০২:২৭ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
স্কুলে সহিংসতা ঠেকাতে আগে বদলাতে হবে আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি জেন জি-র ‘ফ্রেন্ডস’ বানানোর চেষ্টা চলছে, কিন্তু কেন তা অসম্ভব সঙ্কুচিত পোশাক কি নষ্ট না করেই আগের মাপে ফেরানো সম্ভব? ডায়মন্ড লিগের ফাইনালে তৃতীয় অ্যামি হান্ট, দুর্দান্ত ছন্দে ছুটছেন ব্রিটিশ তারকা মারাঠি না জানলে ঝুঁকিতে লাইসেন্স, মহারাষ্ট্রে ট্যাক্সি ও অটোরিকশাচালকদের মিলল আরও এক বছর বয়স বাড়লেই জীবন থেমে যায় না, বরং আসে নিজের মতো বাঁচার স্বাধীনতা: প্রু লেইথ দাঁতের চিকিৎসকের কাছে যাওয়ার পথে বজ্রপাতে আহত, ‘ভয়াবহ’ অভিজ্ঞতার কথা জানালেন নিউইয়র্কের যুবক পেন্টাগনের নিয়ন্ত্রণ কি হারাচ্ছেন পিট হেগসেথ? আফ্রিকার প্রকৃত আয়তন তুলে ধরা মানচিত্রের পক্ষে জাতিসংঘের ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত সন্তান হত্যার মামলায় রায় হয়নি, লিন্ডসে ক্ল্যান্সিকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে তীব্র বিতর্ক

টলস্টয়ের স্মৃতি (পর্ব- ৩৪)

  • Sarakhon Report
  • ০৩:৪৫:৫১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৭ ডিসেম্বর ২০২৪
  • 144

ম্যাকসিম গোর্কী

একটি চিঠি

কেউ মন্তব্য করলেন, শেস্টভ একজন ইহুদি।

“খুব সম্ভব না।” সংশয়ের সংগে বললেন লিও নিকোলাইয়েভিচ।

“না, ইহুদির মতো নন তিনি। ইহুদিরা কখনো ভগবানে অবিশ্বাস করেন না। ভগবানে অবিশ্বাস করেন, এমন একজন ইহুদিরও তুমি নাম করতে পারবে না।…….. পারবে না।”

মাঝে মাঝে মনে হোতো যেন এই বৃদ্ধ জাদুকর মৃত্যুর সংগে খেলা করছেন, তার সংগে আদর সোহাগের ছল করছেন, চেষ্টা করছেন তাকে কোনো রকমে প্রতারিত করতে। যেন বলছেন “আমি তোমায় ভয় করি না, তোমাকে ভালোবাসি, তোমাকে পেতে চাই।”

এবং সেই সংগে তাঁর ক্ষুদে ধারালো চোখ দুটো মৃত্যুর গভীরে উকি দিয়ে যেন জানতে চাচ্ছে: তুমি কেমন? এখান থেকে নিয়ে গিয়ে তুমি আমায় কী দেবে? তুমি কি আমায় সম্পূর্ণরূপে ধ্বংস ক’রে দেবে, না, আমার মধ্যেকার কিছু থাকবে বেঁচে?”

“আমি সুখী, আমি ভয়ানক সুখী, আমি অতি বেশী সুখী।” তাঁর এই কথাগুলি মানুষের মনের ওপর একটি অদ্ভুত ছাপ রেখে যায়। তার পর মুহূর্তেই তিনি বলেন “যন্ত্রণা পেয়ে।” এ-কথাটিও তাঁর মধ্যে অত্যন্ত সত্য। আমি মুহূর্তের জন্যেও সন্দেহ করি না যে তিনি অর্ধ-অসুস্থ একটি মানুষ, অথচ কারাগারে নিক্ষিপ্ত হ’লে, নির্বাসিত হ’লে, এক কথায় শহীদের কণ্টক-মুকুট পরতে পেলে তিনি বাস্তবিক পক্ষে সুখী হবেন না।

সম্ভবত, এই শহীদত্বই কি মৃত্যুকে অনেকাংশে ন্যায়সংগত ক’রে তুলবে না-করবে না তাকে বাইরের প্রথাগত দৃষ্টিভংগীর দিক থেকে আরো সুবোধ্য, সহজগ্রাহু? কিন্তু টলস্টয় কখনো কোনো কালেই সুখী ছিলেন না। কি জ্ঞানের গ্রন্থব্যুহে, “কি অশ্বপৃষ্ঠে”, কি “নারীর বাহু বল্লরীতে” কোথাও যে তিনি “পার্থিব স্বর্গের” পরিপূর্ণ আনন্দলাভ করেন নি, সে বিষয়ে আমি নিঃসন্দেহ।

