০১:৩৩ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
স্কুলে সহিংসতা ঠেকাতে আগে বদলাতে হবে আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি জেন জি-র ‘ফ্রেন্ডস’ বানানোর চেষ্টা চলছে, কিন্তু কেন তা অসম্ভব সঙ্কুচিত পোশাক কি নষ্ট না করেই আগের মাপে ফেরানো সম্ভব? ডায়মন্ড লিগের ফাইনালে তৃতীয় অ্যামি হান্ট, দুর্দান্ত ছন্দে ছুটছেন ব্রিটিশ তারকা মারাঠি না জানলে ঝুঁকিতে লাইসেন্স, মহারাষ্ট্রে ট্যাক্সি ও অটোরিকশাচালকদের মিলল আরও এক বছর বয়স বাড়লেই জীবন থেমে যায় না, বরং আসে নিজের মতো বাঁচার স্বাধীনতা: প্রু লেইথ দাঁতের চিকিৎসকের কাছে যাওয়ার পথে বজ্রপাতে আহত, ‘ভয়াবহ’ অভিজ্ঞতার কথা জানালেন নিউইয়র্কের যুবক পেন্টাগনের নিয়ন্ত্রণ কি হারাচ্ছেন পিট হেগসেথ? আফ্রিকার প্রকৃত আয়তন তুলে ধরা মানচিত্রের পক্ষে জাতিসংঘের ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত সন্তান হত্যার মামলায় রায় হয়নি, লিন্ডসে ক্ল্যান্সিকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে তীব্র বিতর্ক

ঘৃণাবিরোধী বার্তায় ফিফার জোরালো উদ্যোগ, বিশ্বকাপের মঞ্চে ঐক্যের ডাক

ঘৃণামূলক বক্তব্য, বর্ণবাদ ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে আরও কার্যকর পদক্ষেপ নিতে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নতুন করে জোর দিচ্ছে ফুটবলের বিশ্ব নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা। ঘৃণাবিরোধী আন্তর্জাতিক দিবসকে সামনে রেখে যুক্তরাষ্ট্রের আটলান্টায় আয়োজিত এক বিশেষ আলোচনায় খেলোয়াড়, নীতিনির্ধারক, প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ ও বিভিন্ন সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিরা একত্রিত হয়ে এই বিষয়ে করণীয় নিয়ে মতবিনিময় করেন।

২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপের একটি ম্যাচের আগের দিন অনুষ্ঠিত এই আয়োজনের মূল লক্ষ্য ছিল শুধু সচেতনতা সৃষ্টি নয়, বরং ঘৃণাত্মক বক্তব্য ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে বাস্তবসম্মত ও কার্যকর সমাধান খুঁজে বের করা। আলোচনায় উঠে আসে অনলাইন ও মাঠের ভেতরে-বাইরে বিদ্বেষমূলক আচরণ মোকাবিলার নানা উপায়।

ফুটবল ঐক্যের শক্তি

আলোচনায় অংশ নিয়ে সাবেক তারকা ফুটবলার জর্জ ওয়েহ বলেন, বর্ণবাদের অভিজ্ঞতা তিনি নিজেও পেয়েছেন। তাঁর মতে, সময়ের সঙ্গে অনেক কিছু বদলালেও ঘৃণা ও বৈষম্যের সমস্যা এখনও পুরোপুরি দূর হয়নি।

তিনি বলেন, ফুটবল শুধু একটি খেলা নয়, এটি মানুষকে একত্রিত করার শক্তিশালী মাধ্যম। এই খেলাকে বিভক্তির হাতিয়ার হতে দেওয়া যাবে না। নতুন প্রজন্মকে ভালোবাসা, সহমর্মিতা ও সম্মানের শিক্ষা দিতে হবে, যাতে তারা শুধু খেলাকে নয়, মানুষকেও ভালোবাসতে শেখে।

FIFA dropping anti-racism messages a 'human rights risk' for 2026 World Cup,  say rights groups - The Athletic

