০৭:০৫ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
স্কুলে সহিংসতা ঠেকাতে আগে বদলাতে হবে আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি জেন জি-র ‘ফ্রেন্ডস’ বানানোর চেষ্টা চলছে, কিন্তু কেন তা অসম্ভব সঙ্কুচিত পোশাক কি নষ্ট না করেই আগের মাপে ফেরানো সম্ভব? ডায়মন্ড লিগের ফাইনালে তৃতীয় অ্যামি হান্ট, দুর্দান্ত ছন্দে ছুটছেন ব্রিটিশ তারকা মারাঠি না জানলে ঝুঁকিতে লাইসেন্স, মহারাষ্ট্রে ট্যাক্সি ও অটোরিকশাচালকদের মিলল আরও এক বছর বয়স বাড়লেই জীবন থেমে যায় না, বরং আসে নিজের মতো বাঁচার স্বাধীনতা: প্রু লেইথ দাঁতের চিকিৎসকের কাছে যাওয়ার পথে বজ্রপাতে আহত, ‘ভয়াবহ’ অভিজ্ঞতার কথা জানালেন নিউইয়র্কের যুবক পেন্টাগনের নিয়ন্ত্রণ কি হারাচ্ছেন পিট হেগসেথ? আফ্রিকার প্রকৃত আয়তন তুলে ধরা মানচিত্রের পক্ষে জাতিসংঘের ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত সন্তান হত্যার মামলায় রায় হয়নি, লিন্ডসে ক্ল্যান্সিকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে তীব্র বিতর্ক

গাজায় শান্তির নতুন জানালা, নাকি আরেকটি অপূর্ণ প্রতিশ্রুতি?

ধ্বংসস্তূপের ভেতর থেকে উঠছে শান্তির এক নতুন প্রশ্ন

বহু মাসের রক্তক্ষয়, অসংখ্য প্রাণহানি এবং সীমাহীন মানবিক বিপর্যয়ের পর আবারও গাজাকে ঘিরে শান্তির সম্ভাবনার একটি নতুন আলোচনা সামনে এসেছে। আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে হামাসের সম্ভাব্য নিরস্ত্রীকরণ এবং এর বিনিময়ে গাজার দখলকৃত অংশ থেকে ইসরায়েলি বাহিনীর ধাপে ধাপে সরে যাওয়ার ধারণা।

এটি এখনো কোনো চূড়ান্ত চুক্তি নয়। বরং এমন একটি কূটনৈতিক প্রক্রিয়ার সূচনা, যা সফল হলে দীর্ঘদিনের সংঘাত নিরসনের পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হতে পারে। তবে ব্যর্থ হলে মধ্যপ্রাচ্যের এই সংকট আরও জটিল রূপ নিতে পারে বলেও আশঙ্কা করছেন বিশ্লেষকেরা।

যুদ্ধের ক্ষত এখনো তাজা

গাজার বিস্তীর্ণ এলাকা আজ ধ্বংসস্তূপে পরিণত। হাজারো ভবন ভেঙে পড়েছে, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যব্যবস্থা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। লাখো মানুষ এখনো বাস্তুচ্যুত, অনেকে পর্যাপ্ত খাদ্য, বিশুদ্ধ পানি কিংবা চিকিৎসাসেবার নাগাল পাচ্ছেন না।

প্রতিদিনের জীবন সেখানে বেঁচে থাকার সংগ্রামে সীমাবদ্ধ হয়ে পড়েছে। বহু পরিবার তাদের স্বজন, ঘরবাড়ি এবং জীবিকার উৎস হারিয়ে অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছে। মানবিক সংকট যত দীর্ঘ হচ্ছে, ততই আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের ওপর সমাধানের পথ খুঁজে বের করার চাপ বাড়ছে।

নিরস্ত্রীকরণ পরিকল্পনার মূল ধারণা

আলোচনায় যে কাঠামোটি নিয়ে কথা হচ্ছে, তার ভিত্তি একটি পারস্পরিক সমঝোতা। ধারণাটি হলো—হামাস ধাপে ধাপে অস্ত্র ত্যাগ করলে ইসরায়েলও গাজার নির্দিষ্ট দখলকৃত এলাকা থেকে সেনা প্রত্যাহারের পথে এগোবে।

কাগজে-কলমে এই প্রস্তাব তুলনামূলক সহজ মনে হলেও বাস্তবে এটি বাস্তবায়ন করা অত্যন্ত কঠিন। কারণ উভয় পক্ষের মধ্যে দীর্ঘদিনের অবিশ্বাস, নিরাপত্তা-সংক্রান্ত উদ্বেগ এবং যুদ্ধের স্মৃতি এখনো অত্যন্ত গভীর।

