০১:৫১ অপরাহ্ন, রবিবার, ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
স্কুলে সহিংসতা ঠেকাতে আগে বদলাতে হবে আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি জেন জি-র ‘ফ্রেন্ডস’ বানানোর চেষ্টা চলছে, কিন্তু কেন তা অসম্ভব সঙ্কুচিত পোশাক কি নষ্ট না করেই আগের মাপে ফেরানো সম্ভব? ডায়মন্ড লিগের ফাইনালে তৃতীয় অ্যামি হান্ট, দুর্দান্ত ছন্দে ছুটছেন ব্রিটিশ তারকা মারাঠি না জানলে ঝুঁকিতে লাইসেন্স, মহারাষ্ট্রে ট্যাক্সি ও অটোরিকশাচালকদের মিলল আরও এক বছর বয়স বাড়লেই জীবন থেমে যায় না, বরং আসে নিজের মতো বাঁচার স্বাধীনতা: প্রু লেইথ দাঁতের চিকিৎসকের কাছে যাওয়ার পথে বজ্রপাতে আহত, ‘ভয়াবহ’ অভিজ্ঞতার কথা জানালেন নিউইয়র্কের যুবক পেন্টাগনের নিয়ন্ত্রণ কি হারাচ্ছেন পিট হেগসেথ? আফ্রিকার প্রকৃত আয়তন তুলে ধরা মানচিত্রের পক্ষে জাতিসংঘের ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত সন্তান হত্যার মামলায় রায় হয়নি, লিন্ডসে ক্ল্যান্সিকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে তীব্র বিতর্ক

চীনের প্রযুক্তি উত্থান, অর্থনীতির ভেতরে গভীর ফাটল

চীনের শহর ও ছোট নগরগুলোতে এখন একসঙ্গে দুই বিপরীত বাস্তবতা দেখা যাচ্ছে। একদিকে বৈদ্যুতিক গাড়ি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও মহাকাশ প্রযুক্তিতে দ্রুত অগ্রগতি, অন্যদিকে অর্থনীতির ভেতরে বাড়তে থাকা সংকট, কর্মসংস্থানের ঘাটতি ও ঋণের চাপ। প্রযুক্তিতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ব্যবধান কমালেও সাধারণ মানুষের জীবনে তার সুফল পৌঁছাচ্ছে না।

প্রযুক্তির দৌড়ে দ্রুত এগিয়ে চীন
চীনে রাষ্ট্রের পৃষ্ঠপোষকতায় বৈদ্যুতিক গাড়ি, রোবট ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক শিল্প দ্রুত বাড়ছে। চলতি বছরে উন্নত বিমানবাহী রণতরী উদ্বোধন, কারখানায় ব্যাপক হারে রোবট বসানো এবং চাঁদে মানুষ পাঠানোর পরিকল্পনা—সব মিলিয়ে প্রযুক্তি শক্তি হিসেবে নিজেদের অবস্থান শক্ত করছে দেশটি। গবেষণা ও উন্নয়নে ব্যয় গত কয়েক বছরে বড় আকারে বেড়েছে, যা উদ্ভাবনের গতি বাড়িয়েছে।

অর্থনীতির ভেতরের অস্বস্তিকর বাস্তবতা
এই অগ্রগতির আড়ালে রয়েছে ভিন্ন চিত্র। আবাসন খাতের দীর্ঘ মন্দা, কমে যাওয়া মজুরি ও বাড়তে থাকা বেকারত্ব মানুষের ব্যয়ক্ষমতা কমিয়ে দিচ্ছে। শহরে তরুণদের একটি বড় অংশ কাজ পাচ্ছে না, গ্রামে বহু মানুষ ন্যূনতম আয়ে জীবন চালাচ্ছে। অনেক এলাকায় প্রযুক্তি খাতে ব্যয় পুলিশের মতো মৌলিক খাতের চেয়েও বেশি হলেও সরকারি কর্মচারীদের বেতন বকেয়া থাকছে।

রাষ্ট্রনির্ভর বিনিয়োগ ও অপচয়ের প্রশ্ন
রাষ্ট্রের নির্দেশনায় বিপুল অর্থ ঢালার ফলে বহু লোকসানি প্রতিষ্ঠান টিকে থাকছে। বৈদ্যুতিক গাড়ি ও রোবট খাতে অসংখ্য প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠলেও অল্প কয়েকটি টেকসই হওয়ার সম্ভাবনা দেখাচ্ছে। অর্থনীতিবিদদের মতে, এই বিনিয়োগ কাঠামোতে বড় ধরনের অপচয় হচ্ছে, যা শিক্ষা ও সামাজিক সুরক্ষার মতো গুরুত্বপূর্ণ খাতে অর্থের ঘাটতি তৈরি করছে।

ঋণ, উৎপাদনশীলতা ও ভবিষ্যৎ চ্যালেঞ্জ
সরকারি ও স্থানীয় পর্যায়ে ঋণের পরিমাণ দ্রুত বেড়েছে, একই সঙ্গে উৎপাদনশীলতার গতি কমছে। জনসংখ্যা হ্রাসের প্রেক্ষাপটে এই প্রবণতা আরও উদ্বেগজনক। আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো পরামর্শ দিচ্ছে, বিনিয়োগ ও রপ্তানিনির্ভর মডেল থেকে সরে ভোগব্যয় বাড়ানোর দিকে মনোযোগ দিতে। এতে অভ্যন্তরীণ বাজার শক্তিশালী হতে পারে এবং মানুষের জীবনযাত্রায় স্বস্তি ফিরতে পারে।

