০৫:৫৫ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
স্কুলে সহিংসতা ঠেকাতে আগে বদলাতে হবে আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি জেন জি-র ‘ফ্রেন্ডস’ বানানোর চেষ্টা চলছে, কিন্তু কেন তা অসম্ভব সঙ্কুচিত পোশাক কি নষ্ট না করেই আগের মাপে ফেরানো সম্ভব? ডায়মন্ড লিগের ফাইনালে তৃতীয় অ্যামি হান্ট, দুর্দান্ত ছন্দে ছুটছেন ব্রিটিশ তারকা মারাঠি না জানলে ঝুঁকিতে লাইসেন্স, মহারাষ্ট্রে ট্যাক্সি ও অটোরিকশাচালকদের মিলল আরও এক বছর বয়স বাড়লেই জীবন থেমে যায় না, বরং আসে নিজের মতো বাঁচার স্বাধীনতা: প্রু লেইথ দাঁতের চিকিৎসকের কাছে যাওয়ার পথে বজ্রপাতে আহত, ‘ভয়াবহ’ অভিজ্ঞতার কথা জানালেন নিউইয়র্কের যুবক পেন্টাগনের নিয়ন্ত্রণ কি হারাচ্ছেন পিট হেগসেথ? আফ্রিকার প্রকৃত আয়তন তুলে ধরা মানচিত্রের পক্ষে জাতিসংঘের ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত সন্তান হত্যার মামলায় রায় হয়নি, লিন্ডসে ক্ল্যান্সিকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে তীব্র বিতর্ক

ক্যানসার ও বিরল রোগকে হারিয়ে জীবনের জয়গান

চীন ভ্রমণ শেষে বদলে যাওয়া জীবন
পঁচাশি বছর বয়সেও ইউটিউবে নিয়মিত ভিডিও প্রকাশ করেন বব ও ফ্রান জার্মান। বয়সের ভার তাদের শরীর ও মনকে স্পর্শ করতে পারেনি—এই সত্য যেমন বিস্ময়কর, তেমনি অনুপ্রেরণাদায়ক। তবে এই সুস্থতা ও প্রাণবন্ত জীবন সব সময় তাদের সঙ্গী ছিল না। নব্বইয়ের দশকের শুরুতে দুজনকেই মুখোমুখি হতে হয়েছিল ভয়ংকর রোগের।

উনিশশো বিরানব্বই সালের শেষ দিকে চীন সফর শেষে যুক্তরাষ্ট্রে ফেরার পর ফ্রান শরীরে হালকা পেশিগত পরিবর্তন লক্ষ্য করেন। প্রথমে বিষয়টিকে তেমন গুরুত্ব দেননি। কিন্তু এক সকালে ঘুম থেকে উঠে দেখেন, একটি চোখ খুলতেই পারছেন না।

How a whole food, plant-based diet keeps 85-year-old YouTubers young and  disease-free | South China Morning Post

ভুল রোগ নির্ণয় ও কঠিন বাস্তবতা
চিকিৎসক প্রথমে ফ্রানের সমস্যাকে বেলস পলসি বলে শনাক্ত করেন। এটি সাধারণত সাময়িক ও চিকিৎসাযোগ্য একটি অবস্থা, যেখানে মুখের স্নায়ুতে প্রদাহের কারণে এক পাশের পেশি হঠাৎ দুর্বল বা অবশ হয়ে যায়। তবে ফ্রান এই ব্যাখ্যায় সন্তুষ্ট হননি।

তিনি একজন স্নায়ুরোগ বিশেষজ্ঞের শরণাপন্ন হন। সেখানেই জানা যায় প্রকৃত সত্য। ফ্রান আসলে মায়াস্থেনিয়া গ্রাভিসে আক্রান্ত। এটি একটি বিরল ও দীর্ঘমেয়াদি অটোইমিউন রোগ, যার ফলে পেশি দ্রুত দুর্বল হয়ে পড়ে এবং সহজেই ক্লান্ত হয়ে যায়।

Young At Any Age - YouTube

আশাহীন ভবিষ্যতের পূর্বাভাস
চিকিৎসকের কাছ থেকে ফ্রান শুনেছিলেন, এই রোগ থেকে আর সুস্থ হওয়া সম্ভব নয়। বলা হয়েছিল, অসুখটি তার আয়ু কমিয়ে দেবে এবং সারা জীবন ওষুধের ওপর নির্ভরশীল থাকতে হবে। বছরের পর বছর তিনি শারীরিক যন্ত্রণা ও অস্বস্তির সঙ্গে লড়াই করেছেন।

