০৯:০২ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
স্কুলে সহিংসতা ঠেকাতে আগে বদলাতে হবে আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি জেন জি-র ‘ফ্রেন্ডস’ বানানোর চেষ্টা চলছে, কিন্তু কেন তা অসম্ভব সঙ্কুচিত পোশাক কি নষ্ট না করেই আগের মাপে ফেরানো সম্ভব? ডায়মন্ড লিগের ফাইনালে তৃতীয় অ্যামি হান্ট, দুর্দান্ত ছন্দে ছুটছেন ব্রিটিশ তারকা মারাঠি না জানলে ঝুঁকিতে লাইসেন্স, মহারাষ্ট্রে ট্যাক্সি ও অটোরিকশাচালকদের মিলল আরও এক বছর বয়স বাড়লেই জীবন থেমে যায় না, বরং আসে নিজের মতো বাঁচার স্বাধীনতা: প্রু লেইথ দাঁতের চিকিৎসকের কাছে যাওয়ার পথে বজ্রপাতে আহত, ‘ভয়াবহ’ অভিজ্ঞতার কথা জানালেন নিউইয়র্কের যুবক পেন্টাগনের নিয়ন্ত্রণ কি হারাচ্ছেন পিট হেগসেথ? আফ্রিকার প্রকৃত আয়তন তুলে ধরা মানচিত্রের পক্ষে জাতিসংঘের ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত সন্তান হত্যার মামলায় রায় হয়নি, লিন্ডসে ক্ল্যান্সিকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে তীব্র বিতর্ক

টেনেসিতে বদলে যাচ্ছে শিক্ষার চিত্র, গ্রীষ্মকালীন ক্লাস ও নিবিড় সহায়তায় ফিরছে শিক্ষার্থীদের শেখার গতি

যুক্তরাষ্ট্রের টেনেসি অঙ্গরাজ্যে কয়েক বছর ধরে চালু হওয়া বাধ্যতামূলক গ্রীষ্মকালীন স্কুল, নিবিড় ব্যক্তিগত সহায়তা এবং পড়া-লেখার মৌলিক দক্ষতার ওপর জোর দেওয়ার উদ্যোগ ইতোমধ্যে আশাব্যঞ্জক ফল দেখাতে শুরু করেছে। বিশেষ করে যেসব শিক্ষার্থী পড়াশোনায় পিছিয়ে পড়েছিল, তারা আবারও শেখার গতি ফিরে পাচ্ছে।

শিক্ষাবিদদের মতে, মহামারির সময় শিক্ষায় যে বড় ধাক্কা লেগেছিল, তার প্রভাব এখনও পুরোপুরি কাটেনি। তবে টেনেসির অভিজ্ঞতা দেখাচ্ছে, পরিকল্পিত উদ্যোগ এবং ধারাবাহিক নজরদারির মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের শেখার ঘাটতি অনেকটাই পূরণ করা সম্ভব।

শেখার ভিত্তি শক্ত করার উদ্যোগ

টেনেসির বিভিন্ন স্কুলে গ্রীষ্মকালীন ছুটির মধ্যেও ছোট ছোট দলে শিক্ষার্থীদের নিয়ে বিশেষ ক্লাস চলছে। এসব শ্রেণিকক্ষে একজন শিক্ষক অল্পসংখ্যক শিক্ষার্থীর সঙ্গে সরাসরি কাজ করছেন। পড়া, লেখা ও গণিতের মৌলিক বিষয়গুলো বারবার অনুশীলনের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের আত্মবিশ্বাস বাড়ানো হচ্ছে।

শিক্ষকরা শব্দ ভেঙে পড়া, উচ্চারণ ঠিক করা, বাক্য বোঝা এবং ধাপে ধাপে পড়ার দক্ষতা বাড়ানোর ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছেন। কোনো শিক্ষার্থী আটকে গেলে সঙ্গে সঙ্গে তাকে আলাদা করে সহায়তা করা হচ্ছে, যাতে সে নিজের ভুল বুঝে এগিয়ে যেতে পারে।

