০৪:৫৩ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
স্কুলে সহিংসতা ঠেকাতে আগে বদলাতে হবে আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি জেন জি-র ‘ফ্রেন্ডস’ বানানোর চেষ্টা চলছে, কিন্তু কেন তা অসম্ভব সঙ্কুচিত পোশাক কি নষ্ট না করেই আগের মাপে ফেরানো সম্ভব? ডায়মন্ড লিগের ফাইনালে তৃতীয় অ্যামি হান্ট, দুর্দান্ত ছন্দে ছুটছেন ব্রিটিশ তারকা মারাঠি না জানলে ঝুঁকিতে লাইসেন্স, মহারাষ্ট্রে ট্যাক্সি ও অটোরিকশাচালকদের মিলল আরও এক বছর বয়স বাড়লেই জীবন থেমে যায় না, বরং আসে নিজের মতো বাঁচার স্বাধীনতা: প্রু লেইথ দাঁতের চিকিৎসকের কাছে যাওয়ার পথে বজ্রপাতে আহত, ‘ভয়াবহ’ অভিজ্ঞতার কথা জানালেন নিউইয়র্কের যুবক পেন্টাগনের নিয়ন্ত্রণ কি হারাচ্ছেন পিট হেগসেথ? আফ্রিকার প্রকৃত আয়তন তুলে ধরা মানচিত্রের পক্ষে জাতিসংঘের ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত সন্তান হত্যার মামলায় রায় হয়নি, লিন্ডসে ক্ল্যান্সিকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে তীব্র বিতর্ক

ট্রাম্পের ঝড় সামলে টিকে গেল ন্যাটো, তবে ইউরোপের সামনে অনিশ্চয়তার নতুন অধ্যায়

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ঘিরে শঙ্কা, উত্তেজনা ও কূটনৈতিক নাটকের মধ্য দিয়েই শেষ হয়েছে এবারের ন্যাটো শীর্ষ সম্মেলন। সম্মেলনের শুরুতে জোট নিয়ে কঠোর অবস্থান নেওয়া ট্রাম্প শেষ পর্যন্ত সদস্য দেশগুলোর সঙ্গে যৌথ ঘোষণায় স্বাক্ষর করেন। এতে সম্মিলিত প্রতিরক্ষার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত হওয়ায় তাৎক্ষণিক সংকট এড়ানো সম্ভব হলেও ইউরোপের নীতিনির্ধারকদের উদ্বেগ পুরোপুরি কাটেনি।

আপাত সংকট কাটলেও শঙ্কা রয়ে গেছে

সম্মেলনের আগে ট্রাম্প ইউরোপে মার্কিন সেনা উপস্থিতি কমানোর হুমকি দেন। একই সঙ্গে তিনি কয়েকটি মিত্র দেশের প্রতি অসন্তোষও প্রকাশ করেন। এতে ন্যাটোর ভবিষ্যৎ নিয়ে জল্পনা তৈরি হলেও শেষ পর্যন্ত সম্মেলন ভাঙনের পরিবর্তে ঐক্যের বার্তা দিয়েই শেষ হয়।

যৌথ ঘোষণায় সদস্য দেশগুলো সম্মিলিত নিরাপত্তার নীতির প্রতি দৃঢ় প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করে। তবে ইউরোপের অনেকেরই ধারণা, এই সমর্থন দীর্ঘমেয়াদে কতটা স্থায়ী হবে, তা এখনই নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না।

Trump threatens to remove all US troops from Europe

ইউরোপ বাড়াচ্ছে নিজস্ব প্রতিরক্ষা সক্ষমতা

সাম্প্রতিক অভিজ্ঞতা ইউরোপীয় দেশগুলোকে নিজেদের সামরিক সক্ষমতা আরও জোরদার করার দিকে ঠেলে দিয়েছে। দীর্ঘপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র, আকাশে জ্বালানি সরবরাহকারী বিমান, দূরপাল্লার ড্রোনসহ বিভিন্ন প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় নতুন বিনিয়োগের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

এর লক্ষ্য শুধু সম্ভাব্য নিরাপত্তা ঝুঁকি মোকাবিলা নয়, বরং এমন সক্ষমতা গড়ে তোলা যাতে ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্রের ওপর নির্ভরতা কিছুটা হলেও কমানো যায়।