অনলাইন ঘৃণার বিরুদ্ধে প্রযুক্তির ব্যবহার

আলোচনার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ছিল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ঘৃণামূলক বক্তব্য মোকাবিলা। এ ক্ষেত্রে ফিফার বিশেষ সুরক্ষা ব্যবস্থা ইতোমধ্যে বড় ভূমিকা রাখছে।

সংস্থাটির তথ্য অনুযায়ী, খেলোয়াড়, কোচ, কর্মকর্তা ও দলগুলোকে অনলাইন হয়রানি থেকে রক্ষা করতে চালু করা বিশেষ পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থার মাধ্যমে কোটি কোটি পোস্ট ও মন্তব্য পর্যালোচনা করা হয়েছে। এর মধ্যে বিপুলসংখ্যক ক্ষতিকর ও আপত্তিকর কনটেন্ট শনাক্ত করে সরিয়ে ফেলা হয়েছে।

চলমান ২০২৬ বিশ্বকাপেও এই ব্যবস্থা সক্রিয় রয়েছে। টুর্নামেন্ট শুরুর পর থেকেই লাখ লাখ পোস্ট ও মন্তব্য পরীক্ষা করে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক ক্ষতিকর কনটেন্ট অপসারণ করা হয়েছে, যা অনলাইন নিরাপত্তা জোরদারে বড় পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

সম্মিলিত দায়িত্বের ওপর গুরুত্ব

আলোচনায় অংশগ্রহণকারীরা মনে করেন, ঘৃণাত্মক বক্তব্য বন্ধ করতে শুধু ফুটবল সংস্থা বা প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান নয়, বরং খেলোয়াড়, রেফারি, স্থানীয় প্রশাসন, আয়োজক শহর এবং সমর্থক—সবার অংশগ্রহণ প্রয়োজন।

বক্তারা বলেন, খেলাধুলা মানুষের মধ্যে সংযোগ তৈরি করে। তাই এই ক্ষেত্রকে নিরাপদ ও অন্তর্ভুক্তিমূলক রাখতে হলে সমন্বিত উদ্যোগ নিতে হবে। বৈষম্য ও বিদ্বেষের বিরুদ্ধে লড়াইকে দীর্ঘমেয়াদি সামাজিক দায়িত্ব হিসেবে দেখতে হবে।

শেষে অংশগ্রহণকারীরা নিজ নিজ অবস্থান থেকে ঘৃণাবিরোধী কার্যক্রম জোরদারের অঙ্গীকার করেন। তাদের মতে, ফুটবল তখনই সত্যিকার অর্থে সবার খেলা হয়ে উঠবে, যখন মাঠের ভেতরে ও বাইরে সম্মান, সমতা এবং মানবিক মূল্যবোধ নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।

 

জনপ্রিয় সংবাদ

স্কুলে সহিংসতা ঠেকাতে আগে বদলাতে হবে আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি

ঘৃণাবিরোধী বার্তায় ফিফার জোরালো উদ্যোগ, বিশ্বকাপের মঞ্চে ঐক্যের ডাক

০৮:১১:৪৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন ২০২৬

ঘৃণামূলক বক্তব্য, বর্ণবাদ ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে আরও কার্যকর পদক্ষেপ নিতে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নতুন করে জোর দিচ্ছে ফুটবলের বিশ্ব নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা। ঘৃণাবিরোধী আন্তর্জাতিক দিবসকে সামনে রেখে যুক্তরাষ্ট্রের আটলান্টায় আয়োজিত এক বিশেষ আলোচনায় খেলোয়াড়, নীতিনির্ধারক, প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ ও বিভিন্ন সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিরা একত্রিত হয়ে এই বিষয়ে করণীয় নিয়ে মতবিনিময় করেন।

২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপের একটি ম্যাচের আগের দিন অনুষ্ঠিত এই আয়োজনের মূল লক্ষ্য ছিল শুধু সচেতনতা সৃষ্টি নয়, বরং ঘৃণাত্মক বক্তব্য ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে বাস্তবসম্মত ও কার্যকর সমাধান খুঁজে বের করা। আলোচনায় উঠে আসে অনলাইন ও মাঠের ভেতরে-বাইরে বিদ্বেষমূলক আচরণ মোকাবিলার নানা উপায়।

