০৪:০০ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
স্কুলে সহিংসতা ঠেকাতে আগে বদলাতে হবে আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি জেন জি-র ‘ফ্রেন্ডস’ বানানোর চেষ্টা চলছে, কিন্তু কেন তা অসম্ভব সঙ্কুচিত পোশাক কি নষ্ট না করেই আগের মাপে ফেরানো সম্ভব? ডায়মন্ড লিগের ফাইনালে তৃতীয় অ্যামি হান্ট, দুর্দান্ত ছন্দে ছুটছেন ব্রিটিশ তারকা মারাঠি না জানলে ঝুঁকিতে লাইসেন্স, মহারাষ্ট্রে ট্যাক্সি ও অটোরিকশাচালকদের মিলল আরও এক বছর বয়স বাড়লেই জীবন থেমে যায় না, বরং আসে নিজের মতো বাঁচার স্বাধীনতা: প্রু লেইথ দাঁতের চিকিৎসকের কাছে যাওয়ার পথে বজ্রপাতে আহত, ‘ভয়াবহ’ অভিজ্ঞতার কথা জানালেন নিউইয়র্কের যুবক পেন্টাগনের নিয়ন্ত্রণ কি হারাচ্ছেন পিট হেগসেথ? আফ্রিকার প্রকৃত আয়তন তুলে ধরা মানচিত্রের পক্ষে জাতিসংঘের ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত সন্তান হত্যার মামলায় রায় হয়নি, লিন্ডসে ক্ল্যান্সিকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে তীব্র বিতর্ক

চীনের চাপই জাপানের প্রধানমন্ত্রীর শক্তি, তাকাইচির জনপ্রিয়তায় নতুন জোয়ার

চীনের কড়া কূটনৈতিক চাপ শেষ পর্যন্ত উল্টো ফল দিয়েছে। বেইজিং যেভাবে টানা চাপ সৃষ্টি করেছে, তা জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির অবস্থান দুর্বল করার বদলে বরং দেশের ভেতরে তাঁর জনপ্রিয়তাকে বাড়িয়ে তুলেছে। তাইওয়ান প্রসঙ্গে দৃঢ় মন্তব্যকে কেন্দ্র করে যে উত্তেজনার সূত্রপাত, সেটিই এখন জাপানের রাজনীতিতে তাকাইচির বড় রাজনৈতিক পুঁজি হয়ে উঠছে।

তাইওয়ান মন্তব্য থেকে শুরু চাপের রাজনীতি

নভেম্বরের শুরুতে জাপানের সংসদে প্রধানমন্ত্রী তাকাইচি বলেন, তাইওয়ানে চীনের কোনো সামরিক পদক্ষেপ জাপানের অস্তিত্বের জন্য হুমকি হতে পারে। তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট ইঙ্গিত ছিল যৌথ আত্মরক্ষার অধিকার প্রয়োগের সম্ভাবনার দিকে। এই মন্তব্যের পরই চীনের নেতৃত্ব তাৎক্ষণিকভাবে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানায় এবং একে নিজেদের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ বলে আখ্যা দেয়।

নতুন জোট সরকার গঠনের পথে জাপান, প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হচ্ছেন তাকাইচি |  প্রথম আলো

 

পর্যটন থেকে বাণিজ্য, একের পর এক পাল্টা পদক্ষেপ

তাকাইচির মন্তব্যের কয়েক দিনের মধ্যেই চীন তাদের নাগরিকদের জাপানে ভ্রমণ নিরুৎসাহিত করতে শুরু করে। একই সঙ্গে বিমান চলাচল কমানো হয় এবং দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে থাকা জাপানি সামুদ্রিক খাদ্য আমদানির নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারও বিলম্বিত হয়। পাশাপাশি রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে ধারাবাহিক প্রচার চালিয়ে তাকাইচির বক্তব্যকে নেতিবাচকভাবে উপস্থাপন করা হতে থাকে।

রপ্তানি নিয়ন্ত্রণে নতুন চাপ

জানুয়ারির শুরুতে পরিস্থিতি আরও কঠোর হয়। চীন ঘোষণা দেয়, দ্বৈত ব্যবহারযোগ্য পণ্যের রপ্তানিতে কড়া নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা হবে। যেসব পণ্য সামরিক সক্ষমতা বাড়াতে পারে, সেগুলোর জাপানে রপ্তানি কার্যত বন্ধ করে দেওয়া হয়। পরে দেখা যায়, বেসামরিক কাজে ব্যবহৃত বিরল খনিজ পণ্যের ক্ষেত্রেও লাইসেন্স জটিলতা তৈরি হচ্ছে, যা জাপানের শিল্পখাতে উদ্বেগ বাড়িয়েছে।

