০২:৩৪ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
স্কুলে সহিংসতা ঠেকাতে আগে বদলাতে হবে আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি জেন জি-র ‘ফ্রেন্ডস’ বানানোর চেষ্টা চলছে, কিন্তু কেন তা অসম্ভব সঙ্কুচিত পোশাক কি নষ্ট না করেই আগের মাপে ফেরানো সম্ভব? ডায়মন্ড লিগের ফাইনালে তৃতীয় অ্যামি হান্ট, দুর্দান্ত ছন্দে ছুটছেন ব্রিটিশ তারকা মারাঠি না জানলে ঝুঁকিতে লাইসেন্স, মহারাষ্ট্রে ট্যাক্সি ও অটোরিকশাচালকদের মিলল আরও এক বছর বয়স বাড়লেই জীবন থেমে যায় না, বরং আসে নিজের মতো বাঁচার স্বাধীনতা: প্রু লেইথ দাঁতের চিকিৎসকের কাছে যাওয়ার পথে বজ্রপাতে আহত, ‘ভয়াবহ’ অভিজ্ঞতার কথা জানালেন নিউইয়র্কের যুবক পেন্টাগনের নিয়ন্ত্রণ কি হারাচ্ছেন পিট হেগসেথ? আফ্রিকার প্রকৃত আয়তন তুলে ধরা মানচিত্রের পক্ষে জাতিসংঘের ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত সন্তান হত্যার মামলায় রায় হয়নি, লিন্ডসে ক্ল্যান্সিকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে তীব্র বিতর্ক

খেলাপি ঋণ ছাড়াল ৬ লাখ কোটি টাকা, বাড়ল ১৭ হাজার ৮৫১ কোটি

ঋণ পুনঃতফসিল ও পুনর্গঠনে বিশেষ ছাড় দেওয়ার পরও দেশের ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণের পরিমাণ ৬ লাখ কোটি টাকা ছাড়িয়ে গেছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের জুন শেষে খেলাপি ঋণ দাঁড়িয়েছে ৬ লাখ ৬ হাজার ২৮৪ কোটি টাকা। তিন মাসের ব্যবধানে এই ঋণ বেড়েছে ১৭ হাজার ৮৫১ কোটি টাকা।

মার্চ শেষে খেলাপি ঋণ ছিল ৫ লাখ ৮৮ হাজার ৭০৪ কোটি টাকা। জুন শেষে তা বেড়ে মোট বিতরণ করা ঋণের ৩২ দশমিক ৭৮ শতাংশে পৌঁছেছে।

ঋণ খেলাপি বাড়ছে, কমছে ঋণ প্রবৃদ্ধি

খেলাপি ঋণের এই ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতার মধ্যেই বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি নেমে এসেছে রেকর্ড সর্বনিম্ন ৪ দশমিক ৪৭ শতাংশে। ব্যবসা-বাণিজ্যের গতি কমে যাওয়ায় বিদ্যমান ঋণের একটি অংশ নিয়মিতভাবে খেলাপিতে পরিণত হচ্ছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণ বেড়ে ৬ লাখ কোটি টাকা ছাড়াল | The Business Standard

খেলাপি ঋণ নিয়ন্ত্রণে এক বছর আগে বিশেষ ঋণ পুনঃতফসিল প্যাকেজ চালু করেছিল বাংলাদেশ ব্যাংক। তবে সেই উদ্যোগেও পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়নি। বরং আগের সুবিধা নেওয়া অনেক গ্রাহক আবারও খেলাপি হওয়ায় কেন্দ্রীয় ব্যাংক সম্প্রতি আরও নমনীয় শর্তে দ্বিতীয়বারের মতো বিশেষ পুনঃতফসিল সুবিধার মেয়াদ বাড়িয়েছে।

আগের প্যাকেজে প্রায় ১ লাখ কোটি টাকার ঋণ পুনঃতফসিল

গত বছরের সেপ্টেম্বরে ঘোষিত বিশেষ সুবিধার আওতায় প্রায় ৩০০ জন ঋণগ্রহীতা তাদের প্রায় ১ লাখ কোটি টাকার ঋণ পুনঃতফসিল বা পুনর্গঠন করেছিলেন। ওই প্যাকেজে দুই বছরের গ্রেস পিরিয়ডসহ সর্বোচ্চ ১০ বছরের মধ্যে ঋণ পরিশোধের সুযোগ দেওয়া হয়েছিল।

তবে আগের সুবিধা নেওয়া অনেক গ্রাহক এখনো দুই বছরের গ্রেস পিরিয়ডের মধ্যেই রয়েছেন। এর মধ্যেই বাংলাদেশ ব্যাংক তাদের নতুন প্যাকেজের আওতায় পুনরায় আবেদন করার সুযোগ দিয়েছে।

খেলাপি ঋণ ছাড়াল ৬ লাখ কোটি টাকা

১৫ বছর পর্যন্ত পুনঃতফসিলের সুযোগ

গত ৩১ আগস্ট ঘোষিত সর্বশেষ প্যাকেজে শর্ত আরও শিথিল করা হয়েছে। নতুন ব্যবস্থায় ১ হাজার কোটি টাকার বেশি খেলাপি ঋণ থাকা গ্রাহকেরা দুই বছরের গ্রেস পিরিয়ডসহ সর্বোচ্চ ১৫ বছর পর্যন্ত ঋণ পুনঃতফসিল করতে পারবেন। একই সঙ্গে ঋণ পুনর্গঠনের মেয়াদ দুই বছর থেকে বাড়িয়ে চার বছর করা হয়েছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের মতে, আগের সহায়তার পর শিল্প খাত একাধিক সংকটের মুখোমুখি হয়েছে। বিশেষ সুবিধা দেওয়ার পর দেশে গ্যাস-সংকট দেখা দেয়। ইরান যুদ্ধের কারণে তেলের দামেও প্রভাব পড়ে। এসব কারণে অর্থনীতিতে বারবার চাপ তৈরি হয়েছে, যার সরাসরি প্রভাব পড়েছে শিল্প খাতে। সামগ্রিক পরিস্থিতি বিবেচনায় ঋণ পরিশোধের শর্ত কিছুটা শিথিল করা হয়েছে।

শিল্প খাতে ৬০ হাজার কোটি টাকার প্রণোদনা

ক্ষতিগ্রস্ত শিল্প খাতকে পুনরুদ্ধার ও সহায়তা দিতে বাংলাদেশ ব্যাংক স্বল্প সুদে ৬০ হাজার কোটি টাকার নতুন প্রণোদনা প্যাকেজও চালু করেছে। দেশের সব বাণিজ্যিক ব্যাংক এই কর্মসূচিতে অংশ নিতে পারবে।

ব্যবসায়িক কার্যক্রমে গতি ফিরলে ঋণগ্রহীতাদের পরিশোধ সক্ষমতা বাড়বে এবং ধীরে ধীরে খেলাপি ঋণের পরিমাণ কমে আসবে—এমন প্রত্যাশা রয়েছে।

 

 

 

জনপ্রিয় সংবাদ

স্কুলে সহিংসতা ঠেকাতে আগে বদলাতে হবে আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি

খেলাপি ঋণ ছাড়াল ৬ লাখ কোটি টাকা, বাড়ল ১৭ হাজার ৮৫১ কোটি

১১:৫৭:০০ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ঋণ পুনঃতফসিল ও পুনর্গঠনে বিশেষ ছাড় দেওয়ার পরও দেশের ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণের পরিমাণ ৬ লাখ কোটি টাকা ছাড়িয়ে গেছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের জুন শেষে খেলাপি ঋণ দাঁড়িয়েছে ৬ লাখ ৬ হাজার ২৮৪ কোটি টাকা। তিন মাসের ব্যবধানে এই ঋণ বেড়েছে ১৭ হাজার ৮৫১ কোটি টাকা।

মার্চ শেষে খেলাপি ঋণ ছিল ৫ লাখ ৮৮ হাজার ৭০৪ কোটি টাকা। জুন শেষে তা বেড়ে মোট বিতরণ করা ঋণের ৩২ দশমিক ৭৮ শতাংশে পৌঁছেছে।

