০৩:১৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
স্কুলে সহিংসতা ঠেকাতে আগে বদলাতে হবে আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি জেন জি-র ‘ফ্রেন্ডস’ বানানোর চেষ্টা চলছে, কিন্তু কেন তা অসম্ভব সঙ্কুচিত পোশাক কি নষ্ট না করেই আগের মাপে ফেরানো সম্ভব? ডায়মন্ড লিগের ফাইনালে তৃতীয় অ্যামি হান্ট, দুর্দান্ত ছন্দে ছুটছেন ব্রিটিশ তারকা মারাঠি না জানলে ঝুঁকিতে লাইসেন্স, মহারাষ্ট্রে ট্যাক্সি ও অটোরিকশাচালকদের মিলল আরও এক বছর বয়স বাড়লেই জীবন থেমে যায় না, বরং আসে নিজের মতো বাঁচার স্বাধীনতা: প্রু লেইথ দাঁতের চিকিৎসকের কাছে যাওয়ার পথে বজ্রপাতে আহত, ‘ভয়াবহ’ অভিজ্ঞতার কথা জানালেন নিউইয়র্কের যুবক পেন্টাগনের নিয়ন্ত্রণ কি হারাচ্ছেন পিট হেগসেথ? আফ্রিকার প্রকৃত আয়তন তুলে ধরা মানচিত্রের পক্ষে জাতিসংঘের ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত সন্তান হত্যার মামলায় রায় হয়নি, লিন্ডসে ক্ল্যান্সিকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে তীব্র বিতর্ক

চীনের রপ্তানি বুম থামছে না, নতুন বাজারে বিস্তারেই বাড়ছে উদ্বৃত্ত

বাণিজ্যযুদ্ধ, শুল্কের চাপ আর বৈশ্বিক অস্থিরতার মাঝেও চীনের রপ্তানি যেন থামার কোনো লক্ষণ দেখাচ্ছে না। বরং নতুন বাজারে বিস্তার, প্রযুক্তিনির্ভর পণ্যে অগ্রগতি এবং প্রতিযোগিতামূলক দামের কারণে দেশটির রপ্তানি উদ্বৃত্ত আরও বাড়ার ইঙ্গিত দিচ্ছে।

রপ্তানিতে অব্যাহত ঊর্ধ্বগতি

২০২৬ সালের প্রথম তিন মাসে চীনের রপ্তানি আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় ১৪.৭ শতাংশ বেড়েছে। একই সময়ে ট্রানজিস্টরসহ ইলেকট্রনিক পণ্যের রপ্তানিতে উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি দেখা গেছে। এই ধারাবাহিক প্রবৃদ্ধির ফলে ২০২৫ সালেই দেশটি প্রায় ১.২ ট্রিলিয়ন ডলারের রেকর্ড বাণিজ্য উদ্বৃত্ত অর্জন করে।

মার্কিন বাজারে নির্ভরতা কমছে

একসময় যুক্তরাষ্ট্র ছিল চীনের প্রধান রপ্তানি বাজার। কিন্তু গত এক দশকে সেই নির্ভরতা কমে এসেছে। শুল্ক যুদ্ধের প্রভাব এবং বিকল্প বাজার খোঁজার কারণে এখন চীন তার রপ্তানির বড় অংশ দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া, ইউরোপ ও অন্যান্য অঞ্চলে সরিয়ে নিয়েছে।

২০২৫ সালে যুক্তরাষ্ট্রে চীনের রপ্তানি কমলেও অন্যান্য দেশে প্রায় ৩০০ বিলিয়ন ডলার রপ্তানি বেড়েছে, যা ক্ষতি পুষিয়ে দিয়েছে।

রপ্তানি তথ্যে বড় গরমিল, এলডিসি উত্তরণসহ আরও যত প্রশ্ন | The Daily Star

নতুন বাজার, নতুন কৌশল

চীনের রপ্তানি বৃদ্ধির একটি বড় কারণ হলো নতুন বাজার সৃষ্টি। অনেক দেশ চীনের পণ্য আমদানি করে আবার তা অন্য দেশে রপ্তানি করছে। তবে বিশ্লেষণে দেখা গেছে, এটি শুধু পুরোনো রুট বদল নয়, বরং নতুন চাহিদা তৈরির ফলও বটে।

বিশেষ করে ভিয়েতনাম, ভারত ও থাইল্যান্ডের মতো দেশগুলো চীনের পণ্যের বড় ক্রেতা হয়ে উঠেছে।

