০৯:০৯ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
স্কুলে সহিংসতা ঠেকাতে আগে বদলাতে হবে আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি জেন জি-র ‘ফ্রেন্ডস’ বানানোর চেষ্টা চলছে, কিন্তু কেন তা অসম্ভব সঙ্কুচিত পোশাক কি নষ্ট না করেই আগের মাপে ফেরানো সম্ভব? ডায়মন্ড লিগের ফাইনালে তৃতীয় অ্যামি হান্ট, দুর্দান্ত ছন্দে ছুটছেন ব্রিটিশ তারকা মারাঠি না জানলে ঝুঁকিতে লাইসেন্স, মহারাষ্ট্রে ট্যাক্সি ও অটোরিকশাচালকদের মিলল আরও এক বছর বয়স বাড়লেই জীবন থেমে যায় না, বরং আসে নিজের মতো বাঁচার স্বাধীনতা: প্রু লেইথ দাঁতের চিকিৎসকের কাছে যাওয়ার পথে বজ্রপাতে আহত, ‘ভয়াবহ’ অভিজ্ঞতার কথা জানালেন নিউইয়র্কের যুবক পেন্টাগনের নিয়ন্ত্রণ কি হারাচ্ছেন পিট হেগসেথ? আফ্রিকার প্রকৃত আয়তন তুলে ধরা মানচিত্রের পক্ষে জাতিসংঘের ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত সন্তান হত্যার মামলায় রায় হয়নি, লিন্ডসে ক্ল্যান্সিকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে তীব্র বিতর্ক

চট্টগ্রামের আনোয়ারায় সড়কের পাশে পরিত্যক্ত অবস্থায় দুই শিশুর উদ্ধার

চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলায় গভীর রাতে সড়কের পাশে পরিত্যক্ত অবস্থায় দুই শিশুকে উদ্ধার করা হয়েছে। তীব্র শীতের মধ্যে অসহায় অবস্থায় পড়ে থাকা শিশু দুটিকে স্থানীয়দের সহায়তায় নিরাপদ আশ্রয়ে নেওয়া হয়।

ঘটনাস্থল ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা
রোববার রাতে আনোয়ারা উপজেলার বরইখান ইউনিয়নের শোলকাটা এলাকায় পিএবি সড়কের পাশে শিশু দুটিকে দেখতে পান স্থানীয়রা। তারা জানান, শীতের মধ্যে বড় বোন ছোট ভাইকে শক্ত করে জড়িয়ে ধরে বসে ছিল। পরিস্থিতি দেখে দ্রুত লোকজন সেখানে জড়ো হন।

শিশুদের পরিচয় ও বক্তব্য
উদ্ধার হওয়া বড় শিশুটির নাম আয়েশা, বয়স চার বছর। সে স্থানীয়দের জানায়, তাদের বাড়ি সাতকানিয়া উপজেলার মৌলভির দোকান এলাকায়। সোমবার দুপুরে আয়েশা জানায়, তার ছোট ভাইয়ের নাম মোরশেদ। তাদের বাবার নাম খোরশেদ আলম এবং মায়ের নাম ঝিনুক। আয়েশার দাবি, তাদের ফুফু বাবা-মায়ের কাছ থেকে এনে সড়কের পাশে রেখে যায়।

আনোয়ারায় সড়কের পাশে দুই শিশুকে রেখে পালালো পরিবার – বাংলাধারা

বর্তমান অবস্থা ও আশ্রয়
বর্তমানে শিশু দুটি হাজীগাঁও ঝিওরি গুচ্ছগ্রামের এক স্থানীয় সিএনজি চালক মহিম উদ্দিনের বাড়িতে রয়েছে। মহিম উদ্দিন জানান, সন্ধ্যার পর শীতের মধ্যে শিশু দুটিকে কাঁপতে দেখে লোকজন জড়ো হন। পরে তিনি তাদের বাড়িতে নিয়ে যান এবং স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের বিষয়টি জানান।

স্বাস্থ্যগত অবস্থা
মহিম উদ্দিনের স্ত্রী শারমিন আক্তার জানান, দুই শিশুই অসুস্থ এবং ছোট শিশুটি শারীরিক প্রতিবন্ধিতায় ভুগছে। রাতে গরম পানি দিয়ে গোসল করানো ও খাবার দেওয়ার পর তারা কিছুটা স্বাভাবিকভাবে কথা বলতে শুরু করে। তিনি ধারণা করেন, শিশুদের অসুস্থতার কারণেই স্বজনরা এমন অমানবিক কাজ করতে পারে।

