১২:৫৪ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
স্কুলে সহিংসতা ঠেকাতে আগে বদলাতে হবে আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি জেন জি-র ‘ফ্রেন্ডস’ বানানোর চেষ্টা চলছে, কিন্তু কেন তা অসম্ভব সঙ্কুচিত পোশাক কি নষ্ট না করেই আগের মাপে ফেরানো সম্ভব? ডায়মন্ড লিগের ফাইনালে তৃতীয় অ্যামি হান্ট, দুর্দান্ত ছন্দে ছুটছেন ব্রিটিশ তারকা মারাঠি না জানলে ঝুঁকিতে লাইসেন্স, মহারাষ্ট্রে ট্যাক্সি ও অটোরিকশাচালকদের মিলল আরও এক বছর বয়স বাড়লেই জীবন থেমে যায় না, বরং আসে নিজের মতো বাঁচার স্বাধীনতা: প্রু লেইথ দাঁতের চিকিৎসকের কাছে যাওয়ার পথে বজ্রপাতে আহত, ‘ভয়াবহ’ অভিজ্ঞতার কথা জানালেন নিউইয়র্কের যুবক পেন্টাগনের নিয়ন্ত্রণ কি হারাচ্ছেন পিট হেগসেথ? আফ্রিকার প্রকৃত আয়তন তুলে ধরা মানচিত্রের পক্ষে জাতিসংঘের ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত সন্তান হত্যার মামলায় রায় হয়নি, লিন্ডসে ক্ল্যান্সিকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে তীব্র বিতর্ক

ঝিনাইদহে ২০০ শিশুর চিকিৎসায় হিমশিম হাসপাতাল, লোডশেডিংয়ে দুর্ভোগ চরম

তীব্র গরম ও আবহাওয়ার আকস্মিক পরিবর্তনের মধ্যে ঝিনাইদহের দুটি হাসপাতালে নিউমোনিয়া, ডায়রিয়া ও হামসহ বিভিন্ন উপসর্গ নিয়ে দুই শতাধিক শিশু ভর্তি হয়েছে। অতিরিক্ত রোগীর চাপের সঙ্গে ঘন ঘন লোডশেডিং পরিস্থিতিকে আরও সংকটপূর্ণ করে তুলেছে। বিদ্যুৎ না থাকায় গরম ও বদ্ধ ওয়ার্ডে অসুস্থ শিশুদের দুর্ভোগ বেড়েছে।

ঝিনাইদহ জেনারেল হাসপাতালে রোগীর চাপ

ঝিনাইদহ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে বর্তমানে ১৯৭ শিশু চিকিৎসাধীন রয়েছে। হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে শয্যা রয়েছে মাত্র ৪৬টি। হাসপাতালের পরিসংখ্যান কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর হোসেন এ তথ্য জানিয়েছেন।

চিকিৎসাধীন শিশুদের মধ্যে ৮০ জন নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত। ৯৭ জন ডায়রিয়া ও ভাইরাসজনিত সংক্রমণে ভুগছে। এ ছাড়া হাম উপসর্গ নিয়ে ভর্তি হয়েছে আরও ২০ শিশু।

শয্যার তুলনায় রোগীর সংখ্যা কয়েক গুণ বেশি হওয়ায় অনেক শিশুকে হাসপাতালের মেঝে, বারান্দা ও চলাচলের পথেও চিকিৎসা নিতে হচ্ছে বলে জানিয়েছেন রোগীদের স্বজনরা।

শিশু হাসপাতালে আরও ২১ রোগী

ঝিনাইদহ শহরের ২৫ শয্যার বিশেষায়িত শিশু হাসপাতালের পরিস্থিতিও সংকটপূর্ণ। সেখানে হাম ও নিউমোনিয়ার উপসর্গ নিয়ে আরও ২১ শিশু চিকিৎসাধীন রয়েছে।

স্বজনদের অভিযোগ, ঘন ঘন বিদ্যুৎ চলে যাওয়ায় তীব্র গরমের মধ্যে শিশুদের কষ্ট আরও বেড়ে যাচ্ছে। ফ্যান বন্ধ হয়ে গেলে জ্বর ও শ্বাসকষ্টে ভোগা শিশুরা অস্থির হয়ে পড়ে। এ সময় শিশুদের স্বস্তি দিতে হাসপাতালের এনসিইউ ও শিশু ওয়ার্ডে মায়েদের হাতপাখা দিয়ে বাতাস করতে দেখা যাচ্ছে।

আবহাওয়ার পরিবর্তনে বাড়ছে অসুস্থতা

ঝিনাইদহ জেনারেল হাসপাতালের শিশু বিশেষজ্ঞ ডা. আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, ঋতু পরিবর্তনের সময় সাধারণত নিউমোনিয়া ও ডায়রিয়ার রোগী বাড়ে। তবে চলতি বছর আক্রান্ত শিশুর সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি।

তার মতে, অতিরিক্ত গরম ও আবহাওয়ার আকস্মিক পরিবর্তনের সঙ্গে খাপ খাওয়াতে না পেরে শিশুরা দ্রুত অসুস্থ হয়ে পড়ছে। বিশেষ করে গ্রামাঞ্চলের শিশুরা বেশি আক্রান্ত হচ্ছে বলেও জানান তিনি।

হাসপাতালে অতিরিক্ত ভিড় নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন এই চিকিৎসক। শয্যার তুলনায় রোগীর সংখ্যা অনেক বেশি হওয়ায় অতিরিক্ত ভিড় তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে বিপুলসংখ্যক স্বজন ও দর্শনার্থীর উপস্থিতি সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়াচ্ছে। অতিরিক্ত ভিড় ও সংক্রমণের আশঙ্কায় শিশুদের সুস্থ হতে বেশি সময় লাগছে বলেও জানান তিনি।

শিশুদের যত্নে চিকিৎসকের পরামর্শ

তীব্র গরমে শিশুদের সরাসরি রোদ থেকে দূরে রাখা, পর্যাপ্ত পানি ও তরল পান করানো এবং বাসি বা নষ্ট খাবার এড়িয়ে চলার পরামর্শ দিয়েছেন ডা. আনোয়ারুল ইসলাম।

এদিকে হাসপাতালে ভর্তি শিশুদের অভিভাবকেরা অসুস্থ শিশুদের চিকিৎসা নির্বিঘ্ন করতে হাসপাতালগুলোতে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে অপ্রয়োজনীয়ভাবে হাসপাতাল এলাকায় স্বজন ও দর্শনার্থীদের ভিড় না করার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।

ঝিনাইদহে শিশু রোগীর চাপ, লোডশেডিং ও তীব্র গরমে হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসা পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়ে উঠেছে।

ঝিনাইদহে ২০০-এর বেশি শিশু হাসপাতালে ভর্তি; তীব্র গরমের মধ্যে লোডশেডিংয়ে নিউমোনিয়া, ডায়রিয়া ও হাম আক্রান্ত শিশুদের দুর্ভোগ বেড়েছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

স্কুলে সহিংসতা ঠেকাতে আগে বদলাতে হবে আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি

ঝিনাইদহে ২০০ শিশুর চিকিৎসায় হিমশিম হাসপাতাল, লোডশেডিংয়ে দুর্ভোগ চরম

০৯:২০:১৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৩ অগাস্ট ২০২৬

তীব্র গরম ও আবহাওয়ার আকস্মিক পরিবর্তনের মধ্যে ঝিনাইদহের দুটি হাসপাতালে নিউমোনিয়া, ডায়রিয়া ও হামসহ বিভিন্ন উপসর্গ নিয়ে দুই শতাধিক শিশু ভর্তি হয়েছে। অতিরিক্ত রোগীর চাপের সঙ্গে ঘন ঘন লোডশেডিং পরিস্থিতিকে আরও সংকটপূর্ণ করে তুলেছে। বিদ্যুৎ না থাকায় গরম ও বদ্ধ ওয়ার্ডে অসুস্থ শিশুদের দুর্ভোগ বেড়েছে।

ঝিনাইদহ জেনারেল হাসপাতালে রোগীর চাপ

ঝিনাইদহ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে বর্তমানে ১৯৭ শিশু চিকিৎসাধীন রয়েছে। হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে শয্যা রয়েছে মাত্র ৪৬টি। হাসপাতালের পরিসংখ্যান কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর হোসেন এ তথ্য জানিয়েছেন।

