০৬:৪৫ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
স্কুলে সহিংসতা ঠেকাতে আগে বদলাতে হবে আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি জেন জি-র ‘ফ্রেন্ডস’ বানানোর চেষ্টা চলছে, কিন্তু কেন তা অসম্ভব সঙ্কুচিত পোশাক কি নষ্ট না করেই আগের মাপে ফেরানো সম্ভব? ডায়মন্ড লিগের ফাইনালে তৃতীয় অ্যামি হান্ট, দুর্দান্ত ছন্দে ছুটছেন ব্রিটিশ তারকা মারাঠি না জানলে ঝুঁকিতে লাইসেন্স, মহারাষ্ট্রে ট্যাক্সি ও অটোরিকশাচালকদের মিলল আরও এক বছর বয়স বাড়লেই জীবন থেমে যায় না, বরং আসে নিজের মতো বাঁচার স্বাধীনতা: প্রু লেইথ দাঁতের চিকিৎসকের কাছে যাওয়ার পথে বজ্রপাতে আহত, ‘ভয়াবহ’ অভিজ্ঞতার কথা জানালেন নিউইয়র্কের যুবক পেন্টাগনের নিয়ন্ত্রণ কি হারাচ্ছেন পিট হেগসেথ? আফ্রিকার প্রকৃত আয়তন তুলে ধরা মানচিত্রের পক্ষে জাতিসংঘের ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত সন্তান হত্যার মামলায় রায় হয়নি, লিন্ডসে ক্ল্যান্সিকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে তীব্র বিতর্ক

কারাগারে অসুস্থ হয়ে মারা গেলেন সাতক্ষীরা জজ কোর্টের সাবেক পিপি আব্দুল লতিফ

সাতক্ষীরা জেলা জজ আদালতের সাবেক সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) ও আওয়ামী লীগ নেতা আব্দুল লতিফ কারাগারে অসুস্থ হয়ে মারা গেছেন। রবিবার গভীর রাতে তাকে সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিক্যাল কর্মকর্তা ডা. আব্দুর রহমান জানিয়েছেন, রাত ৩টার দিকে আব্দুল লতিফকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সে সময় তিনি বুকে ব্যথায় ভুগছিলেন। পরে রাত ৪টা ১০ মিনিটে তার মৃত্যু হয়। হাসপাতালের চিকিৎসক ত্রিদিব দেবনাথ তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছেন সাতক্ষীরা জেলা কারাগারের কর্মকর্তা মনির হোসেন। আব্দুল লতিফ সাতক্ষীরা সদর উপজেলার কামারবায়শা গ্রামের মুনসুর আলীর ছেলে। দীর্ঘদিন তিনি শহরের রসুলপুর এলাকায় বসবাস করতেন।

গ্রেফতার ও মামলার পটভূমি

স্থানীয় ও দলীয় সূত্র বলছে, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় সাতক্ষীরা-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য মীর মোস্তাক আহম্মেদ রবির সুপারিশে আব্দুল লতিফ জেলা জজ আদালতের পিপি হিসেবে নিয়োগ পান। দায়িত্ব পালনকালে আদালতপাড়া নিয়ন্ত্রণ এবং ভারতীয় গরুর খাটাল ব্যবস্থাপনাসহ বিভিন্ন খাত থেকে বিপুল অবৈধ সম্পদের মালিক হওয়ার অভিযোগ ওঠে তার বিরুদ্ধে।

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর আব্দুল লতিফের বিরুদ্ধে আটটি হত্যা ও নাশকতার মামলা দায়ের করা হয়। তার ছেলে রাসেলের বিরুদ্ধেও তিনটি মামলা হয়। মামলার পর তারা আত্মগোপনে চলে যান বলে জানা যায়।

এরপর ২০২৫ সালের ১২ ডিসেম্বর খুলনার বয়রা এলাকায় বিশেষ অভিযান চালিয়ে ডিবি পুলিশ আব্দুল লতিফ ও তার ছেলে রাসেলকে গ্রেফতার করে। পরে তাদের সাতক্ষীরা ডিবি কার্যালয়ে নেওয়া হয়।

দলিল রেজিস্ট্রি ঘিরে অভিযান

তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, আইনি জটিলতার কারণে সাতক্ষীরায় আসতে না পারায় নিজের ভবনের ফ্ল্যাট রেজিস্ট্রির জন্য তিনি বিকল্প উপায়ে দলিল সম্পন্নের উদ্যোগ নেন। এজন্য সাব-রেজিস্ট্রারকে বিশেষ সুবিধা দেওয়ার অভিযোগও ওঠে।

