০৫:৩৭ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
স্কুলে সহিংসতা ঠেকাতে আগে বদলাতে হবে আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি জেন জি-র ‘ফ্রেন্ডস’ বানানোর চেষ্টা চলছে, কিন্তু কেন তা অসম্ভব সঙ্কুচিত পোশাক কি নষ্ট না করেই আগের মাপে ফেরানো সম্ভব? ডায়মন্ড লিগের ফাইনালে তৃতীয় অ্যামি হান্ট, দুর্দান্ত ছন্দে ছুটছেন ব্রিটিশ তারকা মারাঠি না জানলে ঝুঁকিতে লাইসেন্স, মহারাষ্ট্রে ট্যাক্সি ও অটোরিকশাচালকদের মিলল আরও এক বছর বয়স বাড়লেই জীবন থেমে যায় না, বরং আসে নিজের মতো বাঁচার স্বাধীনতা: প্রু লেইথ দাঁতের চিকিৎসকের কাছে যাওয়ার পথে বজ্রপাতে আহত, ‘ভয়াবহ’ অভিজ্ঞতার কথা জানালেন নিউইয়র্কের যুবক পেন্টাগনের নিয়ন্ত্রণ কি হারাচ্ছেন পিট হেগসেথ? আফ্রিকার প্রকৃত আয়তন তুলে ধরা মানচিত্রের পক্ষে জাতিসংঘের ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত সন্তান হত্যার মামলায় রায় হয়নি, লিন্ডসে ক্ল্যান্সিকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে তীব্র বিতর্ক

ঘরোয়া টোটকা হিসেবে আদা

  • Sarakhon Report
  • ০৬:৩৩:৫২ অপরাহ্ন, বুধবার, ১১ ডিসেম্বর ২০২৪
  • 161

বিভিন্ন গবেষণায় ঘরোয়া টোটকা হিসেবে আদার গুণের কথা জানা গেছে৷ বিশেষ করে ক্লান্তি ও বমি বমি ভাব দূর করতে এটি বেশ উপকারী৷

তবে যাদের পেট সংবেদনশীল এবং যাদের বুক জ্বালাপোড়া সমস্যা আছে তাদের আদা খাওয়ার পরিমাণ সম্পর্কে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেন চিকিৎসকেরা৷

জার্মান চিকিৎসক ইয়স্ট লাঙহর্স্ট ও তার দল বিভিন্ন রোগের চিকিৎসায় আদা ব্যবহার করেন৷ ‘‘আমাদের ইন্টিগ্রেটিভ মেডিসিন এবং নেচারোপ্যাথি ক্লিনিকে আদার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা আছে৷ প্রতিদিন এটা নানান কাজে ব্যবহার করা হয়, যেমন, শরীরে মাখার পাউডার হিসেবে, কিংবা ক্ষুধা কমে যাওয়া, বদহজম বা বমি বমি ভাব, এসব অসুখের বিরুদ্ধে লড়তে চা হিসেবে৷ এছাড়া আদার ক্যাপসুলও আছে,” জানান তিনি৷

আদার মধ্যে অনেক সেসকোয়াই-তারপিন তেল আছে৷ আরও আছে জিঞ্জারওল ও শ’গেওল নামের ঝাঁঝালো উপাদান৷ ভিটামিন সি’ও আছে অনেক৷ তাই শরীরের রোগ-প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায় আদা৷

লাঙহর্স্ট বলেন, ‘‘ঝাঁঝালো উপাদান ও তেলের প্রভাব জিহবাতেই শুরু হয়৷ এছাড়া পুরো হজম প্রক্রিয়ার উপরই এটা প্রভাব ফেলে৷ যেমন ডুডেনামে, সেখানে হজমকারী এনজাইমগুলি আংশিকভাবে হজম হওয়া খাবারকে ভেঙে দেয়৷ সেখানে তারা হজমে সাহায্য করতে পারে, বমি বমি ভাবও দূর করতে পারে৷”

জার্মানির মিউনিখের লাইবনিৎস ইনস্টিটিউট ফর ফুড সিস্টেমস বায়োলজিতে ডাঃ গাবি অ্যান্ডারসন সুস্থ মানুষের রক্তে আদার প্রভাব পরীক্ষা করে দেখতে পেয়েছেন যে, আদার ঝাঁঝালো উপাদান শ্বেত রক্তকণিকাকে সতর্ক অবস্থায় রাখে৷

অ্যান্ডারসন জানান, ‘‘আমরা দেখাতে সক্ষম হয়েছি যে, রক্তকণিকায় একটি রিসেপ্টর আছে, যেটা আদাতে থাকা ঝাঁঝালো উপাদান দ্বারা সক্রিয় করা যেতে পারে৷ এছাড়া আদা রোগ-প্রতিরোধক কোষগুলিকে ব্যাকটেরিয়া সংক্রমণের বিরুদ্ধে আরও শক্তিশালীভাবে লড়তে সহায়তা করে৷”

আদা প্রতিরোধ ক্ষমতাকে শক্তিশালী করে৷ বমি বমি ভাবের চিকিৎসায় এর উপকারিতা নিয়েও অনেক গবেষণা হয়েছে৷

