১১:৫০ অপরাহ্ন, শনিবার, ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
স্কুলে সহিংসতা ঠেকাতে আগে বদলাতে হবে আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি জেন জি-র ‘ফ্রেন্ডস’ বানানোর চেষ্টা চলছে, কিন্তু কেন তা অসম্ভব সঙ্কুচিত পোশাক কি নষ্ট না করেই আগের মাপে ফেরানো সম্ভব? ডায়মন্ড লিগের ফাইনালে তৃতীয় অ্যামি হান্ট, দুর্দান্ত ছন্দে ছুটছেন ব্রিটিশ তারকা মারাঠি না জানলে ঝুঁকিতে লাইসেন্স, মহারাষ্ট্রে ট্যাক্সি ও অটোরিকশাচালকদের মিলল আরও এক বছর বয়স বাড়লেই জীবন থেমে যায় না, বরং আসে নিজের মতো বাঁচার স্বাধীনতা: প্রু লেইথ দাঁতের চিকিৎসকের কাছে যাওয়ার পথে বজ্রপাতে আহত, ‘ভয়াবহ’ অভিজ্ঞতার কথা জানালেন নিউইয়র্কের যুবক পেন্টাগনের নিয়ন্ত্রণ কি হারাচ্ছেন পিট হেগসেথ? আফ্রিকার প্রকৃত আয়তন তুলে ধরা মানচিত্রের পক্ষে জাতিসংঘের ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত সন্তান হত্যার মামলায় রায় হয়নি, লিন্ডসে ক্ল্যান্সিকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে তীব্র বিতর্ক

টেমসের ‘বোনাস‑বন্যা’তে সরকারি বাঁধ

  • Sarakhon Report
  • ০১:৩০:৪৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ মে ২০২৫
  • 306

সারাক্ষণ রিপোর্ট

ব্রিটেনের বৃহত্তম পানি সরবরাহকারী টেমস ওয়াটারের শীর্ষ নির্বাহীদের লক্ষাধিক পাউন্ডের বোনাস পরিকল্পনার খবর প্রকাশ্যে আসতেই তীব্র সমালোচনা শুরু হয়। কোম্পানিটি টিকে থাকার জন্য ৩ বিলিয়ন পাউন্ড জরুরি ঋণ নিচ্ছে, অথচ সেই ঋণ থেকেই “দক্ষ কর্মী ধরে রাখতে” মোটা অঙ্কের বোনাস দিতে চায় বলে স্বীকার করেছে।

সরকারের নতুন সিদ্ধান্ত

• পরিবেশ মন্ত্রী স্টিভ রিড পার্লামেন্টে ‘ওয়াটার (স্পেশাল মেজার্স) বিল’ পেশ করেছেন।
• বিল পাস হলে নিয়ন্ত্রক সংস্থা অফওয়াট ২০২৪ এপ্রিল থেকে ২০২٥ এপ্রিল পর্যন্ত দেওয়া যেকোনো বোনাস ফিরিয়ে নিতে পারবে।
• মন্ত্রীর হুঁশিয়ারি: “ব্যর্থতা থেকে লাভ করার যুগ শেষ।”

কোম্পানির আর্থিক দুরবস্থা

• টেমস ওয়াটার গত বছর দেউলিয়ার কাছাকাছি পৌঁছায়।
• মোট ঋণ প্রায় ২০ বিলিয়ন পাউন্ড; ১৬ মিলিয়ন গ্রাহক ও ৮ হাজার কর্মী রয়েছে।
• রেকর্ড পরিমাণ দূষণ ও অপর্যাপ্ত অবকাঠামো বিনিয়োগের অভিযোগে জরিমানা আরোপিত হয়েছে।

ঋণদাতারা ও বোনাসের শর্ত

• য়ার্ষ ৯.৭৫ শতাংশ সুদে ৩ বিলিয়ন পাউন্ড ঋণ দিয়েছে অ্যাবারডিন, ইনসাইট ইনভেস্টমেন্ট, হেডজ ফান্ড এলিয়ট, সিলভার পয়েন্টসহ বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠান।
• ঋণচুক্তিতেই বোনাস দেওয়ার শর্ত যোগ করেছে ঋণদাতারা; তারা দাবি করছে, এই অর্থ তাদের তহবিল থেকেই আসবে, গ্রাহকের বিল থেকে নয়।
• বোনাস তিন ধাপে পরিশোধ—পুনর্গঠন পরিকল্পনার প্রতিটি ধাপ শেষে বড় অঙ্ক দেওয়া হবে।

