১২:২৪ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
স্কুলে সহিংসতা ঠেকাতে আগে বদলাতে হবে আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি জেন জি-র ‘ফ্রেন্ডস’ বানানোর চেষ্টা চলছে, কিন্তু কেন তা অসম্ভব সঙ্কুচিত পোশাক কি নষ্ট না করেই আগের মাপে ফেরানো সম্ভব? ডায়মন্ড লিগের ফাইনালে তৃতীয় অ্যামি হান্ট, দুর্দান্ত ছন্দে ছুটছেন ব্রিটিশ তারকা মারাঠি না জানলে ঝুঁকিতে লাইসেন্স, মহারাষ্ট্রে ট্যাক্সি ও অটোরিকশাচালকদের মিলল আরও এক বছর বয়স বাড়লেই জীবন থেমে যায় না, বরং আসে নিজের মতো বাঁচার স্বাধীনতা: প্রু লেইথ দাঁতের চিকিৎসকের কাছে যাওয়ার পথে বজ্রপাতে আহত, ‘ভয়াবহ’ অভিজ্ঞতার কথা জানালেন নিউইয়র্কের যুবক পেন্টাগনের নিয়ন্ত্রণ কি হারাচ্ছেন পিট হেগসেথ? আফ্রিকার প্রকৃত আয়তন তুলে ধরা মানচিত্রের পক্ষে জাতিসংঘের ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত সন্তান হত্যার মামলায় রায় হয়নি, লিন্ডসে ক্ল্যান্সিকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে তীব্র বিতর্ক

চীন যে অর্থনৈতিক দৈত্য হতে চায় না, বাস্তবে সেই ছবিটাই আরও স্পষ্ট

চীনের অর্থনীতি ২০২৫ সাল শেষ করেছে শক্তিশালী রপ্তানির একই সুরে। দেশের ভেতরে চাহিদা দুর্বল থাকলেও বিশ্বজুড়ে চীনা পণ্যের দাপট ছিল চোখে পড়ার মতো। অর্থনীতিবিদদের ভাষায়, চীনের প্রবৃদ্ধির বড় অংশই এখন ধার করা, যা আসছে বিদেশি বাজার থেকে। দেশের ভেতরের অর্থনীতি সেই গতিতে সাড়া দিতে পারছে না। এই বৈপরীত্যই নতুন করে প্রশ্ন তুলছে চীনের দীর্ঘদিনের রপ্তানি নির্ভর উন্নয়ন মডেল নিয়ে।

রপ্তানির শক্তি, ঘরের ভেতরের দুর্বলতা

বছর শেষে পাওয়া পরিসংখ্যান চীনের উৎপাদন ও রপ্তানি সক্ষমতার শক্তিশালী চিত্র তুলে ধরেছে। বাণিজ্য উদ্বৃত্ত ও চলতি হিসাবে বড় উদ্বৃত্ত দেখাচ্ছে, যা স্পষ্টভাবে জানায় যে বৈশ্বিক বাজারে চীনের কারখানাগুলো কতটা সক্রিয়। কিন্তু এই সাফল্যের বিপরীতে দেশের অভ্যন্তরীণ অর্থনীতি দাঁড়িয়ে আছে চাপের মুখে। ভোক্তা ব্যয় বাড়ছে না, খুচরা বিক্রি স্থবির, আর মানুষের আস্থাও নড়বড়ে।

অর্থনৈতিক ভারসাম্যের সংকট

বিশ্লেষকদের মতে, চীনের অর্থনীতিতে ভারসাম্যহীনতা বাড়ছে। রপ্তানি শক্তিশালী হলেও অভ্যন্তরীণ চাহিদা দুর্বল হয়ে পড়ায় সামগ্রিক স্থায়িত্ব নিয়ে সন্দেহ তৈরি হচ্ছে। এতে শুধু দেশের ভেতরেই নয়, আন্তর্জাতিক পর্যায়েও চাপ বাড়ছে। প্রতিবেশী ও বাণিজ্যিক অংশীদারদের মধ্যে আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে যে চীনের উদ্বৃত্ত অর্থনীতি তাদের বাজারে অস্বাস্থ্যকর প্রতিযোগিতা তৈরি করছে।

দৈত্য না দুর্বল রাষ্ট্র, বেইজিংয়ের দৃষ্টিভঙ্গি

আন্তর্জাতিক মহলে চীনকে অনেকেই অর্থনৈতিক দৈত্য হিসেবে দেখলেও বেইজিং নিজেকে দেখে ভিন্নভাবে। দেশটির নেতৃত্বের চোখে চীন এখনো খাদ্য ও জ্বালানি নিরাপত্তায় ভঙ্গুর। নিজেদের তারা শক্তিশালী আধিপত্যশীল শক্তি নয়, বরং ঝুঁকিতে থাকা একটি রাষ্ট্র হিসেবে ভাবতে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করে। এই মানসিকতাই নীতিনির্ধারণে প্রভাব ফেলছে।

China's car sales jump in October as automakers rush to meet annual goals |  World Auto Forum

