০১:২৭ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
স্কুলে সহিংসতা ঠেকাতে আগে বদলাতে হবে আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি জেন জি-র ‘ফ্রেন্ডস’ বানানোর চেষ্টা চলছে, কিন্তু কেন তা অসম্ভব সঙ্কুচিত পোশাক কি নষ্ট না করেই আগের মাপে ফেরানো সম্ভব? ডায়মন্ড লিগের ফাইনালে তৃতীয় অ্যামি হান্ট, দুর্দান্ত ছন্দে ছুটছেন ব্রিটিশ তারকা মারাঠি না জানলে ঝুঁকিতে লাইসেন্স, মহারাষ্ট্রে ট্যাক্সি ও অটোরিকশাচালকদের মিলল আরও এক বছর বয়স বাড়লেই জীবন থেমে যায় না, বরং আসে নিজের মতো বাঁচার স্বাধীনতা: প্রু লেইথ দাঁতের চিকিৎসকের কাছে যাওয়ার পথে বজ্রপাতে আহত, ‘ভয়াবহ’ অভিজ্ঞতার কথা জানালেন নিউইয়র্কের যুবক পেন্টাগনের নিয়ন্ত্রণ কি হারাচ্ছেন পিট হেগসেথ? আফ্রিকার প্রকৃত আয়তন তুলে ধরা মানচিত্রের পক্ষে জাতিসংঘের ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত সন্তান হত্যার মামলায় রায় হয়নি, লিন্ডসে ক্ল্যান্সিকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে তীব্র বিতর্ক

চীনের ঘরোয়া অর্থনীতির জন্য হুমকি

চীনের অর্থনীতি বর্তমানে তীব্র দামযুদ্ধের মধ্যে পড়েছে। এই প্রতিযোগিতা এতটাই নির্মম যে এটি করপোরেট মুনাফা, কর্মসংস্থান, মূল্যহ্রাস এবং ব্যাংকিং খাত থেকে শুরু করে সামাজিক মনোবল পর্যন্ত সব ক্ষেত্রে চাপ সৃষ্টি করছে। এটি চীনা অর্থনীতি নিয়ে তিন পর্বের বিশ্লেষণের দ্বিতীয় অংশ।


সস্তা পণ্যের রাজ্য: চীন

সিঙ্গেলস’ ডে (১১ নভেম্বর) উদযাপনে চীনা পণ্যে অনলাইন বাজারে বিশাল ছাড় দেওয়া হয়। সিঙ্গাপুরে বসেও কেউ ৪০ শতাংশ ছাড়ে লেনোভো থিঙ্কপ্যাড কিনতে পারে, সঙ্গে মাত্র কয়েক ডলারে হেডসেট, ব্যাকপ্যাক ও ওয়্যারলেস মাউস।

চীনের অভ্যন্তরে তো ছাড় আরও বিস্ময়কর।
• এক কাপ বাবল চা ১–২ ইউয়ান (১৮–৩৬ সিঙ্গাপুর সেন্ট)
• রেস্তোরাঁর সেট মেন্যু ৩–৫ ইউয়ান (৫৪–৯০ সেন্ট)
• উচ্চমূল্যের পণ্যেও একই অবস্থা—বিওয়াইডি সিগাল প্লাগ-ইন হাইব্রিড ইভি মিলছে ৫৫,০০০ ইউয়ানে (প্রায় ১০,০০০ সিঙ্গাপুর ডলার), যা আসল দামের তুলনায় ৩০ শতাংশের বেশি ছাড়
• স্মার্টফোন ও গৃহস্থালির যন্ত্রপাতিতে ২৫–৪০ শতাংশ ছাড়


নির্মম দামযুদ্ধ: ‘ইনভলিউশন’

চীনে এক ধরনের ‘রেস-টু-দ্য-বটম’ প্রতিযোগিতা চলছে, যাকে বলা হচ্ছে “ইনভলিউশন”—যেখানে প্রতিটি প্রতিষ্ঠান বাজারদখলের জন্য দামের ওপর নির্মম চাপ সৃষ্টি করছে।

