১১:৩২ অপরাহ্ন, রবিবার, ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
স্কুলে সহিংসতা ঠেকাতে আগে বদলাতে হবে আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি জেন জি-র ‘ফ্রেন্ডস’ বানানোর চেষ্টা চলছে, কিন্তু কেন তা অসম্ভব সঙ্কুচিত পোশাক কি নষ্ট না করেই আগের মাপে ফেরানো সম্ভব? ডায়মন্ড লিগের ফাইনালে তৃতীয় অ্যামি হান্ট, দুর্দান্ত ছন্দে ছুটছেন ব্রিটিশ তারকা মারাঠি না জানলে ঝুঁকিতে লাইসেন্স, মহারাষ্ট্রে ট্যাক্সি ও অটোরিকশাচালকদের মিলল আরও এক বছর বয়স বাড়লেই জীবন থেমে যায় না, বরং আসে নিজের মতো বাঁচার স্বাধীনতা: প্রু লেইথ দাঁতের চিকিৎসকের কাছে যাওয়ার পথে বজ্রপাতে আহত, ‘ভয়াবহ’ অভিজ্ঞতার কথা জানালেন নিউইয়র্কের যুবক পেন্টাগনের নিয়ন্ত্রণ কি হারাচ্ছেন পিট হেগসেথ? আফ্রিকার প্রকৃত আয়তন তুলে ধরা মানচিত্রের পক্ষে জাতিসংঘের ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত সন্তান হত্যার মামলায় রায় হয়নি, লিন্ডসে ক্ল্যান্সিকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে তীব্র বিতর্ক

জ্বালানি সংকটে রাজধানীতে এলপিজির কালোবাজারি বিস্তার, পুলিশের অভিযানে হাজারের বেশি সিলিন্ডার জব্দ

রাজধানীতে এলপিজি সিলিন্ডার সরবরাহে বিলম্ব এবং অতিরিক্ত দামের অভিযোগের মধ্যেই চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে। সাম্প্রতিক অভিযানে পুলিশের হাতে ধরা পড়েছে একটি বিস্তৃত কালোবাজারি চক্র, যা সরবরাহ ঘাটতির সুযোগ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয় ছিল।

সরবরাহ সংকটেই কালোবাজারির দৌরাত্ম্য

পশ্চিম এশিয়ার সংঘাতের প্রভাব পড়েছে জ্বালানি সরবরাহে। এর জেরেই রাজধানীতে এলপিজি সিলিন্ডার সময়মতো না পাওয়া এবং বাড়তি দামে বিক্রির অভিযোগ বাড়তে থাকে। এই পরিস্থিতিকে কাজে লাগিয়ে গড়ে ওঠে অবৈধ মজুত ও সরবরাহ চক্র।

পুলিশের ধারাবাহিক অভিযানে বড় সাফল্য

মার্চের প্রথম থেকে ২৬ তারিখ পর্যন্ত রাজধানীজুড়ে মোট ৭৬টি অভিযান পরিচালনা করা হয়। এতে ২২টি মামলা দায়ের এবং ১ হাজার ৭১০টি সিলিন্ডার জব্দ করা হয়েছে। বিশেষ করে অপরাধ দমন শাখা মাত্র তিনটি অভিযানে ১ হাজার ১৪৫টি সিলিন্ডার উদ্ধার করে, যা এই চক্রের বিস্তার কতটা বড় তা স্পষ্ট করে।

দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পশ্চিমে বেশি জব্দ

রাজধানীর দক্ষিণ জেলায় একক অভিযানে সর্বোচ্চ ২২৩টি সিলিন্ডার উদ্ধার করা হয়। দক্ষিণ-পশ্চিম জেলায় সাতটি অভিযানে ৬টি মামলা এবং ১১৯টি সিলিন্ডার জব্দ করা হয়েছে। তদন্তে দেখা গেছে, গ্যাস এজেন্সির ডিলার ও ডেলিভারি কর্মীদের সংশ্লিষ্টতা অনেক ক্ষেত্রেই পাওয়া গেছে।

আবাসিক এলাকায় বিপজ্জনক মজুত

ডেরা মান্ডি এলাকায় একটি আবাসিক ভবনে অবৈধভাবে বিভিন্ন উৎস থেকে সংগ্রহ করা সিলিন্ডার মজুত করা হয়েছিল। বিস্ফোরণের ঝুঁকি থাকায় বিষয়টি অত্যন্ত উদ্বেগজনক বলে জানিয়েছে পুলিশ।

পূর্বাঞ্চলে অভিযান বেশি, জব্দ কম

পূর্বাঞ্চলীয় জেলায় সবচেয়ে বেশি ৩০টি অভিযান চালানো হলেও মাত্র ৫টি সিলিন্ডার জব্দ এবং ২টি মামলা হয়েছে। এতে ধারণা করা হচ্ছে, এখানে ব্যক্তিগত পর্যায়ের ব্যবহার বেশি ছিল বা মজুতের পরিমাণ কম।

