০৭:৪০ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
স্কুলে সহিংসতা ঠেকাতে আগে বদলাতে হবে আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি জেন জি-র ‘ফ্রেন্ডস’ বানানোর চেষ্টা চলছে, কিন্তু কেন তা অসম্ভব সঙ্কুচিত পোশাক কি নষ্ট না করেই আগের মাপে ফেরানো সম্ভব? ডায়মন্ড লিগের ফাইনালে তৃতীয় অ্যামি হান্ট, দুর্দান্ত ছন্দে ছুটছেন ব্রিটিশ তারকা মারাঠি না জানলে ঝুঁকিতে লাইসেন্স, মহারাষ্ট্রে ট্যাক্সি ও অটোরিকশাচালকদের মিলল আরও এক বছর বয়স বাড়লেই জীবন থেমে যায় না, বরং আসে নিজের মতো বাঁচার স্বাধীনতা: প্রু লেইথ দাঁতের চিকিৎসকের কাছে যাওয়ার পথে বজ্রপাতে আহত, ‘ভয়াবহ’ অভিজ্ঞতার কথা জানালেন নিউইয়র্কের যুবক পেন্টাগনের নিয়ন্ত্রণ কি হারাচ্ছেন পিট হেগসেথ? আফ্রিকার প্রকৃত আয়তন তুলে ধরা মানচিত্রের পক্ষে জাতিসংঘের ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত সন্তান হত্যার মামলায় রায় হয়নি, লিন্ডসে ক্ল্যান্সিকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে তীব্র বিতর্ক

চা শ্রমিকদের দৈনিক মজুরি ৫০০ টাকা করার দাবিতে সিলেট-তামাবিল মহাসড়ক অবরোধ

চা শ্রমিকদের জীবনযাত্রার ব্যয় বাড়লেও মজুরি সেই তুলনায় না বাড়ায় ক্ষোভ বাড়ছে দীর্ঘদিন ধরে। এরই মধ্যে দৈনিক মজুরি ৫০০ টাকা করার দাবিতে সিলেট-তামাবিল মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন সিলেটের চা বাগানের শ্রমিকরা।

\শনিবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে খাদিম চা বাগানে চা শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের উদ্যোগে বড় সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। পরে শ্রমিকরা প্রায় দুই ঘণ্টা কর্মবিরতি পালন করে সিলেট-তামাবিল মহাসড়কে অবস্থান নেন। এতে ওই সড়কে যান চলাচলে বিঘ্ন ঘটে।

৫০০ টাকা মজুরি চান শ্রমিকরা
সমাবেশে বক্তারা বলেন, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম যেভাবে বেড়েছে, তাতে বর্তমান মজুরিতে একটি পরিবারের স্বাভাবিক জীবনযাপন করা প্রায় অসম্ভব। বর্তমানে একজন চা শ্রমিকের দৈনিক মজুরি মাত্র ১৮৭ টাকা। এই টাকায় সংসার চালানো তো দূরের কথা, প্রয়োজনীয় খাবার ও মৌলিক চাহিদা পূরণ করাও কঠিন হয়ে পড়েছে।

শ্রমিক নেতারা অভিযোগ করেন, বছরে মাত্র ৮ টাকা করে মজুরি বাড়ানোর ব্যবস্থা বাস্তবতার সঙ্গে কোনোভাবেই সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। তাদের ভাষায়, এ ধরনের সামান্য মজুরি বৃদ্ধি শ্রমিকদের প্রতি এক ধরনের প্রহসন। তাই দেশের সব চা শ্রমিকের জন্য ন্যায্য ও মর্যাদাপূর্ণ জীবন নিশ্চিত করতে দৈনিক মজুরি ৫০০ টাকা করার দাবি জানানো হয়।