চীনের ওপর আরও ১০০% শুল্ক আরোপের হুমকি ট্রাম্পের

কোভিড-১৯–এর পর সম্পত্তিখাত ভেঙে পড়ায় চীন সরকার ঘরোয়া উৎপাদন—বিশেষ করে ইভি, ব্যাটারি, সোলার প্যানেল—এ আক্রমণাত্মকভাবে বিনিয়োগ করে। সরকারি ও স্থানীয় তহবিল ঢালাওভাবে এসব খাতে প্রবাহিত হয়, বাধা কমানো হয়, ফলে বাজারে ঢুকে পড়ে অসংখ্য নতুন প্রতিষ্ঠান।

আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) হিসাবে, এসব খাতে বার্ষিক ভর্তুকির পরিমাণ গত এক দশকে জিডিপির প্রায় ৪ শতাংশ। ফলে জিডিপি পতন ঠেকানো গেলেও অভ্যন্তরীণ ভোক্তা ব্যয় কমে যাওয়ায় উৎপাদন চাহিদার তুলনায় অনেক বেশি হয়ে পড়ে।


ইভি, সোলার ও ই-কমার্সে সর্বাত্মক প্রতিযোগিতা

• একসময় প্রায় ৫০০ ইভি নির্মাতা ছিল, এখন নেমে এসেছে প্রায় ১০০–এ।
• তারা বাজার ধরে রাখতে একে অপরের দাম কেটে দিচ্ছে।
• একই অবস্থা ব্যাটারি, সোলার প্যানেল ও স্টিল শিল্পে।
• ই-কমার্স প্ল্যাটফর্মগুলো নিয়মিত অফার ও ছাড় দিয়ে প্রতিযোগিতা বাড়াচ্ছে।

এই ছাড় ভোক্তাদের জন্য সুখবর হলেও কোম্পানির মুনাফা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। বি.সি.এ রিসার্চের হিসাবে, প্রায় ১,৫০,০০০ শিল্পপ্রতিষ্ঠান—মোটের প্রায় ৩০ শতাংশ—ক্ষতি লুকিয়ে চলছে এবং টিকে আছে ভর্তুকির ওপর।

চীনের ৪০ বছরের অর্থনৈতিক অগ্রগতি কি থেমে গেলো?

মূল্যহ্রাস (ডিফ্লেশন) আরও তীব্র হচ্ছে

সম্পত্তি খাত ধসে পড়ার পর থেকেই সংশ্লিষ্ট শিল্পগুলোয় দাম কমছিল। তার ওপর এই নির্মম দামযুদ্ধ আরও এক স্তর যোগ করেছে। ফলে—

• পণ্যের দাম কমছে
• করপোরেট আয় কমছে
• ব্যাংকিং খাতে ঝুঁকি বাড়ছে
• কর্মীদের চাকরির নিরাপত্তা হুমকির মুখে
• সামাজিক মনোবল ও মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে

জনপ্রিয় সংবাদ

স্কুলে সহিংসতা ঠেকাতে আগে বদলাতে হবে আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি

চীনের ঘরোয়া অর্থনীতির জন্য হুমকি

০৬:০০:৪৮ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৯ নভেম্বর ২০২৫

চীনের অর্থনীতি বর্তমানে তীব্র দামযুদ্ধের মধ্যে পড়েছে। এই প্রতিযোগিতা এতটাই নির্মম যে এটি করপোরেট মুনাফা, কর্মসংস্থান, মূল্যহ্রাস এবং ব্যাংকিং খাত থেকে শুরু করে সামাজিক মনোবল পর্যন্ত সব ক্ষেত্রে চাপ সৃষ্টি করছে। এটি চীনা অর্থনীতি নিয়ে তিন পর্বের বিশ্লেষণের দ্বিতীয় অংশ।


সস্তা পণ্যের রাজ্য: চীন

সিঙ্গেলস’ ডে (১১ নভেম্বর) উদযাপনে চীনা পণ্যে অনলাইন বাজারে বিশাল ছাড় দেওয়া হয়। সিঙ্গাপুরে বসেও কেউ ৪০ শতাংশ ছাড়ে লেনোভো থিঙ্কপ্যাড কিনতে পারে, সঙ্গে মাত্র কয়েক ডলারে হেডসেট, ব্যাকপ্যাক ও ওয়্যারলেস মাউস।

