০৫:২১ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
স্কুলে সহিংসতা ঠেকাতে আগে বদলাতে হবে আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি জেন জি-র ‘ফ্রেন্ডস’ বানানোর চেষ্টা চলছে, কিন্তু কেন তা অসম্ভব সঙ্কুচিত পোশাক কি নষ্ট না করেই আগের মাপে ফেরানো সম্ভব? ডায়মন্ড লিগের ফাইনালে তৃতীয় অ্যামি হান্ট, দুর্দান্ত ছন্দে ছুটছেন ব্রিটিশ তারকা মারাঠি না জানলে ঝুঁকিতে লাইসেন্স, মহারাষ্ট্রে ট্যাক্সি ও অটোরিকশাচালকদের মিলল আরও এক বছর বয়স বাড়লেই জীবন থেমে যায় না, বরং আসে নিজের মতো বাঁচার স্বাধীনতা: প্রু লেইথ দাঁতের চিকিৎসকের কাছে যাওয়ার পথে বজ্রপাতে আহত, ‘ভয়াবহ’ অভিজ্ঞতার কথা জানালেন নিউইয়র্কের যুবক পেন্টাগনের নিয়ন্ত্রণ কি হারাচ্ছেন পিট হেগসেথ? আফ্রিকার প্রকৃত আয়তন তুলে ধরা মানচিত্রের পক্ষে জাতিসংঘের ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত সন্তান হত্যার মামলায় রায় হয়নি, লিন্ডসে ক্ল্যান্সিকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে তীব্র বিতর্ক

কাবুলে প্রাণঘাতী বিমান হামলা, পাকিস্তান-আফগানিস্তান সংঘাত নতুন মোড়ে

কাবুলে এক বিধ্বংসী বিমান হামলা নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে দিয়েছে পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের মধ্যে চলমান সংঘাতে। ১৬ মার্চের এই হামলায় অন্তত ১৪৩ জন নিহত হওয়ার ঘটনায় পুরো অঞ্চলে অস্থিরতা বেড়েছে, আর এর প্রভাব এখন দুই দেশের রাজনৈতিক ও সামরিক সম্পর্ককে গভীরভাবে নাড়িয়ে দিচ্ছে।

হাসপাতাল থেকে ধ্বংসস্তূপে রূপান্তর

যে স্থাপনাটি এক সময় মার্কিন ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত ছিল, পরে সেটিই হয়ে ওঠে মাদকাসক্তদের চিকিৎসাকেন্দ্র। সেখানে দুই হাজারেরও বেশি রোগী চিকিৎসা পেতেন। কিন্তু সাম্প্রতিক এই হামলার পর সেই জায়গাটি এখন রক্তাক্ত স্মৃতির প্রতীক। পাকিস্তান দাবি করেছে, তারা সুনির্দিষ্টভাবে সন্ত্রাসী লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছে। তবে স্থানীয় সূত্রে জানা যাচ্ছে, নিহতদের মধ্যে বহু রোগী ও চিকিৎসকও রয়েছেন।

লক্ষ্যবস্তু ও বাস্তবতার দ্বন্দ্ব

বিশ্লেষকদের মতে, হাসপাতালের আশপাশে সামরিক লক্ষ্যবস্তু থাকতে পারে। কিন্তু বেসামরিক প্রাণহানি ঠেকাতে পাকিস্তানের প্রযুক্তি ও কৌশল কার্যকরভাবে কাজ করতে পারেনি। ফলে এই হামলা শুধু সামরিক নয়, মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকেও বড় প্রশ্ন তৈরি করেছে।

সংঘাতের মূল কারণ

পাকিস্তানের অভিযোগ, আফগানিস্তান তাদের ভূখণ্ডে হামলা চালাতে একটি সশস্ত্র গোষ্ঠীকে আশ্রয় দিচ্ছে। এই অভিযোগের প্রেক্ষিতে পাকিস্তান ধারাবাহিকভাবে বিমান হামলা চালিয়ে যাচ্ছে এবং তারা চায় কাবুল প্রশাসন ওই গোষ্ঠীকে নিরস্ত্র বা নিষ্ক্রিয় করুক। অন্যদিকে, আফগান পক্ষও সীমান্তে হামলা ও ড্রোন আক্রমণের মাধ্যমে পাল্টা প্রতিক্রিয়া দেখাচ্ছে।

উত্তেজনা আরও বাড়ার আশঙ্কা

এই ঘটনার পর দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। বিশেষ করে, বেসামরিক প্রাণহানির কারণে আফগান নেতৃত্বের জন্য আলোচনার পথে ফেরা কঠিন হয়ে পড়তে পারে। একই সঙ্গে চরমপন্থী গোষ্ঠীগুলো আরও বড় ধরনের হামলার চেষ্টা করতে পারে।