উন্নতির পেছনে একাধিক পদক্ষেপ

টেনেসির সাফল্য কোনো একক উদ্যোগের ফল নয়। রাজ্যজুড়ে উন্নত পাঠ্যসামগ্রী ব্যবহার বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। পাশাপাশি শিক্ষকদের আধুনিক ও গবেষণাভিত্তিক পদ্ধতিতে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। প্রতিটি স্কুল এবং শিক্ষার্থীর অগ্রগতি নিয়মিত মূল্যায়ন করা হচ্ছে।

National Test Scores Are Dropping. This State Is Fighting Back. - WSJ

পড়ার দক্ষতায় নির্ধারিত মানে না পৌঁছানো তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থীদের জন্য গ্রীষ্মকালীন বিশেষ ক্লাসে অংশ নেওয়া বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। সেখানে পর্যাপ্ত উন্নতি দেখাতে পারলেই তারা পরবর্তী শ্রেণিতে ওঠার সুযোগ পাচ্ছে।

পরিসংখ্যানে মিলছে অগ্রগতির প্রমাণ

সাম্প্রতিক কয়েক বছরে গণিত ও পড়ার দক্ষতায় টেনেসির উন্নতি যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম সেরা হিসেবে বিবেচিত হয়েছে। একসময় শিক্ষার মানের দিক থেকে পিছিয়ে থাকা এই অঙ্গরাজ্য এখন দেশের শীর্ষস্থানীয় রাজ্যগুলোর সঙ্গে প্রতিযোগিতা করছে।

২০২১ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে তৃতীয় শ্রেণির প্রতি চারজন শিক্ষার্থীর একজন গ্রীষ্মকালীন শিক্ষা শিবির, নিবিড় সহায়তা অথবা উভয় কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছে। একই সময়ে শ্রেণি পুনরাবৃত্তি করতে বাধ্য হওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যাও ধারাবাহিকভাবে কমেছে, যা শেখার উন্নতির একটি গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত।

ছোট ক্লাসে বেশি মনোযোগ

টেনেসির বিভিন্ন শিক্ষা শিবিরে সাধারণত একেকটি শ্রেণিতে শিক্ষার্থীর সংখ্যা সীমিত রাখা হচ্ছে। এতে শিক্ষক প্রত্যেক শিক্ষার্থীর শেখার অগ্রগতি আলাদাভাবে পর্যবেক্ষণ করতে পারছেন। অনেক শিক্ষকই এসব কর্মসূচিতে অংশ নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন, যা এই উদ্যোগের জনপ্রিয়তাও তুলে ধরছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু অতিরিক্ত ক্লাস নিলেই হবে না; শিক্ষার্থীর দুর্বলতা চিহ্নিত করে নিয়মিত অনুশীলন, দক্ষ শিক্ষক এবং জবাবদিহিমূলক ব্যবস্থাই দীর্ঘমেয়াদে ভালো ফল এনে দিতে পারে। টেনেসির অভিজ্ঞতা এখন অন্য অনেক অঞ্চলের জন্যও একটি গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ হয়ে উঠছে।

 

জনপ্রিয় সংবাদ

স্কুলে সহিংসতা ঠেকাতে আগে বদলাতে হবে আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি

টেনেসিতে বদলে যাচ্ছে শিক্ষার চিত্র, গ্রীষ্মকালীন ক্লাস ও নিবিড় সহায়তায় ফিরছে শিক্ষার্থীদের শেখার গতি

০৭:২৫:৫১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২ জুলাই ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্রের টেনেসি অঙ্গরাজ্যে কয়েক বছর ধরে চালু হওয়া বাধ্যতামূলক গ্রীষ্মকালীন স্কুল, নিবিড় ব্যক্তিগত সহায়তা এবং পড়া-লেখার মৌলিক দক্ষতার ওপর জোর দেওয়ার উদ্যোগ ইতোমধ্যে আশাব্যঞ্জক ফল দেখাতে শুরু করেছে। বিশেষ করে যেসব শিক্ষার্থী পড়াশোনায় পিছিয়ে পড়েছিল, তারা আবারও শেখার গতি ফিরে পাচ্ছে।

শিক্ষাবিদদের মতে, মহামারির সময় শিক্ষায় যে বড় ধাক্কা লেগেছিল, তার প্রভাব এখনও পুরোপুরি কাটেনি। তবে টেনেসির অভিজ্ঞতা দেখাচ্ছে, পরিকল্পিত উদ্যোগ এবং ধারাবাহিক নজরদারির মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের শেখার ঘাটতি অনেকটাই পূরণ করা সম্ভব।

