১২:০০ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
স্কুলে সহিংসতা ঠেকাতে আগে বদলাতে হবে আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি জেন জি-র ‘ফ্রেন্ডস’ বানানোর চেষ্টা চলছে, কিন্তু কেন তা অসম্ভব সঙ্কুচিত পোশাক কি নষ্ট না করেই আগের মাপে ফেরানো সম্ভব? ডায়মন্ড লিগের ফাইনালে তৃতীয় অ্যামি হান্ট, দুর্দান্ত ছন্দে ছুটছেন ব্রিটিশ তারকা মারাঠি না জানলে ঝুঁকিতে লাইসেন্স, মহারাষ্ট্রে ট্যাক্সি ও অটোরিকশাচালকদের মিলল আরও এক বছর বয়স বাড়লেই জীবন থেমে যায় না, বরং আসে নিজের মতো বাঁচার স্বাধীনতা: প্রু লেইথ দাঁতের চিকিৎসকের কাছে যাওয়ার পথে বজ্রপাতে আহত, ‘ভয়াবহ’ অভিজ্ঞতার কথা জানালেন নিউইয়র্কের যুবক পেন্টাগনের নিয়ন্ত্রণ কি হারাচ্ছেন পিট হেগসেথ? আফ্রিকার প্রকৃত আয়তন তুলে ধরা মানচিত্রের পক্ষে জাতিসংঘের ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত সন্তান হত্যার মামলায় রায় হয়নি, লিন্ডসে ক্ল্যান্সিকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে তীব্র বিতর্ক

কেন টানা দুর্বল হচ্ছে ভারতীয় রুপি, কোথায় গিয়ে থামতে পারে পতন

ভারতীয় রুপি ধীরে, কিন্তু স্থায়ীভাবে দুর্বল হচ্ছে। সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে ডলারের বিপরীতে রুপির দর ঘোরাফেরা করছে রেকর্ড নিম্নস্তরের কাছাকাছি—প্রায় ৯২ রুপি প্রতি ডলার। এর প্রভাব সরাসরি পড়ছে উপসাগরীয় দেশগুলোর সঙ্গে যুক্ত ভারতীয়দের ওপর। সংযুক্ত আরব আমিরাতের দিরহামের বিপরীতেও রুপি ঠেকছে ২৫ রুপির কাছাকাছি। ফলে ভ্রমণ, পড়াশোনা, আমদানি ও রেমিট্যান্স—সবখানেই বাড়ছে চাপ।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই দুর্বলতা হঠাৎ কোনো একক ঘটনায় হয়নি। বরং একাধিক চাপ ধীরে ধীরে জমে এই অবস্থায় পৌঁছেছে রুপি। সাময়িকভাবে দর একটু শক্ত হলেও সামগ্রিক প্রবণতা এখনো নিম্নমুখী।

ডলারের শক্তি, রুপির দুর্বলতা

রুপির দুর্বলতা বোঝার সবচেয়ে সহজ ব্যাখ্যা একটাই। যখন ডলার শক্তিশালী হয় বা দুষ্প্রাপ্য হয়ে ওঠে, তখনই চাপ পড়ে রুপির ওপর। এর পেছনে দুটি বড় কারণ কাজ করছে।

প্রথমত, যুক্তরাষ্ট্রের সুদের হার। মার্কিন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সুদ যখন উচ্চ থাকে বা দীর্ঘদিন উচ্চ থাকার ইঙ্গিত দেয়, তখন বৈশ্বিক বিনিয়োগকারীরা ডলারভিত্তিক সম্পদেই থাকতে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন। এতে উদীয়মান বাজারের মুদ্রা, যেমন রুপি, আগ্রহ হারায়।

দ্বিতীয়ত, শক্তিশালী ডলার চক্র। ভারতের অভ্যন্তরীণ অর্থনীতি স্থিতিশীল দেখালেও ডলার যখন বিশ্বজুড়ে চাঙা থাকে, তখন স্থানীয় ইতিবাচক দিকগুলো চাপা পড়ে যায়। বিশেষ করে বিদেশি বিনিয়োগকারীরা সতর্ক থাকলে এই চাপ আরও বাড়ে।

এর সঙ্গে যোগ হয়েছে বিদেশি পুঁজি প্রত্যাহার। সাম্প্রতিক সময়ে বিদেশি বিনিয়োগকারীরা ভারতীয় শেয়ার ও বন্ড বিক্রি করে ডলারে অর্থ ফিরিয়ে নিচ্ছেন। এতে বাজারে ডলারের চাহিদা বেড়ে যাচ্ছে, আর রুপি আরও দুর্বল হচ্ছে।

