০৮:১৯ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
স্কুলে সহিংসতা ঠেকাতে আগে বদলাতে হবে আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি জেন জি-র ‘ফ্রেন্ডস’ বানানোর চেষ্টা চলছে, কিন্তু কেন তা অসম্ভব সঙ্কুচিত পোশাক কি নষ্ট না করেই আগের মাপে ফেরানো সম্ভব? ডায়মন্ড লিগের ফাইনালে তৃতীয় অ্যামি হান্ট, দুর্দান্ত ছন্দে ছুটছেন ব্রিটিশ তারকা মারাঠি না জানলে ঝুঁকিতে লাইসেন্স, মহারাষ্ট্রে ট্যাক্সি ও অটোরিকশাচালকদের মিলল আরও এক বছর বয়স বাড়লেই জীবন থেমে যায় না, বরং আসে নিজের মতো বাঁচার স্বাধীনতা: প্রু লেইথ দাঁতের চিকিৎসকের কাছে যাওয়ার পথে বজ্রপাতে আহত, ‘ভয়াবহ’ অভিজ্ঞতার কথা জানালেন নিউইয়র্কের যুবক পেন্টাগনের নিয়ন্ত্রণ কি হারাচ্ছেন পিট হেগসেথ? আফ্রিকার প্রকৃত আয়তন তুলে ধরা মানচিত্রের পক্ষে জাতিসংঘের ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত সন্তান হত্যার মামলায় রায় হয়নি, লিন্ডসে ক্ল্যান্সিকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে তীব্র বিতর্ক

জন্মেছেন এমপি সাহেব ১৯৮১ সালে, অথচ পিতা মুক্তিযুদ্ধে শহীদ!

জাতীয় সংসদে দেওয়া এক বক্তব্যকে কেন্দ্র করে নীলফামারী-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নেতা হাফেজ আব্দুল মুনতাকিমকে ঘিরে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। তার সংসদীয় বক্তব্য এবং নির্বাচন কমিশনে জমা দেওয়া হলফনামার তথ্যের মধ্যে অসঙ্গতি সামনে আসার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও রাজনৈতিক অঙ্গনে এ নিয়ে বিতর্ক তীব্র হয়েছে।

বিতর্কের সূত্রপাত সংসদে মুক্তিযোদ্ধা-সংক্রান্ত একটি বিলের ওপর আলোচনার সময়। ওই আলোচনায় জামায়াতে ইসলামীকে ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানি বাহিনীর সহযোগী হিসেবে আইনগতভাবে চিহ্নিত করার বিষয়টি নিয়ে কথা ওঠে। এ সময় নিজের বক্তব্য উপস্থাপন করতে গিয়ে আব্দুল মুনতাকিম তার পরিবারের মুক্তিযুদ্ধে অবদানের কথা তুলে ধরেন।

পরিবারের মুক্তিযুদ্ধের অবদানের দাবি

বাবা মুক্তিযুদ্ধে শহীদ দাবি করা এমপি মুনতাকিমের জন্ম ১৯৮১ সালে - বাংলাদেশ  টাইমস

গত ১৪ জুন সংসদে দেওয়া বক্তব্যে তিনি বলেন, তার বাবা ও দাদা যুদ্ধে শহীদ হয়েছেন। এছাড়া তার বাবা-চাচাদের মধ্যে কয়েকজন মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন এবং বৃহত্তর পরিবারে বহু সদস্য মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিয়েছিলেন। তিনি আরও দাবি করেন, তার মা মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক ছিলেন এবং তাদের পরিবারে মোট ৪৭ জন মুক্তিযোদ্ধা রয়েছেন।

এই বক্তব্য প্রকাশ্যে আসার পর বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে। এরপর বিভিন্ন ব্যক্তি ও পর্যবেক্ষক তার নির্বাচনী হলফনামা এবং প্রকাশ্য তথ্য যাচাই করতে শুরু করেন।

