০৮:৪৯ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
স্কুলে সহিংসতা ঠেকাতে আগে বদলাতে হবে আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি জেন জি-র ‘ফ্রেন্ডস’ বানানোর চেষ্টা চলছে, কিন্তু কেন তা অসম্ভব সঙ্কুচিত পোশাক কি নষ্ট না করেই আগের মাপে ফেরানো সম্ভব? ডায়মন্ড লিগের ফাইনালে তৃতীয় অ্যামি হান্ট, দুর্দান্ত ছন্দে ছুটছেন ব্রিটিশ তারকা মারাঠি না জানলে ঝুঁকিতে লাইসেন্স, মহারাষ্ট্রে ট্যাক্সি ও অটোরিকশাচালকদের মিলল আরও এক বছর বয়স বাড়লেই জীবন থেমে যায় না, বরং আসে নিজের মতো বাঁচার স্বাধীনতা: প্রু লেইথ দাঁতের চিকিৎসকের কাছে যাওয়ার পথে বজ্রপাতে আহত, ‘ভয়াবহ’ অভিজ্ঞতার কথা জানালেন নিউইয়র্কের যুবক পেন্টাগনের নিয়ন্ত্রণ কি হারাচ্ছেন পিট হেগসেথ? আফ্রিকার প্রকৃত আয়তন তুলে ধরা মানচিত্রের পক্ষে জাতিসংঘের ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত সন্তান হত্যার মামলায় রায় হয়নি, লিন্ডসে ক্ল্যান্সিকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে তীব্র বিতর্ক

খুলনায় টানা বৃষ্টিতে জলাবদ্ধতা: ডুবে গেছে ২৫০ বাড়ি, ক্ষতিগ্রস্ত শত শত পরিবার

শুক্রবার মধ্যরাত থেকে শুরু হয়ে রোববার রাত পর্যন্ত টানা ভারী বৃষ্টিতে খুলনা মহানগরের বিভিন্ন এলাকায় ব্যাপক জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষ করে দৌলতপুর, খানজাহান আলী ও খালিশপুর থানার নিম্নাঞ্চল পানিতে তলিয়ে গিয়ে দুর্ভোগে পড়েছেন শত শত পরিবার। সড়ক, ড্রেন, বসতবাড়ি ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পানি ঢুকে স্বাভাবিক জনজীবন ব্যাহত হয়েছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিনের অপর্যাপ্ত ড্রেনেজ ব্যবস্থার কারণে প্রতি বছরই একই ধরনের পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়। এবারের টানা বর্ষণে সেই সংকট আরও প্রকট হয়ে উঠেছে।

জলাবদ্ধতায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা

খানজাহান আলী থানার যোগীপোল, জাবদিপুর, তেলিগাতি, ঢালিপাড়া, খানাবাড়ি, বিল ডাকাতিয়া গ্রাম এবং সরকারি ল্যাবরেটরি উচ্চ বিদ্যালয় মোড়সংলগ্ন এলাকা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এছাড়া দৌলতপুর থানার পাবলা, উত্তর বণিকপাড়া ও মহেশ্বরপাশা পশ্চিমপাড়া এবং খালিশপুর থানার বস্তহারা, মুজগুন্নি ও গোয়ালখালী এলাকাতেও বিস্তীর্ণ অংশ পানির নিচে চলে গেছে।

অনেক পরিবারের ঘরে পানি ঢুকে আসবাবপত্র, রান্নাঘরের সামগ্রীসহ প্রয়োজনীয় গৃহস্থালি জিনিসপত্র ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অনেক বাসিন্দাকে হাঁটুপানি মাড়িয়ে চলাচল করতে হচ্ছে।

শিক্ষা প্রতিষ্ঠানেও স্থবিরতা

জলাবদ্ধতার কারণে খুলনার একাধিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পাঠদান ও প্রশাসনিক কার্যক্রম ব্যাহত হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত প্রতিষ্ঠানের মধ্যে রয়েছে সরকারি টিচার্স ট্রেনিং কলেজ, উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষক প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট, সরকারি ল্যাবরেটরি উচ্চ বিদ্যালয়, উইমেন্স টেকনিক্যাল ট্রেনিং সেন্টার, খারাবাড়ি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, শহীদ জিয়া আদর্শ মহাবিদ্যালয়, খানজাহান আলী টেকনিক্যাল অ্যান্ড বিএম কলেজ, তেলিগাতি মাধ্যমিক বিদ্যালয়, উদয়ন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, প্রতিভা প্রি-ক্যাডেট স্কুল, মিজান একাডেমি ও আলহেরা প্রি-ক্যাডেট মাদ্রাসা।