নিজস্ব পথেই অনড় বেইজিং
তবে আপাতত নেতৃত্ব স্পষ্টভাবে প্রযুক্তিতে স্বনির্ভরতার পথেই এগোচ্ছে। বাণিজ্য উদ্বৃত্ত বাড়ছে, রপ্তানি দিয়ে চাপ সামাল দেওয়ার কৌশল অব্যাহত। নীতিনির্ধারকদের মতে, কৌশলগত খাতে স্বনির্ভরতা ভবিষ্যতের নিরাপত্তার জন্য জরুরি, যদিও এর অর্থনৈতিক মূল্য চড়া।

জনপ্রিয় সংবাদ

স্কুলে সহিংসতা ঠেকাতে আগে বদলাতে হবে আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি

চীনের প্রযুক্তি উত্থান, অর্থনীতির ভেতরে গভীর ফাটল

১০:০০:৩৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৩ ডিসেম্বর ২০২৫

চীনের শহর ও ছোট নগরগুলোতে এখন একসঙ্গে দুই বিপরীত বাস্তবতা দেখা যাচ্ছে। একদিকে বৈদ্যুতিক গাড়ি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও মহাকাশ প্রযুক্তিতে দ্রুত অগ্রগতি, অন্যদিকে অর্থনীতির ভেতরে বাড়তে থাকা সংকট, কর্মসংস্থানের ঘাটতি ও ঋণের চাপ। প্রযুক্তিতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ব্যবধান কমালেও সাধারণ মানুষের জীবনে তার সুফল পৌঁছাচ্ছে না।

প্রযুক্তির দৌড়ে দ্রুত এগিয়ে চীন
চীনে রাষ্ট্রের পৃষ্ঠপোষকতায় বৈদ্যুতিক গাড়ি, রোবট ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক শিল্প দ্রুত বাড়ছে। চলতি বছরে উন্নত বিমানবাহী রণতরী উদ্বোধন, কারখানায় ব্যাপক হারে রোবট বসানো এবং চাঁদে মানুষ পাঠানোর পরিকল্পনা—সব মিলিয়ে প্রযুক্তি শক্তি হিসেবে নিজেদের অবস্থান শক্ত করছে দেশটি। গবেষণা ও উন্নয়নে ব্যয় গত কয়েক বছরে বড় আকারে বেড়েছে, যা উদ্ভাবনের গতি বাড়িয়েছে।

অর্থনীতির ভেতরের অস্বস্তিকর বাস্তবতা
এই অগ্রগতির আড়ালে রয়েছে ভিন্ন চিত্র। আবাসন খাতের দীর্ঘ মন্দা, কমে যাওয়া মজুরি ও বাড়তে থাকা বেকারত্ব মানুষের ব্যয়ক্ষমতা কমিয়ে দিচ্ছে। শহরে তরুণদের একটি বড় অংশ কাজ পাচ্ছে না, গ্রামে বহু মানুষ ন্যূনতম আয়ে জীবন চালাচ্ছে। অনেক এলাকায় প্রযুক্তি খাতে ব্যয় পুলিশের মতো মৌলিক খাতের চেয়েও বেশি হলেও সরকারি কর্মচারীদের বেতন বকেয়া থাকছে।

রাষ্ট্রনির্ভর বিনিয়োগ ও অপচয়ের প্রশ্ন
রাষ্ট্রের নির্দেশনায় বিপুল অর্থ ঢালার ফলে বহু লোকসানি প্রতিষ্ঠান টিকে থাকছে। বৈদ্যুতিক গাড়ি ও রোবট খাতে অসংখ্য প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠলেও অল্প কয়েকটি টেকসই হওয়ার সম্ভাবনা দেখাচ্ছে। অর্থনীতিবিদদের মতে, এই বিনিয়োগ কাঠামোতে বড় ধরনের অপচয় হচ্ছে, যা শিক্ষা ও সামাজিক সুরক্ষার মতো গুরুত্বপূর্ণ খাতে অর্থের ঘাটতি তৈরি করছে।

ঋণ, উৎপাদনশীলতা ও ভবিষ্যৎ চ্যালেঞ্জ
সরকারি ও স্থানীয় পর্যায়ে ঋণের পরিমাণ দ্রুত বেড়েছে, একই সঙ্গে উৎপাদনশীলতার গতি কমছে। জনসংখ্যা হ্রাসের প্রেক্ষাপটে এই প্রবণতা আরও উদ্বেগজনক। আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো পরামর্শ দিচ্ছে, বিনিয়োগ ও রপ্তানিনির্ভর মডেল থেকে সরে ভোগব্যয় বাড়ানোর দিকে মনোযোগ দিতে। এতে অভ্যন্তরীণ বাজার শক্তিশালী হতে পারে এবং মানুষের জীবনযাত্রায় স্বস্তি ফিরতে পারে।

নিজস্ব পথেই অনড় বেইজিং
তবে আপাতত নেতৃত্ব স্পষ্টভাবে প্রযুক্তিতে স্বনির্ভরতার পথেই এগোচ্ছে। বাণিজ্য উদ্বৃত্ত বাড়ছে, রপ্তানি দিয়ে চাপ সামাল দেওয়ার কৌশল অব্যাহত। নীতিনির্ধারকদের মতে, কৌশলগত খাতে স্বনির্ভরতা ভবিষ্যতের নিরাপত্তার জন্য জরুরি, যদিও এর অর্থনৈতিক মূল্য চড়া।