০২:৪২ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
স্কুলে সহিংসতা ঠেকাতে আগে বদলাতে হবে আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি জেন জি-র ‘ফ্রেন্ডস’ বানানোর চেষ্টা চলছে, কিন্তু কেন তা অসম্ভব সঙ্কুচিত পোশাক কি নষ্ট না করেই আগের মাপে ফেরানো সম্ভব? ডায়মন্ড লিগের ফাইনালে তৃতীয় অ্যামি হান্ট, দুর্দান্ত ছন্দে ছুটছেন ব্রিটিশ তারকা মারাঠি না জানলে ঝুঁকিতে লাইসেন্স, মহারাষ্ট্রে ট্যাক্সি ও অটোরিকশাচালকদের মিলল আরও এক বছর বয়স বাড়লেই জীবন থেমে যায় না, বরং আসে নিজের মতো বাঁচার স্বাধীনতা: প্রু লেইথ দাঁতের চিকিৎসকের কাছে যাওয়ার পথে বজ্রপাতে আহত, ‘ভয়াবহ’ অভিজ্ঞতার কথা জানালেন নিউইয়র্কের যুবক পেন্টাগনের নিয়ন্ত্রণ কি হারাচ্ছেন পিট হেগসেথ? আফ্রিকার প্রকৃত আয়তন তুলে ধরা মানচিত্রের পক্ষে জাতিসংঘের ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত সন্তান হত্যার মামলায় রায় হয়নি, লিন্ডসে ক্ল্যান্সিকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে তীব্র বিতর্ক

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার চাপে কি হারিয়ে যাবে মানুষের নতুন চিন্তার শক্তি?

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এখন কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে লেখা তৈরি, প্রশ্নের উত্তর দেওয়া এবং নতুন ধারণা দেওয়ার মতো কাজ করতে পারছে। তবে এই প্রযুক্তির দ্রুত বিস্তার মানুষের সৃজনশীলতা ও ব্যতিক্রমী চিন্তার ওপর দীর্ঘমেয়াদে কী প্রভাব ফেলবে, তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

উদ্ভাবন বিশ্লেষক জন নস্টার মনে করছেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা যদি মানুষের চিন্তার ধরনকে অতিরিক্ত প্রভাবিত করে, তাহলে ভবিষ্যতে সেই বিরল ও অস্বাভাবিক ধারণাগুলো কমে যেতে পারে, যেগুলো ইতিহাসে বড় পরিবর্তন এনেছে।

ব্যতিক্রমী চিন্তাই বদলে দেয় পৃথিবী

জন নস্টারের মতে, মানুষের চিন্তাভাবনাকে একটি ঘণ্টার আকৃতির রেখার সঙ্গে তুলনা করা যায়। অধিকাংশ মানুষ সাধারণ চিন্তার ধারার মধ্যে থাকেন, আর কিছু মানুষ থাকেন একেবারে ভিন্ন প্রান্তে। এই ব্যতিক্রমী মানুষদের চিন্তাই নতুন আবিষ্কার ও বড় পরিবর্তনের পথ তৈরি করে।

The Repressive Power of Artificial Intelligence | Freedom House

তিনি মনে করেন, আলবার্ট আইনস্টাইন, আইজ্যাক নিউটন বা পাবলো পিকাসোর মতো ব্যক্তিরা ছিলেন সেই ব্যতিক্রমী চিন্তার উদাহরণ, যারা প্রচলিত ধারণার বাইরে গিয়ে নতুন কিছু তৈরি করেছিলেন।

তার আশঙ্কা, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা যখন আগের তৈরি তথ্য ও নিজস্ব তৈরি তথ্যের ওপর বেশি নির্ভর করবে, তখন চিন্তার বৈচিত্র্য কমে যেতে পারে। ফলে সমাজে নতুন ও অপ্রচলিত ধারণার পরিবর্তে একই ধরনের চিন্তার আধিক্য তৈরি হতে পারে।

এক ধরনের চিন্তার ঝুঁকি

নস্টারের মতে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা অনেক সময় প্রচলিত ধারণার দিকে ঝুঁকে পড়ে। এর ফলে এমন অদ্ভুত বা ভিন্ন চিন্তা, যা ভবিষ্যতে বড় উদ্ভাবনের জন্ম দিতে পারে, সেগুলো গুরুত্ব হারানোর আশঙ্কা রয়েছে।