এই প্রক্রিয়ায় সাতক্ষীরা সদর দলিল লেখক সমিতির সাংগঠনিক সম্পাদক মহিদুল ইসলাম দায়িত্ব পালন করছিলেন বলে জানা গেছে। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ডিবি পুলিশ খুলনার বয়রা এলাকায় অভিযান চালিয়ে আব্দুল লতিফ ও তার ছেলেকে আটক করে।

গ্রেফতারের পর সাতক্ষীরা গোয়েন্দা পুলিশের পরিদর্শক নিজামউদ্দিন জানিয়েছিলেন, সুনির্দিষ্ট মামলার ভিত্তিতে তাদের হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছিল।

কারা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আব্দুল লতিফের মৃত্যুর পর প্রয়োজনীয় আইনি ও চিকিৎসা সংক্রান্ত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হচ্ছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

স্কুলে সহিংসতা ঠেকাতে আগে বদলাতে হবে আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি

কারাগারে অসুস্থ হয়ে মারা গেলেন সাতক্ষীরা জজ কোর্টের সাবেক পিপি আব্দুল লতিফ

০৭:৪২:১৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৫ মে ২০২৬

সাতক্ষীরা জেলা জজ আদালতের সাবেক সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) ও আওয়ামী লীগ নেতা আব্দুল লতিফ কারাগারে অসুস্থ হয়ে মারা গেছেন। রবিবার গভীর রাতে তাকে সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিক্যাল কর্মকর্তা ডা. আব্দুর রহমান জানিয়েছেন, রাত ৩টার দিকে আব্দুল লতিফকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সে সময় তিনি বুকে ব্যথায় ভুগছিলেন। পরে রাত ৪টা ১০ মিনিটে তার মৃত্যু হয়। হাসপাতালের চিকিৎসক ত্রিদিব দেবনাথ তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছেন সাতক্ষীরা জেলা কারাগারের কর্মকর্তা মনির হোসেন। আব্দুল লতিফ সাতক্ষীরা সদর উপজেলার কামারবায়শা গ্রামের মুনসুর আলীর ছেলে। দীর্ঘদিন তিনি শহরের রসুলপুর এলাকায় বসবাস করতেন।

গ্রেফতার ও মামলার পটভূমি

স্থানীয় ও দলীয় সূত্র বলছে, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় সাতক্ষীরা-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য মীর মোস্তাক আহম্মেদ রবির সুপারিশে আব্দুল লতিফ জেলা জজ আদালতের পিপি হিসেবে নিয়োগ পান। দায়িত্ব পালনকালে আদালতপাড়া নিয়ন্ত্রণ এবং ভারতীয় গরুর খাটাল ব্যবস্থাপনাসহ বিভিন্ন খাত থেকে বিপুল অবৈধ সম্পদের মালিক হওয়ার অভিযোগ ওঠে তার বিরুদ্ধে।

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর আব্দুল লতিফের বিরুদ্ধে আটটি হত্যা ও নাশকতার মামলা দায়ের করা হয়। তার ছেলে রাসেলের বিরুদ্ধেও তিনটি মামলা হয়। মামলার পর তারা আত্মগোপনে চলে যান বলে জানা যায়।

এরপর ২০২৫ সালের ১২ ডিসেম্বর খুলনার বয়রা এলাকায় বিশেষ অভিযান চালিয়ে ডিবি পুলিশ আব্দুল লতিফ ও তার ছেলে রাসেলকে গ্রেফতার করে। পরে তাদের সাতক্ষীরা ডিবি কার্যালয়ে নেওয়া হয়।

দলিল রেজিস্ট্রি ঘিরে অভিযান

তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, আইনি জটিলতার কারণে সাতক্ষীরায় আসতে না পারায় নিজের ভবনের ফ্ল্যাট রেজিস্ট্রির জন্য তিনি বিকল্প উপায়ে দলিল সম্পন্নের উদ্যোগ নেন। এজন্য সাব-রেজিস্ট্রারকে বিশেষ সুবিধা দেওয়ার অভিযোগও ওঠে।

এই প্রক্রিয়ায় সাতক্ষীরা সদর দলিল লেখক সমিতির সাংগঠনিক সম্পাদক মহিদুল ইসলাম দায়িত্ব পালন করছিলেন বলে জানা গেছে। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ডিবি পুলিশ খুলনার বয়রা এলাকায় অভিযান চালিয়ে আব্দুল লতিফ ও তার ছেলেকে আটক করে।

গ্রেফতারের পর সাতক্ষীরা গোয়েন্দা পুলিশের পরিদর্শক নিজামউদ্দিন জানিয়েছিলেন, সুনির্দিষ্ট মামলার ভিত্তিতে তাদের হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছিল।

কারা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আব্দুল লতিফের মৃত্যুর পর প্রয়োজনীয় আইনি ও চিকিৎসা সংক্রান্ত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হচ্ছে।