চীনের অভ্যন্তরে তো ছাড় আরও বিস্ময়কর।
• এক কাপ বাবল চা ১–২ ইউয়ান (১৮–৩৬ সিঙ্গাপুর সেন্ট)
• রেস্তোরাঁর সেট মেন্যু ৩–৫ ইউয়ান (৫৪–৯০ সেন্ট)
• উচ্চমূল্যের পণ্যেও একই অবস্থা—বিওয়াইডি সিগাল প্লাগ-ইন হাইব্রিড ইভি মিলছে ৫৫,০০০ ইউয়ানে (প্রায় ১০,০০০ সিঙ্গাপুর ডলার), যা আসল দামের তুলনায় ৩০ শতাংশের বেশি ছাড়
• স্মার্টফোন ও গৃহস্থালির যন্ত্রপাতিতে ২৫–৪০ শতাংশ ছাড়


নির্মম দামযুদ্ধ: ‘ইনভলিউশন’

চীনে এক ধরনের ‘রেস-টু-দ্য-বটম’ প্রতিযোগিতা চলছে, যাকে বলা হচ্ছে “ইনভলিউশন”—যেখানে প্রতিটি প্রতিষ্ঠান বাজারদখলের জন্য দামের ওপর নির্মম চাপ সৃষ্টি করছে।

চীনের ওপর আরও ১০০% শুল্ক আরোপের হুমকি ট্রাম্পের

কোভিড-১৯–এর পর সম্পত্তিখাত ভেঙে পড়ায় চীন সরকার ঘরোয়া উৎপাদন—বিশেষ করে ইভি, ব্যাটারি, সোলার প্যানেল—এ আক্রমণাত্মকভাবে বিনিয়োগ করে। সরকারি ও স্থানীয় তহবিল ঢালাওভাবে এসব খাতে প্রবাহিত হয়, বাধা কমানো হয়, ফলে বাজারে ঢুকে পড়ে অসংখ্য নতুন প্রতিষ্ঠান।

আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) হিসাবে, এসব খাতে বার্ষিক ভর্তুকির পরিমাণ গত এক দশকে জিডিপির প্রায় ৪ শতাংশ। ফলে জিডিপি পতন ঠেকানো গেলেও অভ্যন্তরীণ ভোক্তা ব্যয় কমে যাওয়ায় উৎপাদন চাহিদার তুলনায় অনেক বেশি হয়ে পড়ে।


ইভি, সোলার ও ই-কমার্সে সর্বাত্মক প্রতিযোগিতা

• একসময় প্রায় ৫০০ ইভি নির্মাতা ছিল, এখন নেমে এসেছে প্রায় ১০০–এ।
• তারা বাজার ধরে রাখতে একে অপরের দাম কেটে দিচ্ছে।
• একই অবস্থা ব্যাটারি, সোলার প্যানেল ও স্টিল শিল্পে।
• ই-কমার্স প্ল্যাটফর্মগুলো নিয়মিত অফার ও ছাড় দিয়ে প্রতিযোগিতা বাড়াচ্ছে।

এই ছাড় ভোক্তাদের জন্য সুখবর হলেও কোম্পানির মুনাফা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। বি.সি.এ রিসার্চের হিসাবে, প্রায় ১,৫০,০০০ শিল্পপ্রতিষ্ঠান—মোটের প্রায় ৩০ শতাংশ—ক্ষতি লুকিয়ে চলছে এবং টিকে আছে ভর্তুকির ওপর।

চীনের ৪০ বছরের অর্থনৈতিক অগ্রগতি কি থেমে গেলো?

মূল্যহ্রাস (ডিফ্লেশন) আরও তীব্র হচ্ছে

সম্পত্তি খাত ধসে পড়ার পর থেকেই সংশ্লিষ্ট শিল্পগুলোয় দাম কমছিল। তার ওপর এই নির্মম দামযুদ্ধ আরও এক স্তর যোগ করেছে। ফলে—

• পণ্যের দাম কমছে
• করপোরেট আয় কমছে
• ব্যাংকিং খাতে ঝুঁকি বাড়ছে
• কর্মীদের চাকরির নিরাপত্তা হুমকির মুখে
• সামাজিক মনোবল ও মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে