১১:৫৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
স্কুলে সহিংসতা ঠেকাতে আগে বদলাতে হবে আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি জেন জি-র ‘ফ্রেন্ডস’ বানানোর চেষ্টা চলছে, কিন্তু কেন তা অসম্ভব সঙ্কুচিত পোশাক কি নষ্ট না করেই আগের মাপে ফেরানো সম্ভব? ডায়মন্ড লিগের ফাইনালে তৃতীয় অ্যামি হান্ট, দুর্দান্ত ছন্দে ছুটছেন ব্রিটিশ তারকা মারাঠি না জানলে ঝুঁকিতে লাইসেন্স, মহারাষ্ট্রে ট্যাক্সি ও অটোরিকশাচালকদের মিলল আরও এক বছর বয়স বাড়লেই জীবন থেমে যায় না, বরং আসে নিজের মতো বাঁচার স্বাধীনতা: প্রু লেইথ দাঁতের চিকিৎসকের কাছে যাওয়ার পথে বজ্রপাতে আহত, ‘ভয়াবহ’ অভিজ্ঞতার কথা জানালেন নিউইয়র্কের যুবক পেন্টাগনের নিয়ন্ত্রণ কি হারাচ্ছেন পিট হেগসেথ? আফ্রিকার প্রকৃত আয়তন তুলে ধরা মানচিত্রের পক্ষে জাতিসংঘের ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত সন্তান হত্যার মামলায় রায় হয়নি, লিন্ডসে ক্ল্যান্সিকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে তীব্র বিতর্ক

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার চাহিদায় উড়ছে সিঙ্গাপুরের কারখানা উৎপাদন, টানা নয় মাস প্রবৃদ্ধি

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক প্রযুক্তির বৈশ্বিক চাহিদা সিঙ্গাপুরের উৎপাদন খাতকে নতুন গতি দিয়েছে। চলতি বছরের মে মাসে দেশটির কারখানা উৎপাদন আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ১৩ শতাংশ বেড়েছে। এর মাধ্যমে টানা নয় মাস ধরে উৎপাদন খাতে প্রবৃদ্ধি বজায় থাকল।

তবে প্রবৃদ্ধির এই হার বাজারের প্রত্যাশার চেয়ে কম। কারণ রাসায়নিক, পরিবহন প্রকৌশল এবং জৈব-চিকিৎসা উৎপাদন খাতে উল্লেখযোগ্য পতন দেখা গেছে। তবুও ইলেকট্রনিকস ও সূক্ষ্ম প্রকৌশল খাতের শক্তিশালী পারফরম্যান্স সামগ্রিক উৎপাদনকে এগিয়ে নিয়েছে।

ইলেকট্রনিকস খাতেই সবচেয়ে বড় উল্লম্ফন

মে মাসে ইলেকট্রনিকস খাতের উৎপাদন বেড়েছে ৩৫ দশমিক ৮ শতাংশ। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তির দ্রুত বিস্তারের ফলে তথ্যপ্রযুক্তি ও ভোক্তা ইলেকট্রনিকস খাতের উৎপাদন ৫৯ দশমিক ২ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। একই সময়ে সেমিকন্ডাক্টর উৎপাদন বেড়েছে ৩৭ শতাংশ।

এ ছাড়া অন্যান্য ইলেকট্রনিক মডিউল ও যন্ত্রাংশ উৎপাদনও ১৬ দশমিক ৮ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে কম্পিউটার আনুষঙ্গিক পণ্য ও তথ্য সংরক্ষণ যন্ত্রের উৎপাদন ৫ দশমিক ৬ শতাংশ কমেছে।

Singapore Manufacturing Output Rises 13% in May | Let's Data Science

বিশ্লেষকদের মতে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকেন্দ্রিক প্রযুক্তি বিনিয়োগ এবং তথ্যকেন্দ্র সম্প্রসারণের কারণে আগামী মাসগুলোতেও সেমিকন্ডাক্টর, মেমোরি চিপ ও সার্ভার-সংশ্লিষ্ট পণ্যের চাহিদা শক্তিশালী থাকবে।

সূক্ষ্ম প্রকৌশলেও শক্তিশালী প্রবৃদ্ধি

মে মাসে সূক্ষ্ম প্রকৌশল খাতের উৎপাদন ৩২ দশমিক ২ শতাংশ বেড়েছে। বিশেষ করে সেমিকন্ডাক্টর উৎপাদন সরঞ্জামের চাহিদা বৃদ্ধির ফলে যন্ত্রপাতি ও সিস্টেম বিভাগে প্রবৃদ্ধি উল্লেখযোগ্যভাবে ত্বরান্বিত হয়েছে।