তবু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বব ও ফ্রান জীবনের এই কঠিন অধ্যায় পেরিয়ে আজ এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। বয়স ও রোগ—দুটোকেই অগ্রাহ্য করে তারা প্রমাণ করেছেন, সঠিক সিদ্ধান্ত ও দৃঢ় মানসিকতা মানুষকে কত দূর এগিয়ে নিতে পারে।

জনপ্রিয় সংবাদ

স্কুলে সহিংসতা ঠেকাতে আগে বদলাতে হবে আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি

ক্যানসার ও বিরল রোগকে হারিয়ে জীবনের জয়গান

০৩:৩০:৪৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ২১ জানুয়ারী ২০২৬

চীন ভ্রমণ শেষে বদলে যাওয়া জীবন
পঁচাশি বছর বয়সেও ইউটিউবে নিয়মিত ভিডিও প্রকাশ করেন বব ও ফ্রান জার্মান। বয়সের ভার তাদের শরীর ও মনকে স্পর্শ করতে পারেনি—এই সত্য যেমন বিস্ময়কর, তেমনি অনুপ্রেরণাদায়ক। তবে এই সুস্থতা ও প্রাণবন্ত জীবন সব সময় তাদের সঙ্গী ছিল না। নব্বইয়ের দশকের শুরুতে দুজনকেই মুখোমুখি হতে হয়েছিল ভয়ংকর রোগের।

উনিশশো বিরানব্বই সালের শেষ দিকে চীন সফর শেষে যুক্তরাষ্ট্রে ফেরার পর ফ্রান শরীরে হালকা পেশিগত পরিবর্তন লক্ষ্য করেন। প্রথমে বিষয়টিকে তেমন গুরুত্ব দেননি। কিন্তু এক সকালে ঘুম থেকে উঠে দেখেন, একটি চোখ খুলতেই পারছেন না।

How a whole food, plant-based diet keeps 85-year-old YouTubers young and  disease-free | South China Morning Post

ভুল রোগ নির্ণয় ও কঠিন বাস্তবতা
চিকিৎসক প্রথমে ফ্রানের সমস্যাকে বেলস পলসি বলে শনাক্ত করেন। এটি সাধারণত সাময়িক ও চিকিৎসাযোগ্য একটি অবস্থা, যেখানে মুখের স্নায়ুতে প্রদাহের কারণে এক পাশের পেশি হঠাৎ দুর্বল বা অবশ হয়ে যায়। তবে ফ্রান এই ব্যাখ্যায় সন্তুষ্ট হননি।

তিনি একজন স্নায়ুরোগ বিশেষজ্ঞের শরণাপন্ন হন। সেখানেই জানা যায় প্রকৃত সত্য। ফ্রান আসলে মায়াস্থেনিয়া গ্রাভিসে আক্রান্ত। এটি একটি বিরল ও দীর্ঘমেয়াদি অটোইমিউন রোগ, যার ফলে পেশি দ্রুত দুর্বল হয়ে পড়ে এবং সহজেই ক্লান্ত হয়ে যায়।

Young At Any Age - YouTube

আশাহীন ভবিষ্যতের পূর্বাভাস
চিকিৎসকের কাছ থেকে ফ্রান শুনেছিলেন, এই রোগ থেকে আর সুস্থ হওয়া সম্ভব নয়। বলা হয়েছিল, অসুখটি তার আয়ু কমিয়ে দেবে এবং সারা জীবন ওষুধের ওপর নির্ভরশীল থাকতে হবে। বছরের পর বছর তিনি শারীরিক যন্ত্রণা ও অস্বস্তির সঙ্গে লড়াই করেছেন।

তবু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বব ও ফ্রান জীবনের এই কঠিন অধ্যায় পেরিয়ে আজ এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। বয়স ও রোগ—দুটোকেই অগ্রাহ্য করে তারা প্রমাণ করেছেন, সঠিক সিদ্ধান্ত ও দৃঢ় মানসিকতা মানুষকে কত দূর এগিয়ে নিতে পারে।