জন্মসাল নিয়ে প্রশ্ন

যাচাই-বাছাইয়ের সময় সামনে আসে তার জন্মতারিখ-সংক্রান্ত তথ্য। নির্বাচন কমিশনে জমা দেওয়া হলফনামা অনুযায়ী এবং বিভিন্ন উন্মুক্ত তথ্যসূত্রে উল্লেখিত তথ্য অনুসারে, হাফেজ আব্দুল মুনতাকিমের জন্ম ১৯৮১ সালের ১০ জানুয়ারি।

বিষয়টি আরও আলোচনায় আসে কারণ সংসদে দেওয়া বক্তব্যের এক পর্যায়ে তিনিও নিজের জন্মসাল ১৯৮১ বলে উল্লেখ করেন।

এরপর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকে প্রশ্ন তুলতে শুরু করেন, যদি তার বাবা ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে শহীদ হয়ে থাকেন, তাহলে যুদ্ধ শেষ হওয়ার প্রায় এক দশক পরে তার জন্ম কীভাবে সম্ভব হলো। এই প্রশ্ন ঘিরেই মূল বিতর্ক তৈরি হয়েছে।

নীলফামারী-৪ আসনে জামায়াত প্রার্থী বেসরকারিভাবে জয়ী

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমালোচনা

জন্মসাল এবং সংসদে দেওয়া বক্তব্যের মধ্যে এই অসঙ্গতির কারণে বিভিন্ন মহলে সমালোচনা দেখা দিয়েছে। অনেকেই বিষয়টির ব্যাখ্যা দাবি করছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ নিয়ে ব্যাপক আলোচনা, মন্তব্য এবং সমালোচনামূলক প্রতিক্রিয়া লক্ষ্য করা যাচ্ছে।

এদিকে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের একটি অংশ বলছেন, নির্বাচনী নথিতে থাকা বয়স ও জন্মতারিখের তথ্য অনুযায়ী তার বর্তমান বয়স ৪৪ বছরের কাছাকাছি, যা ১৯৮১ সালে জন্মগ্রহণের তথ্যের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। ফলে সংসদে দেওয়া বক্তব্য নিয়ে জনমনে প্রশ্ন তৈরি হওয়াটা স্বাভাবিক।

এখনও কোনো ব্যাখ্যা নেই

বিতর্কের বিষয়টি নিয়ে এখন পর্যন্ত হাফেজ আব্দুল মুনতাকিমের পক্ষ থেকে কিংবা বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি। ফলে বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিসরে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে।

সংসদে দেওয়া বক্তব্যের সঙ্গে নথিভুক্ত তথ্যের এই অসঙ্গতি নিয়ে সামনে কোনো ব্যাখ্যা আসে কি না, সেদিকেই এখন নজর সংশ্লিষ্ট মহলের।

 

 

জনপ্রিয় সংবাদ

স্কুলে সহিংসতা ঠেকাতে আগে বদলাতে হবে আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি

জন্মেছেন এমপি সাহেব ১৯৮১ সালে, অথচ পিতা মুক্তিযুদ্ধে শহীদ!

১০:৩৫:৫৮ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬

জাতীয় সংসদে দেওয়া এক বক্তব্যকে কেন্দ্র করে নীলফামারী-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নেতা হাফেজ আব্দুল মুনতাকিমকে ঘিরে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। তার সংসদীয় বক্তব্য এবং নির্বাচন কমিশনে জমা দেওয়া হলফনামার তথ্যের মধ্যে অসঙ্গতি সামনে আসার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও রাজনৈতিক অঙ্গনে এ নিয়ে বিতর্ক তীব্র হয়েছে।

বিতর্কের সূত্রপাত সংসদে মুক্তিযোদ্ধা-সংক্রান্ত একটি বিলের ওপর আলোচনার সময়। ওই আলোচনায় জামায়াতে ইসলামীকে ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানি বাহিনীর সহযোগী হিসেবে আইনগতভাবে চিহ্নিত করার বিষয়টি নিয়ে কথা ওঠে। এ সময় নিজের বক্তব্য উপস্থাপন করতে গিয়ে আব্দুল মুনতাকিম তার পরিবারের মুক্তিযুদ্ধে অবদানের কথা তুলে ধরেন।