অবিশ্বাসই সবচেয়ে বড় বাধা

ইসরায়েলের বড় একটি অংশের বিশ্বাস, হামাস পুরোপুরি নিরস্ত্রীকরণ না হলে ভবিষ্যতে আবারও নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়তে পারে দেশটি।

অন্যদিকে বহু ফিলিস্তিনির আশঙ্কা, যদি নিরস্ত্রীকরণের প্রতিশ্রুতির পরও সেনা প্রত্যাহার সম্পূর্ণ না হয়, তাহলে তারা আরও দুর্বল অবস্থায় পড়বেন। ফলে উভয় পক্ষই আগে অপর পক্ষের বাস্তব পদক্ষেপ দেখতে চায়।

এই পারস্পরিক অনাস্থাই শান্তি উদ্যোগের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

রাজনীতিও সমীকরণ বদলে দিতে পারে

শান্তি আলোচনা কখনোই কেবল যুদ্ধক্ষেত্রের বাস্তবতায় সীমাবদ্ধ থাকে না। অভ্যন্তরীণ রাজনীতিও এতে বড় ভূমিকা রাখে।

ইসরায়েলের আসন্ন নির্বাচন, সরকারের রাজনৈতিক অবস্থান এবং আন্তর্জাতিক মিত্রদের সঙ্গে সম্পর্ক—সবকিছুই আলোচনার গতিপথকে প্রভাবিত করতে পারে। একইভাবে যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক পরিবেশও মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক কূটনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে।

বিশ্লেষকদের মতে, রাজনৈতিক নেতৃত্বের সিদ্ধান্ত অনেক সময় যুদ্ধক্ষেত্রের বাস্তবতার চেয়েও বড় প্রভাব ফেলে।

Board of Peace envoy says stalled ceasefire hinges on disarmament of Hamas  | CBC News

হামাসের সামনেও কঠিন বাস্তবতা

দীর্ঘ সংঘাতে হামাসের সামরিক ও সাংগঠনিক সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সংগঠনটির সামনে এখন একদিকে সামরিক চাপ, অন্যদিকে গাজার সাধারণ মানুষের ক্রমবর্ধমান দুর্ভোগ।

এই পরিস্থিতিতে কূটনৈতিক সমাধানের প্রতি কিছুটা নমনীয়তা দেখানোর পেছনে বাস্তব পরিস্থিতির প্রভাব থাকতে পারে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকেরা।

তবে সংগঠনটির অভ্যন্তরে এবং সমর্থকদের মধ্যেও ভবিষ্যৎ কৌশল নিয়ে নানা ধরনের মতপার্থক্য থাকতে পারে।

শুধু অস্ত্র জমা দিলেই শান্তি আসবে না

বিশেষজ্ঞদের মতে, কেবল নিরস্ত্রীকরণ বা সেনা প্রত্যাহারই দীর্ঘমেয়াদি শান্তির নিশ্চয়তা দিতে পারবে না।

গাজার পুনর্গঠন, বাস্তুচ্যুত মানুষের পুনর্বাসন, নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার এবং ফিলিস্তিনিদের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে গ্রহণযোগ্য সমাধান ছাড়া স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠা কঠিন হবে।

সংঘাতের মূল কারণগুলো অমীমাংসিত থাকলে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা থেকেই যাবে।

পশ্চিম তীরের পরিস্থিতিও উদ্বেগ বাড়াচ্ছে

গাজার আলোচনার পাশাপাশি পশ্চিম তীরের উত্তেজনাও আন্তর্জাতিক কূটনীতির জন্য বড় উদ্বেগের বিষয়।

সেখানে সহিংসতা বৃদ্ধি পেলে গাজায় শুরু হওয়া যেকোনো ইতিবাচক উদ্যোগ দ্রুত বাধাগ্রস্ত হতে পারে। ফলে আলোচনার পাশাপাশি পুরো ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডের নিরাপত্তা পরিস্থিতিকেও সমান গুরুত্ব দিয়ে দেখতে হবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।

শান্তির পথ দীর্ঘ, তবু আশার আলো নিভে যায়নি

মধ্যপ্রাচ্যের ইতিহাসে বহু শান্তি উদ্যোগ শুরু হয়েছে, আবার অনেক উদ্যোগ পথেই থেমে গেছে। তাই নতুন এই প্রচেষ্টার সাফল্য নিয়ে এখনই নিশ্চিত হওয়ার সুযোগ নেই।