আমদানিকারকের তাড়া, রপ্তানিকারকের অপেক্ষা

ভারত একটি বড় আমদানিনির্ভর দেশ। তেল, ইলেকট্রনিক্স, যন্ত্রপাতি, রাসায়নিক ও সোনা—সবকিছুর জন্যই ডলার দরকার। রুপির দর আরও পড়তে পারে এমন আশঙ্কায় অনেক আমদানিকারক আগেভাগেই ডলার কিনে রাখছেন। এটিই এক ধরনের আত্মপূরণশীল চক্র তৈরি করছে। রুপির দুর্বলতার আশঙ্কা ডলার কেনা বাড়ায়, আর বাড়তি ডলার কেনাই রুপিকে আরও নামিয়ে দেয়।

একই সময়ে রপ্তানিকারকেরা উল্টো পথে হাঁটছেন। রুপির দর কমলে ডলার ধরে রাখলে ভবিষ্যতে বেশি রুপি পাওয়া যায়। তাই অনেক রপ্তানিকারক ডলার বাজারে ছাড়তে দেরি করছেন। ফলে বাজারে ডলারের জোগান কমে যাচ্ছে। আমদানিকারকের তাড়া আর রপ্তানিকারকের অপেক্ষা—এই দ্বন্দ্ব রুপির ওপর চাপ আরও বাড়াচ্ছে।

উপসাগরীয় অঞ্চলের পাঠকদের জন্য দিরহাম–রুপি সম্পর্কও গুরুত্বপূর্ণ। দিরহাম ডলারের সঙ্গে বাঁধা। ফলে রুপি যখন ডলারের বিপরীতে পড়ে, তখন দিরহামের বিপরীতেও প্রায় একইভাবে পড়ে। তাই ‘দিরহাম প্রতি ২৫ রুপি’ আসলে ‘ডলার প্রতি ৯২ রুপি’রই আরেক রূপ। এর প্রভাব পড়ে স্কুল ফি, ভাড়া সহায়তা, ভ্রমণ বাজেট আর রেমিট্যান্সে।

ভারতের কেন্দ্রীয় ব্যাংক রিজার্ভ ব্যাংক অব ইন্ডিয়া স্পষ্ট করেছে, তারা কোনো নির্দিষ্ট বিনিময় হার ধরে রাখার চেষ্টা করছে না। গভর্নর সঞ্জয় মালহোত্রার ভাষায়, বাজারই রুপির প্রকৃত দর নির্ধারণ করবে। তবে অগোছালো বা হঠাৎ বড় পতন ঠেকাতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক হস্তক্ষেপ করতে পারে—এমন প্রত্যাশা বাজারে আছে।

ডলার যদি কিছুটা দুর্বল হয়, বা ভারত–ইইউ বাণিজ্য চুক্তির মতো ইতিবাচক খবর আসে, তাহলে রুপির জন্য কিছুটা স্বস্তি আসতে পারে। তবে আপাতত চিত্র পরিষ্কার—রুপির এই পতন কোনো একক ব্যর্থতা নয়। এটি বৈশ্বিক ডলার শক্তি, পুঁজি প্রবাহ এবং আমদানি নির্ভরতার সম্মিলিত ফল। আর কেন্দ্রীয় ব্যাংক চেষ্টা করছে, যাত্রাটা যেন খুব বেশি অস্থির না হয়ে ওঠে।

জনপ্রিয় সংবাদ

স্কুলে সহিংসতা ঠেকাতে আগে বদলাতে হবে আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি

কেন টানা দুর্বল হচ্ছে ভারতীয় রুপি, কোথায় গিয়ে থামতে পারে পতন

০৭:৪৪:০৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৮ জানুয়ারী ২০২৬

ভারতীয় রুপি ধীরে, কিন্তু স্থায়ীভাবে দুর্বল হচ্ছে। সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে ডলারের বিপরীতে রুপির দর ঘোরাফেরা করছে রেকর্ড নিম্নস্তরের কাছাকাছি—প্রায় ৯২ রুপি প্রতি ডলার। এর প্রভাব সরাসরি পড়ছে উপসাগরীয় দেশগুলোর সঙ্গে যুক্ত ভারতীয়দের ওপর। সংযুক্ত আরব আমিরাতের দিরহামের বিপরীতেও রুপি ঠেকছে ২৫ রুপির কাছাকাছি। ফলে ভ্রমণ, পড়াশোনা, আমদানি ও রেমিট্যান্স—সবখানেই বাড়ছে চাপ।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই দুর্বলতা হঠাৎ কোনো একক ঘটনায় হয়নি। বরং একাধিক চাপ ধীরে ধীরে জমে এই অবস্থায় পৌঁছেছে রুপি। সাময়িকভাবে দর একটু শক্ত হলেও সামগ্রিক প্রবণতা এখনো নিম্নমুখী।

ডলারের শক্তি, রুপির দুর্বলতা

রুপির দুর্বলতা বোঝার সবচেয়ে সহজ ব্যাখ্যা একটাই। যখন ডলার শক্তিশালী হয় বা দুষ্প্রাপ্য হয়ে ওঠে, তখনই চাপ পড়ে রুপির ওপর। এর পেছনে দুটি বড় কারণ কাজ করছে।

