০৬:৪৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
স্কুলে সহিংসতা ঠেকাতে আগে বদলাতে হবে আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি জেন জি-র ‘ফ্রেন্ডস’ বানানোর চেষ্টা চলছে, কিন্তু কেন তা অসম্ভব সঙ্কুচিত পোশাক কি নষ্ট না করেই আগের মাপে ফেরানো সম্ভব? ডায়মন্ড লিগের ফাইনালে তৃতীয় অ্যামি হান্ট, দুর্দান্ত ছন্দে ছুটছেন ব্রিটিশ তারকা মারাঠি না জানলে ঝুঁকিতে লাইসেন্স, মহারাষ্ট্রে ট্যাক্সি ও অটোরিকশাচালকদের মিলল আরও এক বছর বয়স বাড়লেই জীবন থেমে যায় না, বরং আসে নিজের মতো বাঁচার স্বাধীনতা: প্রু লেইথ দাঁতের চিকিৎসকের কাছে যাওয়ার পথে বজ্রপাতে আহত, ‘ভয়াবহ’ অভিজ্ঞতার কথা জানালেন নিউইয়র্কের যুবক পেন্টাগনের নিয়ন্ত্রণ কি হারাচ্ছেন পিট হেগসেথ? আফ্রিকার প্রকৃত আয়তন তুলে ধরা মানচিত্রের পক্ষে জাতিসংঘের ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত সন্তান হত্যার মামলায় রায় হয়নি, লিন্ডসে ক্ল্যান্সিকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে তীব্র বিতর্ক

টলস্টয়ের স্মৃতি (পর্ব- ৩১)

  • Sarakhon Report
  • ০৩:৫৪:৪৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৪ ডিসেম্বর ২০২৪
  • 149

ম্যাকসিম গোর্কী

একটি চিঠি

লিও নিকোলাইয়েভিচের মধ্যে এমন অনেক কিছু জিনিষ আছে, যা মাঝে মাঝে আমার মধ্যে ঘৃণার অনুরূপ একটি অনুভূতির উদ্রেক করে। এবং এই ঘৃণা একটা গুরুভার পাষাণের মতো আমার সমগ্র সত্তার উপর নেমে আসে। সমস্ত বস্তু অনুপাতের উর্ধ্বে তাঁর অতি পুষ্ট ব্যক্তিত্বটিকে সত্যই একটি দানবীয় দুর্ঘটনা ব’লে মনে হয়- অনেকটা কুৎসিত, অনেকটা বীভৎস। রূপকথার দৈত্যের মতো তাঁর সধ্যে এমন একটা কিছু আছে, যাকে পৃথিবী ধ’রে রাখতে পারে না। সত্যই, তিনি মহান, তিনি বিরাট।

আমার গভীর বিশ্বাস তিনি যা কিছু বলেছেন, সে সমস্ত সত্ত্বেও তাঁর মধ্যে এমন অনেক কিছু বস্তু রয়েছে যার সম্বন্ধে তিনি সম্পূর্ণ নীরব-এবং সম্ভবত চিরদিন নীরবই থাকবেন, কোনদিন কাউকে কিছু বলবেন-ও না। এই “অজ্ঞাত কিছুটি” কেবল মাত্র কখনো কখনো ইংগিতে ইসারায় তাঁর কথোপ- কথনে প্রকাশ পেয়েছে। তিনি আমাকে এবং এল সুলারঝি- স্কিকে তাঁর যে দু’খানি ডাইরির খাতা পড়তে দিয়েছিলেন, সেগুলির মধ্যেও এর সংকেত পাওয়া যায়। আমার মনে হয়, এ যেন সকল স্বীকারের অস্বীকার, সর্বাপেক্ষা গভীর এবং অনিষ্টকর এক ধ্বংস-অসীম এক, অমোঘ এক নৈরাশ্য। নিঃসংগতার মৃত্তিকা থেকে এর উদ্ভব, এবং এ সম্বন্ধে সম্ভবত তিনি ছাড়া আর কার-ও ভীষণতর কোনো অভিজ্ঞতা-ও নেই।

আমার প্রায়ই মনে হ’ত, তিনি এমন একটি মানুষ, যিনি তাঁর অন্তরতম অন্তর থেকে জনসাধারণের প্রতি চিরদিনই উদাসীন। তিনি তাদের কাছ থেকে এতো দূরে, এতো উর্ধ্বে আছেন যে, তারা তাঁর চোখে ক্ষুদ্র পতংগের মতো প্রতীয়মান হয়। তাদের কর্মতৎপরত। তাঁর কাছে হাস্যাস্পদ এবং অত্যন্ত করুণ লাগে। তাই তিনি তাদের কাছ থেকে সুদূর এক মরুভূমিতে চলে যান এবং সেখানে নির্জনে তাঁর সকল আধ্যাত্মিক শক্তি দিয়ে, শ্রেষ্ঠতম প্রচেষ্টা দিয়ে নিবিড়ভাবে পরীক্ষা ক’রে দেখেন সৃষ্টির “সারতম বস্তু”-মৃত্যুকে।

