০২:৫১ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
স্কুলে সহিংসতা ঠেকাতে আগে বদলাতে হবে আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি জেন জি-র ‘ফ্রেন্ডস’ বানানোর চেষ্টা চলছে, কিন্তু কেন তা অসম্ভব সঙ্কুচিত পোশাক কি নষ্ট না করেই আগের মাপে ফেরানো সম্ভব? ডায়মন্ড লিগের ফাইনালে তৃতীয় অ্যামি হান্ট, দুর্দান্ত ছন্দে ছুটছেন ব্রিটিশ তারকা মারাঠি না জানলে ঝুঁকিতে লাইসেন্স, মহারাষ্ট্রে ট্যাক্সি ও অটোরিকশাচালকদের মিলল আরও এক বছর বয়স বাড়লেই জীবন থেমে যায় না, বরং আসে নিজের মতো বাঁচার স্বাধীনতা: প্রু লেইথ দাঁতের চিকিৎসকের কাছে যাওয়ার পথে বজ্রপাতে আহত, ‘ভয়াবহ’ অভিজ্ঞতার কথা জানালেন নিউইয়র্কের যুবক পেন্টাগনের নিয়ন্ত্রণ কি হারাচ্ছেন পিট হেগসেথ? আফ্রিকার প্রকৃত আয়তন তুলে ধরা মানচিত্রের পক্ষে জাতিসংঘের ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত সন্তান হত্যার মামলায় রায় হয়নি, লিন্ডসে ক্ল্যান্সিকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে তীব্র বিতর্ক

চীনের ‘নতুন সামরিকীকরণ’ অভিযোগ উড়িয়ে দিল জাপান, পাল্টা দ্রুত অস্ত্র সম্প্রসারণের অভিযোগ বেইজিংয়ের বিরুদ্ধে

জাপানের বিরুদ্ধে ‘নতুন সামরিকীকরণ’ বা পুনরায় সামরিক শক্তি বাড়ানোর অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছেন দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী শিনজিরো কোইজুমি। একই সঙ্গে তিনি চীনের বিরুদ্ধে দ্রুতগতিতে সামরিক শক্তি বৃদ্ধি এবং পর্যাপ্ত স্বচ্ছতা না রাখার অভিযোগ তুলেছেন। সিঙ্গাপুরে অনুষ্ঠিত আঞ্চলিক নিরাপত্তা সম্মেলনে দুই দেশের মধ্যে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনা আবারও সামনে এসেছে।

জাপানের কড়া জবাব

শিনজিরো কোইজুমি বলেন, চীন ধারাবাহিকভাবে উচ্চ হারে প্রতিরক্ষা ব্যয় বাড়িয়ে যাচ্ছে এবং তাদের সামরিক কার্যক্রম শুধু জাপান নয়, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের জন্যও উদ্বেগের বিষয়।

জাপানকে ‘নতুন সামরিক শক্তি’ হিসেবে চিহ্নিত করার সমালোচনার জবাবে তিনি প্রশ্ন তোলেন, একটি দেশ যার বিশাল পারমাণবিক অস্ত্রভাণ্ডার এবং কৌশলগত বোমারু বিমান রয়েছে, তার পরিবর্তে কেন জাপানকে এ ধরনের তকমা দেওয়া হচ্ছে। তিনি বলেন, জাপানের কাছে এ ধরনের অস্ত্র নেই এবং দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর থেকে দেশটির আচরণই তার অবস্থানকে স্পষ্টভাবে তুলে ধরে।

কোইজুমি আরও বলেন, জাপান আন্তর্জাতিক আইন, জাতিসংঘ সনদ এবং একটি উন্মুক্ত ও নিয়মভিত্তিক আন্তর্জাতিক ব্যবস্থার প্রতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

চীনের পাল্টা সমালোচনা

এর আগে চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলোকে জাপানের তথাকথিত ‘নব্য সামরিকীকরণ’ সম্পর্কে সতর্ক থাকার আহ্বান জানায়।

সিঙ্গাপুরের নিরাপত্তা সম্মেলনে অংশ নেওয়া চীনা প্রতিনিধি মেং শিয়াংছিংও জাপানের সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, অতীতের সামরিকবাদের উত্তরাধিকার পুরোপুরি দূর করতে না পারা কোনো দেশের আন্তর্জাতিক প্রতিরক্ষা সহযোগিতা নিয়ে বড় বড় কথা বলার নৈতিক অধিকার আছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। বিশেষ করে যেসব এশীয় দেশ অতীতে জাপানের আগ্রাসনের শিকার হয়েছে, তাদের আস্থা অর্জন করাও সহজ নয় বলে মন্তব্য করেন তিনি।