আঞ্চলিক সংকটের প্রভাব

এদিকে, ইরানকে ঘিরে চলমান সংঘাতও এই পরিস্থিতিকে প্রভাবিত করছে। আফগানিস্তান খাদ্য ও জ্বালানির জন্য ইরানের ওপর নির্ভরশীল, আর পাকিস্তানও জ্বালানি সংকটে পড়েছে। এই পরিস্থিতিতে উভয় দেশ সাময়িকভাবে সামরিক অভিযান স্থগিত করার ঘোষণা দিয়েছে, যা কিছুটা স্বস্তির ইঙ্গিত দিলেও ভবিষ্যৎ এখনও অনিশ্চিত।

জনপ্রিয় সংবাদ

স্কুলে সহিংসতা ঠেকাতে আগে বদলাতে হবে আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি

কাবুলে প্রাণঘাতী বিমান হামলা, পাকিস্তান-আফগানিস্তান সংঘাত নতুন মোড়ে

১০:০০:১০ অপরাহ্ন, রবিবার, ২২ মার্চ ২০২৬

কাবুলে এক বিধ্বংসী বিমান হামলা নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে দিয়েছে পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের মধ্যে চলমান সংঘাতে। ১৬ মার্চের এই হামলায় অন্তত ১৪৩ জন নিহত হওয়ার ঘটনায় পুরো অঞ্চলে অস্থিরতা বেড়েছে, আর এর প্রভাব এখন দুই দেশের রাজনৈতিক ও সামরিক সম্পর্ককে গভীরভাবে নাড়িয়ে দিচ্ছে।

হাসপাতাল থেকে ধ্বংসস্তূপে রূপান্তর

যে স্থাপনাটি এক সময় মার্কিন ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত ছিল, পরে সেটিই হয়ে ওঠে মাদকাসক্তদের চিকিৎসাকেন্দ্র। সেখানে দুই হাজারেরও বেশি রোগী চিকিৎসা পেতেন। কিন্তু সাম্প্রতিক এই হামলার পর সেই জায়গাটি এখন রক্তাক্ত স্মৃতির প্রতীক। পাকিস্তান দাবি করেছে, তারা সুনির্দিষ্টভাবে সন্ত্রাসী লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছে। তবে স্থানীয় সূত্রে জানা যাচ্ছে, নিহতদের মধ্যে বহু রোগী ও চিকিৎসকও রয়েছেন।

লক্ষ্যবস্তু ও বাস্তবতার দ্বন্দ্ব

বিশ্লেষকদের মতে, হাসপাতালের আশপাশে সামরিক লক্ষ্যবস্তু থাকতে পারে। কিন্তু বেসামরিক প্রাণহানি ঠেকাতে পাকিস্তানের প্রযুক্তি ও কৌশল কার্যকরভাবে কাজ করতে পারেনি। ফলে এই হামলা শুধু সামরিক নয়, মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকেও বড় প্রশ্ন তৈরি করেছে।

সংঘাতের মূল কারণ

পাকিস্তানের অভিযোগ, আফগানিস্তান তাদের ভূখণ্ডে হামলা চালাতে একটি সশস্ত্র গোষ্ঠীকে আশ্রয় দিচ্ছে। এই অভিযোগের প্রেক্ষিতে পাকিস্তান ধারাবাহিকভাবে বিমান হামলা চালিয়ে যাচ্ছে এবং তারা চায় কাবুল প্রশাসন ওই গোষ্ঠীকে নিরস্ত্র বা নিষ্ক্রিয় করুক। অন্যদিকে, আফগান পক্ষও সীমান্তে হামলা ও ড্রোন আক্রমণের মাধ্যমে পাল্টা প্রতিক্রিয়া দেখাচ্ছে।

উত্তেজনা আরও বাড়ার আশঙ্কা

এই ঘটনার পর দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। বিশেষ করে, বেসামরিক প্রাণহানির কারণে আফগান নেতৃত্বের জন্য আলোচনার পথে ফেরা কঠিন হয়ে পড়তে পারে। একই সঙ্গে চরমপন্থী গোষ্ঠীগুলো আরও বড় ধরনের হামলার চেষ্টা করতে পারে।

আঞ্চলিক সংকটের প্রভাব

এদিকে, ইরানকে ঘিরে চলমান সংঘাতও এই পরিস্থিতিকে প্রভাবিত করছে। আফগানিস্তান খাদ্য ও জ্বালানির জন্য ইরানের ওপর নির্ভরশীল, আর পাকিস্তানও জ্বালানি সংকটে পড়েছে। এই পরিস্থিতিতে উভয় দেশ সাময়িকভাবে সামরিক অভিযান স্থগিত করার ঘোষণা দিয়েছে, যা কিছুটা স্বস্তির ইঙ্গিত দিলেও ভবিষ্যৎ এখনও অনিশ্চিত।