তাঁর সমস্ত জীবন ধ’রে তিনি মৃত্যুকে ভয় করেছেন, ঘৃণা করেছেন। সারা জীবন তাঁর আত্মার একটি আতংকের স্পন্দন তিনি অনুভব করেছেন,- আরসাম্যাক্সের মতো একটি আতংকের- তাঁকে কি অবশ্যই মরতে হবে? সমস্ত বিশ্ব, সমস্ত পৃথিবী তাঁর দিকে তাকিয়ে আছে; চীন, ভারত, আমেরিকা, সর্বত্র থেকে প্রাণময় ছন্দময় জীবনের অজস্র তন্তু তাঁর পানে প্রসারিত হ’য়ে আছে; তাঁর আত্মা যে সকলের, সর্বকালের, তাও ঘোষিত হয়েছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

স্কুলে সহিংসতা ঠেকাতে আগে বদলাতে হবে আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি

টলস্টয়ের স্মৃতি (পর্ব- ৩১)

০৩:৫৪:৪৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৪ ডিসেম্বর ২০২৪

ম্যাকসিম গোর্কী

একটি চিঠি

লিও নিকোলাইয়েভিচের মধ্যে এমন অনেক কিছু জিনিষ আছে, যা মাঝে মাঝে আমার মধ্যে ঘৃণার অনুরূপ একটি অনুভূতির উদ্রেক করে। এবং এই ঘৃণা একটা গুরুভার পাষাণের মতো আমার সমগ্র সত্তার উপর নেমে আসে। সমস্ত বস্তু অনুপাতের উর্ধ্বে তাঁর অতি পুষ্ট ব্যক্তিত্বটিকে সত্যই একটি দানবীয় দুর্ঘটনা ব’লে মনে হয়- অনেকটা কুৎসিত, অনেকটা বীভৎস। রূপকথার দৈত্যের মতো তাঁর সধ্যে এমন একটা কিছু আছে, যাকে পৃথিবী ধ’রে রাখতে পারে না। সত্যই, তিনি মহান, তিনি বিরাট।

আমার গভীর বিশ্বাস তিনি যা কিছু বলেছেন, সে সমস্ত সত্ত্বেও তাঁর মধ্যে এমন অনেক কিছু বস্তু রয়েছে যার সম্বন্ধে তিনি সম্পূর্ণ নীরব-এবং সম্ভবত চিরদিন নীরবই থাকবেন, কোনদিন কাউকে কিছু বলবেন-ও না। এই “অজ্ঞাত কিছুটি” কেবল মাত্র কখনো কখনো ইংগিতে ইসারায় তাঁর কথোপ- কথনে প্রকাশ পেয়েছে। তিনি আমাকে এবং এল সুলারঝি- স্কিকে তাঁর যে দু’খানি ডাইরির খাতা পড়তে দিয়েছিলেন, সেগুলির মধ্যেও এর সংকেত পাওয়া যায়। আমার মনে হয়, এ যেন সকল স্বীকারের অস্বীকার, সর্বাপেক্ষা গভীর এবং অনিষ্টকর এক ধ্বংস-অসীম এক, অমোঘ এক নৈরাশ্য। নিঃসংগতার মৃত্তিকা থেকে এর উদ্ভব, এবং এ সম্বন্ধে সম্ভবত তিনি ছাড়া আর কার-ও ভীষণতর কোনো অভিজ্ঞতা-ও নেই।

আমার প্রায়ই মনে হ’ত, তিনি এমন একটি মানুষ, যিনি তাঁর অন্তরতম অন্তর থেকে জনসাধারণের প্রতি চিরদিনই উদাসীন। তিনি তাদের কাছ থেকে এতো দূরে, এতো উর্ধ্বে আছেন যে, তারা তাঁর চোখে ক্ষুদ্র পতংগের মতো প্রতীয়মান হয়। তাদের কর্মতৎপরত। তাঁর কাছে হাস্যাস্পদ এবং অত্যন্ত করুণ লাগে। তাই তিনি তাদের কাছ থেকে সুদূর এক মরুভূমিতে চলে যান এবং সেখানে নির্জনে তাঁর সকল আধ্যাত্মিক শক্তি দিয়ে, শ্রেষ্ঠতম প্রচেষ্টা দিয়ে নিবিড়ভাবে পরীক্ষা ক’রে দেখেন সৃষ্টির “সারতম বস্তু”-মৃত্যুকে।

তাঁর সমস্ত জীবন ধ’রে তিনি মৃত্যুকে ভয় করেছেন, ঘৃণা করেছেন। সারা জীবন তাঁর আত্মার একটি আতংকের স্পন্দন তিনি অনুভব করেছেন,- আরসাম্যাক্সের মতো একটি আতংকের- তাঁকে কি অবশ্যই মরতে হবে? সমস্ত বিশ্ব, সমস্ত পৃথিবী তাঁর দিকে তাকিয়ে আছে; চীন, ভারত, আমেরিকা, সর্বত্র থেকে প্রাণময় ছন্দময় জীবনের অজস্র তন্তু তাঁর পানে প্রসারিত হ’য়ে আছে; তাঁর আত্মা যে সকলের, সর্বকালের, তাও ঘোষিত হয়েছে।