দেশের বাজারে ভোক্তার অনীহা

দেশের ভেতরে মানুষের মনোভাব এখনো দুর্বল। খুচরা বিক্রি মাসের পর মাস তেমন বাড়েনি। গাড়ির বাজারে এই চিত্র আরও স্পষ্ট। বিদেশে চীনা গাড়ির বিক্রি দ্রুত বাড়লেও দেশের বাজারে বিক্রি কমছে। প্রিমিয়াম ও সাধারণ উভয় ধরনের গাড়ির নিবন্ধনেই বড় ধরনের পতন দেখা যাচ্ছে। এতে বোঝা যায়, ভর্তুকির ওপর নির্ভরতা কমে যাওয়ায় ভোক্তা ব্যয় টানাটানি হয়ে পড়েছে।

নতুন পথের প্রয়োজন

দীর্ঘদিন ধরে উৎপাদন ও রপ্তানি নির্ভর যে উন্নয়ন সূত্র চীনকে এগিয়ে নিয়েছে, সেটি এখন সীমায় এসে ঠেকেছে। বর্তমান বাস্তবতায় দেশটির প্রয়োজন ঘরোয়া সেবাখাতকে শক্তিশালী করা এবং ভোক্তা আস্থাকে ফিরিয়ে আনা। একই সঙ্গে প্রতিবেশী ও বাণিজ্যিক অংশীদারদের সঙ্গে সম্পর্ককে আরও ভারসাম্যপূর্ণ করতে হবে, যাতে শোষণমূলক ভাবমূর্তি তৈরি না হয়।

বিশ্ব বাণিজ্যে বাড়তি চাপ

বিশ্ব উৎপাদনে চীনের অংশ ক্রমেই বাড়ছে। এই আধিপত্যই আবার উল্টো বোঝা হয়ে দাঁড়াতে পারে। অনেক দেশ চীনের ওপর নির্ভরতা কমাতে শুল্ক বাড়ানো ও বিকল্প উৎস খোঁজার পথে হাঁটছে। এতে আগামী দিনে বাণিজ্য সম্পর্ক আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে।

তারুণ্যের হতাশা ও পুঁজি বহিঃপ্রবাহ

চীনের ভেতরে সবচেয়ে উদ্বেগজনক দিক হলো তরুণদের ভবিষ্যৎ নিয়ে অনাস্থা। বেকারত্ব ও অনিশ্চয়তার কারণে অনেক পরিবার ও প্রতিষ্ঠান দেশের বাইরে অর্থ পাঠাতে আগ্রহী হচ্ছে। বিপুল অঙ্কের পুঁজি বেরিয়ে যাওয়ার এই প্রবণতা বেইজিংয়ের জন্য বড় দুশ্চিন্তার কারণ। সে কারণেই মুদ্রা ও পুঁজি চলাচলে কড়াকড়ি বজায় রাখা হচ্ছে।

চীন এখন এমন এক মোড়ে দাঁড়িয়ে, যেখানে শুধু শক্তিশালী উৎপাদন যথেষ্ট নয়। প্রযুক্তি ও উদ্ভাবনের পাশাপাশি ঘরোয়া আস্থা ও সেবাখাতের বিকাশই পারে দেশটিকে নতুন ভারসাম্যের পথে নিতে।

 

জনপ্রিয় সংবাদ

স্কুলে সহিংসতা ঠেকাতে আগে বদলাতে হবে আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি

চীন যে অর্থনৈতিক দৈত্য হতে চায় না, বাস্তবে সেই ছবিটাই আরও স্পষ্ট

০৩:১১:২৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ জানুয়ারী ২০২৬

চীনের অর্থনীতি ২০২৫ সাল শেষ করেছে শক্তিশালী রপ্তানির একই সুরে। দেশের ভেতরে চাহিদা দুর্বল থাকলেও বিশ্বজুড়ে চীনা পণ্যের দাপট ছিল চোখে পড়ার মতো। অর্থনীতিবিদদের ভাষায়, চীনের প্রবৃদ্ধির বড় অংশই এখন ধার করা, যা আসছে বিদেশি বাজার থেকে। দেশের ভেতরের অর্থনীতি সেই গতিতে সাড়া দিতে পারছে না। এই বৈপরীত্যই নতুন করে প্রশ্ন তুলছে চীনের দীর্ঘদিনের রপ্তানি নির্ভর উন্নয়ন মডেল নিয়ে।

রপ্তানির শক্তি, ঘরের ভেতরের দুর্বলতা

বছর শেষে পাওয়া পরিসংখ্যান চীনের উৎপাদন ও রপ্তানি সক্ষমতার শক্তিশালী চিত্র তুলে ধরেছে। বাণিজ্য উদ্বৃত্ত ও চলতি হিসাবে বড় উদ্বৃত্ত দেখাচ্ছে, যা স্পষ্টভাবে জানায় যে বৈশ্বিক বাজারে চীনের কারখানাগুলো কতটা সক্রিয়। কিন্তু এই সাফল্যের বিপরীতে দেশের অভ্যন্তরীণ অর্থনীতি দাঁড়িয়ে আছে চাপের মুখে। ভোক্তা ব্যয় বাড়ছে না, খুচরা বিক্রি স্থবির, আর মানুষের আস্থাও নড়বড়ে।

