০১:৩৮ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
স্কুলে সহিংসতা ঠেকাতে আগে বদলাতে হবে আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি জেন জি-র ‘ফ্রেন্ডস’ বানানোর চেষ্টা চলছে, কিন্তু কেন তা অসম্ভব সঙ্কুচিত পোশাক কি নষ্ট না করেই আগের মাপে ফেরানো সম্ভব? ডায়মন্ড লিগের ফাইনালে তৃতীয় অ্যামি হান্ট, দুর্দান্ত ছন্দে ছুটছেন ব্রিটিশ তারকা মারাঠি না জানলে ঝুঁকিতে লাইসেন্স, মহারাষ্ট্রে ট্যাক্সি ও অটোরিকশাচালকদের মিলল আরও এক বছর বয়স বাড়লেই জীবন থেমে যায় না, বরং আসে নিজের মতো বাঁচার স্বাধীনতা: প্রু লেইথ দাঁতের চিকিৎসকের কাছে যাওয়ার পথে বজ্রপাতে আহত, ‘ভয়াবহ’ অভিজ্ঞতার কথা জানালেন নিউইয়র্কের যুবক পেন্টাগনের নিয়ন্ত্রণ কি হারাচ্ছেন পিট হেগসেথ? আফ্রিকার প্রকৃত আয়তন তুলে ধরা মানচিত্রের পক্ষে জাতিসংঘের ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত সন্তান হত্যার মামলায় রায় হয়নি, লিন্ডসে ক্ল্যান্সিকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে তীব্র বিতর্ক

চীনের সঙ্গে সম্পর্কের নতুন অধ্যায়, স্টারমার ও শি বৈঠকে অর্থনৈতিক জোটের বার্তা

চীনের সঙ্গে ব্রিটেনের সম্পর্ক নতুনভাবে সাজানোর ঘোষণা দিলেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার ও চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। বেইজিংয়ে উচ্চ পর্যায়ের বৈঠকে দুই নেতা অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব জোরদার করার অঙ্গীকার করেন। এই সম্পর্ক পুনর্গঠনের কেন্দ্রে রয়েছে ব্রিটেনভিত্তিক ওষুধ প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠানের চীনে বিপুল বিনিয়োগ, যা উভয় দেশের জন্য লাভজনক হবে বলে দাবি করা হয়েছে।

দীর্ঘ বিরতির পর শীর্ষ বৈঠক
প্রায় আট বছর পর কোনো ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী হিসেবে প্রথমবার চীন সফরে গেছেন কিয়ার স্টারমার। চার দিনের সফরের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিনে তিনি চীনের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক বৈঠক ও মধ্যাহ্নভোজে অংশ নেন। প্রায় তিন ঘণ্টার এই আলোচনায় অর্থনীতি, নিরাপত্তা, ইউক্রেন যুদ্ধ এবং মানবাধিকার প্রসঙ্গ উঠে আসে। পাশাপাশি আলোচনায় জায়গা পায় ফুটবল ও সাহিত্য।

বিনিয়োগকে সামনে রেখে সম্পর্কের বার্তা
বৈঠকে স্টারমার চীনে নতুন ওষুধ উদ্ভাবনের লক্ষ্যে একটি বড় বিনিয়োগ পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন। তার ভাষায়, এই বিনিয়োগ দুই দেশের অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে এবং বাস্তব সহযোগিতার সুযোগ তৈরি করবে। একই সঙ্গে তিনি স্পষ্ট করে বলেন, সম্পর্ক ঘনিষ্ঠ হলেও মতভেদ থাকলে তা খোলাখুলি আলোচনার মধ্য দিয়েই সমাধান করতে চায় লন্ডন।

শি জিনপিং বলেন, অতীতে ব্রিটেন ও চীনের সম্পর্ক নানা উত্থান-পতনের মধ্য দিয়ে গেছে, যা কোনো পক্ষের জন্যই লাভজনক ছিল না। তার মতে, দীর্ঘমেয়াদি অংশীদারিত্ব দুই দেশের ভবিষ্যতের জন্য সবচেয়ে কার্যকর পথ।

বিশ্ব রাজনীতির চাপ ও কৌশলগত হিসাব
এই সফর এমন এক সময়ে হয়েছে, যখন যুক্তরাষ্ট্রের নীতিগত অনিশ্চয়তা পশ্চিমা মিত্রদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়িয়েছে। বাণিজ্য শুল্ক আরোপের হুমকি এবং আন্তর্জাতিক ভূখণ্ড নিয়ে বক্তব্য বিশ্ব রাজনীতিতে নতুন হিসাব তৈরি করেছে। এমন প্রেক্ষাপটে ইউরোপ ও উত্তর আমেরিকার নেতারা বেইজিংয়ের সঙ্গে সম্পর্ক নতুন করে ভাবছেন।

স্টারমার জানান, আলোচনায় ব্রিটিশ পণ্যের ওপর শুল্ক কমানোর বিষয়ে ও অগ্রগতি হয়েছে। পাশাপাশি ত্রিশ দিনের কম সময়ের জন্য চীন ভ্রমণে ব্রিটিশ নাগরিকদের ভিসা ছাড় দেওয়ার সিদ্ধান্তকে তিনি সম্পর্কের ইতিবাচক দিক হিসেবে উল্লেখ করেন।

অভ্যন্তরীণ চাপ ও পররাষ্ট্র নীতি
নিজ দেশে জীবনযাত্রার মান উন্নয়নের চাপে থাকা স্টারমার সরকার চীনের সঙ্গে অর্থনৈতিক সম্পর্ককে অগ্রাধিকার দিচ্ছে। যদিও গোয়েন্দাগিরি ও মানবাধিকার ইস্যুতে উদ্বেগ পুরোপুরি দূর হয়নি। ব্রিটেনের বিরোধী দল এই সফর নিয়ে সমালোচনাও করেছে।

বৈঠকে মানব পাচার ও অবৈধ অভিবাসন রোধে যৌথ উদ্যোগের ঘোষণা ও আসে। ছোট নৌকায় ব্যবহৃত যন্ত্রাংশের অপব্যবহার ঠেকাতে তথ্য বিনিময় ও সমন্বয়ের বিষয়ে দুই দেশ একমত হয়েছে।

মানবাধিকার প্রসঙ্গ ও কূটনৈতিক সৌজন্য
স্টারমার জানান, হংকংয়ের একজন ব্রিটিশ নাগরিকের মামলার বিষয়ে ও তিনি সম্মানজনক পরিবেশে আলোচনা করেছেন। সফরের আনুষ্ঠানিকতার বাইরে স্থানীয় সংস্কৃতির সঙ্গে পরিচিত হওয়ার চেষ্টা দেখা গেছে, যা চীনা গণমাধ্যমে আলোচিত হয়েছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

স্কুলে সহিংসতা ঠেকাতে আগে বদলাতে হবে আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি

চীনের সঙ্গে সম্পর্কের নতুন অধ্যায়, স্টারমার ও শি বৈঠকে অর্থনৈতিক জোটের বার্তা

০৭:১২:৪১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ জানুয়ারী ২০২৬

চীনের সঙ্গে ব্রিটেনের সম্পর্ক নতুনভাবে সাজানোর ঘোষণা দিলেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার ও চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। বেইজিংয়ে উচ্চ পর্যায়ের বৈঠকে দুই নেতা অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব জোরদার করার অঙ্গীকার করেন। এই সম্পর্ক পুনর্গঠনের কেন্দ্রে রয়েছে ব্রিটেনভিত্তিক ওষুধ প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠানের চীনে বিপুল বিনিয়োগ, যা উভয় দেশের জন্য লাভজনক হবে বলে দাবি করা হয়েছে।

দীর্ঘ বিরতির পর শীর্ষ বৈঠক
প্রায় আট বছর পর কোনো ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী হিসেবে প্রথমবার চীন সফরে গেছেন কিয়ার স্টারমার। চার দিনের সফরের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিনে তিনি চীনের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক বৈঠক ও মধ্যাহ্নভোজে অংশ নেন। প্রায় তিন ঘণ্টার এই আলোচনায় অর্থনীতি, নিরাপত্তা, ইউক্রেন যুদ্ধ এবং মানবাধিকার প্রসঙ্গ উঠে আসে। পাশাপাশি আলোচনায় জায়গা পায় ফুটবল ও সাহিত্য।