চীনের কৌশল, জাপানের বাস্তবতা

বেইজিংয়ের ধারণা ছিল, তাকাইচির সরকার সংসদে শক্ত অবস্থানে নেই এবং চাপে পড়ে একসময় নরম হবে। কিন্তু বাস্তবে ঘটেছে উল্টোটা। চীনের লাগাতার চাপ জাপানের জনমনে নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্বের প্রশ্নকে সামনে এনে দিয়েছে। ফলে তাকাইচির প্রতি সমর্থন বেড়েছে দ্রুত।

জাপানের 'লৌহমানবী' কি দেশকে চীনের সঙ্গে যুদ্ধের মুখে ঠেলে দিচ্ছেন

জনপ্রিয়তার শীর্ষে প্রধানমন্ত্রী

ডিসেম্বরের শেষ দিকে জনমত জরিপে দেখা যায়, তাকাইচি সরকারের প্রতি সমর্থন পৌঁছেছে অভূতপূর্ব উচ্চতায়। এই জনপ্রিয়তাই তাঁকে রাজনৈতিকভাবে আরও সাহসী করে তুলেছে। সাম্প্রতিক সময়ে তিনি হঠাৎ নির্বাচনের কথা ভাবছেন বলে জাপানের রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা শুরু হয়েছে।

আগাম নির্বাচনের পথে জাপান

জাপানের শাসক দল বর্তমানে সংসদে নাজুক সংখ্যাগরিষ্ঠতায় রয়েছে। এই অবস্থায় আগাম নির্বাচন হলে হারানো আসন পুনরুদ্ধারের সুযোগ তৈরি হতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা। তাকাইচি ইতিমধ্যেই দলের শীর্ষ নেতৃত্বকে জানিয়েছেন, মাস শেষ হওয়ার আগেই সংসদ ভেঙে দেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। নির্বাচন হলে ফেব্রুয়ারির মধ্যেই ভোট হতে পারে।

জনপ্রিয়তার শীর্ষে জাপানের প্রধানমন্ত্রী তাকাইচি | আন্তর্জাতিক | বাংলাদেশ  সংবাদ সংস্থা (বাসস)

চীনের অস্বস্তি বাড়ছে

তাকাইচির আগাম নির্বাচন ভাবনায় চীনের মিডিয়াতেও দ্রুত প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। অনেক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, কূটনৈতিক চাপ সামলাতে এই সিদ্ধান্ত। তবে জাপানের অভ্যন্তরীণ বিশ্লেষকেরা বলছেন, চীনের এই মূল্যায়ন বাস্তবতার সঙ্গে পুরোপুরি মেলে না।

উল্টো ফলের হিসাব

চীনের লক্ষ্য ছিল চাপ দিয়ে জাপানকে পিছু হটতে বাধ্য করা। কিন্তু সেই চাপই এখন তাকাইচির জন্য রাজনৈতিক শক্তিতে পরিণত হয়েছে। উচ্চ জনপ্রিয়তা নিয়ে তিনি আগাম নির্বাচনের পথে এগোতে প্রস্তুত, আর চীন-জাপান সম্পর্ক আপাতত তাঁর অগ্রাধিকারের তালিকায় পেছনে চলে যাচ্ছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

স্কুলে সহিংসতা ঠেকাতে আগে বদলাতে হবে আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি

চীনের চাপই জাপানের প্রধানমন্ত্রীর শক্তি, তাকাইচির জনপ্রিয়তায় নতুন জোয়ার

০২:৫৭:৫৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারী ২০২৬

চীনের কড়া কূটনৈতিক চাপ শেষ পর্যন্ত উল্টো ফল দিয়েছে। বেইজিং যেভাবে টানা চাপ সৃষ্টি করেছে, তা জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির অবস্থান দুর্বল করার বদলে বরং দেশের ভেতরে তাঁর জনপ্রিয়তাকে বাড়িয়ে তুলেছে। তাইওয়ান প্রসঙ্গে দৃঢ় মন্তব্যকে কেন্দ্র করে যে উত্তেজনার সূত্রপাত, সেটিই এখন জাপানের রাজনীতিতে তাকাইচির বড় রাজনৈতিক পুঁজি হয়ে উঠছে।

তাইওয়ান মন্তব্য থেকে শুরু চাপের রাজনীতি

নভেম্বরের শুরুতে জাপানের সংসদে প্রধানমন্ত্রী তাকাইচি বলেন, তাইওয়ানে চীনের কোনো সামরিক পদক্ষেপ জাপানের অস্তিত্বের জন্য হুমকি হতে পারে। তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট ইঙ্গিত ছিল যৌথ আত্মরক্ষার অধিকার প্রয়োগের সম্ভাবনার দিকে। এই মন্তব্যের পরই চীনের নেতৃত্ব তাৎক্ষণিকভাবে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানায় এবং একে নিজেদের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ বলে আখ্যা দেয়।