অর্থনৈতিক ভারসাম্যের সংকট

বিশ্লেষকদের মতে, চীনের অর্থনীতিতে ভারসাম্যহীনতা বাড়ছে। রপ্তানি শক্তিশালী হলেও অভ্যন্তরীণ চাহিদা দুর্বল হয়ে পড়ায় সামগ্রিক স্থায়িত্ব নিয়ে সন্দেহ তৈরি হচ্ছে। এতে শুধু দেশের ভেতরেই নয়, আন্তর্জাতিক পর্যায়েও চাপ বাড়ছে। প্রতিবেশী ও বাণিজ্যিক অংশীদারদের মধ্যে আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে যে চীনের উদ্বৃত্ত অর্থনীতি তাদের বাজারে অস্বাস্থ্যকর প্রতিযোগিতা তৈরি করছে।

দৈত্য না দুর্বল রাষ্ট্র, বেইজিংয়ের দৃষ্টিভঙ্গি

আন্তর্জাতিক মহলে চীনকে অনেকেই অর্থনৈতিক দৈত্য হিসেবে দেখলেও বেইজিং নিজেকে দেখে ভিন্নভাবে। দেশটির নেতৃত্বের চোখে চীন এখনো খাদ্য ও জ্বালানি নিরাপত্তায় ভঙ্গুর। নিজেদের তারা শক্তিশালী আধিপত্যশীল শক্তি নয়, বরং ঝুঁকিতে থাকা একটি রাষ্ট্র হিসেবে ভাবতে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করে। এই মানসিকতাই নীতিনির্ধারণে প্রভাব ফেলছে।

China's car sales jump in October as automakers rush to meet annual goals |  World Auto Forum

দেশের বাজারে ভোক্তার অনীহা

দেশের ভেতরে মানুষের মনোভাব এখনো দুর্বল। খুচরা বিক্রি মাসের পর মাস তেমন বাড়েনি। গাড়ির বাজারে এই চিত্র আরও স্পষ্ট। বিদেশে চীনা গাড়ির বিক্রি দ্রুত বাড়লেও দেশের বাজারে বিক্রি কমছে। প্রিমিয়াম ও সাধারণ উভয় ধরনের গাড়ির নিবন্ধনেই বড় ধরনের পতন দেখা যাচ্ছে। এতে বোঝা যায়, ভর্তুকির ওপর নির্ভরতা কমে যাওয়ায় ভোক্তা ব্যয় টানাটানি হয়ে পড়েছে।

নতুন পথের প্রয়োজন

দীর্ঘদিন ধরে উৎপাদন ও রপ্তানি নির্ভর যে উন্নয়ন সূত্র চীনকে এগিয়ে নিয়েছে, সেটি এখন সীমায় এসে ঠেকেছে। বর্তমান বাস্তবতায় দেশটির প্রয়োজন ঘরোয়া সেবাখাতকে শক্তিশালী করা এবং ভোক্তা আস্থাকে ফিরিয়ে আনা। একই সঙ্গে প্রতিবেশী ও বাণিজ্যিক অংশীদারদের সঙ্গে সম্পর্ককে আরও ভারসাম্যপূর্ণ করতে হবে, যাতে শোষণমূলক ভাবমূর্তি তৈরি না হয়।

বিশ্ব বাণিজ্যে বাড়তি চাপ

বিশ্ব উৎপাদনে চীনের অংশ ক্রমেই বাড়ছে। এই আধিপত্যই আবার উল্টো বোঝা হয়ে দাঁড়াতে পারে। অনেক দেশ চীনের ওপর নির্ভরতা কমাতে শুল্ক বাড়ানো ও বিকল্প উৎস খোঁজার পথে হাঁটছে। এতে আগামী দিনে বাণিজ্য সম্পর্ক আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে।

তারুণ্যের হতাশা ও পুঁজি বহিঃপ্রবাহ

চীনের ভেতরে সবচেয়ে উদ্বেগজনক দিক হলো তরুণদের ভবিষ্যৎ নিয়ে অনাস্থা। বেকারত্ব ও অনিশ্চয়তার কারণে অনেক পরিবার ও প্রতিষ্ঠান দেশের বাইরে অর্থ পাঠাতে আগ্রহী হচ্ছে। বিপুল অঙ্কের পুঁজি বেরিয়ে যাওয়ার এই প্রবণতা বেইজিংয়ের জন্য বড় দুশ্চিন্তার কারণ। সে কারণেই মুদ্রা ও পুঁজি চলাচলে কড়াকড়ি বজায় রাখা হচ্ছে।

চীন এখন এমন এক মোড়ে দাঁড়িয়ে, যেখানে শুধু শক্তিশালী উৎপাদন যথেষ্ট নয়। প্রযুক্তি ও উদ্ভাবনের পাশাপাশি ঘরোয়া আস্থা ও সেবাখাতের বিকাশই পারে দেশটিকে নতুন ভারসাম্যের পথে নিতে।