০৮:৩১ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
স্কুলে সহিংসতা ঠেকাতে আগে বদলাতে হবে আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি জেন জি-র ‘ফ্রেন্ডস’ বানানোর চেষ্টা চলছে, কিন্তু কেন তা অসম্ভব সঙ্কুচিত পোশাক কি নষ্ট না করেই আগের মাপে ফেরানো সম্ভব? ডায়মন্ড লিগের ফাইনালে তৃতীয় অ্যামি হান্ট, দুর্দান্ত ছন্দে ছুটছেন ব্রিটিশ তারকা মারাঠি না জানলে ঝুঁকিতে লাইসেন্স, মহারাষ্ট্রে ট্যাক্সি ও অটোরিকশাচালকদের মিলল আরও এক বছর বয়স বাড়লেই জীবন থেমে যায় না, বরং আসে নিজের মতো বাঁচার স্বাধীনতা: প্রু লেইথ দাঁতের চিকিৎসকের কাছে যাওয়ার পথে বজ্রপাতে আহত, ‘ভয়াবহ’ অভিজ্ঞতার কথা জানালেন নিউইয়র্কের যুবক পেন্টাগনের নিয়ন্ত্রণ কি হারাচ্ছেন পিট হেগসেথ? আফ্রিকার প্রকৃত আয়তন তুলে ধরা মানচিত্রের পক্ষে জাতিসংঘের ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত সন্তান হত্যার মামলায় রায় হয়নি, লিন্ডসে ক্ল্যান্সিকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে তীব্র বিতর্ক

চীনা নিয়ন্ত্রণ ভাঙতে যুক্তরাষ্ট্রের ১.৪ বিলিয়ন ডলারের রেয়ার-আর্থ চুক্তি: ট্রাম্প প্রশাসনের নতুন কৌশলগত উদ্যোগ

দেশীয় রেয়ার-আর্থ চেইন গঠনে যুক্তরাষ্ট্রের বড় পদক্ষেপ

যুক্তরাষ্ট্রে রেয়ার-আর্থ ম্যাগনেট উৎপাদনের জন্য দুটি নতুন স্টার্টআপ কোম্পানি যুক্তরাষ্ট্র সরকার ও বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে মোট ১.৪ বিলিয়ন ডলারের এক বিশাল চুক্তি সম্পন্ন করেছে।
এই পদক্ষেপটি ট্রাম্প প্রশাসনের নতুন কৌশলেরই অংশ, যার উদ্দেশ্য হচ্ছে চীনের রেয়ার-আর্থ খাতে দীর্ঘদিনের একচেটিয়া নিয়ন্ত্রণের অবসান ঘটানো এবং দেশীয় উৎপাদন সক্ষমতা বৃদ্ধি করা।


চুক্তির মূল অংশ: ডিফেন্স ও বাণিজ্য বিভাগের বড় বিনিয়োগ

চুক্তিটি নেতৃত্ব দিচ্ছে Vulcan Elements: যারা জানিয়েছে—

  • যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা বিভাগের Office of Strategic Capital (OSC) থেকে ৬২০ মিলিয়ন ডলারের ঋণ পাচ্ছে তারা।
  • এই অর্থ দিয়ে বছরে ১০,০০০ মেট্রিক টন ম্যাগনেট উৎপাদন সক্ষম একটি মার্কিন কারখানা নির্মাণ ও পরিচালনা করা হবে।
  • বাণিজ্য বিভাগ দিচ্ছে ৫০ মিলিয়ন ডলার, আর বেসরকারি বিনিয়োগকারীরা বিনিয়োগ করবে ৫৫০ মিলিয়ন ডলার


রেয়ার-আর্থ ম্যাগনেটের গুরুত্ব

রেয়ার-আর্থ ম্যাগনেট ব্যবহৃত হয় আধুনিক প্রযুক্তির প্রায় প্রতিটি খাতে—

  • AI ডেটা সেন্টার, বৈদ্যুতিক গাড়ি, ভোক্তা ইলেকট্রনিক্স
  • এবং গুরুত্বপূর্ণ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা যেমন ক্ষেপণাস্ত্র, ড্রোন, স্যাটেলাইট, যুদ্ধজাহাজ, জেট ফাইটার ইত্যাদিতে।