তাইওয়ান ইস্যুতে বেড়েছে উত্তেজনা

জাপান ও চীনের সম্পর্ক সাম্প্রতিক বছরগুলোতে আরও জটিল হয়ে উঠেছে। গত বছর জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি সতর্ক করে বলেছিলেন, চীনের সম্ভাব্য তাইওয়ান আক্রমণ জাপানের সামরিক প্রতিক্রিয়া ডেকে আনতে পারে।

চীন তাইওয়ানকে নিজেদের অংশ বলে দাবি করে আসছে, যদিও তাইওয়ানের সরকার সেই দাবি প্রত্যাখ্যান করে।

এই ইস্যুকে কেন্দ্র করে দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক ও নিরাপত্তা উত্তেজনা আরও বেড়েছে বলে বিশ্লেষকদের ধারণা।

Japan rejects 'new militarism', accuses China of rapidly arming | Reuters

সংলাপের দরজা খোলা রাখতে চায় টোকিও

চীনা প্রতিরক্ষামন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক না হওয়ায় হতাশা প্রকাশ করলেও কোইজুমি বলেন, জাপান এখনো আলোচনার পথ খোলা রাখতে চায়। আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে চীনসহ অন্যান্য দেশের সঙ্গে সংলাপ অব্যাহত রাখার প্রতিশ্রুতিও পুনর্ব্যক্ত করেন তিনি।

তার ভাষায়, মতপার্থক্য থাকলেও যোগাযোগ ও আলোচনা বন্ধ করা উচিত নয়।

প্রতিরক্ষা সহযোগিতায় নতুন ভূমিকার ইঙ্গিত

জাপান এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম সহযোগিতায় আরও সক্রিয় ভূমিকা নিতে চায় বলেও জানান কোইজুমি। তিনি বলেন, জোরজবরদস্তি, চাপ কিংবা বিভ্রান্তিকর তথ্যের বিরুদ্ধে দাঁড়াতে সক্ষম একটি অঞ্চল গড়ে তোলাই তাদের লক্ষ্য।

সম্প্রতি টোকিও কয়েক দশকের মধ্যে সবচেয়ে বড় প্রতিরক্ষা রপ্তানি নীতির সংস্কার ঘোষণা করেছে। এর ফলে যুদ্ধজাহাজ, ক্ষেপণাস্ত্রসহ বিভিন্ন প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম বিদেশে রপ্তানির পথ আরও উন্মুক্ত হয়েছে। এই পদক্ষেপকে জাপানের নিরাপত্তা কৌশলের গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন হিসেবে দেখা হচ্ছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

স্কুলে সহিংসতা ঠেকাতে আগে বদলাতে হবে আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি

চীনের ‘নতুন সামরিকীকরণ’ অভিযোগ উড়িয়ে দিল জাপান, পাল্টা দ্রুত অস্ত্র সম্প্রসারণের অভিযোগ বেইজিংয়ের বিরুদ্ধে

১০:৩১:৪০ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩১ মে ২০২৬

জাপানের বিরুদ্ধে ‘নতুন সামরিকীকরণ’ বা পুনরায় সামরিক শক্তি বাড়ানোর অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছেন দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী শিনজিরো কোইজুমি। একই সঙ্গে তিনি চীনের বিরুদ্ধে দ্রুতগতিতে সামরিক শক্তি বৃদ্ধি এবং পর্যাপ্ত স্বচ্ছতা না রাখার অভিযোগ তুলেছেন। সিঙ্গাপুরে অনুষ্ঠিত আঞ্চলিক নিরাপত্তা সম্মেলনে দুই দেশের মধ্যে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনা আবারও সামনে এসেছে।

জাপানের কড়া জবাব

শিনজিরো কোইজুমি বলেন, চীন ধারাবাহিকভাবে উচ্চ হারে প্রতিরক্ষা ব্যয় বাড়িয়ে যাচ্ছে এবং তাদের সামরিক কার্যক্রম শুধু জাপান নয়, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের জন্যও উদ্বেগের বিষয়।