বিনিয়োগকে সামনে রেখে সম্পর্কের বার্তা
বৈঠকে স্টারমার চীনে নতুন ওষুধ উদ্ভাবনের লক্ষ্যে একটি বড় বিনিয়োগ পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন। তার ভাষায়, এই বিনিয়োগ দুই দেশের অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে এবং বাস্তব সহযোগিতার সুযোগ তৈরি করবে। একই সঙ্গে তিনি স্পষ্ট করে বলেন, সম্পর্ক ঘনিষ্ঠ হলেও মতভেদ থাকলে তা খোলাখুলি আলোচনার মধ্য দিয়েই সমাধান করতে চায় লন্ডন।

শি জিনপিং বলেন, অতীতে ব্রিটেন ও চীনের সম্পর্ক নানা উত্থান-পতনের মধ্য দিয়ে গেছে, যা কোনো পক্ষের জন্যই লাভজনক ছিল না। তার মতে, দীর্ঘমেয়াদি অংশীদারিত্ব দুই দেশের ভবিষ্যতের জন্য সবচেয়ে কার্যকর পথ।

বিশ্ব রাজনীতির চাপ ও কৌশলগত হিসাব
এই সফর এমন এক সময়ে হয়েছে, যখন যুক্তরাষ্ট্রের নীতিগত অনিশ্চয়তা পশ্চিমা মিত্রদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়িয়েছে। বাণিজ্য শুল্ক আরোপের হুমকি এবং আন্তর্জাতিক ভূখণ্ড নিয়ে বক্তব্য বিশ্ব রাজনীতিতে নতুন হিসাব তৈরি করেছে। এমন প্রেক্ষাপটে ইউরোপ ও উত্তর আমেরিকার নেতারা বেইজিংয়ের সঙ্গে সম্পর্ক নতুন করে ভাবছেন।

স্টারমার জানান, আলোচনায় ব্রিটিশ পণ্যের ওপর শুল্ক কমানোর বিষয়ে ও অগ্রগতি হয়েছে। পাশাপাশি ত্রিশ দিনের কম সময়ের জন্য চীন ভ্রমণে ব্রিটিশ নাগরিকদের ভিসা ছাড় দেওয়ার সিদ্ধান্তকে তিনি সম্পর্কের ইতিবাচক দিক হিসেবে উল্লেখ করেন।

অভ্যন্তরীণ চাপ ও পররাষ্ট্র নীতি
নিজ দেশে জীবনযাত্রার মান উন্নয়নের চাপে থাকা স্টারমার সরকার চীনের সঙ্গে অর্থনৈতিক সম্পর্ককে অগ্রাধিকার দিচ্ছে। যদিও গোয়েন্দাগিরি ও মানবাধিকার ইস্যুতে উদ্বেগ পুরোপুরি দূর হয়নি। ব্রিটেনের বিরোধী দল এই সফর নিয়ে সমালোচনাও করেছে।

বৈঠকে মানব পাচার ও অবৈধ অভিবাসন রোধে যৌথ উদ্যোগের ঘোষণা ও আসে। ছোট নৌকায় ব্যবহৃত যন্ত্রাংশের অপব্যবহার ঠেকাতে তথ্য বিনিময় ও সমন্বয়ের বিষয়ে দুই দেশ একমত হয়েছে।

মানবাধিকার প্রসঙ্গ ও কূটনৈতিক সৌজন্য
স্টারমার জানান, হংকংয়ের একজন ব্রিটিশ নাগরিকের মামলার বিষয়ে ও তিনি সম্মানজনক পরিবেশে আলোচনা করেছেন। সফরের আনুষ্ঠানিকতার বাইরে স্থানীয় সংস্কৃতির সঙ্গে পরিচিত হওয়ার চেষ্টা দেখা গেছে, যা চীনা গণমাধ্যমে আলোচিত হয়েছে।