অপটিক্যাল যন্ত্র, ইলেকট্রনিক সংযোগ উপাদান এবং শিল্পকারখানায় ব্যবহৃত বিভিন্ন সরঞ্জামের উৎপাদন বৃদ্ধিও এই খাতকে সহায়তা করেছে।

কিছু খাতে মন্দার ধাক্কা

অন্যদিকে জৈব-চিকিৎসা উৎপাদন খাতে সবচেয়ে বড় সংকোচন দেখা গেছে। এই খাতের উৎপাদন কমেছে ২৪ দশমিক ২ শতাংশ। চিকিৎসা প্রযুক্তি পণ্যের চাহিদা কমে যাওয়ায় উৎপাদন হ্রাস পেয়েছে। একই সঙ্গে ওষুধ শিল্পেও উৎপাদন উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে।

পরিবহন প্রকৌশল খাতের উৎপাদন ৫ শতাংশ কমেছে। বিশেষ করে বিমান রক্ষণাবেক্ষণ, তেল রিগ এবং অফশোর প্রকল্পসংক্রান্ত কার্যক্রমে ধীরগতি ছিল। তবে স্থল পরিবহন প্রকৌশল খাতে ২২ দশমিক ৯ শতাংশ প্রবৃদ্ধি কিছুটা স্বস্তি দিয়েছে।

AI keeps Singapore factories firing | Singapore Business Review

রাসায়নিক খাতেও চাপ

রাসায়নিক শিল্পের উৎপাদন ১১ দশমিক ৫ শতাংশ কমেছে। এর মধ্যে পেট্রোকেমিক্যাল উৎপাদন ৪২ দশমিক ৫ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে। আন্তর্জাতিক জলপথে সরবরাহ বিঘ্নিত হওয়ায় কাঁচামাল সংগ্রহে সমস্যা দেখা দেয়, যা উৎপাদনে প্রভাব ফেলেছে।

অর্থনীতিবিদদের মতে, সাম্প্রতিক ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা কিছুটা প্রশমিত হওয়ায় সরবরাহ শৃঙ্খলের ওপর চাপ কমতে পারে। ফলে উৎপাদন ব্যয় ও কাঁচামাল সংকটের ঝুঁকিও হ্রাস পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

সামনের পথ

বিশ্লেষকদের ধারণা, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক প্রযুক্তির বিশ্বব্যাপী বিস্তার সিঙ্গাপুরের উৎপাদন খাতকে আগামী মাসগুলোতেও সহায়তা করবে। তবে প্রযুক্তি খাতে বিনিয়োগের গতি কমে গেলে বা বৈশ্বিক বাজারে বড় ধরনের সংশোধন এলে ইলেকট্রনিকস শিল্পে চাপ তৈরি হতে পারে।

এ মুহূর্তে অবশ্য কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার চাহিদাই সিঙ্গাপুরের শিল্প উৎপাদনের প্রধান চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করছে, যা দেশটির অর্থনীতিতে নতুন আশাবাদ তৈরি করেছে।

 

 

জনপ্রিয় সংবাদ

স্কুলে সহিংসতা ঠেকাতে আগে বদলাতে হবে আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার চাহিদায় উড়ছে সিঙ্গাপুরের কারখানা উৎপাদন, টানা নয় মাস প্রবৃদ্ধি

১২:১০:৩০ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৮ জুন ২০২৬

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক প্রযুক্তির বৈশ্বিক চাহিদা সিঙ্গাপুরের উৎপাদন খাতকে নতুন গতি দিয়েছে। চলতি বছরের মে মাসে দেশটির কারখানা উৎপাদন আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ১৩ শতাংশ বেড়েছে। এর মাধ্যমে টানা নয় মাস ধরে উৎপাদন খাতে প্রবৃদ্ধি বজায় থাকল।

তবে প্রবৃদ্ধির এই হার বাজারের প্রত্যাশার চেয়ে কম। কারণ রাসায়নিক, পরিবহন প্রকৌশল এবং জৈব-চিকিৎসা উৎপাদন খাতে উল্লেখযোগ্য পতন দেখা গেছে। তবুও ইলেকট্রনিকস ও সূক্ষ্ম প্রকৌশল খাতের শক্তিশালী পারফরম্যান্স সামগ্রিক উৎপাদনকে এগিয়ে নিয়েছে।

ইলেকট্রনিকস খাতেই সবচেয়ে বড় উল্লম্ফন

মে মাসে ইলেকট্রনিকস খাতের উৎপাদন বেড়েছে ৩৫ দশমিক ৮ শতাংশ। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তির দ্রুত বিস্তারের ফলে তথ্যপ্রযুক্তি ও ভোক্তা ইলেকট্রনিকস খাতের উৎপাদন ৫৯ দশমিক ২ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। একই সময়ে সেমিকন্ডাক্টর উৎপাদন বেড়েছে ৩৭ শতাংশ।