জাপানকে ‘নতুন সামরিক শক্তি’ হিসেবে চিহ্নিত করার সমালোচনার জবাবে তিনি প্রশ্ন তোলেন, একটি দেশ যার বিশাল পারমাণবিক অস্ত্রভাণ্ডার এবং কৌশলগত বোমারু বিমান রয়েছে, তার পরিবর্তে কেন জাপানকে এ ধরনের তকমা দেওয়া হচ্ছে। তিনি বলেন, জাপানের কাছে এ ধরনের অস্ত্র নেই এবং দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর থেকে দেশটির আচরণই তার অবস্থানকে স্পষ্টভাবে তুলে ধরে।

কোইজুমি আরও বলেন, জাপান আন্তর্জাতিক আইন, জাতিসংঘ সনদ এবং একটি উন্মুক্ত ও নিয়মভিত্তিক আন্তর্জাতিক ব্যবস্থার প্রতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

চীনের পাল্টা সমালোচনা

এর আগে চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলোকে জাপানের তথাকথিত ‘নব্য সামরিকীকরণ’ সম্পর্কে সতর্ক থাকার আহ্বান জানায়।

সিঙ্গাপুরের নিরাপত্তা সম্মেলনে অংশ নেওয়া চীনা প্রতিনিধি মেং শিয়াংছিংও জাপানের সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, অতীতের সামরিকবাদের উত্তরাধিকার পুরোপুরি দূর করতে না পারা কোনো দেশের আন্তর্জাতিক প্রতিরক্ষা সহযোগিতা নিয়ে বড় বড় কথা বলার নৈতিক অধিকার আছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। বিশেষ করে যেসব এশীয় দেশ অতীতে জাপানের আগ্রাসনের শিকার হয়েছে, তাদের আস্থা অর্জন করাও সহজ নয় বলে মন্তব্য করেন তিনি।

তাইওয়ান ইস্যুতে বেড়েছে উত্তেজনা

জাপান ও চীনের সম্পর্ক সাম্প্রতিক বছরগুলোতে আরও জটিল হয়ে উঠেছে। গত বছর জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি সতর্ক করে বলেছিলেন, চীনের সম্ভাব্য তাইওয়ান আক্রমণ জাপানের সামরিক প্রতিক্রিয়া ডেকে আনতে পারে।

চীন তাইওয়ানকে নিজেদের অংশ বলে দাবি করে আসছে, যদিও তাইওয়ানের সরকার সেই দাবি প্রত্যাখ্যান করে।

এই ইস্যুকে কেন্দ্র করে দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক ও নিরাপত্তা উত্তেজনা আরও বেড়েছে বলে বিশ্লেষকদের ধারণা।

Japan rejects 'new militarism', accuses China of rapidly arming | Reuters

সংলাপের দরজা খোলা রাখতে চায় টোকিও

চীনা প্রতিরক্ষামন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক না হওয়ায় হতাশা প্রকাশ করলেও কোইজুমি বলেন, জাপান এখনো আলোচনার পথ খোলা রাখতে চায়। আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে চীনসহ অন্যান্য দেশের সঙ্গে সংলাপ অব্যাহত রাখার প্রতিশ্রুতিও পুনর্ব্যক্ত করেন তিনি।

তার ভাষায়, মতপার্থক্য থাকলেও যোগাযোগ ও আলোচনা বন্ধ করা উচিত নয়।

প্রতিরক্ষা সহযোগিতায় নতুন ভূমিকার ইঙ্গিত

জাপান এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম সহযোগিতায় আরও সক্রিয় ভূমিকা নিতে চায় বলেও জানান কোইজুমি। তিনি বলেন, জোরজবরদস্তি, চাপ কিংবা বিভ্রান্তিকর তথ্যের বিরুদ্ধে দাঁড়াতে সক্ষম একটি অঞ্চল গড়ে তোলাই তাদের লক্ষ্য।

সম্প্রতি টোকিও কয়েক দশকের মধ্যে সবচেয়ে বড় প্রতিরক্ষা রপ্তানি নীতির সংস্কার ঘোষণা করেছে। এর ফলে যুদ্ধজাহাজ, ক্ষেপণাস্ত্রসহ বিভিন্ন প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম বিদেশে রপ্তানির পথ আরও উন্মুক্ত হয়েছে। এই পদক্ষেপকে জাপানের নিরাপত্তা কৌশলের গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন হিসেবে দেখা হচ্ছে।