দিনে ৫০ গ্রাম আদা বা ৫ গ্রাম আদার গুঁড়া নিরাপদ বলে বিবেচনা করা হয়৷

চিকিৎসক লাঙহর্স্ট জানান, ‘‘কিছু মানুষের আদা’য় অ্যালার্জি হতে পারে, তবে এটা খুব বিরল৷ গর্ভাবস্থায় শুধুমাত্র চায়ে আদা দিয়ে খাওয়া উচিত৷”

ঝাঁঝালো হওয়ায় জুসে আদা মেশানোর সময় সতর্ক থাকতে হবে৷ পুষ্টিবিদ এফা-মারিয়া ডিলিৎস বলেন, ‘‘আদার আসলে কোনো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া নেই, কিন্তু যাদের পেট সংবেদনশীল এবং বুকে জ্বালাপোড়া সমস্যা আছে তাদের এটা এড়িয়ে চলা উচিত৷”

DW বাংলা

 

জনপ্রিয় সংবাদ

স্কুলে সহিংসতা ঠেকাতে আগে বদলাতে হবে আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি

ঘরোয়া টোটকা হিসেবে আদা

০৬:৩৩:৫২ অপরাহ্ন, বুধবার, ১১ ডিসেম্বর ২০২৪

বিভিন্ন গবেষণায় ঘরোয়া টোটকা হিসেবে আদার গুণের কথা জানা গেছে৷ বিশেষ করে ক্লান্তি ও বমি বমি ভাব দূর করতে এটি বেশ উপকারী৷

তবে যাদের পেট সংবেদনশীল এবং যাদের বুক জ্বালাপোড়া সমস্যা আছে তাদের আদা খাওয়ার পরিমাণ সম্পর্কে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেন চিকিৎসকেরা৷

জার্মান চিকিৎসক ইয়স্ট লাঙহর্স্ট ও তার দল বিভিন্ন রোগের চিকিৎসায় আদা ব্যবহার করেন৷ ‘‘আমাদের ইন্টিগ্রেটিভ মেডিসিন এবং নেচারোপ্যাথি ক্লিনিকে আদার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা আছে৷ প্রতিদিন এটা নানান কাজে ব্যবহার করা হয়, যেমন, শরীরে মাখার পাউডার হিসেবে, কিংবা ক্ষুধা কমে যাওয়া, বদহজম বা বমি বমি ভাব, এসব অসুখের বিরুদ্ধে লড়তে চা হিসেবে৷ এছাড়া আদার ক্যাপসুলও আছে,” জানান তিনি৷

আদার মধ্যে অনেক সেসকোয়াই-তারপিন তেল আছে৷ আরও আছে জিঞ্জারওল ও শ’গেওল নামের ঝাঁঝালো উপাদান৷ ভিটামিন সি’ও আছে অনেক৷ তাই শরীরের রোগ-প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায় আদা৷

লাঙহর্স্ট বলেন, ‘‘ঝাঁঝালো উপাদান ও তেলের প্রভাব জিহবাতেই শুরু হয়৷ এছাড়া পুরো হজম প্রক্রিয়ার উপরই এটা প্রভাব ফেলে৷ যেমন ডুডেনামে, সেখানে হজমকারী এনজাইমগুলি আংশিকভাবে হজম হওয়া খাবারকে ভেঙে দেয়৷ সেখানে তারা হজমে সাহায্য করতে পারে, বমি বমি ভাবও দূর করতে পারে৷”

জার্মানির মিউনিখের লাইবনিৎস ইনস্টিটিউট ফর ফুড সিস্টেমস বায়োলজিতে ডাঃ গাবি অ্যান্ডারসন সুস্থ মানুষের রক্তে আদার প্রভাব পরীক্ষা করে দেখতে পেয়েছেন যে, আদার ঝাঁঝালো উপাদান শ্বেত রক্তকণিকাকে সতর্ক অবস্থায় রাখে৷

অ্যান্ডারসন জানান, ‘‘আমরা দেখাতে সক্ষম হয়েছি যে, রক্তকণিকায় একটি রিসেপ্টর আছে, যেটা আদাতে থাকা ঝাঁঝালো উপাদান দ্বারা সক্রিয় করা যেতে পারে৷ এছাড়া আদা রোগ-প্রতিরোধক কোষগুলিকে ব্যাকটেরিয়া সংক্রমণের বিরুদ্ধে আরও শক্তিশালীভাবে লড়তে সহায়তা করে৷”

আদা প্রতিরোধ ক্ষমতাকে শক্তিশালী করে৷ বমি বমি ভাবের চিকিৎসায় এর উপকারিতা নিয়েও অনেক গবেষণা হয়েছে৷

দিনে ৫০ গ্রাম আদা বা ৫ গ্রাম আদার গুঁড়া নিরাপদ বলে বিবেচনা করা হয়৷

চিকিৎসক লাঙহর্স্ট জানান, ‘‘কিছু মানুষের আদা’য় অ্যালার্জি হতে পারে, তবে এটা খুব বিরল৷ গর্ভাবস্থায় শুধুমাত্র চায়ে আদা দিয়ে খাওয়া উচিত৷”

ঝাঁঝালো হওয়ায় জুসে আদা মেশানোর সময় সতর্ক থাকতে হবে৷ পুষ্টিবিদ এফা-মারিয়া ডিলিৎস বলেন, ‘‘আদার আসলে কোনো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া নেই, কিন্তু যাদের পেট সংবেদনশীল এবং বুকে জ্বালাপোড়া সমস্যা আছে তাদের এটা এড়িয়ে চলা উচিত৷”

DW বাংলা