চা শ্রমিকদের ৫০০ টাকা মজুরি ও বকেয়া পরিশোধের দাবিতে মৌলভীবাজারে বিক্ষোভ

৫ শতাংশ মজুরি বৃদ্ধির প্রজ্ঞাপন বাতিলের দাবি
সমাবেশ থেকে বিতর্কিত ৫ শতাংশ মজুরি বৃদ্ধির প্রজ্ঞাপন বাতিলের দাবিও তোলা হয়। পাশাপাশি চা শ্রমিকদের জমির মালিকানা নিশ্চিত করা এবং চা শ্রমিক ইউনিয়নের নির্বাচন আয়োজনের দাবি জানান নেতারা।

বক্তারা বলেন, প্রায় ২০০ বছর ধরে চা অঞ্চলে বসবাস করেও অনেক চা শ্রমিক এখনো নিজেদের জমির মালিক হতে পারেননি। জমির মালিকানা না থাকায় তারা নানা নাগরিক সুবিধা ও মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। তাই চা শ্রমিকদের জমির অধিকার নিশ্চিত করা এখন সময়ের গুরুত্বপূর্ণ দাবি।

মহাসড়কে বিক্ষোভ, শ্রমিকদের ঐক্যের আহ্বান
শনিবার সকালে খাদিম চা বাগানের লোহা পুল এলাকা থেকে বিক্ষোভ মিছিল বের করেন শ্রমিকরা। মিছিলটি চা বাগানের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে একপর্যায়ে সিলেট-তামাবিল মহাসড়কে গিয়ে অবস্থান নেয়।

চা শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের প্রধান সমন্বয়ক এস এম শুভ সব চা বাগানের শ্রমিকদের ৫০০ টাকা দৈনিক মজুরির দাবিতে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান।

সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের সভাপতি সবুজ তন্তী। সমন্বয় করেন সমন্বয়ক মণীষা ওয়াহিদ। এ সময় প্রধান সমন্বয়ক এস এম শুভ, উপদেষ্টা সৈয়দ ফরহাদ হোসেন, দপ্তর সম্পাদক দীপ্ত নায়েক এবং বুরজান চা কারখানার শ্রমিক নেতা সুশান্ত চাষাসহ অন্যরা বক্তব্য দেন।

চা শ্রমিকদের এই আন্দোলনে মজুরি বৃদ্ধির পাশাপাশি জমির অধিকার ও শ্রমিক ইউনিয়নের নির্বাচনসহ দীর্ঘদিনের নানা দাবিও সামনে এসেছে। ফলে তাদের দাবি কতটা দ্রুত সমাধান হয়, সেদিকেই এখন নজর শ্রমিকদের।

চা শ্রমিকদের দৈনিক মজুরি ৫০০ টাকা করার দাবিতে সিলেট-তামাবিল মহাসড়ক অবরোধ, জমির মালিকানা ও ইউনিয়ন নির্বাচনের দাবিও জোরালো।

জনপ্রিয় সংবাদ

স্কুলে সহিংসতা ঠেকাতে আগে বদলাতে হবে আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি

চা শ্রমিকদের দৈনিক মজুরি ৫০০ টাকা করার দাবিতে সিলেট-তামাবিল মহাসড়ক অবরোধ

০৭:৪৭:৪০ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৫ জুলাই ২০২৬

চা শ্রমিকদের জীবনযাত্রার ব্যয় বাড়লেও মজুরি সেই তুলনায় না বাড়ায় ক্ষোভ বাড়ছে দীর্ঘদিন ধরে। এরই মধ্যে দৈনিক মজুরি ৫০০ টাকা করার দাবিতে সিলেট-তামাবিল মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন সিলেটের চা বাগানের শ্রমিকরা।

\শনিবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে খাদিম চা বাগানে চা শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের উদ্যোগে বড় সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। পরে শ্রমিকরা প্রায় দুই ঘণ্টা কর্মবিরতি পালন করে সিলেট-তামাবিল মহাসড়কে অবস্থান নেন। এতে ওই সড়কে যান চলাচলে বিঘ্ন ঘটে।