নতুন জোট সরকার গঠনের পথে জাপান, প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হচ্ছেন তাকাইচি |  প্রথম আলো

 

পর্যটন থেকে বাণিজ্য, একের পর এক পাল্টা পদক্ষেপ

তাকাইচির মন্তব্যের কয়েক দিনের মধ্যেই চীন তাদের নাগরিকদের জাপানে ভ্রমণ নিরুৎসাহিত করতে শুরু করে। একই সঙ্গে বিমান চলাচল কমানো হয় এবং দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে থাকা জাপানি সামুদ্রিক খাদ্য আমদানির নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারও বিলম্বিত হয়। পাশাপাশি রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে ধারাবাহিক প্রচার চালিয়ে তাকাইচির বক্তব্যকে নেতিবাচকভাবে উপস্থাপন করা হতে থাকে।

রপ্তানি নিয়ন্ত্রণে নতুন চাপ

জানুয়ারির শুরুতে পরিস্থিতি আরও কঠোর হয়। চীন ঘোষণা দেয়, দ্বৈত ব্যবহারযোগ্য পণ্যের রপ্তানিতে কড়া নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা হবে। যেসব পণ্য সামরিক সক্ষমতা বাড়াতে পারে, সেগুলোর জাপানে রপ্তানি কার্যত বন্ধ করে দেওয়া হয়। পরে দেখা যায়, বেসামরিক কাজে ব্যবহৃত বিরল খনিজ পণ্যের ক্ষেত্রেও লাইসেন্স জটিলতা তৈরি হচ্ছে, যা জাপানের শিল্পখাতে উদ্বেগ বাড়িয়েছে।

চীনের কৌশল, জাপানের বাস্তবতা

বেইজিংয়ের ধারণা ছিল, তাকাইচির সরকার সংসদে শক্ত অবস্থানে নেই এবং চাপে পড়ে একসময় নরম হবে। কিন্তু বাস্তবে ঘটেছে উল্টোটা। চীনের লাগাতার চাপ জাপানের জনমনে নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্বের প্রশ্নকে সামনে এনে দিয়েছে। ফলে তাকাইচির প্রতি সমর্থন বেড়েছে দ্রুত।

জাপানের 'লৌহমানবী' কি দেশকে চীনের সঙ্গে যুদ্ধের মুখে ঠেলে দিচ্ছেন

জনপ্রিয়তার শীর্ষে প্রধানমন্ত্রী

ডিসেম্বরের শেষ দিকে জনমত জরিপে দেখা যায়, তাকাইচি সরকারের প্রতি সমর্থন পৌঁছেছে অভূতপূর্ব উচ্চতায়। এই জনপ্রিয়তাই তাঁকে রাজনৈতিকভাবে আরও সাহসী করে তুলেছে। সাম্প্রতিক সময়ে তিনি হঠাৎ নির্বাচনের কথা ভাবছেন বলে জাপানের রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা শুরু হয়েছে।

আগাম নির্বাচনের পথে জাপান

জাপানের শাসক দল বর্তমানে সংসদে নাজুক সংখ্যাগরিষ্ঠতায় রয়েছে। এই অবস্থায় আগাম নির্বাচন হলে হারানো আসন পুনরুদ্ধারের সুযোগ তৈরি হতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা। তাকাইচি ইতিমধ্যেই দলের শীর্ষ নেতৃত্বকে জানিয়েছেন, মাস শেষ হওয়ার আগেই সংসদ ভেঙে দেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। নির্বাচন হলে ফেব্রুয়ারির মধ্যেই ভোট হতে পারে।

জনপ্রিয়তার শীর্ষে জাপানের প্রধানমন্ত্রী তাকাইচি | আন্তর্জাতিক | বাংলাদেশ  সংবাদ সংস্থা (বাসস)

চীনের অস্বস্তি বাড়ছে

তাকাইচির আগাম নির্বাচন ভাবনায় চীনের মিডিয়াতেও দ্রুত প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। অনেক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, কূটনৈতিক চাপ সামলাতে এই সিদ্ধান্ত। তবে জাপানের অভ্যন্তরীণ বিশ্লেষকেরা বলছেন, চীনের এই মূল্যায়ন বাস্তবতার সঙ্গে পুরোপুরি মেলে না।

উল্টো ফলের হিসাব

চীনের লক্ষ্য ছিল চাপ দিয়ে জাপানকে পিছু হটতে বাধ্য করা। কিন্তু সেই চাপই এখন তাকাইচির জন্য রাজনৈতিক শক্তিতে পরিণত হয়েছে। উচ্চ জনপ্রিয়তা নিয়ে তিনি আগাম নির্বাচনের পথে এগোতে প্রস্তুত, আর চীন-জাপান সম্পর্ক আপাতত তাঁর অগ্রাধিকারের তালিকায় পেছনে চলে যাচ্ছে।