০৪:৪৫ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
স্কুলে সহিংসতা ঠেকাতে আগে বদলাতে হবে আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি জেন জি-র ‘ফ্রেন্ডস’ বানানোর চেষ্টা চলছে, কিন্তু কেন তা অসম্ভব সঙ্কুচিত পোশাক কি নষ্ট না করেই আগের মাপে ফেরানো সম্ভব? ডায়মন্ড লিগের ফাইনালে তৃতীয় অ্যামি হান্ট, দুর্দান্ত ছন্দে ছুটছেন ব্রিটিশ তারকা মারাঠি না জানলে ঝুঁকিতে লাইসেন্স, মহারাষ্ট্রে ট্যাক্সি ও অটোরিকশাচালকদের মিলল আরও এক বছর বয়স বাড়লেই জীবন থেমে যায় না, বরং আসে নিজের মতো বাঁচার স্বাধীনতা: প্রু লেইথ দাঁতের চিকিৎসকের কাছে যাওয়ার পথে বজ্রপাতে আহত, ‘ভয়াবহ’ অভিজ্ঞতার কথা জানালেন নিউইয়র্কের যুবক পেন্টাগনের নিয়ন্ত্রণ কি হারাচ্ছেন পিট হেগসেথ? আফ্রিকার প্রকৃত আয়তন তুলে ধরা মানচিত্রের পক্ষে জাতিসংঘের ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত সন্তান হত্যার মামলায় রায় হয়নি, লিন্ডসে ক্ল্যান্সিকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে তীব্র বিতর্ক

গভীর সমুদ্রের নতুন অতিথি, দানব নয় এক কোমল প্রাণী

গভীর সমুদ্রের জীবনের লড়াই

সমুদ্রের অতল গহ্বরে টিকে থাকতে প্রাণীদের প্রয়োজন হয় বিশেষ অভিযোজনের। এদের দেহ জেলির মতো নরম, যাতে ভয়াবহ চাপ সহ্য করা যায়। আলো তৈরি করার ক্ষমতা (বায়োলুমিনেসেন্স) তাদের পথ দেখায়, আর স্বচ্ছ বর্ণ তাদের অন্ধকারে অদৃশ্য হয়ে থাকতে সাহায্য করে। এসব মিলিয়ে গভীর সমুদ্রের প্রাণীগুলো প্রায়ই ভিনগ্রহের জীবের মতো দেখতে লাগে।

নতুন প্রজাতি: বাম্পি স্নেইলফিশ

তবে সম্প্রতি আবিষ্কৃত গভীর সমুদ্রের মাছ ‘বাম্পি স্নেইলফিশ’ দেখিয়ে দিয়েছে যে অতল জগতের সব প্রাণীই ভীতিকর নয়। মার্কিন সামুদ্রিক জীববিজ্ঞানী ম্যাকেনজি গেরিঙ্গার বলেন, “এটা বেশ আদুরে,” যা গভীর সমুদ্রের প্রাণীদের ‘দানব’ বলে প্রচলিত ধারণার বিপরীত।

ক্যালিফোর্নিয়া উপকূলে অভিযানের সাফল্য

মনটেরে বে অ্যাকুয়ারিয়াম রিসার্চ ইনস্টিটিউটের নেতৃত্বে পরিচালিত এক অভিযানে ক্যালিফোর্নিয়ার উপকূল থেকে ১০ হাজার ফুট (প্রায় ৩ হাজার মিটার) গভীর সমুদ্র থেকে তিনটি নতুন স্নেইলফিশ প্রজাতি পাওয়া গেছে। এদের মধ্যে অন্যতম হলো বাম্পি স্নেইলফিশ। গেরিঙ্গার ও তার গবেষণা দল এসব নমুনা পরীক্ষা করে ফলাফল প্রকাশ করেছেন বৈজ্ঞানিক সাময়িকী ‘ইকথিওলজি অ্যান্ড হারপেটোলজি’–এ।

গভীর সমুদ্র: পৃথিবীর সবচেয়ে বড় আবাসভূমি

গভীর সমুদ্র পৃথিবীর সবচেয়ে বড় আবাসভূমি, যা সমুদ্রতলের ৮০ শতাংশেরও বেশি অংশ জুড়ে বিস্তৃত এবং সমুদ্রের বাকি অংশের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত। স্নেইলফিশ বা লিপারিড মাছ লবণাক্ত পানির ছোট প্রজাতি, যাদের পাওয়া যায় জোয়ারভাটা অঞ্চলের অগভীর জলে থেকে শুরু করে গভীর অতল গহ্বর পর্যন্ত। এর মধ্যে মারিয়ানা স্নেইলফিশ সবচেয়ে গভীরে বসবাসকারী মাছ হিসেবে রেকর্ড গড়েছে—যা সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ২৭ হাজার ফুট নিচে মারিয়ানা ট্রেঞ্চে বেঁচে থাকে।

স্নেইলফিশ পরিবারের বৈশিষ্ট্য

স্নেইলফিশ পরিবারে প্রায় ৪৫০টি প্রজাতি আছে, যাদের অনেকগুলোই গত দুই দশকে আবিষ্কৃত হয়েছে। এদের বিশেষ বৈশিষ্ট্যের মধ্যে রয়েছে আঁশবিহীন দেহ এবং পেটের অংশে থাকা একটি চাকতির মতো অঙ্গ, যা অগভীর জলের স্নেইলফিশকে পাথর কিংবা বড় মাছের গায়ে আটকে থাকতে সাহায্য করে।

কোমল চেহারা, কঠিন পরিবেশে টিকে থাকা

গেরিঙ্গার মনে করেন, একটি এত কোমল চেহারার প্রাণী যে এত কঠিন পরিবেশে বেঁচে থাকতে পারে, সেটিই আসলে সবচেয়ে আকর্ষণীয় দিক। তার মতে, এসব স্নেইলফিশ দেখায় প্রকৃতির অভিযোজন ক্ষমতা কতটা বিস্ময়কর এবং রোমাঞ্চকর হতে পারে।

জনপ্রিয় সংবাদ

স্কুলে সহিংসতা ঠেকাতে আগে বদলাতে হবে আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি

গভীর সমুদ্রের নতুন অতিথি, দানব নয় এক কোমল প্রাণী

০৪:০০:২০ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৫

গভীর সমুদ্রের জীবনের লড়াই

সমুদ্রের অতল গহ্বরে টিকে থাকতে প্রাণীদের প্রয়োজন হয় বিশেষ অভিযোজনের। এদের দেহ জেলির মতো নরম, যাতে ভয়াবহ চাপ সহ্য করা যায়। আলো তৈরি করার ক্ষমতা (বায়োলুমিনেসেন্স) তাদের পথ দেখায়, আর স্বচ্ছ বর্ণ তাদের অন্ধকারে অদৃশ্য হয়ে থাকতে সাহায্য করে। এসব মিলিয়ে গভীর সমুদ্রের প্রাণীগুলো প্রায়ই ভিনগ্রহের জীবের মতো দেখতে লাগে।

নতুন প্রজাতি: বাম্পি স্নেইলফিশ

তবে সম্প্রতি আবিষ্কৃত গভীর সমুদ্রের মাছ ‘বাম্পি স্নেইলফিশ’ দেখিয়ে দিয়েছে যে অতল জগতের সব প্রাণীই ভীতিকর নয়। মার্কিন সামুদ্রিক জীববিজ্ঞানী ম্যাকেনজি গেরিঙ্গার বলেন, “এটা বেশ আদুরে,” যা গভীর সমুদ্রের প্রাণীদের ‘দানব’ বলে প্রচলিত ধারণার বিপরীত।

ক্যালিফোর্নিয়া উপকূলে অভিযানের সাফল্য

মনটেরে বে অ্যাকুয়ারিয়াম রিসার্চ ইনস্টিটিউটের নেতৃত্বে পরিচালিত এক অভিযানে ক্যালিফোর্নিয়ার উপকূল থেকে ১০ হাজার ফুট (প্রায় ৩ হাজার মিটার) গভীর সমুদ্র থেকে তিনটি নতুন স্নেইলফিশ প্রজাতি পাওয়া গেছে। এদের মধ্যে অন্যতম হলো বাম্পি স্নেইলফিশ। গেরিঙ্গার ও তার গবেষণা দল এসব নমুনা পরীক্ষা করে ফলাফল প্রকাশ করেছেন বৈজ্ঞানিক সাময়িকী ‘ইকথিওলজি অ্যান্ড হারপেটোলজি’–এ।

গভীর সমুদ্র: পৃথিবীর সবচেয়ে বড় আবাসভূমি

গভীর সমুদ্র পৃথিবীর সবচেয়ে বড় আবাসভূমি, যা সমুদ্রতলের ৮০ শতাংশেরও বেশি অংশ জুড়ে বিস্তৃত এবং সমুদ্রের বাকি অংশের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত। স্নেইলফিশ বা লিপারিড মাছ লবণাক্ত পানির ছোট প্রজাতি, যাদের পাওয়া যায় জোয়ারভাটা অঞ্চলের অগভীর জলে থেকে শুরু করে গভীর অতল গহ্বর পর্যন্ত। এর মধ্যে মারিয়ানা স্নেইলফিশ সবচেয়ে গভীরে বসবাসকারী মাছ হিসেবে রেকর্ড গড়েছে—যা সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ২৭ হাজার ফুট নিচে মারিয়ানা ট্রেঞ্চে বেঁচে থাকে।

স্নেইলফিশ পরিবারের বৈশিষ্ট্য

স্নেইলফিশ পরিবারে প্রায় ৪৫০টি প্রজাতি আছে, যাদের অনেকগুলোই গত দুই দশকে আবিষ্কৃত হয়েছে। এদের বিশেষ বৈশিষ্ট্যের মধ্যে রয়েছে আঁশবিহীন দেহ এবং পেটের অংশে থাকা একটি চাকতির মতো অঙ্গ, যা অগভীর জলের স্নেইলফিশকে পাথর কিংবা বড় মাছের গায়ে আটকে থাকতে সাহায্য করে।

কোমল চেহারা, কঠিন পরিবেশে টিকে থাকা

গেরিঙ্গার মনে করেন, একটি এত কোমল চেহারার প্রাণী যে এত কঠিন পরিবেশে বেঁচে থাকতে পারে, সেটিই আসলে সবচেয়ে আকর্ষণীয় দিক। তার মতে, এসব স্নেইলফিশ দেখায় প্রকৃতির অভিযোজন ক্ষমতা কতটা বিস্ময়কর এবং রোমাঞ্চকর হতে পারে।