কারণ তাঁর বুদ্ধিবৃত্তি এতোই প্রবল ছিল যে, সুখ তাঁর মধ্যে ছিল অসম্ভব। জানতেন অত্যন্ত ভালো ক’রে। এই: তাছাড়া তিনি জীবন ও মানুষকে তাঁরই আরো কয়েকটি কথা হোলো “খলিফা আবদুর রহমন তাঁর পেয়েছিলেন, যেগুলি ছিল সুখের। সমস্ত জীবনে মাত্র চোদ্দটি দিন কিন্তু আমি নিশ্চিত যে, আমি অতগুলিও পাই নি। আর তার কারণ, আমি আমার নিজের জন্যে কখনো বাঁচি নি-বাঁচতে পারি নি। আমি অপরের জন্যে বেঁচেরি, অপরকে দেখাবার জন্যে।”

 

জনপ্রিয় সংবাদ

স্কুলে সহিংসতা ঠেকাতে আগে বদলাতে হবে আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি

টলস্টয়ের স্মৃতি (পর্ব- ৩৪)

০৩:৪৫:৫১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৭ ডিসেম্বর ২০২৪

ম্যাকসিম গোর্কী

একটি চিঠি

কেউ মন্তব্য করলেন, শেস্টভ একজন ইহুদি।

“খুব সম্ভব না।” সংশয়ের সংগে বললেন লিও নিকোলাইয়েভিচ।

“না, ইহুদির মতো নন তিনি। ইহুদিরা কখনো ভগবানে অবিশ্বাস করেন না। ভগবানে অবিশ্বাস করেন, এমন একজন ইহুদিরও তুমি নাম করতে পারবে না।…….. পারবে না।”

মাঝে মাঝে মনে হোতো যেন এই বৃদ্ধ জাদুকর মৃত্যুর সংগে খেলা করছেন, তার সংগে আদর সোহাগের ছল করছেন, চেষ্টা করছেন তাকে কোনো রকমে প্রতারিত করতে। যেন বলছেন “আমি তোমায় ভয় করি না, তোমাকে ভালোবাসি, তোমাকে পেতে চাই।”

এবং সেই সংগে তাঁর ক্ষুদে ধারালো চোখ দুটো মৃত্যুর গভীরে উকি দিয়ে যেন জানতে চাচ্ছে: তুমি কেমন? এখান থেকে নিয়ে গিয়ে তুমি আমায় কী দেবে? তুমি কি আমায় সম্পূর্ণরূপে ধ্বংস ক’রে দেবে, না, আমার মধ্যেকার কিছু থাকবে বেঁচে?”

“আমি সুখী, আমি ভয়ানক সুখী, আমি অতি বেশী সুখী।” তাঁর এই কথাগুলি মানুষের মনের ওপর একটি অদ্ভুত ছাপ রেখে যায়। তার পর মুহূর্তেই তিনি বলেন “যন্ত্রণা পেয়ে।” এ-কথাটিও তাঁর মধ্যে অত্যন্ত সত্য। আমি মুহূর্তের জন্যেও সন্দেহ করি না যে তিনি অর্ধ-অসুস্থ একটি মানুষ, অথচ কারাগারে নিক্ষিপ্ত হ’লে, নির্বাসিত হ’লে, এক কথায় শহীদের কণ্টক-মুকুট পরতে পেলে তিনি বাস্তবিক পক্ষে সুখী হবেন না।

সম্ভবত, এই শহীদত্বই কি মৃত্যুকে অনেকাংশে ন্যায়সংগত ক’রে তুলবে না-করবে না তাকে বাইরের প্রথাগত দৃষ্টিভংগীর দিক থেকে আরো সুবোধ্য, সহজগ্রাহু? কিন্তু টলস্টয় কখনো কোনো কালেই সুখী ছিলেন না। কি জ্ঞানের গ্রন্থব্যুহে, “কি অশ্বপৃষ্ঠে”, কি “নারীর বাহু বল্লরীতে” কোথাও যে তিনি “পার্থিব স্বর্গের” পরিপূর্ণ আনন্দলাভ করেন নি, সে বিষয়ে আমি নিঃসন্দেহ।

কারণ তাঁর বুদ্ধিবৃত্তি এতোই প্রবল ছিল যে, সুখ তাঁর মধ্যে ছিল অসম্ভব। জানতেন অত্যন্ত ভালো ক’রে। এই: তাছাড়া তিনি জীবন ও মানুষকে তাঁরই আরো কয়েকটি কথা হোলো “খলিফা আবদুর রহমন তাঁর পেয়েছিলেন, যেগুলি ছিল সুখের। সমস্ত জীবনে মাত্র চোদ্দটি দিন কিন্তু আমি নিশ্চিত যে, আমি অতগুলিও পাই নি। আর তার কারণ, আমি আমার নিজের জন্যে কখনো বাঁচি নি-বাঁচতে পারি নি। আমি অপরের জন্যে বেঁচেরি, অপরকে দেখাবার জন্যে।”