প্রশাসন ও পুলিশের পদক্ষেপ
আনোয়ারা থানার উপপরিদর্শক মোমেন জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে শিশুদের ছবি ও তথ্য বিভিন্ন থানায় পাঠিয়েছে। আনোয়ারা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তাহমিনা আক্তার জানান, সমাজসেবা কার্যালয়ের মাধ্যমে শিশু দুটিকে সেফ হোমে পাঠানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এ বিষয়ে পুলিশ ও সমাজকল্যাণ বিভাগের কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

স্কুলে সহিংসতা ঠেকাতে আগে বদলাতে হবে আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি

চট্টগ্রামের আনোয়ারায় সড়কের পাশে পরিত্যক্ত অবস্থায় দুই শিশুর উদ্ধার

১১:২৬:২৬ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩০ ডিসেম্বর ২০২৫

চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলায় গভীর রাতে সড়কের পাশে পরিত্যক্ত অবস্থায় দুই শিশুকে উদ্ধার করা হয়েছে। তীব্র শীতের মধ্যে অসহায় অবস্থায় পড়ে থাকা শিশু দুটিকে স্থানীয়দের সহায়তায় নিরাপদ আশ্রয়ে নেওয়া হয়।

ঘটনাস্থল ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা
রোববার রাতে আনোয়ারা উপজেলার বরইখান ইউনিয়নের শোলকাটা এলাকায় পিএবি সড়কের পাশে শিশু দুটিকে দেখতে পান স্থানীয়রা। তারা জানান, শীতের মধ্যে বড় বোন ছোট ভাইকে শক্ত করে জড়িয়ে ধরে বসে ছিল। পরিস্থিতি দেখে দ্রুত লোকজন সেখানে জড়ো হন।

শিশুদের পরিচয় ও বক্তব্য
উদ্ধার হওয়া বড় শিশুটির নাম আয়েশা, বয়স চার বছর। সে স্থানীয়দের জানায়, তাদের বাড়ি সাতকানিয়া উপজেলার মৌলভির দোকান এলাকায়। সোমবার দুপুরে আয়েশা জানায়, তার ছোট ভাইয়ের নাম মোরশেদ। তাদের বাবার নাম খোরশেদ আলম এবং মায়ের নাম ঝিনুক। আয়েশার দাবি, তাদের ফুফু বাবা-মায়ের কাছ থেকে এনে সড়কের পাশে রেখে যায়।

আনোয়ারায় সড়কের পাশে দুই শিশুকে রেখে পালালো পরিবার – বাংলাধারা

বর্তমান অবস্থা ও আশ্রয়
বর্তমানে শিশু দুটি হাজীগাঁও ঝিওরি গুচ্ছগ্রামের এক স্থানীয় সিএনজি চালক মহিম উদ্দিনের বাড়িতে রয়েছে। মহিম উদ্দিন জানান, সন্ধ্যার পর শীতের মধ্যে শিশু দুটিকে কাঁপতে দেখে লোকজন জড়ো হন। পরে তিনি তাদের বাড়িতে নিয়ে যান এবং স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের বিষয়টি জানান।

স্বাস্থ্যগত অবস্থা
মহিম উদ্দিনের স্ত্রী শারমিন আক্তার জানান, দুই শিশুই অসুস্থ এবং ছোট শিশুটি শারীরিক প্রতিবন্ধিতায় ভুগছে। রাতে গরম পানি দিয়ে গোসল করানো ও খাবার দেওয়ার পর তারা কিছুটা স্বাভাবিকভাবে কথা বলতে শুরু করে। তিনি ধারণা করেন, শিশুদের অসুস্থতার কারণেই স্বজনরা এমন অমানবিক কাজ করতে পারে।

প্রশাসন ও পুলিশের পদক্ষেপ
আনোয়ারা থানার উপপরিদর্শক মোমেন জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে শিশুদের ছবি ও তথ্য বিভিন্ন থানায় পাঠিয়েছে। আনোয়ারা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তাহমিনা আক্তার জানান, সমাজসেবা কার্যালয়ের মাধ্যমে শিশু দুটিকে সেফ হোমে পাঠানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এ বিষয়ে পুলিশ ও সমাজকল্যাণ বিভাগের কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।