নির্বাহীদের আয়-বোনাসের বৈষম্য

• সিইও ক্রিস ওয়েস্টন চাকরিতে যোগ দেওয়ার প্রথম তিন মাসেই ১ লাখ ৯৫ হাজার পাউন্ড বোনাসসহ মোট ২৩ লাখ পাউন্ড পেয়েছেন।
• তার সম্ভাব্য মোট বোনাস মূল বেতনের ১৫৬ শতাংশ পর্যন্ত হতে পারে, যেখানে সাধারণ কর্মীরা পায় মাত্র ৩–৬ শতাংশ।
• ২০২৩ সালে জল কোম্পানিগুলোর নির্বাহীরা মোট ৯.১ মিলিয়ন পাউন্ড বোনাস নেন, যদিও দূষণ বেড়ে ৪০ শতাংশ।

জাতীয়করণ ও বিশেষ প্রশাসনের ঝুঁকি

• যুক্তরাষ্ট্রের প্রাইভেট ইকুইটি কোম্পানি KKR ৪ বিলিয়ন পাউন্ড বিনিয়োগে আগ্রহী।
• জুনের মধ্যে চুক্তি না হলেও সরকার অস্থায়ীভাবে কোম্পানিটি রাষ্ট্রীয় তত্ত্বাবধানে নিতে পারে।
• ব্যর্থ হলে ‘স্পেশাল অ্যাডমিনিস্ট্রেশন রেজিম’ (SAR) বাস্তবায়ন করতে হবে।

গ্রাহকের ওপর সম্ভাব্য চাপ

• টেমস ওয়াটার ইতিমধ্যে বিল বাড়িয়েছে এবং সামনের পাঁচ বছরে ৫৯ শতাংশ বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছে; এটি এখন প্রতিযোগিতা ও বাজার কর্তৃপক্ষের পর্যালোচনায় আটকে আছে।
• যথেষ্ট বৃষ্টি না হলে গ্রীষ্মে দেশজুড়ে হোসপাইপ নিষেধাজ্ঞা হতে পারে; গড় জলাধার পূরণতা ৮৫ শতাংশের নিচে নেমেছে।
• গত ৩০ বছরে ইংল্যান্ডে নতুন কোনো জলাধার তৈরি হয়নি, ফলে খরার ঝুঁকি বাড়ছে।

কোম্পানির প্রতিক্রিয়া

টেমস ওয়াটার বলেছে, “জটিল পুনর্গঠন, গ্রাহক ও পরিবেশকে সুরক্ষা এবং দীর্ঘমেয়াদি আর্থিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে দক্ষ কর্মী ধরে রাখা জরুরি।”

সর্বোপরি, সরকারি বিধি কড়াকড়ি আরোপের ফলে টেমস ওয়াটারের নির্বাহীদের বোনাস পাওয়ার রাস্তা বন্ধ হতে চলেছে। ঋণদাতাদের চাপ, বিশাল ঋণ, পরিবেশগত জরিমানা ও সম্ভাব্য জাতীয়করণের কাঁটাতার পেরিয়ে প্রতিষ্ঠানটি আদৌ কীভাবে পুনর্গঠন শেষ করবে—তা এখন সময়ই বলে দেবে।

জনপ্রিয় সংবাদ

স্কুলে সহিংসতা ঠেকাতে আগে বদলাতে হবে আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি

টেমসের ‘বোনাস‑বন্যা’তে সরকারি বাঁধ

০১:৩০:৪৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ মে ২০২৫

সারাক্ষণ রিপোর্ট

ব্রিটেনের বৃহত্তম পানি সরবরাহকারী টেমস ওয়াটারের শীর্ষ নির্বাহীদের লক্ষাধিক পাউন্ডের বোনাস পরিকল্পনার খবর প্রকাশ্যে আসতেই তীব্র সমালোচনা শুরু হয়। কোম্পানিটি টিকে থাকার জন্য ৩ বিলিয়ন পাউন্ড জরুরি ঋণ নিচ্ছে, অথচ সেই ঋণ থেকেই “দক্ষ কর্মী ধরে রাখতে” মোটা অঙ্কের বোনাস দিতে চায় বলে স্বীকার করেছে।

সরকারের নতুন সিদ্ধান্ত

• পরিবেশ মন্ত্রী স্টিভ রিড পার্লামেন্টে ‘ওয়াটার (স্পেশাল মেজার্স) বিল’ পেশ করেছেন।
• বিল পাস হলে নিয়ন্ত্রক সংস্থা অফওয়াট ২০২৪ এপ্রিল থেকে ২০২٥ এপ্রিল পর্যন্ত দেওয়া যেকোনো বোনাস ফিরিয়ে নিতে পারবে।
• মন্ত্রীর হুঁশিয়ারি: “ব্যর্থতা থেকে লাভ করার যুগ শেষ।”