ইউক্রেন পেল নতুন আশার বার্তা

সম্মেলনের অন্যতম বড় অর্জন এসেছে ইউক্রেনের জন্য। দেশটির আকাশ প্রতিরক্ষা শক্তিশালী করতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রতিরক্ষা ক্ষেপণাস্ত্রের উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ানোর বিষয়ে ইতিবাচক অগ্রগতির ইঙ্গিত মিলেছে।

রাশিয়ার ধারাবাহিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলার মুখে ইউক্রেনের জন্য এটি গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। যদিও বাস্তবে উৎপাদন শুরু করে কার্যকর ফল পেতে সময় লাগবে, তবু এটি ভবিষ্যতের জন্য একটি বড় কৌশলগত পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

একই সঙ্গে ইউক্রেনের দূরপাল্লার হামলা রাশিয়ার ওপর চাপ সৃষ্টি করছে বলেও সম্মেলনে ইতিবাচক মূল্যায়ন উঠে আসে। ধারণা করা হচ্ছে, এই চাপ ভবিষ্যতে আলোচনার পথও কিছুটা প্রশস্ত করতে পারে।

NATO Headquarters | NATO Topic

তুরস্কও পেল কূটনৈতিক সুবিধা

সম্মেলনের আরেকটি বড় লাভবান দেশ তুরস্ক। দীর্ঘদিন ধরে আটকে থাকা আধুনিক যুদ্ধবিমান সরবরাহ এবং প্রতিরক্ষা-সংক্রান্ত নিষেধাজ্ঞা শিথিল করার বিষয়ে ইতিবাচক বার্তা পাওয়ায় আঙ্কারার জন্য নতুন সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

তবে বিষয়টি এখনও চূড়ান্ত নয়। বিভিন্ন রাজনৈতিক ও কৌশলগত শর্ত পূরণের বিষয়টি সামনে রয়েছে। ফলে সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে আরও সময় লাগতে পারে।

সামনে কী অপেক্ষা করছে?

সম্মেলন আপাতদৃষ্টিতে সফল হলেও ন্যাটোর ভেতরের মৌলিক প্রশ্নগুলোর সমাধান হয়নি। ইউরোপীয় দেশগুলো এখন বুঝতে পারছে, ভবিষ্যতের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নিজেদের প্রতিরক্ষা শিল্প, প্রযুক্তি ও সামরিক সক্ষমতায় আরও বেশি বিনিয়োগের বিকল্প নেই।

এ কারণেই অনেকের মতে, এবারের সম্মেলন ন্যাটোকে তাৎক্ষণিক সংকট থেকে রক্ষা করলেও ভবিষ্যতের অনিশ্চয়তা পুরোপুরি দূর করতে পারেনি। বরং এটি ইউরোপকে আরও আত্মনির্ভর প্রতিরক্ষা কাঠামো গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তাই নতুন করে সামনে নিয়ে এসেছে।

 

 

জনপ্রিয় সংবাদ

স্কুলে সহিংসতা ঠেকাতে আগে বদলাতে হবে আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি

ট্রাম্পের ঝড় সামলে টিকে গেল ন্যাটো, তবে ইউরোপের সামনে অনিশ্চয়তার নতুন অধ্যায়

০৪:০৭:০২ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৩ জুলাই ২০২৬

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ঘিরে শঙ্কা, উত্তেজনা ও কূটনৈতিক নাটকের মধ্য দিয়েই শেষ হয়েছে এবারের ন্যাটো শীর্ষ সম্মেলন। সম্মেলনের শুরুতে জোট নিয়ে কঠোর অবস্থান নেওয়া ট্রাম্প শেষ পর্যন্ত সদস্য দেশগুলোর সঙ্গে যৌথ ঘোষণায় স্বাক্ষর করেন। এতে সম্মিলিত প্রতিরক্ষার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত হওয়ায় তাৎক্ষণিক সংকট এড়ানো সম্ভব হলেও ইউরোপের নীতিনির্ধারকদের উদ্বেগ পুরোপুরি কাটেনি।

আপাত সংকট কাটলেও শঙ্কা রয়ে গেছে

সম্মেলনের আগে ট্রাম্প ইউরোপে মার্কিন সেনা উপস্থিতি কমানোর হুমকি দেন। একই সঙ্গে তিনি কয়েকটি মিত্র দেশের প্রতি অসন্তোষও প্রকাশ করেন। এতে ন্যাটোর ভবিষ্যৎ নিয়ে জল্পনা তৈরি হলেও শেষ পর্যন্ত সম্মেলন ভাঙনের পরিবর্তে ঐক্যের বার্তা দিয়েই শেষ হয়।