পরিবারের মুক্তিযুদ্ধের অবদানের দাবি

বাবা মুক্তিযুদ্ধে শহীদ দাবি করা এমপি মুনতাকিমের জন্ম ১৯৮১ সালে - বাংলাদেশ  টাইমস

গত ১৪ জুন সংসদে দেওয়া বক্তব্যে তিনি বলেন, তার বাবা ও দাদা যুদ্ধে শহীদ হয়েছেন। এছাড়া তার বাবা-চাচাদের মধ্যে কয়েকজন মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন এবং বৃহত্তর পরিবারে বহু সদস্য মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিয়েছিলেন। তিনি আরও দাবি করেন, তার মা মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক ছিলেন এবং তাদের পরিবারে মোট ৪৭ জন মুক্তিযোদ্ধা রয়েছেন।

এই বক্তব্য প্রকাশ্যে আসার পর বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে। এরপর বিভিন্ন ব্যক্তি ও পর্যবেক্ষক তার নির্বাচনী হলফনামা এবং প্রকাশ্য তথ্য যাচাই করতে শুরু করেন।

জন্মসাল নিয়ে প্রশ্ন

যাচাই-বাছাইয়ের সময় সামনে আসে তার জন্মতারিখ-সংক্রান্ত তথ্য। নির্বাচন কমিশনে জমা দেওয়া হলফনামা অনুযায়ী এবং বিভিন্ন উন্মুক্ত তথ্যসূত্রে উল্লেখিত তথ্য অনুসারে, হাফেজ আব্দুল মুনতাকিমের জন্ম ১৯৮১ সালের ১০ জানুয়ারি।

বিষয়টি আরও আলোচনায় আসে কারণ সংসদে দেওয়া বক্তব্যের এক পর্যায়ে তিনিও নিজের জন্মসাল ১৯৮১ বলে উল্লেখ করেন।

এরপর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকে প্রশ্ন তুলতে শুরু করেন, যদি তার বাবা ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে শহীদ হয়ে থাকেন, তাহলে যুদ্ধ শেষ হওয়ার প্রায় এক দশক পরে তার জন্ম কীভাবে সম্ভব হলো। এই প্রশ্ন ঘিরেই মূল বিতর্ক তৈরি হয়েছে।

নীলফামারী-৪ আসনে জামায়াত প্রার্থী বেসরকারিভাবে জয়ী

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমালোচনা

জন্মসাল এবং সংসদে দেওয়া বক্তব্যের মধ্যে এই অসঙ্গতির কারণে বিভিন্ন মহলে সমালোচনা দেখা দিয়েছে। অনেকেই বিষয়টির ব্যাখ্যা দাবি করছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ নিয়ে ব্যাপক আলোচনা, মন্তব্য এবং সমালোচনামূলক প্রতিক্রিয়া লক্ষ্য করা যাচ্ছে।

এদিকে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের একটি অংশ বলছেন, নির্বাচনী নথিতে থাকা বয়স ও জন্মতারিখের তথ্য অনুযায়ী তার বর্তমান বয়স ৪৪ বছরের কাছাকাছি, যা ১৯৮১ সালে জন্মগ্রহণের তথ্যের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। ফলে সংসদে দেওয়া বক্তব্য নিয়ে জনমনে প্রশ্ন তৈরি হওয়াটা স্বাভাবিক।

এখনও কোনো ব্যাখ্যা নেই

বিতর্কের বিষয়টি নিয়ে এখন পর্যন্ত হাফেজ আব্দুল মুনতাকিমের পক্ষ থেকে কিংবা বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি। ফলে বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিসরে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে।

সংসদে দেওয়া বক্তব্যের সঙ্গে নথিভুক্ত তথ্যের এই অসঙ্গতি নিয়ে সামনে কোনো ব্যাখ্যা আসে কি না, সেদিকেই এখন নজর সংশ্লিষ্ট মহলের।