উচ্চ প্রযুক্তির দিকে ঝুঁকছে চীন

চীনের রপ্তানি কাঠামোয় বড় পরিবর্তন এসেছে। আগে যেখানে পোশাক ও জুতার মতো সাধারণ পণ্য ছিল প্রধান, এখন সেখানে ইলেকট্রনিকস, গাড়ি ও যন্ত্রপাতির মতো জটিল পণ্যের গুরুত্ব বাড়ছে।

২০২৬ সালের শুরুতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা খাতের চাহিদা বাড়ায় মেমোরি চিপের রপ্তানি ১৭৪ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে। এতে বোঝা যায়, প্রযুক্তিনির্ভর পণ্যে চীন দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে।

কম দামে প্রতিযোগিতায় এগিয়ে

চীনের রপ্তানির আরেকটি বড় শক্তি হলো এর প্রতিযোগিতামূলক দাম। দীর্ঘ সময় ধরে উৎপাদন খরচ কম থাকা এবং মুদ্রার বাস্তব মূল্য হ্রাস পাওয়ার কারণে চীনা পণ্য আন্তর্জাতিক বাজারে তুলনামূলকভাবে সস্তা।

এই দামের সুবিধাই রপ্তানিকে আরও শক্তিশালী করেছে।

নতুন চ্যালেঞ্জ সামনে

তবে সব কিছুই সহজ নয়। ইউরোপীয় ইউনিয়নের মতো বড় বাজারগুলো ইতোমধ্যে কিছু পণ্যে শুল্ক আরোপ করেছে। ভবিষ্যতে আরও দেশ একই পথে হাঁটতে পারে।

এছাড়া মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতা ও তেলের দামের বৃদ্ধি অনেক দেশের আমদানি সক্ষমতা কমিয়ে দিতে পারে, যা চীনের রপ্তানিতে প্রভাব ফেলতে পারে।

বাণিজ্য যুদ্ধের মধ্যেও রপ্তানি বাড়ছে চীনের

অভ্যন্তরীণ দুর্বলতা থেকেই শক্তি

চীনের রপ্তানি বৃদ্ধির পেছনে একটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ হলো দেশের অভ্যন্তরীণ চাহিদার দুর্বলতা। স্থানীয় বাজারে চাহিদা কম থাকায় উৎপাদিত পণ্য বিদেশে কম দামে বিক্রি করা হচ্ছে।

এই ভারসাম্যহীনতা একদিকে যেমন রপ্তানিকে বাড়াচ্ছে, অন্যদিকে আমদানি কমিয়ে বড় বাণিজ্য উদ্বৃত্ত তৈরি করছে।

সামনে কী অপেক্ষা করছে

সব দিক বিবেচনায় দেখা যাচ্ছে, বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ থাকা সত্ত্বেও চীনের রপ্তানি শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে। নতুন প্রযুক্তি, বাজার বৈচিত্র্য এবং কম খরচের সুবিধা থাকায় এই প্রবৃদ্ধি অব্যাহত থাকতে পারে। তবে আন্তর্জাতিক চাপ ও ভূরাজনৈতিক ঝুঁকি ভবিষ্যতের বড় নির্ধারক হয়ে উঠবে।

 

 

জনপ্রিয় সংবাদ

স্কুলে সহিংসতা ঠেকাতে আগে বদলাতে হবে আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি

চীনের রপ্তানি বুম থামছে না, নতুন বাজারে বিস্তারেই বাড়ছে উদ্বৃত্ত

০৩:০৭:৪৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৫ এপ্রিল ২০২৬

বাণিজ্যযুদ্ধ, শুল্কের চাপ আর বৈশ্বিক অস্থিরতার মাঝেও চীনের রপ্তানি যেন থামার কোনো লক্ষণ দেখাচ্ছে না। বরং নতুন বাজারে বিস্তার, প্রযুক্তিনির্ভর পণ্যে অগ্রগতি এবং প্রতিযোগিতামূলক দামের কারণে দেশটির রপ্তানি উদ্বৃত্ত আরও বাড়ার ইঙ্গিত দিচ্ছে।

রপ্তানিতে অব্যাহত ঊর্ধ্বগতি

২০২৬ সালের প্রথম তিন মাসে চীনের রপ্তানি আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় ১৪.৭ শতাংশ বেড়েছে। একই সময়ে ট্রানজিস্টরসহ ইলেকট্রনিক পণ্যের রপ্তানিতে উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি দেখা গেছে। এই ধারাবাহিক প্রবৃদ্ধির ফলে ২০২৫ সালেই দেশটি প্রায় ১.২ ট্রিলিয়ন ডলারের রেকর্ড বাণিজ্য উদ্বৃত্ত অর্জন করে।