শেখার ভিত্তি শক্ত করার উদ্যোগ

টেনেসির বিভিন্ন স্কুলে গ্রীষ্মকালীন ছুটির মধ্যেও ছোট ছোট দলে শিক্ষার্থীদের নিয়ে বিশেষ ক্লাস চলছে। এসব শ্রেণিকক্ষে একজন শিক্ষক অল্পসংখ্যক শিক্ষার্থীর সঙ্গে সরাসরি কাজ করছেন। পড়া, লেখা ও গণিতের মৌলিক বিষয়গুলো বারবার অনুশীলনের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের আত্মবিশ্বাস বাড়ানো হচ্ছে।

শিক্ষকরা শব্দ ভেঙে পড়া, উচ্চারণ ঠিক করা, বাক্য বোঝা এবং ধাপে ধাপে পড়ার দক্ষতা বাড়ানোর ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছেন। কোনো শিক্ষার্থী আটকে গেলে সঙ্গে সঙ্গে তাকে আলাদা করে সহায়তা করা হচ্ছে, যাতে সে নিজের ভুল বুঝে এগিয়ে যেতে পারে।

উন্নতির পেছনে একাধিক পদক্ষেপ

টেনেসির সাফল্য কোনো একক উদ্যোগের ফল নয়। রাজ্যজুড়ে উন্নত পাঠ্যসামগ্রী ব্যবহার বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। পাশাপাশি শিক্ষকদের আধুনিক ও গবেষণাভিত্তিক পদ্ধতিতে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। প্রতিটি স্কুল এবং শিক্ষার্থীর অগ্রগতি নিয়মিত মূল্যায়ন করা হচ্ছে।

National Test Scores Are Dropping. This State Is Fighting Back. - WSJ

পড়ার দক্ষতায় নির্ধারিত মানে না পৌঁছানো তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থীদের জন্য গ্রীষ্মকালীন বিশেষ ক্লাসে অংশ নেওয়া বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। সেখানে পর্যাপ্ত উন্নতি দেখাতে পারলেই তারা পরবর্তী শ্রেণিতে ওঠার সুযোগ পাচ্ছে।

পরিসংখ্যানে মিলছে অগ্রগতির প্রমাণ

সাম্প্রতিক কয়েক বছরে গণিত ও পড়ার দক্ষতায় টেনেসির উন্নতি যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম সেরা হিসেবে বিবেচিত হয়েছে। একসময় শিক্ষার মানের দিক থেকে পিছিয়ে থাকা এই অঙ্গরাজ্য এখন দেশের শীর্ষস্থানীয় রাজ্যগুলোর সঙ্গে প্রতিযোগিতা করছে।

২০২১ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে তৃতীয় শ্রেণির প্রতি চারজন শিক্ষার্থীর একজন গ্রীষ্মকালীন শিক্ষা শিবির, নিবিড় সহায়তা অথবা উভয় কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছে। একই সময়ে শ্রেণি পুনরাবৃত্তি করতে বাধ্য হওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যাও ধারাবাহিকভাবে কমেছে, যা শেখার উন্নতির একটি গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত।

ছোট ক্লাসে বেশি মনোযোগ

টেনেসির বিভিন্ন শিক্ষা শিবিরে সাধারণত একেকটি শ্রেণিতে শিক্ষার্থীর সংখ্যা সীমিত রাখা হচ্ছে। এতে শিক্ষক প্রত্যেক শিক্ষার্থীর শেখার অগ্রগতি আলাদাভাবে পর্যবেক্ষণ করতে পারছেন। অনেক শিক্ষকই এসব কর্মসূচিতে অংশ নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন, যা এই উদ্যোগের জনপ্রিয়তাও তুলে ধরছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু অতিরিক্ত ক্লাস নিলেই হবে না; শিক্ষার্থীর দুর্বলতা চিহ্নিত করে নিয়মিত অনুশীলন, দক্ষ শিক্ষক এবং জবাবদিহিমূলক ব্যবস্থাই দীর্ঘমেয়াদে ভালো ফল এনে দিতে পারে। টেনেসির অভিজ্ঞতা এখন অন্য অনেক অঞ্চলের জন্যও একটি গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ হয়ে উঠছে।