০৩:৩১ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
স্কুলে সহিংসতা ঠেকাতে আগে বদলাতে হবে আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি জেন জি-র ‘ফ্রেন্ডস’ বানানোর চেষ্টা চলছে, কিন্তু কেন তা অসম্ভব সঙ্কুচিত পোশাক কি নষ্ট না করেই আগের মাপে ফেরানো সম্ভব? ডায়মন্ড লিগের ফাইনালে তৃতীয় অ্যামি হান্ট, দুর্দান্ত ছন্দে ছুটছেন ব্রিটিশ তারকা মারাঠি না জানলে ঝুঁকিতে লাইসেন্স, মহারাষ্ট্রে ট্যাক্সি ও অটোরিকশাচালকদের মিলল আরও এক বছর বয়স বাড়লেই জীবন থেমে যায় না, বরং আসে নিজের মতো বাঁচার স্বাধীনতা: প্রু লেইথ দাঁতের চিকিৎসকের কাছে যাওয়ার পথে বজ্রপাতে আহত, ‘ভয়াবহ’ অভিজ্ঞতার কথা জানালেন নিউইয়র্কের যুবক পেন্টাগনের নিয়ন্ত্রণ কি হারাচ্ছেন পিট হেগসেথ? আফ্রিকার প্রকৃত আয়তন তুলে ধরা মানচিত্রের পক্ষে জাতিসংঘের ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত সন্তান হত্যার মামলায় রায় হয়নি, লিন্ডসে ক্ল্যান্সিকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে তীব্র বিতর্ক

কুষ্টিয়ায় অসমাপ্ত ড্রেনে পড়ে শিশুর মৃত্যু, ক্ষোভে ফুঁসছে এলাকাবাসী

কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে অসমাপ্ত ড্রেনের পানিতে পড়ে এক শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। সোমবার বিকেলে পৌর এলাকার এলাঙ্গি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত শিশুর নাম মোহাম্মদ ইফাত। তার বয়স ছিল ছয় বছর। সে স্থানীয় একটি মাদ্রাসার প্রথম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল।

পরিবার ও স্থানীয় সূত্র জানায়, বিকেল তিনটার দিকে চাচাতো ভাই সামাদের সঙ্গে বাড়ি থেকে বের হয় ইফাত। তারা ছাগল চরাতে গিয়েছিল। দীর্ঘ সময় পার হলেও ইফাত বাড়িতে না ফেরায় পরিবারের সদস্যরা খোঁজাখুঁজি শুরু করেন।

একপর্যায়ে বিকেল চারটার দিকে মানিক শেখের বাড়ির সামনে নির্মাণাধীন ড্রেনের পাশে ইফাতের স্যান্ডেল দেখতে পান স্বজনরা। পরে ড্রেনের পানিভর্তি গর্ত থেকে তাকে উদ্ধার করা হয়। দ্রুত কুমারখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

কলকাতায় আরও ৬ শিশুর মৃত্যু, যা বললেন মেয়র

অসমাপ্ত প্রকল্প নিয়ে ক্ষোভ

স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রায় এক বছর আগে মানিক শেখের বাড়ি থেকে গড়াই নদী পর্যন্ত প্রায় পাঁচশ মিটার ড্রেন নির্মাণ প্রকল্প হাতে নেয় পৌরসভা। বর্ষার আগেই খননকাজ শেষ হলেও এরপর আর নির্মাণকাজ এগোয়নি। ফলে বড় গর্তে দীর্ঘদিন ধরে পানি জমে ছিল।

এলাকাবাসীর দাবি, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের অবহেলা এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দায়িত্বহীনতার কারণেই এমন দুর্ঘটনা ঘটেছে। তারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

শোকের ছায়া পরিবারে

শিশুর মৃত্যুতে পুরো এলাকায় শোকের পরিবেশ নেমে এসেছে। ইফাতের মা শারমিন আক্তার বারবার কান্নায় ভেঙে পড়েন। সন্তানের মৃত্যুতে অসুস্থ হয়ে পড়েছেন তার বাবা কামরুল হাসানও। তাকেও হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