যৌথ ঘোষণায় সদস্য দেশগুলো সম্মিলিত নিরাপত্তার নীতির প্রতি দৃঢ় প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করে। তবে ইউরোপের অনেকেরই ধারণা, এই সমর্থন দীর্ঘমেয়াদে কতটা স্থায়ী হবে, তা এখনই নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না।

Trump threatens to remove all US troops from Europe

ইউরোপ বাড়াচ্ছে নিজস্ব প্রতিরক্ষা সক্ষমতা

সাম্প্রতিক অভিজ্ঞতা ইউরোপীয় দেশগুলোকে নিজেদের সামরিক সক্ষমতা আরও জোরদার করার দিকে ঠেলে দিয়েছে। দীর্ঘপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র, আকাশে জ্বালানি সরবরাহকারী বিমান, দূরপাল্লার ড্রোনসহ বিভিন্ন প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় নতুন বিনিয়োগের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

এর লক্ষ্য শুধু সম্ভাব্য নিরাপত্তা ঝুঁকি মোকাবিলা নয়, বরং এমন সক্ষমতা গড়ে তোলা যাতে ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্রের ওপর নির্ভরতা কিছুটা হলেও কমানো যায়।

ইউক্রেন পেল নতুন আশার বার্তা

সম্মেলনের অন্যতম বড় অর্জন এসেছে ইউক্রেনের জন্য। দেশটির আকাশ প্রতিরক্ষা শক্তিশালী করতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রতিরক্ষা ক্ষেপণাস্ত্রের উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ানোর বিষয়ে ইতিবাচক অগ্রগতির ইঙ্গিত মিলেছে।

রাশিয়ার ধারাবাহিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলার মুখে ইউক্রেনের জন্য এটি গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। যদিও বাস্তবে উৎপাদন শুরু করে কার্যকর ফল পেতে সময় লাগবে, তবু এটি ভবিষ্যতের জন্য একটি বড় কৌশলগত পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

একই সঙ্গে ইউক্রেনের দূরপাল্লার হামলা রাশিয়ার ওপর চাপ সৃষ্টি করছে বলেও সম্মেলনে ইতিবাচক মূল্যায়ন উঠে আসে। ধারণা করা হচ্ছে, এই চাপ ভবিষ্যতে আলোচনার পথও কিছুটা প্রশস্ত করতে পারে।

NATO Headquarters | NATO Topic

তুরস্কও পেল কূটনৈতিক সুবিধা

সম্মেলনের আরেকটি বড় লাভবান দেশ তুরস্ক। দীর্ঘদিন ধরে আটকে থাকা আধুনিক যুদ্ধবিমান সরবরাহ এবং প্রতিরক্ষা-সংক্রান্ত নিষেধাজ্ঞা শিথিল করার বিষয়ে ইতিবাচক বার্তা পাওয়ায় আঙ্কারার জন্য নতুন সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

তবে বিষয়টি এখনও চূড়ান্ত নয়। বিভিন্ন রাজনৈতিক ও কৌশলগত শর্ত পূরণের বিষয়টি সামনে রয়েছে। ফলে সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে আরও সময় লাগতে পারে।

সামনে কী অপেক্ষা করছে?

সম্মেলন আপাতদৃষ্টিতে সফল হলেও ন্যাটোর ভেতরের মৌলিক প্রশ্নগুলোর সমাধান হয়নি। ইউরোপীয় দেশগুলো এখন বুঝতে পারছে, ভবিষ্যতের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নিজেদের প্রতিরক্ষা শিল্প, প্রযুক্তি ও সামরিক সক্ষমতায় আরও বেশি বিনিয়োগের বিকল্প নেই।

এ কারণেই অনেকের মতে, এবারের সম্মেলন ন্যাটোকে তাৎক্ষণিক সংকট থেকে রক্ষা করলেও ভবিষ্যতের অনিশ্চয়তা পুরোপুরি দূর করতে পারেনি। বরং এটি ইউরোপকে আরও আত্মনির্ভর প্রতিরক্ষা কাঠামো গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তাই নতুন করে সামনে নিয়ে এসেছে।