০৩:১৬ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
স্কুলে সহিংসতা ঠেকাতে আগে বদলাতে হবে আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি জেন জি-র ‘ফ্রেন্ডস’ বানানোর চেষ্টা চলছে, কিন্তু কেন তা অসম্ভব সঙ্কুচিত পোশাক কি নষ্ট না করেই আগের মাপে ফেরানো সম্ভব? ডায়মন্ড লিগের ফাইনালে তৃতীয় অ্যামি হান্ট, দুর্দান্ত ছন্দে ছুটছেন ব্রিটিশ তারকা মারাঠি না জানলে ঝুঁকিতে লাইসেন্স, মহারাষ্ট্রে ট্যাক্সি ও অটোরিকশাচালকদের মিলল আরও এক বছর বয়স বাড়লেই জীবন থেমে যায় না, বরং আসে নিজের মতো বাঁচার স্বাধীনতা: প্রু লেইথ দাঁতের চিকিৎসকের কাছে যাওয়ার পথে বজ্রপাতে আহত, ‘ভয়াবহ’ অভিজ্ঞতার কথা জানালেন নিউইয়র্কের যুবক পেন্টাগনের নিয়ন্ত্রণ কি হারাচ্ছেন পিট হেগসেথ? আফ্রিকার প্রকৃত আয়তন তুলে ধরা মানচিত্রের পক্ষে জাতিসংঘের ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত সন্তান হত্যার মামলায় রায় হয়নি, লিন্ডসে ক্ল্যান্সিকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে তীব্র বিতর্ক

ট্রাম্পের কড়া বার্তা: ইরানকে পরমাণু অস্ত্র না রাখতে বাধ্য করাই মূল শর্ত

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আসন্ন ইরান-যুক্তরাষ্ট্র শান্তি আলোচনার আগে স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, ইরান যেন কোনোভাবেই পরমাণু অস্ত্র অর্জন করতে না পারে—এটাই তার সবচেয়ে বড় এবং প্রায় অচলাবস্থা তৈরি করা শর্ত। একই সঙ্গে তিনি সতর্ক করেছেন, হরমুজ প্রণালী খোলা রাখা হবে—ইরানের সমর্থন থাকুক বা না থাকুক।

শান্তি আলোচনার আগে ট্রাম্পের অবস্থান

ওয়াশিংটন ছেড়ে এক অভ্যন্তরীণ সফরে যাওয়ার সময় সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে ট্রাম্প বলেন, ইরানের সঙ্গে যে কোনো চুক্তির মূল ভিত্তি হতে হবে তাদের কাছে কোনো পরমাণু অস্ত্র না থাকা। তিনি জোর দিয়ে বলেন, “পরমাণু অস্ত্র নয়—এটাই ৯৯ শতাংশ বিষয়।”

তিনি আরও জানান, হরমুজ প্রণালী যেভাবেই হোক খোলা রাখা হবে। বিশ্বে জ্বালানি সরবরাহের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই পথ দিয়ে প্রায় এক-পঞ্চমাংশ অপরিশোধিত তেল পরিবাহিত হয়। তাই এই ইস্যুটি ইসলামাবাদের আলোচনায় বড় ভূমিকা রাখবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

Pakistan Prepares for US-Iran Talks with Anxiety - Kashmir Observer

হরমুজ প্রণালী নিয়ে কড়া বার্তা

ট্রাম্প বলেন, প্রয়োজনে ইরানের অংশগ্রহণ ছাড়াই যুক্তরাষ্ট্র উপসাগরীয় এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ চালু রাখবে। তার মতে, বিষয়টি দ্রুত সমাধান হওয়া উচিত, আর না হলে যুক্তরাষ্ট্র নিজেই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেবে।

পাকিস্তানে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনা

দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতির পর পশ্চিম এশিয়ার উত্তেজনা কমাতে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সকে পাকিস্তানে পাঠানো হয়েছে। তার সঙ্গে রয়েছেন বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনার। তারা প্যারিসে সংক্ষিপ্ত যাত্রাবিরতি শেষে ইসলামাবাদের উদ্দেশ্যে রওনা হন।

অন্যদিকে, ইরানের প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন দেশটির পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাকের গালিবাফ এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি। তারা ইতোমধ্যে পাকিস্তানের রাজধানীতে পৌঁছেছেন।

ট্রাম্প ইরান যুদ্ধ শেষ করতে 'ব্যাকুল', বললেন জেডি ভ্যান্স

উভয় পক্ষের সতর্ক অবস্থান

পাকিস্তানের পথে থাকা অবস্থায় ভ্যান্স বলেন, তিনি ইতিবাচক ফলাফলের আশা করছেন। তবে সতর্ক করে দেন, যদি ইরান কৌশল করে আলোচনা প্রভাবিত করার চেষ্টা করে, তাহলে যুক্তরাষ্ট্রের দল কঠোর অবস্থান নেবে।

ইরানের পক্ষ থেকেও সতর্ক বার্তা এসেছে। গালিবাফ বলেন, তাদের সদিচ্ছা আছে, কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি আস্থা নেই। অতীত অভিজ্ঞতায় তারা বারবার প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের মুখে পড়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।

শর্ত না মানলে আলোচনা শুরু নয়

তেহরান জানিয়েছে, তাদের নির্দিষ্ট কিছু শর্ত পূরণ না হলে আলোচনা শুরু হবে না। এর মধ্যে রয়েছে লেবাননে যুদ্ধবিরতি কার্যকর করা এবং ইরানের জব্দকৃত সম্পদ মুক্ত করা।