তবু যুদ্ধের ক্লান্ত মানুষ, ধ্বংসস্তূপে দাঁড়িয়ে নতুন জীবন খুঁজতে থাকা পরিবার এবং ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বিগ্ন একটি প্রজন্মের জন্য যেকোনো বাস্তবসম্মত শান্তি উদ্যোগই গুরুত্বপূর্ণ।

এই আলোচনা শেষ পর্যন্ত সফল হবে কি না, তা নির্ভর করবে রাজনৈতিক সদিচ্ছা, পারস্পরিক আস্থা এবং দীর্ঘমেয়াদি কূটনৈতিক প্রচেষ্টার ওপর। তবে একটি বিষয় স্পষ্ট—গাজার মানুষ এখন সবচেয়ে বেশি অপেক্ষা করছেন যুদ্ধ নয়, শান্তির জন্য।

জনপ্রিয় সংবাদ

স্কুলে সহিংসতা ঠেকাতে আগে বদলাতে হবে আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি

গাজায় শান্তির নতুন জানালা, নাকি আরেকটি অপূর্ণ প্রতিশ্রুতি?

০৪:২৩:৫৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ১ অগাস্ট ২০২৬

ধ্বংসস্তূপের ভেতর থেকে উঠছে শান্তির এক নতুন প্রশ্ন

বহু মাসের রক্তক্ষয়, অসংখ্য প্রাণহানি এবং সীমাহীন মানবিক বিপর্যয়ের পর আবারও গাজাকে ঘিরে শান্তির সম্ভাবনার একটি নতুন আলোচনা সামনে এসেছে। আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে হামাসের সম্ভাব্য নিরস্ত্রীকরণ এবং এর বিনিময়ে গাজার দখলকৃত অংশ থেকে ইসরায়েলি বাহিনীর ধাপে ধাপে সরে যাওয়ার ধারণা।

এটি এখনো কোনো চূড়ান্ত চুক্তি নয়। বরং এমন একটি কূটনৈতিক প্রক্রিয়ার সূচনা, যা সফল হলে দীর্ঘদিনের সংঘাত নিরসনের পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হতে পারে। তবে ব্যর্থ হলে মধ্যপ্রাচ্যের এই সংকট আরও জটিল রূপ নিতে পারে বলেও আশঙ্কা করছেন বিশ্লেষকেরা।

যুদ্ধের ক্ষত এখনো তাজা

গাজার বিস্তীর্ণ এলাকা আজ ধ্বংসস্তূপে পরিণত। হাজারো ভবন ভেঙে পড়েছে, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যব্যবস্থা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। লাখো মানুষ এখনো বাস্তুচ্যুত, অনেকে পর্যাপ্ত খাদ্য, বিশুদ্ধ পানি কিংবা চিকিৎসাসেবার নাগাল পাচ্ছেন না।

প্রতিদিনের জীবন সেখানে বেঁচে থাকার সংগ্রামে সীমাবদ্ধ হয়ে পড়েছে। বহু পরিবার তাদের স্বজন, ঘরবাড়ি এবং জীবিকার উৎস হারিয়ে অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছে। মানবিক সংকট যত দীর্ঘ হচ্ছে, ততই আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের ওপর সমাধানের পথ খুঁজে বের করার চাপ বাড়ছে।

নিরস্ত্রীকরণ পরিকল্পনার মূল ধারণা

আলোচনায় যে কাঠামোটি নিয়ে কথা হচ্ছে, তার ভিত্তি একটি পারস্পরিক সমঝোতা। ধারণাটি হলো—হামাস ধাপে ধাপে অস্ত্র ত্যাগ করলে ইসরায়েলও গাজার নির্দিষ্ট দখলকৃত এলাকা থেকে সেনা প্রত্যাহারের পথে এগোবে।

কাগজে-কলমে এই প্রস্তাব তুলনামূলক সহজ মনে হলেও বাস্তবে এটি বাস্তবায়ন করা অত্যন্ত কঠিন। কারণ উভয় পক্ষের মধ্যে দীর্ঘদিনের অবিশ্বাস, নিরাপত্তা-সংক্রান্ত উদ্বেগ এবং যুদ্ধের স্মৃতি এখনো অত্যন্ত গভীর।

অবিশ্বাসই সবচেয়ে বড় বাধা

ইসরায়েলের বড় একটি অংশের বিশ্বাস, হামাস পুরোপুরি নিরস্ত্রীকরণ না হলে ভবিষ্যতে আবারও নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়তে পারে দেশটি।

অন্যদিকে বহু ফিলিস্তিনির আশঙ্কা, যদি নিরস্ত্রীকরণের প্রতিশ্রুতির পরও সেনা প্রত্যাহার সম্পূর্ণ না হয়, তাহলে তারা আরও দুর্বল অবস্থায় পড়বেন। ফলে উভয় পক্ষই আগে অপর পক্ষের বাস্তব পদক্ষেপ দেখতে চায়।