এ ছাড়া অন্যান্য ইলেকট্রনিক মডিউল ও যন্ত্রাংশ উৎপাদনও ১৬ দশমিক ৮ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে কম্পিউটার আনুষঙ্গিক পণ্য ও তথ্য সংরক্ষণ যন্ত্রের উৎপাদন ৫ দশমিক ৬ শতাংশ কমেছে।

Singapore Manufacturing Output Rises 13% in May | Let's Data Science

বিশ্লেষকদের মতে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকেন্দ্রিক প্রযুক্তি বিনিয়োগ এবং তথ্যকেন্দ্র সম্প্রসারণের কারণে আগামী মাসগুলোতেও সেমিকন্ডাক্টর, মেমোরি চিপ ও সার্ভার-সংশ্লিষ্ট পণ্যের চাহিদা শক্তিশালী থাকবে।

সূক্ষ্ম প্রকৌশলেও শক্তিশালী প্রবৃদ্ধি

মে মাসে সূক্ষ্ম প্রকৌশল খাতের উৎপাদন ৩২ দশমিক ২ শতাংশ বেড়েছে। বিশেষ করে সেমিকন্ডাক্টর উৎপাদন সরঞ্জামের চাহিদা বৃদ্ধির ফলে যন্ত্রপাতি ও সিস্টেম বিভাগে প্রবৃদ্ধি উল্লেখযোগ্যভাবে ত্বরান্বিত হয়েছে।

অপটিক্যাল যন্ত্র, ইলেকট্রনিক সংযোগ উপাদান এবং শিল্পকারখানায় ব্যবহৃত বিভিন্ন সরঞ্জামের উৎপাদন বৃদ্ধিও এই খাতকে সহায়তা করেছে।

কিছু খাতে মন্দার ধাক্কা

অন্যদিকে জৈব-চিকিৎসা উৎপাদন খাতে সবচেয়ে বড় সংকোচন দেখা গেছে। এই খাতের উৎপাদন কমেছে ২৪ দশমিক ২ শতাংশ। চিকিৎসা প্রযুক্তি পণ্যের চাহিদা কমে যাওয়ায় উৎপাদন হ্রাস পেয়েছে। একই সঙ্গে ওষুধ শিল্পেও উৎপাদন উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে।

পরিবহন প্রকৌশল খাতের উৎপাদন ৫ শতাংশ কমেছে। বিশেষ করে বিমান রক্ষণাবেক্ষণ, তেল রিগ এবং অফশোর প্রকল্পসংক্রান্ত কার্যক্রমে ধীরগতি ছিল। তবে স্থল পরিবহন প্রকৌশল খাতে ২২ দশমিক ৯ শতাংশ প্রবৃদ্ধি কিছুটা স্বস্তি দিয়েছে।

AI keeps Singapore factories firing | Singapore Business Review

রাসায়নিক খাতেও চাপ

রাসায়নিক শিল্পের উৎপাদন ১১ দশমিক ৫ শতাংশ কমেছে। এর মধ্যে পেট্রোকেমিক্যাল উৎপাদন ৪২ দশমিক ৫ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে। আন্তর্জাতিক জলপথে সরবরাহ বিঘ্নিত হওয়ায় কাঁচামাল সংগ্রহে সমস্যা দেখা দেয়, যা উৎপাদনে প্রভাব ফেলেছে।

অর্থনীতিবিদদের মতে, সাম্প্রতিক ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা কিছুটা প্রশমিত হওয়ায় সরবরাহ শৃঙ্খলের ওপর চাপ কমতে পারে। ফলে উৎপাদন ব্যয় ও কাঁচামাল সংকটের ঝুঁকিও হ্রাস পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

সামনের পথ

বিশ্লেষকদের ধারণা, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক প্রযুক্তির বিশ্বব্যাপী বিস্তার সিঙ্গাপুরের উৎপাদন খাতকে আগামী মাসগুলোতেও সহায়তা করবে। তবে প্রযুক্তি খাতে বিনিয়োগের গতি কমে গেলে বা বৈশ্বিক বাজারে বড় ধরনের সংশোধন এলে ইলেকট্রনিকস শিল্পে চাপ তৈরি হতে পারে।

এ মুহূর্তে অবশ্য কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার চাহিদাই সিঙ্গাপুরের শিল্প উৎপাদনের প্রধান চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করছে, যা দেশটির অর্থনীতিতে নতুন আশাবাদ তৈরি করেছে।