তবে ইসরায়েল ইতোমধ্যে জানিয়ে দিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধবিরতি লেবাননের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়। ফলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে।

যুদ্ধের মানবিক মূল্য

লেবাননের কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, কয়েক সপ্তাহের সংঘাতে অন্তত ১,৯৫০ জন নিহত হয়েছে। যুদ্ধবিরতির প্রথম পূর্ণ দিনেই ইসরায়েলের হামলায় ৩৫০ জনের বেশি মানুষ প্রাণ হারিয়েছে, যা পরিস্থিতির নাজুকতা আরও স্পষ্ট করে তুলেছে।

A Primer on Lebanon—History, Palestine and Resistance to Israeli Violence -  MERIP

জনপ্রিয় সংবাদ

স্কুলে সহিংসতা ঠেকাতে আগে বদলাতে হবে আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি

ট্রাম্পের কড়া বার্তা: ইরানকে পরমাণু অস্ত্র না রাখতে বাধ্য করাই মূল শর্ত

১২:২৬:১৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ১১ এপ্রিল ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আসন্ন ইরান-যুক্তরাষ্ট্র শান্তি আলোচনার আগে স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, ইরান যেন কোনোভাবেই পরমাণু অস্ত্র অর্জন করতে না পারে—এটাই তার সবচেয়ে বড় এবং প্রায় অচলাবস্থা তৈরি করা শর্ত। একই সঙ্গে তিনি সতর্ক করেছেন, হরমুজ প্রণালী খোলা রাখা হবে—ইরানের সমর্থন থাকুক বা না থাকুক।

শান্তি আলোচনার আগে ট্রাম্পের অবস্থান

ওয়াশিংটন ছেড়ে এক অভ্যন্তরীণ সফরে যাওয়ার সময় সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে ট্রাম্প বলেন, ইরানের সঙ্গে যে কোনো চুক্তির মূল ভিত্তি হতে হবে তাদের কাছে কোনো পরমাণু অস্ত্র না থাকা। তিনি জোর দিয়ে বলেন, “পরমাণু অস্ত্র নয়—এটাই ৯৯ শতাংশ বিষয়।”

তিনি আরও জানান, হরমুজ প্রণালী যেভাবেই হোক খোলা রাখা হবে। বিশ্বে জ্বালানি সরবরাহের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই পথ দিয়ে প্রায় এক-পঞ্চমাংশ অপরিশোধিত তেল পরিবাহিত হয়। তাই এই ইস্যুটি ইসলামাবাদের আলোচনায় বড় ভূমিকা রাখবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

Pakistan Prepares for US-Iran Talks with Anxiety - Kashmir Observer

হরমুজ প্রণালী নিয়ে কড়া বার্তা

ট্রাম্প বলেন, প্রয়োজনে ইরানের অংশগ্রহণ ছাড়াই যুক্তরাষ্ট্র উপসাগরীয় এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ চালু রাখবে। তার মতে, বিষয়টি দ্রুত সমাধান হওয়া উচিত, আর না হলে যুক্তরাষ্ট্র নিজেই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেবে।

পাকিস্তানে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনা

দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতির পর পশ্চিম এশিয়ার উত্তেজনা কমাতে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সকে পাকিস্তানে পাঠানো হয়েছে। তার সঙ্গে রয়েছেন বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনার। তারা প্যারিসে সংক্ষিপ্ত যাত্রাবিরতি শেষে ইসলামাবাদের উদ্দেশ্যে রওনা হন।

অন্যদিকে, ইরানের প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন দেশটির পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাকের গালিবাফ এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি। তারা ইতোমধ্যে পাকিস্তানের রাজধানীতে পৌঁছেছেন।

ট্রাম্প ইরান যুদ্ধ শেষ করতে 'ব্যাকুল', বললেন জেডি ভ্যান্স

উভয় পক্ষের সতর্ক অবস্থান

পাকিস্তানের পথে থাকা অবস্থায় ভ্যান্স বলেন, তিনি ইতিবাচক ফলাফলের আশা করছেন। তবে সতর্ক করে দেন, যদি ইরান কৌশল করে আলোচনা প্রভাবিত করার চেষ্টা করে, তাহলে যুক্তরাষ্ট্রের দল কঠোর অবস্থান নেবে।

ইরানের পক্ষ থেকেও সতর্ক বার্তা এসেছে। গালিবাফ বলেন, তাদের সদিচ্ছা আছে, কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি আস্থা নেই। অতীত অভিজ্ঞতায় তারা বারবার প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের মুখে পড়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।

শর্ত না মানলে আলোচনা শুরু নয়

তেহরান জানিয়েছে, তাদের নির্দিষ্ট কিছু শর্ত পূরণ না হলে আলোচনা শুরু হবে না। এর মধ্যে রয়েছে লেবাননে যুদ্ধবিরতি কার্যকর করা এবং ইরানের জব্দকৃত সম্পদ মুক্ত করা।

তবে ইসরায়েল ইতোমধ্যে জানিয়ে দিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধবিরতি লেবাননের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়। ফলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে।

যুদ্ধের মানবিক মূল্য

লেবাননের কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, কয়েক সপ্তাহের সংঘাতে অন্তত ১,৯৫০ জন নিহত হয়েছে। যুদ্ধবিরতির প্রথম পূর্ণ দিনেই ইসরায়েলের হামলায় ৩৫০ জনের বেশি মানুষ প্রাণ হারিয়েছে, যা পরিস্থিতির নাজুকতা আরও স্পষ্ট করে তুলেছে।

A Primer on Lebanon—History, Palestine and Resistance to Israeli Violence -  MERIP