কোম্পানির আর্থিক দুরবস্থা

• টেমস ওয়াটার গত বছর দেউলিয়ার কাছাকাছি পৌঁছায়।
• মোট ঋণ প্রায় ২০ বিলিয়ন পাউন্ড; ১৬ মিলিয়ন গ্রাহক ও ৮ হাজার কর্মী রয়েছে।
• রেকর্ড পরিমাণ দূষণ ও অপর্যাপ্ত অবকাঠামো বিনিয়োগের অভিযোগে জরিমানা আরোপিত হয়েছে।

ঋণদাতারা ও বোনাসের শর্ত

• য়ার্ষ ৯.৭৫ শতাংশ সুদে ৩ বিলিয়ন পাউন্ড ঋণ দিয়েছে অ্যাবারডিন, ইনসাইট ইনভেস্টমেন্ট, হেডজ ফান্ড এলিয়ট, সিলভার পয়েন্টসহ বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠান।
• ঋণচুক্তিতেই বোনাস দেওয়ার শর্ত যোগ করেছে ঋণদাতারা; তারা দাবি করছে, এই অর্থ তাদের তহবিল থেকেই আসবে, গ্রাহকের বিল থেকে নয়।
• বোনাস তিন ধাপে পরিশোধ—পুনর্গঠন পরিকল্পনার প্রতিটি ধাপ শেষে বড় অঙ্ক দেওয়া হবে।

নির্বাহীদের আয়-বোনাসের বৈষম্য

• সিইও ক্রিস ওয়েস্টন চাকরিতে যোগ দেওয়ার প্রথম তিন মাসেই ১ লাখ ৯৫ হাজার পাউন্ড বোনাসসহ মোট ২৩ লাখ পাউন্ড পেয়েছেন।
• তার সম্ভাব্য মোট বোনাস মূল বেতনের ১৫৬ শতাংশ পর্যন্ত হতে পারে, যেখানে সাধারণ কর্মীরা পায় মাত্র ৩–৬ শতাংশ।
• ২০২৩ সালে জল কোম্পানিগুলোর নির্বাহীরা মোট ৯.১ মিলিয়ন পাউন্ড বোনাস নেন, যদিও দূষণ বেড়ে ৪০ শতাংশ।

জাতীয়করণ ও বিশেষ প্রশাসনের ঝুঁকি

• যুক্তরাষ্ট্রের প্রাইভেট ইকুইটি কোম্পানি KKR ৪ বিলিয়ন পাউন্ড বিনিয়োগে আগ্রহী।
• জুনের মধ্যে চুক্তি না হলেও সরকার অস্থায়ীভাবে কোম্পানিটি রাষ্ট্রীয় তত্ত্বাবধানে নিতে পারে।
• ব্যর্থ হলে ‘স্পেশাল অ্যাডমিনিস্ট্রেশন রেজিম’ (SAR) বাস্তবায়ন করতে হবে।

গ্রাহকের ওপর সম্ভাব্য চাপ

• টেমস ওয়াটার ইতিমধ্যে বিল বাড়িয়েছে এবং সামনের পাঁচ বছরে ৫৯ শতাংশ বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছে; এটি এখন প্রতিযোগিতা ও বাজার কর্তৃপক্ষের পর্যালোচনায় আটকে আছে।
• যথেষ্ট বৃষ্টি না হলে গ্রীষ্মে দেশজুড়ে হোসপাইপ নিষেধাজ্ঞা হতে পারে; গড় জলাধার পূরণতা ৮৫ শতাংশের নিচে নেমেছে।
• গত ৩০ বছরে ইংল্যান্ডে নতুন কোনো জলাধার তৈরি হয়নি, ফলে খরার ঝুঁকি বাড়ছে।

কোম্পানির প্রতিক্রিয়া

টেমস ওয়াটার বলেছে, “জটিল পুনর্গঠন, গ্রাহক ও পরিবেশকে সুরক্ষা এবং দীর্ঘমেয়াদি আর্থিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে দক্ষ কর্মী ধরে রাখা জরুরি।”

সর্বোপরি, সরকারি বিধি কড়াকড়ি আরোপের ফলে টেমস ওয়াটারের নির্বাহীদের বোনাস পাওয়ার রাস্তা বন্ধ হতে চলেছে। ঋণদাতাদের চাপ, বিশাল ঋণ, পরিবেশগত জরিমানা ও সম্ভাব্য জাতীয়করণের কাঁটাতার পেরিয়ে প্রতিষ্ঠানটি আদৌ কীভাবে পুনর্গঠন শেষ করবে—তা এখন সময়ই বলে দেবে।