তিনি বলেন, সমাজের উন্নতির জন্য এমন মানুষ দরকার, যারা প্রচলিত পথের বাইরে গিয়ে নতুন প্রশ্ন করতে পারেন এবং অন্যরা যা দেখতে পান না, তা দেখতে পারেন।

তবে সব গবেষক এই বিষয়ে একই মত পোষণ করেন না। অনেক গবেষণায় দেখা গেছে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা মানুষের সৃজনশীলতা কমানোর পাশাপাশি নতুন সম্ভাবনা খুঁজে বের করতেও সাহায্য করতে পারে।

The Pros And Cons Of AI On Human Creativity

সহযোগী হিসেবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার

জন নস্টার মনে করেন, সমাধান কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকে বাদ দেওয়া নয়। বরং এটিকে মানুষের চিন্তার সহযোগী হিসেবে ব্যবহার করা উচিত।

তার মতে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা মানুষের হয়ে চিন্তা করার বিকল্প নয়; বরং মানুষের চিন্তাকে আরও গভীর করার একটি মাধ্যম হওয়া উচিত। নতুন ধারণা যাচাই, প্রশ্ন তৈরি এবং ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি খুঁজে বের করার ক্ষেত্রে এই প্রযুক্তি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

তিনি মনে করেন, মানুষের কৌতূহল, সংগ্রাম এবং ভিন্নভাবে চিন্তা করার ক্ষমতাই এমন কিছু বিষয়, যা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা পুরোপুরি প্রতিস্থাপন করতে পারবে না।

ভবিষ্যতের সৃজনশীলতা নির্ভর করবে ব্যবহারের ওপর

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার যুগে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হবে প্রযুক্তির সুবিধা গ্রহণের পাশাপাশি মানুষের নিজস্ব চিন্তার স্বাধীনতা ধরে রাখা।

বিশেষজ্ঞদের মতে, যদি মানুষ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকে শুধু দ্রুত ফল পাওয়ার যন্ত্র হিসেবে ব্যবহার করে, তাহলে চিন্তার গভীরতা কমতে পারে। কিন্তু যদি এটি নতুন প্রশ্ন ও নতুন সম্ভাবনা তৈরির সহায়ক হিসেবে ব্যবহৃত হয়, তাহলে মানব সৃজনশীলতা আরও শক্তিশালী হতে পারে।

জন নস্টারের ভাষায়, আসল সম্পদ লুকিয়ে আছে সেই ব্যতিক্রমী চিন্তার মধ্যেই, যা সাধারণ ধারার বাইরে গিয়ে নতুন পৃথিবী তৈরি করে।

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা মানুষের চিন্তাকে বদলে দিচ্ছে। কিন্তু ভবিষ্যতের বড় আবিষ্কার ও সৃজনশীলতার জন্য মানুষের নিজস্ব কৌতূহল ও ভিন্নভাবে ভাবার ক্ষমতাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ থাকবে।

 

 

জনপ্রিয় সংবাদ

স্কুলে সহিংসতা ঠেকাতে আগে বদলাতে হবে আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার চাপে কি হারিয়ে যাবে মানুষের নতুন চিন্তার শক্তি?

১১:২১:০৮ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৫ জুলাই ২০২৬

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এখন কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে লেখা তৈরি, প্রশ্নের উত্তর দেওয়া এবং নতুন ধারণা দেওয়ার মতো কাজ করতে পারছে। তবে এই প্রযুক্তির দ্রুত বিস্তার মানুষের সৃজনশীলতা ও ব্যতিক্রমী চিন্তার ওপর দীর্ঘমেয়াদে কী প্রভাব ফেলবে, তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

উদ্ভাবন বিশ্লেষক জন নস্টার মনে করছেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা যদি মানুষের চিন্তার ধরনকে অতিরিক্ত প্রভাবিত করে, তাহলে ভবিষ্যতে সেই বিরল ও অস্বাভাবিক ধারণাগুলো কমে যেতে পারে, যেগুলো ইতিহাসে বড় পরিবর্তন এনেছে।

ব্যতিক্রমী চিন্তাই বদলে দেয় পৃথিবী

জন নস্টারের মতে, মানুষের চিন্তাভাবনাকে একটি ঘণ্টার আকৃতির রেখার সঙ্গে তুলনা করা যায়। অধিকাংশ মানুষ সাধারণ চিন্তার ধারার মধ্যে থাকেন, আর কিছু মানুষ থাকেন একেবারে ভিন্ন প্রান্তে। এই ব্যতিক্রমী মানুষদের চিন্তাই নতুন আবিষ্কার ও বড় পরিবর্তনের পথ তৈরি করে।