এছাড়া খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুয়েট) প্রধান ফটক, খেলার মাঠ, আবাসিক হলসহ বিভিন্ন অংশেও পানি জমে শিক্ষা কার্যক্রমে বিঘ্ন সৃষ্টি হয়েছে।

প্রশাসনের তথ্য

খুলনার জেলা প্রশাসক হুরে জান্নাত জানিয়েছেন, টানা বৃষ্টিতে প্রায় ২৫০টি বাড়ি পানিতে তলিয়ে গেছে। জলাবদ্ধতার কারণে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে।

ক্ষতিগ্রস্তদের অভিজ্ঞতা

পাবলা ৬ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা মাসুদ আল হাসান জানান, তাদের এলাকার অধিকাংশ অংশই পানিতে ডুবে গেছে। অনেক বাড়িতে হাঁটুপানি উঠে গেছে এবং মূল্যবান আসবাবপত্র নষ্ট হয়েছে। তিনি বলেন, কবির বটতলা থেকে কারিগরপাড়া, সবুজ সংঘ মাঠ এবং কাউন্সিল অফিস পর্যন্ত সড়ক পানির নিচে রয়েছে।

খানাবাড়ির বাসিন্দা মো. তাইয়েবুর রহমান লিটন বলেন, দুর্বল ড্রেনেজ ব্যবস্থার কারণে প্রতি বছরই খানাবাড়ি, বণিকপাড়া, তেলিগাতি ও মহেশ্বরপাশা পশ্চিমপাড়ায় জলাবদ্ধতা তৈরি হয়। পরে সেই পানি সরকারি ল্যাবরেটরি উচ্চ বিদ্যালয় ও টিটিসি কলেজের মাঠে জমে থেকে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত করে। কার্যকর ড্রেনেজ ব্যবস্থার অভাবে স্থানীয়দের দুর্ভোগ বছরের পর বছর অব্যাহত রয়েছে বলেও তিনি অভিযোগ করেন।

ত্রাণ সহায়তা বিতরণ

রোববার খুলনা বিভাগের বিভাগীয় কমিশনার মো. আবদুল্লাহ হারুন এবং জেলা প্রশাসক হুরে জান্নাত ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় ত্রাণসামগ্রী ও শুকনো খাবার বিতরণ করেন। প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রায় ৫০০ ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে সহায়তা দেওয়া হয়েছে।

খুলনায় টানা ভারী বৃষ্টিতে জলাবদ্ধতায় প্রায় ২৫০ বাড়ি প্লাবিত হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, আর প্রায় ৫০০ পরিবার পেয়েছে ত্রাণ সহায়তা।

জনপ্রিয় সংবাদ

স্কুলে সহিংসতা ঠেকাতে আগে বদলাতে হবে আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি

খুলনায় টানা বৃষ্টিতে জলাবদ্ধতা: ডুবে গেছে ২৫০ বাড়ি, ক্ষতিগ্রস্ত শত শত পরিবার

০৫:৩৯:২৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৩ জুলাই ২০২৬

শুক্রবার মধ্যরাত থেকে শুরু হয়ে রোববার রাত পর্যন্ত টানা ভারী বৃষ্টিতে খুলনা মহানগরের বিভিন্ন এলাকায় ব্যাপক জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষ করে দৌলতপুর, খানজাহান আলী ও খালিশপুর থানার নিম্নাঞ্চল পানিতে তলিয়ে গিয়ে দুর্ভোগে পড়েছেন শত শত পরিবার। সড়ক, ড্রেন, বসতবাড়ি ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পানি ঢুকে স্বাভাবিক জনজীবন ব্যাহত হয়েছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিনের অপর্যাপ্ত ড্রেনেজ ব্যবস্থার কারণে প্রতি বছরই একই ধরনের পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়। এবারের টানা বর্ষণে সেই সংকট আরও প্রকট হয়ে উঠেছে।