ঋণ খেলাপি বাড়ছে, কমছে ঋণ প্রবৃদ্ধি

খেলাপি ঋণের এই ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতার মধ্যেই বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি নেমে এসেছে রেকর্ড সর্বনিম্ন ৪ দশমিক ৪৭ শতাংশে। ব্যবসা-বাণিজ্যের গতি কমে যাওয়ায় বিদ্যমান ঋণের একটি অংশ নিয়মিতভাবে খেলাপিতে পরিণত হচ্ছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণ বেড়ে ৬ লাখ কোটি টাকা ছাড়াল | The Business Standard

খেলাপি ঋণ নিয়ন্ত্রণে এক বছর আগে বিশেষ ঋণ পুনঃতফসিল প্যাকেজ চালু করেছিল বাংলাদেশ ব্যাংক। তবে সেই উদ্যোগেও পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়নি। বরং আগের সুবিধা নেওয়া অনেক গ্রাহক আবারও খেলাপি হওয়ায় কেন্দ্রীয় ব্যাংক সম্প্রতি আরও নমনীয় শর্তে দ্বিতীয়বারের মতো বিশেষ পুনঃতফসিল সুবিধার মেয়াদ বাড়িয়েছে।

আগের প্যাকেজে প্রায় ১ লাখ কোটি টাকার ঋণ পুনঃতফসিল

গত বছরের সেপ্টেম্বরে ঘোষিত বিশেষ সুবিধার আওতায় প্রায় ৩০০ জন ঋণগ্রহীতা তাদের প্রায় ১ লাখ কোটি টাকার ঋণ পুনঃতফসিল বা পুনর্গঠন করেছিলেন। ওই প্যাকেজে দুই বছরের গ্রেস পিরিয়ডসহ সর্বোচ্চ ১০ বছরের মধ্যে ঋণ পরিশোধের সুযোগ দেওয়া হয়েছিল।

তবে আগের সুবিধা নেওয়া অনেক গ্রাহক এখনো দুই বছরের গ্রেস পিরিয়ডের মধ্যেই রয়েছেন। এর মধ্যেই বাংলাদেশ ব্যাংক তাদের নতুন প্যাকেজের আওতায় পুনরায় আবেদন করার সুযোগ দিয়েছে।

খেলাপি ঋণ ছাড়াল ৬ লাখ কোটি টাকা

১৫ বছর পর্যন্ত পুনঃতফসিলের সুযোগ

গত ৩১ আগস্ট ঘোষিত সর্বশেষ প্যাকেজে শর্ত আরও শিথিল করা হয়েছে। নতুন ব্যবস্থায় ১ হাজার কোটি টাকার বেশি খেলাপি ঋণ থাকা গ্রাহকেরা দুই বছরের গ্রেস পিরিয়ডসহ সর্বোচ্চ ১৫ বছর পর্যন্ত ঋণ পুনঃতফসিল করতে পারবেন। একই সঙ্গে ঋণ পুনর্গঠনের মেয়াদ দুই বছর থেকে বাড়িয়ে চার বছর করা হয়েছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের মতে, আগের সহায়তার পর শিল্প খাত একাধিক সংকটের মুখোমুখি হয়েছে। বিশেষ সুবিধা দেওয়ার পর দেশে গ্যাস-সংকট দেখা দেয়। ইরান যুদ্ধের কারণে তেলের দামেও প্রভাব পড়ে। এসব কারণে অর্থনীতিতে বারবার চাপ তৈরি হয়েছে, যার সরাসরি প্রভাব পড়েছে শিল্প খাতে। সামগ্রিক পরিস্থিতি বিবেচনায় ঋণ পরিশোধের শর্ত কিছুটা শিথিল করা হয়েছে।

শিল্প খাতে ৬০ হাজার কোটি টাকার প্রণোদনা

ক্ষতিগ্রস্ত শিল্প খাতকে পুনরুদ্ধার ও সহায়তা দিতে বাংলাদেশ ব্যাংক স্বল্প সুদে ৬০ হাজার কোটি টাকার নতুন প্রণোদনা প্যাকেজও চালু করেছে। দেশের সব বাণিজ্যিক ব্যাংক এই কর্মসূচিতে অংশ নিতে পারবে।

ব্যবসায়িক কার্যক্রমে গতি ফিরলে ঋণগ্রহীতাদের পরিশোধ সক্ষমতা বাড়বে এবং ধীরে ধীরে খেলাপি ঋণের পরিমাণ কমে আসবে—এমন প্রত্যাশা রয়েছে।