The Repressive Power of Artificial Intelligence | Freedom House

তিনি মনে করেন, আলবার্ট আইনস্টাইন, আইজ্যাক নিউটন বা পাবলো পিকাসোর মতো ব্যক্তিরা ছিলেন সেই ব্যতিক্রমী চিন্তার উদাহরণ, যারা প্রচলিত ধারণার বাইরে গিয়ে নতুন কিছু তৈরি করেছিলেন।

তার আশঙ্কা, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা যখন আগের তৈরি তথ্য ও নিজস্ব তৈরি তথ্যের ওপর বেশি নির্ভর করবে, তখন চিন্তার বৈচিত্র্য কমে যেতে পারে। ফলে সমাজে নতুন ও অপ্রচলিত ধারণার পরিবর্তে একই ধরনের চিন্তার আধিক্য তৈরি হতে পারে।

এক ধরনের চিন্তার ঝুঁকি

নস্টারের মতে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা অনেক সময় প্রচলিত ধারণার দিকে ঝুঁকে পড়ে। এর ফলে এমন অদ্ভুত বা ভিন্ন চিন্তা, যা ভবিষ্যতে বড় উদ্ভাবনের জন্ম দিতে পারে, সেগুলো গুরুত্ব হারানোর আশঙ্কা রয়েছে।

তিনি বলেন, সমাজের উন্নতির জন্য এমন মানুষ দরকার, যারা প্রচলিত পথের বাইরে গিয়ে নতুন প্রশ্ন করতে পারেন এবং অন্যরা যা দেখতে পান না, তা দেখতে পারেন।

তবে সব গবেষক এই বিষয়ে একই মত পোষণ করেন না। অনেক গবেষণায় দেখা গেছে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা মানুষের সৃজনশীলতা কমানোর পাশাপাশি নতুন সম্ভাবনা খুঁজে বের করতেও সাহায্য করতে পারে।

The Pros And Cons Of AI On Human Creativity

সহযোগী হিসেবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার

জন নস্টার মনে করেন, সমাধান কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকে বাদ দেওয়া নয়। বরং এটিকে মানুষের চিন্তার সহযোগী হিসেবে ব্যবহার করা উচিত।

তার মতে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা মানুষের হয়ে চিন্তা করার বিকল্প নয়; বরং মানুষের চিন্তাকে আরও গভীর করার একটি মাধ্যম হওয়া উচিত। নতুন ধারণা যাচাই, প্রশ্ন তৈরি এবং ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি খুঁজে বের করার ক্ষেত্রে এই প্রযুক্তি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

তিনি মনে করেন, মানুষের কৌতূহল, সংগ্রাম এবং ভিন্নভাবে চিন্তা করার ক্ষমতাই এমন কিছু বিষয়, যা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা পুরোপুরি প্রতিস্থাপন করতে পারবে না।

ভবিষ্যতের সৃজনশীলতা নির্ভর করবে ব্যবহারের ওপর

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার যুগে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হবে প্রযুক্তির সুবিধা গ্রহণের পাশাপাশি মানুষের নিজস্ব চিন্তার স্বাধীনতা ধরে রাখা।

বিশেষজ্ঞদের মতে, যদি মানুষ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকে শুধু দ্রুত ফল পাওয়ার যন্ত্র হিসেবে ব্যবহার করে, তাহলে চিন্তার গভীরতা কমতে পারে। কিন্তু যদি এটি নতুন প্রশ্ন ও নতুন সম্ভাবনা তৈরির সহায়ক হিসেবে ব্যবহৃত হয়, তাহলে মানব সৃজনশীলতা আরও শক্তিশালী হতে পারে।

জন নস্টারের ভাষায়, আসল সম্পদ লুকিয়ে আছে সেই ব্যতিক্রমী চিন্তার মধ্যেই, যা সাধারণ ধারার বাইরে গিয়ে নতুন পৃথিবী তৈরি করে।

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা মানুষের চিন্তাকে বদলে দিচ্ছে। কিন্তু ভবিষ্যতের বড় আবিষ্কার ও সৃজনশীলতার জন্য মানুষের নিজস্ব কৌতূহল ও ভিন্নভাবে ভাবার ক্ষমতাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ থাকবে।