১১:৩৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
স্কুলে সহিংসতা ঠেকাতে আগে বদলাতে হবে আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি জেন জি-র ‘ফ্রেন্ডস’ বানানোর চেষ্টা চলছে, কিন্তু কেন তা অসম্ভব সঙ্কুচিত পোশাক কি নষ্ট না করেই আগের মাপে ফেরানো সম্ভব? ডায়মন্ড লিগের ফাইনালে তৃতীয় অ্যামি হান্ট, দুর্দান্ত ছন্দে ছুটছেন ব্রিটিশ তারকা মারাঠি না জানলে ঝুঁকিতে লাইসেন্স, মহারাষ্ট্রে ট্যাক্সি ও অটোরিকশাচালকদের মিলল আরও এক বছর বয়স বাড়লেই জীবন থেমে যায় না, বরং আসে নিজের মতো বাঁচার স্বাধীনতা: প্রু লেইথ দাঁতের চিকিৎসকের কাছে যাওয়ার পথে বজ্রপাতে আহত, ‘ভয়াবহ’ অভিজ্ঞতার কথা জানালেন নিউইয়র্কের যুবক পেন্টাগনের নিয়ন্ত্রণ কি হারাচ্ছেন পিট হেগসেথ? আফ্রিকার প্রকৃত আয়তন তুলে ধরা মানচিত্রের পক্ষে জাতিসংঘের ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত সন্তান হত্যার মামলায় রায় হয়নি, লিন্ডসে ক্ল্যান্সিকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে তীব্র বিতর্ক

জেএমবির তৎপরতার সময় বোয়ালমারীতে নির্মম হত্যাকাণ্ড—পলাতক চার আসামির অনুপস্থিতিতে আদালতের দণ্ডাদেশ

দুই দশক পর ন্যায়বিচার

ফরিদপুরের বোয়ালমারীতে দুই খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের সদস্যকে হত্যার প্রায় ২০ বছর পর অবশেষে আদালত চার আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন। মঙ্গলবার (২৯ অক্টোবর) ফরিদপুর বিশেষ জজ আদালতের বিচারক মো. শফিউদ্দিন এই রায় ঘোষণা করেন।

রায়ে বলা হয়, দণ্ডপ্রাপ্ত প্রত্যেককে ২০ হাজার টাকা করে জরিমানা দিতে হবে, অন্যথায় ছয় মাসের অতিরিক্ত কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।


পলাতক আসামিদের বিরুদ্ধে রায়

আসামিরা দীর্ঘদিন ধরে পলাতক থাকায় আদালত অনুপস্থিতিতেই রায় ঘোষণা করেন এবং তাদের গ্রেপ্তারের জন্য পরোয়ানা জারি করেন।

দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন—আনোয়ার হোসেন (৫৩), কামরুল হাসান ওরফে কামরুজ্জামান (৪৫), মনিরুজ্জামান ওরফে মনির (৪০) এবং আবদুস সামাদ (৬০)। এরা সবাই বোয়ালমারী ও আলফাডাঙ্গা উপজেলার বিভিন্ন গ্রামের বাসিন্দা।


হত্যাকাণ্ডের পটভূমি

আদালত সূত্রে জানা যায়, নিহত দুইজন হলেন তপন রায় (৩০) ও নিকলাল মাঝি (৩৫)। তারা বোয়ালমারী উপজেলার চর ধোপাপাড়া গ্রামের বিপুল কুমার বকচির বাড়িতে ভাড়াটিয়া হিসেবে থাকতেন।

২০০৫ সালের ২৮ জুলাই গভীর রাতে (রাত আড়াইটা থেকে তিনটার মধ্যে) অজ্ঞাত হামলাকারীরা ধারালো অস্ত্র নিয়ে তাদের ওপর আক্রমণ চালায়। এতে তারা গুরুতর আহত হন। স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে বোয়ালমারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।


জেএমবির তৎপরতার সময়ের হামলা

ঘটনাটি ঘটে এমন এক সময়ে, যখন সারা দেশে জঙ্গি সংগঠন জামাতুল মুজাহিদিন বাংলাদেশ (জেএমবি) তাদের কর্মকাণ্ডের বিস্তার ঘটাচ্ছিল। এ ঘটনার সঙ্গে সেই প্রেক্ষাপট যুক্ত রয়েছে বলে তৎকালীন তদন্তকারীরা ধারণা করেছিলেন।

নিহতদের বাড়ির মালিক বিপুল কুমার বকচি ওই দিনই বোয়ালমারী থানায় অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করেন।


দীর্ঘ বিচারপ্রক্রিয়ার পর রায়

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা উপপরিদর্শক সুলতান মাহমুদ ২০০৭ সালের ২৮ মার্চ চারজনকে অভিযুক্ত করে অভিযোগপত্র জমা দেন।

অবশেষে ২০২৫ সালে প্রায় দুই দশক পর রায় ঘোষণা হয়, যা স্থানীয় খ্রিস্টান সম্প্রদায় ও মানবাধিকারকর্মীদের মধ্যে স্বস্তি এনে দিয়েছে।


রাষ্ট্রপক্ষের প্রতিক্রিয়া

ফরিদপুর বিশেষ জজ আদালতের সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) মো. আজিজুর রহমান বলেন, “যদিও দীর্ঘ সময় লেগেছে, তবুও আমরা এই দ্বৈত হত্যাকাণ্ডে ন্যায়বিচার পেয়েছি। রাষ্ট্রপক্ষ রায়ে সন্তুষ্ট।”


