০১:৩৪ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
স্কুলে সহিংসতা ঠেকাতে আগে বদলাতে হবে আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি জেন জি-র ‘ফ্রেন্ডস’ বানানোর চেষ্টা চলছে, কিন্তু কেন তা অসম্ভব সঙ্কুচিত পোশাক কি নষ্ট না করেই আগের মাপে ফেরানো সম্ভব? ডায়মন্ড লিগের ফাইনালে তৃতীয় অ্যামি হান্ট, দুর্দান্ত ছন্দে ছুটছেন ব্রিটিশ তারকা মারাঠি না জানলে ঝুঁকিতে লাইসেন্স, মহারাষ্ট্রে ট্যাক্সি ও অটোরিকশাচালকদের মিলল আরও এক বছর বয়স বাড়লেই জীবন থেমে যায় না, বরং আসে নিজের মতো বাঁচার স্বাধীনতা: প্রু লেইথ দাঁতের চিকিৎসকের কাছে যাওয়ার পথে বজ্রপাতে আহত, ‘ভয়াবহ’ অভিজ্ঞতার কথা জানালেন নিউইয়র্কের যুবক পেন্টাগনের নিয়ন্ত্রণ কি হারাচ্ছেন পিট হেগসেথ? আফ্রিকার প্রকৃত আয়তন তুলে ধরা মানচিত্রের পক্ষে জাতিসংঘের ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত সন্তান হত্যার মামলায় রায় হয়নি, লিন্ডসে ক্ল্যান্সিকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে তীব্র বিতর্ক

খালি হাতে কুমিরের সঙ্গে লড়াই করে ছেলেকে বাঁচালেন এক সাহসী মা

অবিশ্বাস্য সাহসিকতার ঘটনা

উত্তর প্রদেশের বেহরাইচ জেলায় এক মা নিজের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কুমিরের হাত থেকে মাত্র পাঁচ বছরের ছেলেকে রক্ষা করেছেন। ধাকিয়া গ্রামে সোমবার সন্ধ্যায় ঘটে যাওয়া এই ঘটনায় গ্রামবাসীরা এখনও বিস্ময়ে হতবাক।

ঘটনার বিবরণ

পাঁচ বছরের ভীরু বাড়ির পাশের নালার ধারে খেলছিল। হঠাৎ পানির ভেতর থেকে একটি কুমির ঝাঁপিয়ে পড়ে তাকে ধরে টেনে নিতে চায়। শিশুটির আর্তচিৎকার শুনে মা মায়া (৪০) দৌড়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছান। তিনি এক মুহূর্ত দেরি না করে খালি হাতে কুমিরের সঙ্গে লড়াই শুরু করেন।

প্রাণপণ সংগ্রাম

প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, মা ও কুমিরের মধ্যে পাঁচ মিনিটের জীবন-মৃত্যুর লড়াই হয়। মায়া প্রথমে হাতে আঘাত করতে থাকেন, নখ দিয়ে আঁচড়ান এবং সর্বশক্তি দিয়ে সন্তানকে আঁকড়ে ধরে রাখেন। পরে তিনি একটি লোহার রড হাতে পেয়ে কুমিরকে আঘাত করেন। শেষ পর্যন্ত কুমির ছেলেটিকে ছেড়ে দিতে বাধ্য হয়।

মায়ের বর্ণনা

মায়া সংবাদমাধ্যমকে বলেন, “আমি চিৎকার করে ছুটে যাই, নিজের প্রাণের কথা ভাবিনি। কুমির আমার ছেলেকে নিচে টানছিল, আমি সর্বশক্তি দিয়ে ধরে রাখি। আমি আঘাত করি, আঁচড়াই, ছাড়িনি এক মুহূর্তও। শেষে লোহার রড দিয়ে আঘাত করার পর কুমির ছেড়ে দেয়। আমার ছেলে বেঁচে গেছে, এটাই বড় কথা।”

আহত মা ও শিশু

এই ঘটনায় মায়া ও তার ছেলে ভীরু দুজনেই আহত হন। মায়া হালকা আঘাত পেয়ে চিকিৎসা নিয়ে ছাড়পত্র পান, তবে গুরুতর জখম হওয়ায় ভীরুকে হাসপাতালে রাখা হয়েছে।