প্রথমত, যুক্তরাষ্ট্রের সুদের হার। মার্কিন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সুদ যখন উচ্চ থাকে বা দীর্ঘদিন উচ্চ থাকার ইঙ্গিত দেয়, তখন বৈশ্বিক বিনিয়োগকারীরা ডলারভিত্তিক সম্পদেই থাকতে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন। এতে উদীয়মান বাজারের মুদ্রা, যেমন রুপি, আগ্রহ হারায়।

দ্বিতীয়ত, শক্তিশালী ডলার চক্র। ভারতের অভ্যন্তরীণ অর্থনীতি স্থিতিশীল দেখালেও ডলার যখন বিশ্বজুড়ে চাঙা থাকে, তখন স্থানীয় ইতিবাচক দিকগুলো চাপা পড়ে যায়। বিশেষ করে বিদেশি বিনিয়োগকারীরা সতর্ক থাকলে এই চাপ আরও বাড়ে।

এর সঙ্গে যোগ হয়েছে বিদেশি পুঁজি প্রত্যাহার। সাম্প্রতিক সময়ে বিদেশি বিনিয়োগকারীরা ভারতীয় শেয়ার ও বন্ড বিক্রি করে ডলারে অর্থ ফিরিয়ে নিচ্ছেন। এতে বাজারে ডলারের চাহিদা বেড়ে যাচ্ছে, আর রুপি আরও দুর্বল হচ্ছে।

আমদানিকারকের তাড়া, রপ্তানিকারকের অপেক্ষা

ভারত একটি বড় আমদানিনির্ভর দেশ। তেল, ইলেকট্রনিক্স, যন্ত্রপাতি, রাসায়নিক ও সোনা—সবকিছুর জন্যই ডলার দরকার। রুপির দর আরও পড়তে পারে এমন আশঙ্কায় অনেক আমদানিকারক আগেভাগেই ডলার কিনে রাখছেন। এটিই এক ধরনের আত্মপূরণশীল চক্র তৈরি করছে। রুপির দুর্বলতার আশঙ্কা ডলার কেনা বাড়ায়, আর বাড়তি ডলার কেনাই রুপিকে আরও নামিয়ে দেয়।

একই সময়ে রপ্তানিকারকেরা উল্টো পথে হাঁটছেন। রুপির দর কমলে ডলার ধরে রাখলে ভবিষ্যতে বেশি রুপি পাওয়া যায়। তাই অনেক রপ্তানিকারক ডলার বাজারে ছাড়তে দেরি করছেন। ফলে বাজারে ডলারের জোগান কমে যাচ্ছে। আমদানিকারকের তাড়া আর রপ্তানিকারকের অপেক্ষা—এই দ্বন্দ্ব রুপির ওপর চাপ আরও বাড়াচ্ছে।

উপসাগরীয় অঞ্চলের পাঠকদের জন্য দিরহাম–রুপি সম্পর্কও গুরুত্বপূর্ণ। দিরহাম ডলারের সঙ্গে বাঁধা। ফলে রুপি যখন ডলারের বিপরীতে পড়ে, তখন দিরহামের বিপরীতেও প্রায় একইভাবে পড়ে। তাই ‘দিরহাম প্রতি ২৫ রুপি’ আসলে ‘ডলার প্রতি ৯২ রুপি’রই আরেক রূপ। এর প্রভাব পড়ে স্কুল ফি, ভাড়া সহায়তা, ভ্রমণ বাজেট আর রেমিট্যান্সে।

ভারতের কেন্দ্রীয় ব্যাংক রিজার্ভ ব্যাংক অব ইন্ডিয়া স্পষ্ট করেছে, তারা কোনো নির্দিষ্ট বিনিময় হার ধরে রাখার চেষ্টা করছে না। গভর্নর সঞ্জয় মালহোত্রার ভাষায়, বাজারই রুপির প্রকৃত দর নির্ধারণ করবে। তবে অগোছালো বা হঠাৎ বড় পতন ঠেকাতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক হস্তক্ষেপ করতে পারে—এমন প্রত্যাশা বাজারে আছে।

ডলার যদি কিছুটা দুর্বল হয়, বা ভারত–ইইউ বাণিজ্য চুক্তির মতো ইতিবাচক খবর আসে, তাহলে রুপির জন্য কিছুটা স্বস্তি আসতে পারে। তবে আপাতত চিত্র পরিষ্কার—রুপির এই পতন কোনো একক ব্যর্থতা নয়। এটি বৈশ্বিক ডলার শক্তি, পুঁজি প্রবাহ এবং আমদানি নির্ভরতার সম্মিলিত ফল। আর কেন্দ্রীয় ব্যাংক চেষ্টা করছে, যাত্রাটা যেন খুব বেশি অস্থির না হয়ে ওঠে।