উপসংহার

দুই খ্রিস্টান নাগরিক হত্যার এ রায় বাংলাদেশের বিচারব্যবস্থায় একটি গুরুত্বপূর্ণ নজির হয়ে থাকল—যেখানে সময়ের বাধা পেরিয়ে অবশেষে ন্যায় প্রতিষ্ঠা পেল ভুক্তভোগীরা। এখন আদালতের নির্দেশে পলাতক চার আসামিকে গ্রেপ্তার করে রায় কার্যকর করার প্রক্রিয়া শুরু হবে।


#ফরিদপুর #খ্রিস্টানহত্যা #জেএমবি #যাবজ্জীবন #বাংলাদেশবিচারব্যবস্থা

জনপ্রিয় সংবাদ

স্কুলে সহিংসতা ঠেকাতে আগে বদলাতে হবে আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি

জেএমবির তৎপরতার সময় বোয়ালমারীতে নির্মম হত্যাকাণ্ড—পলাতক চার আসামির অনুপস্থিতিতে আদালতের দণ্ডাদেশ

০৯:৩৬:১২ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৫

দুই দশক পর ন্যায়বিচার

ফরিদপুরের বোয়ালমারীতে দুই খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের সদস্যকে হত্যার প্রায় ২০ বছর পর অবশেষে আদালত চার আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন। মঙ্গলবার (২৯ অক্টোবর) ফরিদপুর বিশেষ জজ আদালতের বিচারক মো. শফিউদ্দিন এই রায় ঘোষণা করেন।

রায়ে বলা হয়, দণ্ডপ্রাপ্ত প্রত্যেককে ২০ হাজার টাকা করে জরিমানা দিতে হবে, অন্যথায় ছয় মাসের অতিরিক্ত কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।


পলাতক আসামিদের বিরুদ্ধে রায়

আসামিরা দীর্ঘদিন ধরে পলাতক থাকায় আদালত অনুপস্থিতিতেই রায় ঘোষণা করেন এবং তাদের গ্রেপ্তারের জন্য পরোয়ানা জারি করেন।

দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন—আনোয়ার হোসেন (৫৩), কামরুল হাসান ওরফে কামরুজ্জামান (৪৫), মনিরুজ্জামান ওরফে মনির (৪০) এবং আবদুস সামাদ (৬০)। এরা সবাই বোয়ালমারী ও আলফাডাঙ্গা উপজেলার বিভিন্ন গ্রামের বাসিন্দা।


হত্যাকাণ্ডের পটভূমি

আদালত সূত্রে জানা যায়, নিহত দুইজন হলেন তপন রায় (৩০) ও নিকলাল মাঝি (৩৫)। তারা বোয়ালমারী উপজেলার চর ধোপাপাড়া গ্রামের বিপুল কুমার বকচির বাড়িতে ভাড়াটিয়া হিসেবে থাকতেন।

২০০৫ সালের ২৮ জুলাই গভীর রাতে (রাত আড়াইটা থেকে তিনটার মধ্যে) অজ্ঞাত হামলাকারীরা ধারালো অস্ত্র নিয়ে তাদের ওপর আক্রমণ চালায়। এতে তারা গুরুতর আহত হন। স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে বোয়ালমারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।


জেএমবির তৎপরতার সময়ের হামলা

ঘটনাটি ঘটে এমন এক সময়ে, যখন সারা দেশে জঙ্গি সংগঠন জামাতুল মুজাহিদিন বাংলাদেশ (জেএমবি) তাদের কর্মকাণ্ডের বিস্তার ঘটাচ্ছিল। এ ঘটনার সঙ্গে সেই প্রেক্ষাপট যুক্ত রয়েছে বলে তৎকালীন তদন্তকারীরা ধারণা করেছিলেন।

নিহতদের বাড়ির মালিক বিপুল কুমার বকচি ওই দিনই বোয়ালমারী থানায় অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করেন।


দীর্ঘ বিচারপ্রক্রিয়ার পর রায়

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা উপপরিদর্শক সুলতান মাহমুদ ২০০৭ সালের ২৮ মার্চ চারজনকে অভিযুক্ত করে অভিযোগপত্র জমা দেন।

অবশেষে ২০২৫ সালে প্রায় দুই দশক পর রায় ঘোষণা হয়, যা স্থানীয় খ্রিস্টান সম্প্রদায় ও মানবাধিকারকর্মীদের মধ্যে স্বস্তি এনে দিয়েছে।


রাষ্ট্রপক্ষের প্রতিক্রিয়া

ফরিদপুর বিশেষ জজ আদালতের সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) মো. আজিজুর রহমান বলেন, “যদিও দীর্ঘ সময় লেগেছে, তবুও আমরা এই দ্বৈত হত্যাকাণ্ডে ন্যায়বিচার পেয়েছি। রাষ্ট্রপক্ষ রায়ে সন্তুষ্ট।”


উপসংহার

দুই খ্রিস্টান নাগরিক হত্যার এ রায় বাংলাদেশের বিচারব্যবস্থায় একটি গুরুত্বপূর্ণ নজির হয়ে থাকল—যেখানে সময়ের বাধা পেরিয়ে অবশেষে ন্যায় প্রতিষ্ঠা পেল ভুক্তভোগীরা। এখন আদালতের নির্দেশে পলাতক চার আসামিকে গ্রেপ্তার করে রায় কার্যকর করার প্রক্রিয়া শুরু হবে।


#ফরিদপুর #খ্রিস্টানহত্যা #জেএমবি #যাবজ্জীবন #বাংলাদেশবিচারব্যবস্থা