দীর্ঘদিন ধরেই চীন খনিজ উত্তোলন থেকে প্রক্রিয়াজাতকরণ পর্যন্ত পুরো সরবরাহ চেইনে প্রভাবশালী অবস্থান ধরে রেখেছে।


রিসাইক্লিং ও নতুন উৎপাদনে ReElement-এর ভূমিকা

এই প্রকল্পে আরেকটি কোম্পানি ReElement Technologies-ও যুক্ত হয়েছে।
তারা রেয়ার-আর্থ উপাদান বিশুদ্ধকরণ ও পুনঃব্যবহার (রিসাইক্লিং)-এর কাজ করবে, যাতে পুরনো ম্যাগনেট থেকে উপাদান পুনরুদ্ধার করে দেশীয় উৎপাদন বাড়ানো যায়।
ReElement কোম্পানি OSC এবং বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে মোট ১৬০ মিলিয়ন ডলার অর্থ পেয়েছে।


সরকারি বিনিয়োগের বিনিময়ে ইকুইটি অংশীদারিত্ব

এই বিনিয়োগের বিনিময়ে—

  • বাণিজ্য বিভাগ Vulcan Elements-এর ৫০ মিলিয়ন ডলারের শেয়ার (equity) পাচ্ছে।
  • প্রতিরক্ষা বিভাগ পাবে Vulcan ও ReElement-এর শেয়ার কেনার ওয়ারেন্ট (warrants), অর্থাৎ নির্দিষ্ট দামে ভবিষ্যতে শেয়ার কেনার সুযোগ।

এটি প্রশাসনের নতুন কৌশলের অংশ, যেখানে সরকার প্রযুক্তি খাতে অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত বেসরকারি কোম্পানিগুলোর শেয়ার গ্রহণ করছে


পূর্ববর্তী বিনিয়োগের ধারাবাহিকতা

এর আগে জুলাই মাসে MP Materials—যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় রেয়ার-আর্থ খনি কোম্পানি—জানায় যে, প্রতিরক্ষা বিভাগ তাদের ১৫% শেয়ার কিনেছে
অগাস্টে সরকার Intel-এর ১০% শেয়ার অধিগ্রহণ করে।
এছাড়া চীনে Nvidia ও AMD-এর বিক্রিতে ১৫% অংশীদারিত্বের সিদ্ধান্ত নেয় ট্রাম্প প্রশাসন।


Vulcan Elements: নবীন কিন্তু কৌশলগত কোম্পানি

Vulcan Elements, সাবেক মার্কিন নৌবাহিনীর কর্মকর্তা জন ম্যাসলিনের নেতৃত্বে পরিচালিত
কোম্পানিটি মার্চ মাসে প্রথম বাণিজ্যিক উৎপাদন ইউনিট চালু করে এবং গ্রীষ্মে ৬৫ মিলিয়ন ডলার ভেঞ্চার ক্যাপিটাল তহবিল সংগ্রহ করে।
চীনের রেয়ার-আর্থ ও গুরুত্বপূর্ণ খনিজের উপর রপ্তানি নিয়ন্ত্রণ আরোপের পর থেকেই Vulcan-এর পণ্যের চাহিদা দ্রুত বেড়ে যায়


রিসাইক্লিংয়ের মাধ্যমে চাহিদা মেটানোর নতুন দিগন্ত

ReElement-এর অংশগ্রহণ যুক্তরাষ্ট্রে রেয়ার-আর্থ পুনর্ব্যবহারের গুরুত্বকে সামনে এনেছে।
খনি থেকে নতুনভাবে আহরণের বদলে রিসাইক্লিংই হতে পারে ভবিষ্যতের টেকসই সমাধান, বিশেষত যখন চীনা নিয়ন্ত্রণের কারণে কাঁচামালের ঘাটতি দেখা দিচ্ছে।

চীনের কড়াকড়ি রপ্তানি নীতির কারণে গত বছর থেকে মার্কিন প্রতিরক্ষা ঠিকাদাররা বিকল্প সরবরাহের জন্য হিমশিম খাচ্ছে
বেইজিং তখন রেয়ার-আর্থ রপ্তানির আগে আমেরিকান কোম্পানিগুলোকে প্রমাণপত্র দিতে বলেছিল যে তাদের পণ্য প্রতিরক্ষা কাজে ব্যবহৃত হবে না।