প্রশাসনের পদক্ষেপ

ঘটনার পর প্রাক্তন গ্রামপ্রধান রাজকুমার সিং স্থানীয় প্রশাসনকে খবর দেন। বন বিভাগীয় কর্মকর্তা রাম সিং যাদব ও এসডিও রশিদ জামিল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে পরিবারটির সঙ্গে দেখা করেন। যাদব আশ্বাস দেন, কুমির ধরতে বিশেষ অভিযান চালানো হবে।

এই সাহসী মায়ের আত্মত্যাগী মনোভাব শুধু তার সন্তানকেই রক্ষা করেনি, বরং গ্রামবাসীর কাছে এক অনন্য দৃষ্টান্ত হয়ে উঠেছে।
জনপ্রিয় সংবাদ

স্কুলে সহিংসতা ঠেকাতে আগে বদলাতে হবে আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি

খালি হাতে কুমিরের সঙ্গে লড়াই করে ছেলেকে বাঁচালেন এক সাহসী মা

০১:০০:৫৪ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৪ অগাস্ট ২০২৫

অবিশ্বাস্য সাহসিকতার ঘটনা

উত্তর প্রদেশের বেহরাইচ জেলায় এক মা নিজের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কুমিরের হাত থেকে মাত্র পাঁচ বছরের ছেলেকে রক্ষা করেছেন। ধাকিয়া গ্রামে সোমবার সন্ধ্যায় ঘটে যাওয়া এই ঘটনায় গ্রামবাসীরা এখনও বিস্ময়ে হতবাক।

ঘটনার বিবরণ

পাঁচ বছরের ভীরু বাড়ির পাশের নালার ধারে খেলছিল। হঠাৎ পানির ভেতর থেকে একটি কুমির ঝাঁপিয়ে পড়ে তাকে ধরে টেনে নিতে চায়। শিশুটির আর্তচিৎকার শুনে মা মায়া (৪০) দৌড়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছান। তিনি এক মুহূর্ত দেরি না করে খালি হাতে কুমিরের সঙ্গে লড়াই শুরু করেন।

প্রাণপণ সংগ্রাম

প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, মা ও কুমিরের মধ্যে পাঁচ মিনিটের জীবন-মৃত্যুর লড়াই হয়। মায়া প্রথমে হাতে আঘাত করতে থাকেন, নখ দিয়ে আঁচড়ান এবং সর্বশক্তি দিয়ে সন্তানকে আঁকড়ে ধরে রাখেন। পরে তিনি একটি লোহার রড হাতে পেয়ে কুমিরকে আঘাত করেন। শেষ পর্যন্ত কুমির ছেলেটিকে ছেড়ে দিতে বাধ্য হয়।

মায়ের বর্ণনা

মায়া সংবাদমাধ্যমকে বলেন, “আমি চিৎকার করে ছুটে যাই, নিজের প্রাণের কথা ভাবিনি। কুমির আমার ছেলেকে নিচে টানছিল, আমি সর্বশক্তি দিয়ে ধরে রাখি। আমি আঘাত করি, আঁচড়াই, ছাড়িনি এক মুহূর্তও। শেষে লোহার রড দিয়ে আঘাত করার পর কুমির ছেড়ে দেয়। আমার ছেলে বেঁচে গেছে, এটাই বড় কথা।”

আহত মা ও শিশু

এই ঘটনায় মায়া ও তার ছেলে ভীরু দুজনেই আহত হন। মায়া হালকা আঘাত পেয়ে চিকিৎসা নিয়ে ছাড়পত্র পান, তবে গুরুতর জখম হওয়ায় ভীরুকে হাসপাতালে রাখা হয়েছে।

প্রশাসনের পদক্ষেপ

ঘটনার পর প্রাক্তন গ্রামপ্রধান রাজকুমার সিং স্থানীয় প্রশাসনকে খবর দেন। বন বিভাগীয় কর্মকর্তা রাম সিং যাদব ও এসডিও রশিদ জামিল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে পরিবারটির সঙ্গে দেখা করেন। যাদব আশ্বাস দেন, কুমির ধরতে বিশেষ অভিযান চালানো হবে।

এই সাহসী মায়ের আত্মত্যাগী মনোভাব শুধু তার সন্তানকেই রক্ষা করেনি, বরং গ্রামবাসীর কাছে এক অনন্য দৃষ্টান্ত হয়ে উঠেছে।