অন্যান্য জেলাতেও অভিযান অব্যাহত

শাহদারা, পশ্চিম, দ্বারকা ও দক্ষিণ-পূর্ব জেলাতেও উল্লেখযোগ্য পরিমাণ সিলিন্ডার জব্দ হয়েছে। তবে কিছু এলাকায় কোনো জব্দ বা মামলা হয়নি, যা নজরদারির ফাঁকফোকর থাকার ইঙ্গিত দেয়।

বড় চক্র ভাঙতে তদন্ত জোরদার

পুলিশ জানিয়েছে, সংগঠিত চক্রের সম্পৃক্ততা স্পষ্ট হওয়ায় সরবরাহ শৃঙ্খল চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। ভর্তুকিযুক্ত এলপিজি যেন প্রকৃত গ্রাহকের কাছে পৌঁছায়, তা নিশ্চিত করতেই এই অভিযান আরও জোরদার করা হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ

স্কুলে সহিংসতা ঠেকাতে আগে বদলাতে হবে আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি

জ্বালানি সংকটে রাজধানীতে এলপিজির কালোবাজারি বিস্তার, পুলিশের অভিযানে হাজারের বেশি সিলিন্ডার জব্দ

০৬:৩৯:৩৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩০ মার্চ ২০২৬

রাজধানীতে এলপিজি সিলিন্ডার সরবরাহে বিলম্ব এবং অতিরিক্ত দামের অভিযোগের মধ্যেই চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে। সাম্প্রতিক অভিযানে পুলিশের হাতে ধরা পড়েছে একটি বিস্তৃত কালোবাজারি চক্র, যা সরবরাহ ঘাটতির সুযোগ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয় ছিল।

সরবরাহ সংকটেই কালোবাজারির দৌরাত্ম্য

পশ্চিম এশিয়ার সংঘাতের প্রভাব পড়েছে জ্বালানি সরবরাহে। এর জেরেই রাজধানীতে এলপিজি সিলিন্ডার সময়মতো না পাওয়া এবং বাড়তি দামে বিক্রির অভিযোগ বাড়তে থাকে। এই পরিস্থিতিকে কাজে লাগিয়ে গড়ে ওঠে অবৈধ মজুত ও সরবরাহ চক্র।

পুলিশের ধারাবাহিক অভিযানে বড় সাফল্য

মার্চের প্রথম থেকে ২৬ তারিখ পর্যন্ত রাজধানীজুড়ে মোট ৭৬টি অভিযান পরিচালনা করা হয়। এতে ২২টি মামলা দায়ের এবং ১ হাজার ৭১০টি সিলিন্ডার জব্দ করা হয়েছে। বিশেষ করে অপরাধ দমন শাখা মাত্র তিনটি অভিযানে ১ হাজার ১৪৫টি সিলিন্ডার উদ্ধার করে, যা এই চক্রের বিস্তার কতটা বড় তা স্পষ্ট করে।

দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পশ্চিমে বেশি জব্দ

রাজধানীর দক্ষিণ জেলায় একক অভিযানে সর্বোচ্চ ২২৩টি সিলিন্ডার উদ্ধার করা হয়। দক্ষিণ-পশ্চিম জেলায় সাতটি অভিযানে ৬টি মামলা এবং ১১৯টি সিলিন্ডার জব্দ করা হয়েছে। তদন্তে দেখা গেছে, গ্যাস এজেন্সির ডিলার ও ডেলিভারি কর্মীদের সংশ্লিষ্টতা অনেক ক্ষেত্রেই পাওয়া গেছে।

আবাসিক এলাকায় বিপজ্জনক মজুত

ডেরা মান্ডি এলাকায় একটি আবাসিক ভবনে অবৈধভাবে বিভিন্ন উৎস থেকে সংগ্রহ করা সিলিন্ডার মজুত করা হয়েছিল। বিস্ফোরণের ঝুঁকি থাকায় বিষয়টি অত্যন্ত উদ্বেগজনক বলে জানিয়েছে পুলিশ।

পূর্বাঞ্চলে অভিযান বেশি, জব্দ কম

পূর্বাঞ্চলীয় জেলায় সবচেয়ে বেশি ৩০টি অভিযান চালানো হলেও মাত্র ৫টি সিলিন্ডার জব্দ এবং ২টি মামলা হয়েছে। এতে ধারণা করা হচ্ছে, এখানে ব্যক্তিগত পর্যায়ের ব্যবহার বেশি ছিল বা মজুতের পরিমাণ কম।

অন্যান্য জেলাতেও অভিযান অব্যাহত

শাহদারা, পশ্চিম, দ্বারকা ও দক্ষিণ-পূর্ব জেলাতেও উল্লেখযোগ্য পরিমাণ সিলিন্ডার জব্দ হয়েছে। তবে কিছু এলাকায় কোনো জব্দ বা মামলা হয়নি, যা নজরদারির ফাঁকফোকর থাকার ইঙ্গিত দেয়।

বড় চক্র ভাঙতে তদন্ত জোরদার

পুলিশ জানিয়েছে, সংগঠিত চক্রের সম্পৃক্ততা স্পষ্ট হওয়ায় সরবরাহ শৃঙ্খল চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। ভর্তুকিযুক্ত এলপিজি যেন প্রকৃত গ্রাহকের কাছে পৌঁছায়, তা নিশ্চিত করতেই এই অভিযান আরও জোরদার করা হবে।