সম্প্রতি সম্পর্ক স্বাভাবিকের পথে

সাম্প্রতিক আলোচনায় কিছুটা অগ্রগতি হয়েছে।
চীনা নেতা সি চিনপিংয়ের সঙ্গে আলোচনার পর প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ঘোষণা দেন,
রেয়ার-আর্থ ইস্যুতে দ্বন্দ্ব “সমাধান হয়েছে” এবং চীন কিছু রপ্তানি নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করেছে


এই ১.৪ বিলিয়ন ডলারের চুক্তি যুক্তরাষ্ট্রের জন্য একটি বড় কৌশলগত জয় হিসেবে দেখা হচ্ছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

স্কুলে সহিংসতা ঠেকাতে আগে বদলাতে হবে আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি

চীনা নিয়ন্ত্রণ ভাঙতে যুক্তরাষ্ট্রের ১.৪ বিলিয়ন ডলারের রেয়ার-আর্থ চুক্তি: ট্রাম্প প্রশাসনের নতুন কৌশলগত উদ্যোগ

১২:২০:১৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ৫ নভেম্বর ২০২৫

দেশীয় রেয়ার-আর্থ চেইন গঠনে যুক্তরাষ্ট্রের বড় পদক্ষেপ

যুক্তরাষ্ট্রে রেয়ার-আর্থ ম্যাগনেট উৎপাদনের জন্য দুটি নতুন স্টার্টআপ কোম্পানি যুক্তরাষ্ট্র সরকার ও বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে মোট ১.৪ বিলিয়ন ডলারের এক বিশাল চুক্তি সম্পন্ন করেছে।
এই পদক্ষেপটি ট্রাম্প প্রশাসনের নতুন কৌশলেরই অংশ, যার উদ্দেশ্য হচ্ছে চীনের রেয়ার-আর্থ খাতে দীর্ঘদিনের একচেটিয়া নিয়ন্ত্রণের অবসান ঘটানো এবং দেশীয় উৎপাদন সক্ষমতা বৃদ্ধি করা।


চুক্তির মূল অংশ: ডিফেন্স ও বাণিজ্য বিভাগের বড় বিনিয়োগ

চুক্তিটি নেতৃত্ব দিচ্ছে Vulcan Elements: যারা জানিয়েছে—

  • যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা বিভাগের Office of Strategic Capital (OSC) থেকে ৬২০ মিলিয়ন ডলারের ঋণ পাচ্ছে তারা।
  • এই অর্থ দিয়ে বছরে ১০,০০০ মেট্রিক টন ম্যাগনেট উৎপাদন সক্ষম একটি মার্কিন কারখানা নির্মাণ ও পরিচালনা করা হবে।
  • বাণিজ্য বিভাগ দিচ্ছে ৫০ মিলিয়ন ডলার, আর বেসরকারি বিনিয়োগকারীরা বিনিয়োগ করবে ৫৫০ মিলিয়ন ডলার


রেয়ার-আর্থ ম্যাগনেটের গুরুত্ব

রেয়ার-আর্থ ম্যাগনেট ব্যবহৃত হয় আধুনিক প্রযুক্তির প্রায় প্রতিটি খাতে—

  • AI ডেটা সেন্টার, বৈদ্যুতিক গাড়ি, ভোক্তা ইলেকট্রনিক্স
  • এবং গুরুত্বপূর্ণ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা যেমন ক্ষেপণাস্ত্র, ড্রোন, স্যাটেলাইট, যুদ্ধজাহাজ, জেট ফাইটার ইত্যাদিতে।

দীর্ঘদিন ধরেই চীন খনিজ উত্তোলন থেকে প্রক্রিয়াজাতকরণ পর্যন্ত পুরো সরবরাহ চেইনে প্রভাবশালী অবস্থান ধরে রেখেছে।


রিসাইক্লিং ও নতুন উৎপাদনে ReElement-এর ভূমিকা

এই প্রকল্পে আরেকটি কোম্পানি ReElement Technologies-ও যুক্ত হয়েছে।
তারা রেয়ার-আর্থ উপাদান বিশুদ্ধকরণ ও পুনঃব্যবহার (রিসাইক্লিং)-এর কাজ করবে, যাতে পুরনো ম্যাগনেট থেকে উপাদান পুনরুদ্ধার করে দেশীয় উৎপাদন বাড়ানো যায়।
ReElement কোম্পানি OSC এবং বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে মোট ১৬০ মিলিয়ন ডলার অর্থ পেয়েছে।