৫০০ টাকা মজুরি চান শ্রমিকরা
সমাবেশে বক্তারা বলেন, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম যেভাবে বেড়েছে, তাতে বর্তমান মজুরিতে একটি পরিবারের স্বাভাবিক জীবনযাপন করা প্রায় অসম্ভব। বর্তমানে একজন চা শ্রমিকের দৈনিক মজুরি মাত্র ১৮৭ টাকা। এই টাকায় সংসার চালানো তো দূরের কথা, প্রয়োজনীয় খাবার ও মৌলিক চাহিদা পূরণ করাও কঠিন হয়ে পড়েছে।

শ্রমিক নেতারা অভিযোগ করেন, বছরে মাত্র ৮ টাকা করে মজুরি বাড়ানোর ব্যবস্থা বাস্তবতার সঙ্গে কোনোভাবেই সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। তাদের ভাষায়, এ ধরনের সামান্য মজুরি বৃদ্ধি শ্রমিকদের প্রতি এক ধরনের প্রহসন। তাই দেশের সব চা শ্রমিকের জন্য ন্যায্য ও মর্যাদাপূর্ণ জীবন নিশ্চিত করতে দৈনিক মজুরি ৫০০ টাকা করার দাবি জানানো হয়।

চা শ্রমিকদের ৫০০ টাকা মজুরি ও বকেয়া পরিশোধের দাবিতে মৌলভীবাজারে বিক্ষোভ

৫ শতাংশ মজুরি বৃদ্ধির প্রজ্ঞাপন বাতিলের দাবি
সমাবেশ থেকে বিতর্কিত ৫ শতাংশ মজুরি বৃদ্ধির প্রজ্ঞাপন বাতিলের দাবিও তোলা হয়। পাশাপাশি চা শ্রমিকদের জমির মালিকানা নিশ্চিত করা এবং চা শ্রমিক ইউনিয়নের নির্বাচন আয়োজনের দাবি জানান নেতারা।

বক্তারা বলেন, প্রায় ২০০ বছর ধরে চা অঞ্চলে বসবাস করেও অনেক চা শ্রমিক এখনো নিজেদের জমির মালিক হতে পারেননি। জমির মালিকানা না থাকায় তারা নানা নাগরিক সুবিধা ও মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। তাই চা শ্রমিকদের জমির অধিকার নিশ্চিত করা এখন সময়ের গুরুত্বপূর্ণ দাবি।

মহাসড়কে বিক্ষোভ, শ্রমিকদের ঐক্যের আহ্বান
শনিবার সকালে খাদিম চা বাগানের লোহা পুল এলাকা থেকে বিক্ষোভ মিছিল বের করেন শ্রমিকরা। মিছিলটি চা বাগানের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে একপর্যায়ে সিলেট-তামাবিল মহাসড়কে গিয়ে অবস্থান নেয়।

চা শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের প্রধান সমন্বয়ক এস এম শুভ সব চা বাগানের শ্রমিকদের ৫০০ টাকা দৈনিক মজুরির দাবিতে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান।

সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের সভাপতি সবুজ তন্তী। সমন্বয় করেন সমন্বয়ক মণীষা ওয়াহিদ। এ সময় প্রধান সমন্বয়ক এস এম শুভ, উপদেষ্টা সৈয়দ ফরহাদ হোসেন, দপ্তর সম্পাদক দীপ্ত নায়েক এবং বুরজান চা কারখানার শ্রমিক নেতা সুশান্ত চাষাসহ অন্যরা বক্তব্য দেন।

চা শ্রমিকদের এই আন্দোলনে মজুরি বৃদ্ধির পাশাপাশি জমির অধিকার ও শ্রমিক ইউনিয়নের নির্বাচনসহ দীর্ঘদিনের নানা দাবিও সামনে এসেছে। ফলে তাদের দাবি কতটা দ্রুত সমাধান হয়, সেদিকেই এখন নজর শ্রমিকদের।

চা শ্রমিকদের দৈনিক মজুরি ৫০০ টাকা করার দাবিতে সিলেট-তামাবিল মহাসড়ক অবরোধ, জমির মালিকানা ও ইউনিয়ন নির্বাচনের দাবিও জোরালো।