ফুটবল ঐক্যের শক্তি

আলোচনায় অংশ নিয়ে সাবেক তারকা ফুটবলার জর্জ ওয়েহ বলেন, বর্ণবাদের অভিজ্ঞতা তিনি নিজেও পেয়েছেন। তাঁর মতে, সময়ের সঙ্গে অনেক কিছু বদলালেও ঘৃণা ও বৈষম্যের সমস্যা এখনও পুরোপুরি দূর হয়নি।

তিনি বলেন, ফুটবল শুধু একটি খেলা নয়, এটি মানুষকে একত্রিত করার শক্তিশালী মাধ্যম। এই খেলাকে বিভক্তির হাতিয়ার হতে দেওয়া যাবে না। নতুন প্রজন্মকে ভালোবাসা, সহমর্মিতা ও সম্মানের শিক্ষা দিতে হবে, যাতে তারা শুধু খেলাকে নয়, মানুষকেও ভালোবাসতে শেখে।

FIFA dropping anti-racism messages a 'human rights risk' for 2026 World Cup,  say rights groups - The Athletic

অনলাইন ঘৃণার বিরুদ্ধে প্রযুক্তির ব্যবহার

আলোচনার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ছিল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ঘৃণামূলক বক্তব্য মোকাবিলা। এ ক্ষেত্রে ফিফার বিশেষ সুরক্ষা ব্যবস্থা ইতোমধ্যে বড় ভূমিকা রাখছে।

সংস্থাটির তথ্য অনুযায়ী, খেলোয়াড়, কোচ, কর্মকর্তা ও দলগুলোকে অনলাইন হয়রানি থেকে রক্ষা করতে চালু করা বিশেষ পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থার মাধ্যমে কোটি কোটি পোস্ট ও মন্তব্য পর্যালোচনা করা হয়েছে। এর মধ্যে বিপুলসংখ্যক ক্ষতিকর ও আপত্তিকর কনটেন্ট শনাক্ত করে সরিয়ে ফেলা হয়েছে।

চলমান ২০২৬ বিশ্বকাপেও এই ব্যবস্থা সক্রিয় রয়েছে। টুর্নামেন্ট শুরুর পর থেকেই লাখ লাখ পোস্ট ও মন্তব্য পরীক্ষা করে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক ক্ষতিকর কনটেন্ট অপসারণ করা হয়েছে, যা অনলাইন নিরাপত্তা জোরদারে বড় পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

সম্মিলিত দায়িত্বের ওপর গুরুত্ব

আলোচনায় অংশগ্রহণকারীরা মনে করেন, ঘৃণাত্মক বক্তব্য বন্ধ করতে শুধু ফুটবল সংস্থা বা প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান নয়, বরং খেলোয়াড়, রেফারি, স্থানীয় প্রশাসন, আয়োজক শহর এবং সমর্থক—সবার অংশগ্রহণ প্রয়োজন।

বক্তারা বলেন, খেলাধুলা মানুষের মধ্যে সংযোগ তৈরি করে। তাই এই ক্ষেত্রকে নিরাপদ ও অন্তর্ভুক্তিমূলক রাখতে হলে সমন্বিত উদ্যোগ নিতে হবে। বৈষম্য ও বিদ্বেষের বিরুদ্ধে লড়াইকে দীর্ঘমেয়াদি সামাজিক দায়িত্ব হিসেবে দেখতে হবে।

শেষে অংশগ্রহণকারীরা নিজ নিজ অবস্থান থেকে ঘৃণাবিরোধী কার্যক্রম জোরদারের অঙ্গীকার করেন। তাদের মতে, ফুটবল তখনই সত্যিকার অর্থে সবার খেলা হয়ে উঠবে, যখন মাঠের ভেতরে ও বাইরে সম্মান, সমতা এবং মানবিক মূল্যবোধ নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।