মার্কিন বাজারে নির্ভরতা কমছে

একসময় যুক্তরাষ্ট্র ছিল চীনের প্রধান রপ্তানি বাজার। কিন্তু গত এক দশকে সেই নির্ভরতা কমে এসেছে। শুল্ক যুদ্ধের প্রভাব এবং বিকল্প বাজার খোঁজার কারণে এখন চীন তার রপ্তানির বড় অংশ দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া, ইউরোপ ও অন্যান্য অঞ্চলে সরিয়ে নিয়েছে।

২০২৫ সালে যুক্তরাষ্ট্রে চীনের রপ্তানি কমলেও অন্যান্য দেশে প্রায় ৩০০ বিলিয়ন ডলার রপ্তানি বেড়েছে, যা ক্ষতি পুষিয়ে দিয়েছে।

রপ্তানি তথ্যে বড় গরমিল, এলডিসি উত্তরণসহ আরও যত প্রশ্ন | The Daily Star

নতুন বাজার, নতুন কৌশল

চীনের রপ্তানি বৃদ্ধির একটি বড় কারণ হলো নতুন বাজার সৃষ্টি। অনেক দেশ চীনের পণ্য আমদানি করে আবার তা অন্য দেশে রপ্তানি করছে। তবে বিশ্লেষণে দেখা গেছে, এটি শুধু পুরোনো রুট বদল নয়, বরং নতুন চাহিদা তৈরির ফলও বটে।

বিশেষ করে ভিয়েতনাম, ভারত ও থাইল্যান্ডের মতো দেশগুলো চীনের পণ্যের বড় ক্রেতা হয়ে উঠেছে।

উচ্চ প্রযুক্তির দিকে ঝুঁকছে চীন

চীনের রপ্তানি কাঠামোয় বড় পরিবর্তন এসেছে। আগে যেখানে পোশাক ও জুতার মতো সাধারণ পণ্য ছিল প্রধান, এখন সেখানে ইলেকট্রনিকস, গাড়ি ও যন্ত্রপাতির মতো জটিল পণ্যের গুরুত্ব বাড়ছে।

২০২৬ সালের শুরুতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা খাতের চাহিদা বাড়ায় মেমোরি চিপের রপ্তানি ১৭৪ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে। এতে বোঝা যায়, প্রযুক্তিনির্ভর পণ্যে চীন দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে।

কম দামে প্রতিযোগিতায় এগিয়ে

চীনের রপ্তানির আরেকটি বড় শক্তি হলো এর প্রতিযোগিতামূলক দাম। দীর্ঘ সময় ধরে উৎপাদন খরচ কম থাকা এবং মুদ্রার বাস্তব মূল্য হ্রাস পাওয়ার কারণে চীনা পণ্য আন্তর্জাতিক বাজারে তুলনামূলকভাবে সস্তা।

এই দামের সুবিধাই রপ্তানিকে আরও শক্তিশালী করেছে।

নতুন চ্যালেঞ্জ সামনে

তবে সব কিছুই সহজ নয়। ইউরোপীয় ইউনিয়নের মতো বড় বাজারগুলো ইতোমধ্যে কিছু পণ্যে শুল্ক আরোপ করেছে। ভবিষ্যতে আরও দেশ একই পথে হাঁটতে পারে।

এছাড়া মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতা ও তেলের দামের বৃদ্ধি অনেক দেশের আমদানি সক্ষমতা কমিয়ে দিতে পারে, যা চীনের রপ্তানিতে প্রভাব ফেলতে পারে।

বাণিজ্য যুদ্ধের মধ্যেও রপ্তানি বাড়ছে চীনের

অভ্যন্তরীণ দুর্বলতা থেকেই শক্তি

চীনের রপ্তানি বৃদ্ধির পেছনে একটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ হলো দেশের অভ্যন্তরীণ চাহিদার দুর্বলতা। স্থানীয় বাজারে চাহিদা কম থাকায় উৎপাদিত পণ্য বিদেশে কম দামে বিক্রি করা হচ্ছে।

এই ভারসাম্যহীনতা একদিকে যেমন রপ্তানিকে বাড়াচ্ছে, অন্যদিকে আমদানি কমিয়ে বড় বাণিজ্য উদ্বৃত্ত তৈরি করছে।

সামনে কী অপেক্ষা করছে

সব দিক বিবেচনায় দেখা যাচ্ছে, বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ থাকা সত্ত্বেও চীনের রপ্তানি শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে। নতুন প্রযুক্তি, বাজার বৈচিত্র্য এবং কম খরচের সুবিধা থাকায় এই প্রবৃদ্ধি অব্যাহত থাকতে পারে। তবে আন্তর্জাতিক চাপ ও ভূরাজনৈতিক ঝুঁকি ভবিষ্যতের বড় নির্ধারক হয়ে উঠবে।