এদিকে ড্রেন নির্মাণকাজের দায়িত্বে থাকা ঠিকাদার লিটন আলী জানিয়েছেন, তিনি প্রকল্পের কাজ দেখভাল করছিলেন, তবে দুর্ঘটনার বিষয়ে আগে কিছু জানতেন না।

প্রশাসনের অবস্থান

উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ঘটনার পেছনে কারও গাফিলতি পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একই সঙ্গে লিখিত অভিযোগ পেলে আইনগত পদক্ষেপ নেওয়ার কথাও জানিয়েছে পুলিশ।

 

 

জনপ্রিয় সংবাদ

স্কুলে সহিংসতা ঠেকাতে আগে বদলাতে হবে আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি

কুষ্টিয়ায় অসমাপ্ত ড্রেনে পড়ে শিশুর মৃত্যু, ক্ষোভে ফুঁসছে এলাকাবাসী

১১:৩৫:২৯ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১২ মে ২০২৬

কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে অসমাপ্ত ড্রেনের পানিতে পড়ে এক শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। সোমবার বিকেলে পৌর এলাকার এলাঙ্গি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত শিশুর নাম মোহাম্মদ ইফাত। তার বয়স ছিল ছয় বছর। সে স্থানীয় একটি মাদ্রাসার প্রথম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল।

পরিবার ও স্থানীয় সূত্র জানায়, বিকেল তিনটার দিকে চাচাতো ভাই সামাদের সঙ্গে বাড়ি থেকে বের হয় ইফাত। তারা ছাগল চরাতে গিয়েছিল। দীর্ঘ সময় পার হলেও ইফাত বাড়িতে না ফেরায় পরিবারের সদস্যরা খোঁজাখুঁজি শুরু করেন।

একপর্যায়ে বিকেল চারটার দিকে মানিক শেখের বাড়ির সামনে নির্মাণাধীন ড্রেনের পাশে ইফাতের স্যান্ডেল দেখতে পান স্বজনরা। পরে ড্রেনের পানিভর্তি গর্ত থেকে তাকে উদ্ধার করা হয়। দ্রুত কুমারখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

কলকাতায় আরও ৬ শিশুর মৃত্যু, যা বললেন মেয়র

অসমাপ্ত প্রকল্প নিয়ে ক্ষোভ

স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রায় এক বছর আগে মানিক শেখের বাড়ি থেকে গড়াই নদী পর্যন্ত প্রায় পাঁচশ মিটার ড্রেন নির্মাণ প্রকল্প হাতে নেয় পৌরসভা। বর্ষার আগেই খননকাজ শেষ হলেও এরপর আর নির্মাণকাজ এগোয়নি। ফলে বড় গর্তে দীর্ঘদিন ধরে পানি জমে ছিল।

এলাকাবাসীর দাবি, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের অবহেলা এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দায়িত্বহীনতার কারণেই এমন দুর্ঘটনা ঘটেছে। তারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

শোকের ছায়া পরিবারে

শিশুর মৃত্যুতে পুরো এলাকায় শোকের পরিবেশ নেমে এসেছে। ইফাতের মা শারমিন আক্তার বারবার কান্নায় ভেঙে পড়েন। সন্তানের মৃত্যুতে অসুস্থ হয়ে পড়েছেন তার বাবা কামরুল হাসানও। তাকেও হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

এদিকে ড্রেন নির্মাণকাজের দায়িত্বে থাকা ঠিকাদার লিটন আলী জানিয়েছেন, তিনি প্রকল্পের কাজ দেখভাল করছিলেন, তবে দুর্ঘটনার বিষয়ে আগে কিছু জানতেন না।

প্রশাসনের অবস্থান

উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ঘটনার পেছনে কারও গাফিলতি পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একই সঙ্গে লিখিত অভিযোগ পেলে আইনগত পদক্ষেপ নেওয়ার কথাও জানিয়েছে পুলিশ।