এই পারস্পরিক অনাস্থাই শান্তি উদ্যোগের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

রাজনীতিও সমীকরণ বদলে দিতে পারে

শান্তি আলোচনা কখনোই কেবল যুদ্ধক্ষেত্রের বাস্তবতায় সীমাবদ্ধ থাকে না। অভ্যন্তরীণ রাজনীতিও এতে বড় ভূমিকা রাখে।

ইসরায়েলের আসন্ন নির্বাচন, সরকারের রাজনৈতিক অবস্থান এবং আন্তর্জাতিক মিত্রদের সঙ্গে সম্পর্ক—সবকিছুই আলোচনার গতিপথকে প্রভাবিত করতে পারে। একইভাবে যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক পরিবেশও মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক কূটনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে।

বিশ্লেষকদের মতে, রাজনৈতিক নেতৃত্বের সিদ্ধান্ত অনেক সময় যুদ্ধক্ষেত্রের বাস্তবতার চেয়েও বড় প্রভাব ফেলে।

Board of Peace envoy says stalled ceasefire hinges on disarmament of Hamas  | CBC News

হামাসের সামনেও কঠিন বাস্তবতা

দীর্ঘ সংঘাতে হামাসের সামরিক ও সাংগঠনিক সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সংগঠনটির সামনে এখন একদিকে সামরিক চাপ, অন্যদিকে গাজার সাধারণ মানুষের ক্রমবর্ধমান দুর্ভোগ।

এই পরিস্থিতিতে কূটনৈতিক সমাধানের প্রতি কিছুটা নমনীয়তা দেখানোর পেছনে বাস্তব পরিস্থিতির প্রভাব থাকতে পারে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকেরা।

তবে সংগঠনটির অভ্যন্তরে এবং সমর্থকদের মধ্যেও ভবিষ্যৎ কৌশল নিয়ে নানা ধরনের মতপার্থক্য থাকতে পারে।

শুধু অস্ত্র জমা দিলেই শান্তি আসবে না

বিশেষজ্ঞদের মতে, কেবল নিরস্ত্রীকরণ বা সেনা প্রত্যাহারই দীর্ঘমেয়াদি শান্তির নিশ্চয়তা দিতে পারবে না।

গাজার পুনর্গঠন, বাস্তুচ্যুত মানুষের পুনর্বাসন, নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার এবং ফিলিস্তিনিদের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে গ্রহণযোগ্য সমাধান ছাড়া স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠা কঠিন হবে।

সংঘাতের মূল কারণগুলো অমীমাংসিত থাকলে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা থেকেই যাবে।

পশ্চিম তীরের পরিস্থিতিও উদ্বেগ বাড়াচ্ছে

গাজার আলোচনার পাশাপাশি পশ্চিম তীরের উত্তেজনাও আন্তর্জাতিক কূটনীতির জন্য বড় উদ্বেগের বিষয়।

সেখানে সহিংসতা বৃদ্ধি পেলে গাজায় শুরু হওয়া যেকোনো ইতিবাচক উদ্যোগ দ্রুত বাধাগ্রস্ত হতে পারে। ফলে আলোচনার পাশাপাশি পুরো ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডের নিরাপত্তা পরিস্থিতিকেও সমান গুরুত্ব দিয়ে দেখতে হবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।

শান্তির পথ দীর্ঘ, তবু আশার আলো নিভে যায়নি

মধ্যপ্রাচ্যের ইতিহাসে বহু শান্তি উদ্যোগ শুরু হয়েছে, আবার অনেক উদ্যোগ পথেই থেমে গেছে। তাই নতুন এই প্রচেষ্টার সাফল্য নিয়ে এখনই নিশ্চিত হওয়ার সুযোগ নেই।

তবু যুদ্ধের ক্লান্ত মানুষ, ধ্বংসস্তূপে দাঁড়িয়ে নতুন জীবন খুঁজতে থাকা পরিবার এবং ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বিগ্ন একটি প্রজন্মের জন্য যেকোনো বাস্তবসম্মত শান্তি উদ্যোগই গুরুত্বপূর্ণ।

এই আলোচনা শেষ পর্যন্ত সফল হবে কি না, তা নির্ভর করবে রাজনৈতিক সদিচ্ছা, পারস্পরিক আস্থা এবং দীর্ঘমেয়াদি কূটনৈতিক প্রচেষ্টার ওপর। তবে একটি বিষয় স্পষ্ট—গাজার মানুষ এখন সবচেয়ে বেশি অপেক্ষা করছেন যুদ্ধ নয়, শান্তির জন্য।