুলে ধরার চেষ্টা দর্শকদের মধ্যে আলাদা আগ্রহ তৈরি করেছে।

কানাডার জনপ্রিয় ‘বন কপ, ব্যাড কপ’ এবার ছয় পর্বের সিরিজ হিসেবে ফিরছে নতুন অভিনেতা ও বহুসংস্কৃতির গল্প নিয়ে।