সরকারি বিনিয়োগের বিনিময়ে ইকুইটি অংশীদারিত্ব

এই বিনিয়োগের বিনিময়ে—

  • বাণিজ্য বিভাগ Vulcan Elements-এর ৫০ মিলিয়ন ডলারের শেয়ার (equity) পাচ্ছে।
  • প্রতিরক্ষা বিভাগ পাবে Vulcan ও ReElement-এর শেয়ার কেনার ওয়ারেন্ট (warrants), অর্থাৎ নির্দিষ্ট দামে ভবিষ্যতে শেয়ার কেনার সুযোগ।

এটি প্রশাসনের নতুন কৌশলের অংশ, যেখানে সরকার প্রযুক্তি খাতে অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত বেসরকারি কোম্পানিগুলোর শেয়ার গ্রহণ করছে


পূর্ববর্তী বিনিয়োগের ধারাবাহিকতা

এর আগে জুলাই মাসে MP Materials—যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় রেয়ার-আর্থ খনি কোম্পানি—জানায় যে, প্রতিরক্ষা বিভাগ তাদের ১৫% শেয়ার কিনেছে
অগাস্টে সরকার Intel-এর ১০% শেয়ার অধিগ্রহণ করে।
এছাড়া চীনে Nvidia ও AMD-এর বিক্রিতে ১৫% অংশীদারিত্বের সিদ্ধান্ত নেয় ট্রাম্প প্রশাসন।


Vulcan Elements: নবীন কিন্তু কৌশলগত কোম্পানি

Vulcan Elements, সাবেক মার্কিন নৌবাহিনীর কর্মকর্তা জন ম্যাসলিনের নেতৃত্বে পরিচালিত
কোম্পানিটি মার্চ মাসে প্রথম বাণিজ্যিক উৎপাদন ইউনিট চালু করে এবং গ্রীষ্মে ৬৫ মিলিয়ন ডলার ভেঞ্চার ক্যাপিটাল তহবিল সংগ্রহ করে।
চীনের রেয়ার-আর্থ ও গুরুত্বপূর্ণ খনিজের উপর রপ্তানি নিয়ন্ত্রণ আরোপের পর থেকেই Vulcan-এর পণ্যের চাহিদা দ্রুত বেড়ে যায়


রিসাইক্লিংয়ের মাধ্যমে চাহিদা মেটানোর নতুন দিগন্ত

ReElement-এর অংশগ্রহণ যুক্তরাষ্ট্রে রেয়ার-আর্থ পুনর্ব্যবহারের গুরুত্বকে সামনে এনেছে।
খনি থেকে নতুনভাবে আহরণের বদলে রিসাইক্লিংই হতে পারে ভবিষ্যতের টেকসই সমাধান, বিশেষত যখন চীনা নিয়ন্ত্রণের কারণে কাঁচামালের ঘাটতি দেখা দিচ্ছে।

চীনের কড়াকড়ি রপ্তানি নীতির কারণে গত বছর থেকে মার্কিন প্রতিরক্ষা ঠিকাদাররা বিকল্প সরবরাহের জন্য হিমশিম খাচ্ছে
বেইজিং তখন রেয়ার-আর্থ রপ্তানির আগে আমেরিকান কোম্পানিগুলোকে প্রমাণপত্র দিতে বলেছিল যে তাদের পণ্য প্রতিরক্ষা কাজে ব্যবহৃত হবে না।


সম্প্রতি সম্পর্ক স্বাভাবিকের পথে

সাম্প্রতিক আলোচনায় কিছুটা অগ্রগতি হয়েছে।
চীনা নেতা সি চিনপিংয়ের সঙ্গে আলোচনার পর প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ঘোষণা দেন,
রেয়ার-আর্থ ইস্যুতে দ্বন্দ্ব “সমাধান হয়েছে” এবং চীন কিছু রপ্তানি নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করেছে


এই ১.৪ বিলিয়ন ডলারের চুক্তি যুক্তরাষ্ট্রের জন্য একটি বড় কৌশলগত জয় হিসেবে দেখা হচ্ছে।