চিকিৎসাধীন শিশুদের মধ্যে ৮০ জন নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত। ৯৭ জন ডায়রিয়া ও ভাইরাসজনিত সংক্রমণে ভুগছে। এ ছাড়া হাম উপসর্গ নিয়ে ভর্তি হয়েছে আরও ২০ শিশু।

শয্যার তুলনায় রোগীর সংখ্যা কয়েক গুণ বেশি হওয়ায় অনেক শিশুকে হাসপাতালের মেঝে, বারান্দা ও চলাচলের পথেও চিকিৎসা নিতে হচ্ছে বলে জানিয়েছেন রোগীদের স্বজনরা।

শিশু হাসপাতালে আরও ২১ রোগী

ঝিনাইদহ শহরের ২৫ শয্যার বিশেষায়িত শিশু হাসপাতালের পরিস্থিতিও সংকটপূর্ণ। সেখানে হাম ও নিউমোনিয়ার উপসর্গ নিয়ে আরও ২১ শিশু চিকিৎসাধীন রয়েছে।

স্বজনদের অভিযোগ, ঘন ঘন বিদ্যুৎ চলে যাওয়ায় তীব্র গরমের মধ্যে শিশুদের কষ্ট আরও বেড়ে যাচ্ছে। ফ্যান বন্ধ হয়ে গেলে জ্বর ও শ্বাসকষ্টে ভোগা শিশুরা অস্থির হয়ে পড়ে। এ সময় শিশুদের স্বস্তি দিতে হাসপাতালের এনসিইউ ও শিশু ওয়ার্ডে মায়েদের হাতপাখা দিয়ে বাতাস করতে দেখা যাচ্ছে।

আবহাওয়ার পরিবর্তনে বাড়ছে অসুস্থতা

ঝিনাইদহ জেনারেল হাসপাতালের শিশু বিশেষজ্ঞ ডা. আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, ঋতু পরিবর্তনের সময় সাধারণত নিউমোনিয়া ও ডায়রিয়ার রোগী বাড়ে। তবে চলতি বছর আক্রান্ত শিশুর সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি।

তার মতে, অতিরিক্ত গরম ও আবহাওয়ার আকস্মিক পরিবর্তনের সঙ্গে খাপ খাওয়াতে না পেরে শিশুরা দ্রুত অসুস্থ হয়ে পড়ছে। বিশেষ করে গ্রামাঞ্চলের শিশুরা বেশি আক্রান্ত হচ্ছে বলেও জানান তিনি।

হাসপাতালে অতিরিক্ত ভিড় নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন এই চিকিৎসক। শয্যার তুলনায় রোগীর সংখ্যা অনেক বেশি হওয়ায় অতিরিক্ত ভিড় তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে বিপুলসংখ্যক স্বজন ও দর্শনার্থীর উপস্থিতি সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়াচ্ছে। অতিরিক্ত ভিড় ও সংক্রমণের আশঙ্কায় শিশুদের সুস্থ হতে বেশি সময় লাগছে বলেও জানান তিনি।

শিশুদের যত্নে চিকিৎসকের পরামর্শ

তীব্র গরমে শিশুদের সরাসরি রোদ থেকে দূরে রাখা, পর্যাপ্ত পানি ও তরল পান করানো এবং বাসি বা নষ্ট খাবার এড়িয়ে চলার পরামর্শ দিয়েছেন ডা. আনোয়ারুল ইসলাম।

এদিকে হাসপাতালে ভর্তি শিশুদের অভিভাবকেরা অসুস্থ শিশুদের চিকিৎসা নির্বিঘ্ন করতে হাসপাতালগুলোতে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে অপ্রয়োজনীয়ভাবে হাসপাতাল এলাকায় স্বজন ও দর্শনার্থীদের ভিড় না করার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।

ঝিনাইদহে শিশু রোগীর চাপ, লোডশেডিং ও তীব্র গরমে হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসা পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়ে উঠেছে।

ঝিনাইদহে ২০০-এর বেশি শিশু হাসপাতালে ভর্তি; তীব্র গরমের মধ্যে লোডশেডিংয়ে নিউমোনিয়া, ডায়রিয়া ও হাম আক্রান্ত শিশুদের দুর্ভোগ বেড়েছে।