০৮:৪৬ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
স্কুলে সহিংসতা ঠেকাতে আগে বদলাতে হবে আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি জেন জি-র ‘ফ্রেন্ডস’ বানানোর চেষ্টা চলছে, কিন্তু কেন তা অসম্ভব সঙ্কুচিত পোশাক কি নষ্ট না করেই আগের মাপে ফেরানো সম্ভব? ডায়মন্ড লিগের ফাইনালে তৃতীয় অ্যামি হান্ট, দুর্দান্ত ছন্দে ছুটছেন ব্রিটিশ তারকা মারাঠি না জানলে ঝুঁকিতে লাইসেন্স, মহারাষ্ট্রে ট্যাক্সি ও অটোরিকশাচালকদের মিলল আরও এক বছর বয়স বাড়লেই জীবন থেমে যায় না, বরং আসে নিজের মতো বাঁচার স্বাধীনতা: প্রু লেইথ দাঁতের চিকিৎসকের কাছে যাওয়ার পথে বজ্রপাতে আহত, ‘ভয়াবহ’ অভিজ্ঞতার কথা জানালেন নিউইয়র্কের যুবক পেন্টাগনের নিয়ন্ত্রণ কি হারাচ্ছেন পিট হেগসেথ? আফ্রিকার প্রকৃত আয়তন তুলে ধরা মানচিত্রের পক্ষে জাতিসংঘের ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত সন্তান হত্যার মামলায় রায় হয়নি, লিন্ডসে ক্ল্যান্সিকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে তীব্র বিতর্ক

গ্যাস-বিদ্যুৎ বিল কিস্তিতে পরিশোধের সুযোগ চাইল পোশাক রপ্তানিকারকরা

গ্যাস ও বিদ্যুতের তীব্র সংকটে কারখানার উৎপাদন ব্যাহত হওয়ায় জুলাই ও আগস্ট মাসের গ্যাস-বিদ্যুৎ বিল একসঙ্গে পরিশোধের পরিবর্তে ১২টি সমান মাসিক কিস্তিতে পরিশোধের সুযোগ চেয়েছে বাংলাদেশ নিটওয়্যার প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতি।

সংগঠনটির সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম গত ৯ আগস্ট বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদের কাছে চিঠি দিয়ে এ বিষয়ে দ্রুত হস্তক্ষেপ এবং প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়ার অনুরোধ জানান। শনিবার তিনি বিষয়টি সাংবাদিকদের জানান।

জ্বালানি সংকটে উৎপাদনে ধস

চিঠিতে বলা হয়েছে, জুলাই ও আগস্ট মাসে তীব্র জ্বালানি সংকটের কারণে দেশের অধিকাংশ শিল্পকারখানার উৎপাদন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে। বিশেষ করে খোলা সিলিন্ডার কিংবা ক্যাসকেড সিলিন্ডারের মাধ্যমে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ থাকায় অনেক কারখানা স্বাভাবিক উৎপাদন চালিয়ে যেতে পারেনি।

উৎপাদন পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা, রপ্তানি আদেশ হারানোর ঝুঁকি এবং শ্রমিকদের কর্মসংস্থান নিয়ে অনিশ্চয়তার মধ্যে অনেক কারখানা মালিক বিকল্প জ্বালানি হিসেবে ডিজেল ও এলপিজি কিনতে বাধ্য হয়েছেন। এসব জ্বালানি কিনতে তাৎক্ষণিক নগদ অর্থ ব্যয় করতে হয়েছে।

বাড়তি ব্যয়ে চাপে কারখানা

পোশাকশিল্পের সংগঠনটি জানিয়েছে, বিকল্প জ্বালানি ব্যবহারের এই অতিরিক্ত ব্যয় কারখানাগুলোর পূর্বনির্ধারিত উৎপাদন ব্যয়ের মধ্যে ছিল না। ফলে একদিকে জ্বালানি সংকটে উৎপাদনের পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে, অন্যদিকে উৎপাদন ব্যয় বেড়েছে।

এ অবস্থায় জুলাই ও আগস্ট মাসের জমে থাকা গ্যাস ও বিদ্যুৎ বিল এককালীন পরিশোধ করা শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়েছে। একসঙ্গে বড় অঙ্কের অর্থ পরিশোধ করতে গেলে কারখানাগুলোর চলতি মূলধনের ওপর আরও চাপ তৈরি হবে বলে মনে করছে সংগঠনটি।

কর্মসংস্থান ও রপ্তানি ধরে রাখার তাগিদ

সংগঠনটির মতে, বিল পরিশোধের জন্য বাড়তি সময় এবং কিস্তির সুযোগ দেওয়া হলে কারখানাগুলোর ওপর তৈরি হওয়া আর্থিক চাপ কিছুটা কমবে। এতে উৎপাদন কার্যক্রম চালু রাখা, রপ্তানি কার্যক্রম অব্যাহত রাখা এবং শ্রমিকদের কর্মসংস্থান সুরক্ষা করা সহজ হবে।