জলাবদ্ধতায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা

খানজাহান আলী থানার যোগীপোল, জাবদিপুর, তেলিগাতি, ঢালিপাড়া, খানাবাড়ি, বিল ডাকাতিয়া গ্রাম এবং সরকারি ল্যাবরেটরি উচ্চ বিদ্যালয় মোড়সংলগ্ন এলাকা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এছাড়া দৌলতপুর থানার পাবলা, উত্তর বণিকপাড়া ও মহেশ্বরপাশা পশ্চিমপাড়া এবং খালিশপুর থানার বস্তহারা, মুজগুন্নি ও গোয়ালখালী এলাকাতেও বিস্তীর্ণ অংশ পানির নিচে চলে গেছে।

অনেক পরিবারের ঘরে পানি ঢুকে আসবাবপত্র, রান্নাঘরের সামগ্রীসহ প্রয়োজনীয় গৃহস্থালি জিনিসপত্র ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অনেক বাসিন্দাকে হাঁটুপানি মাড়িয়ে চলাচল করতে হচ্ছে।

শিক্ষা প্রতিষ্ঠানেও স্থবিরতা

জলাবদ্ধতার কারণে খুলনার একাধিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পাঠদান ও প্রশাসনিক কার্যক্রম ব্যাহত হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত প্রতিষ্ঠানের মধ্যে রয়েছে সরকারি টিচার্স ট্রেনিং কলেজ, উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষক প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট, সরকারি ল্যাবরেটরি উচ্চ বিদ্যালয়, উইমেন্স টেকনিক্যাল ট্রেনিং সেন্টার, খারাবাড়ি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, শহীদ জিয়া আদর্শ মহাবিদ্যালয়, খানজাহান আলী টেকনিক্যাল অ্যান্ড বিএম কলেজ, তেলিগাতি মাধ্যমিক বিদ্যালয়, উদয়ন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, প্রতিভা প্রি-ক্যাডেট স্কুল, মিজান একাডেমি ও আলহেরা প্রি-ক্যাডেট মাদ্রাসা।

এছাড়া খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুয়েট) প্রধান ফটক, খেলার মাঠ, আবাসিক হলসহ বিভিন্ন অংশেও পানি জমে শিক্ষা কার্যক্রমে বিঘ্ন সৃষ্টি হয়েছে।

প্রশাসনের তথ্য

খুলনার জেলা প্রশাসক হুরে জান্নাত জানিয়েছেন, টানা বৃষ্টিতে প্রায় ২৫০টি বাড়ি পানিতে তলিয়ে গেছে। জলাবদ্ধতার কারণে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে।

ক্ষতিগ্রস্তদের অভিজ্ঞতা

পাবলা ৬ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা মাসুদ আল হাসান জানান, তাদের এলাকার অধিকাংশ অংশই পানিতে ডুবে গেছে। অনেক বাড়িতে হাঁটুপানি উঠে গেছে এবং মূল্যবান আসবাবপত্র নষ্ট হয়েছে। তিনি বলেন, কবির বটতলা থেকে কারিগরপাড়া, সবুজ সংঘ মাঠ এবং কাউন্সিল অফিস পর্যন্ত সড়ক পানির নিচে রয়েছে।

খানাবাড়ির বাসিন্দা মো. তাইয়েবুর রহমান লিটন বলেন, দুর্বল ড্রেনেজ ব্যবস্থার কারণে প্রতি বছরই খানাবাড়ি, বণিকপাড়া, তেলিগাতি ও মহেশ্বরপাশা পশ্চিমপাড়ায় জলাবদ্ধতা তৈরি হয়। পরে সেই পানি সরকারি ল্যাবরেটরি উচ্চ বিদ্যালয় ও টিটিসি কলেজের মাঠে জমে থেকে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত করে। কার্যকর ড্রেনেজ ব্যবস্থার অভাবে স্থানীয়দের দুর্ভোগ বছরের পর বছর অব্যাহত রয়েছে বলেও তিনি অভিযোগ করেন।

ত্রাণ সহায়তা বিতরণ

রোববার খুলনা বিভাগের বিভাগীয় কমিশনার মো. আবদুল্লাহ হারুন এবং জেলা প্রশাসক হুরে জান্নাত ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় ত্রাণসামগ্রী ও শুকনো খাবার বিতরণ করেন। প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রায় ৫০০ ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে সহায়তা দেওয়া হয়েছে।

খুলনায় টানা ভারী বৃষ্টিতে জলাবদ্ধতায় প্রায় ২৫০ বাড়ি প্লাবিত হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, আর প্রায় ৫০০ পরিবার পেয়েছে ত্রাণ সহায়তা।