মোহাম্মদ হাতেম চিঠিতে জোর দিয়ে বলেছেন, জুলাই ও আগস্টের গ্যাস-বিদ্যুৎ বিল ১২ মাসে কিস্তিতে পরিশোধের সুযোগ দেওয়া এখন রপ্তানি কার্যক্রম সচল রাখা, বৈদেশিক মুদ্রা আয় বজায় রাখা এবং বিপুলসংখ্যক শ্রমিকের কর্মসংস্থান রক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

চিঠির অনুলিপি জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের সচিব, পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যান, তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন, ঢাকা পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি, বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড এবং ঢাকা ইলেকট্রিসিটি সাপ্লাই কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালকদের কাছেও পাঠানো হয়েছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

স্কুলে সহিংসতা ঠেকাতে আগে বদলাতে হবে আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি

গ্যাস-বিদ্যুৎ বিল কিস্তিতে পরিশোধের সুযোগ চাইল পোশাক রপ্তানিকারকরা

০৭:২০:২৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৫ অগাস্ট ২০২৬

গ্যাস ও বিদ্যুতের তীব্র সংকটে কারখানার উৎপাদন ব্যাহত হওয়ায় জুলাই ও আগস্ট মাসের গ্যাস-বিদ্যুৎ বিল একসঙ্গে পরিশোধের পরিবর্তে ১২টি সমান মাসিক কিস্তিতে পরিশোধের সুযোগ চেয়েছে বাংলাদেশ নিটওয়্যার প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতি।

সংগঠনটির সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম গত ৯ আগস্ট বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদের কাছে চিঠি দিয়ে এ বিষয়ে দ্রুত হস্তক্ষেপ এবং প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়ার অনুরোধ জানান। শনিবার তিনি বিষয়টি সাংবাদিকদের জানান।

জ্বালানি সংকটে উৎপাদনে ধস

চিঠিতে বলা হয়েছে, জুলাই ও আগস্ট মাসে তীব্র জ্বালানি সংকটের কারণে দেশের অধিকাংশ শিল্পকারখানার উৎপাদন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে। বিশেষ করে খোলা সিলিন্ডার কিংবা ক্যাসকেড সিলিন্ডারের মাধ্যমে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ থাকায় অনেক কারখানা স্বাভাবিক উৎপাদন চালিয়ে যেতে পারেনি।

উৎপাদন পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা, রপ্তানি আদেশ হারানোর ঝুঁকি এবং শ্রমিকদের কর্মসংস্থান নিয়ে অনিশ্চয়তার মধ্যে অনেক কারখানা মালিক বিকল্প জ্বালানি হিসেবে ডিজেল ও এলপিজি কিনতে বাধ্য হয়েছেন। এসব জ্বালানি কিনতে তাৎক্ষণিক নগদ অর্থ ব্যয় করতে হয়েছে।

বাড়তি ব্যয়ে চাপে কারখানা

পোশাকশিল্পের সংগঠনটি জানিয়েছে, বিকল্প জ্বালানি ব্যবহারের এই অতিরিক্ত ব্যয় কারখানাগুলোর পূর্বনির্ধারিত উৎপাদন ব্যয়ের মধ্যে ছিল না। ফলে একদিকে জ্বালানি সংকটে উৎপাদনের পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে, অন্যদিকে উৎপাদন ব্যয় বেড়েছে।

এ অবস্থায় জুলাই ও আগস্ট মাসের জমে থাকা গ্যাস ও বিদ্যুৎ বিল এককালীন পরিশোধ করা শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়েছে। একসঙ্গে বড় অঙ্কের অর্থ পরিশোধ করতে গেলে কারখানাগুলোর চলতি মূলধনের ওপর আরও চাপ তৈরি হবে বলে মনে করছে সংগঠনটি।

কর্মসংস্থান ও রপ্তানি ধরে রাখার তাগিদ

সংগঠনটির মতে, বিল পরিশোধের জন্য বাড়তি সময় এবং কিস্তির সুযোগ দেওয়া হলে কারখানাগুলোর ওপর তৈরি হওয়া আর্থিক চাপ কিছুটা কমবে। এতে উৎপাদন কার্যক্রম চালু রাখা, রপ্তানি কার্যক্রম অব্যাহত রাখা এবং শ্রমিকদের কর্মসংস্থান সুরক্ষা করা সহজ হবে।

মোহাম্মদ হাতেম চিঠিতে জোর দিয়ে বলেছেন, জুলাই ও আগস্টের গ্যাস-বিদ্যুৎ বিল ১২ মাসে কিস্তিতে পরিশোধের সুযোগ দেওয়া এখন রপ্তানি কার্যক্রম সচল রাখা, বৈদেশিক মুদ্রা আয় বজায় রাখা এবং বিপুলসংখ্যক শ্রমিকের কর্মসংস্থান রক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

চিঠির অনুলিপি জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের সচিব, পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যান, তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন, ঢাকা পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি, বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড এবং ঢাকা ইলেকট্রিসিটি সাপ্লাই কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালকদের কাছেও পাঠানো হয়েছে।