০৬:৪৩ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
স্কুলে সহিংসতা ঠেকাতে আগে বদলাতে হবে আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি জেন জি-র ‘ফ্রেন্ডস’ বানানোর চেষ্টা চলছে, কিন্তু কেন তা অসম্ভব সঙ্কুচিত পোশাক কি নষ্ট না করেই আগের মাপে ফেরানো সম্ভব? ডায়মন্ড লিগের ফাইনালে তৃতীয় অ্যামি হান্ট, দুর্দান্ত ছন্দে ছুটছেন ব্রিটিশ তারকা মারাঠি না জানলে ঝুঁকিতে লাইসেন্স, মহারাষ্ট্রে ট্যাক্সি ও অটোরিকশাচালকদের মিলল আরও এক বছর বয়স বাড়লেই জীবন থেমে যায় না, বরং আসে নিজের মতো বাঁচার স্বাধীনতা: প্রু লেইথ দাঁতের চিকিৎসকের কাছে যাওয়ার পথে বজ্রপাতে আহত, ‘ভয়াবহ’ অভিজ্ঞতার কথা জানালেন নিউইয়র্কের যুবক পেন্টাগনের নিয়ন্ত্রণ কি হারাচ্ছেন পিট হেগসেথ? আফ্রিকার প্রকৃত আয়তন তুলে ধরা মানচিত্রের পক্ষে জাতিসংঘের ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত সন্তান হত্যার মামলায় রায় হয়নি, লিন্ডসে ক্ল্যান্সিকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে তীব্র বিতর্ক

ট্রাম্পের বেইজিং সফর অনিশ্চিত, ইরানে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল হামলার প্রভাব বিশ্লেষকদের সতর্কবার্তা

হিউস্টন থেকে পাওয়া বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ সামরিক হামলার পর যুক্তরাষ্ট্র-চীন সম্পর্ক এক স্পর্শকাতর মুহূর্তে দাঁড়িয়ে। এরই মধ্যে আগামী ৩১ মার্চ বেইজিং সফরের সূচি রয়েছে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের। তবে সাম্প্রতিক পরিস্থিতিতে এই উচ্চপর্যায়ের বৈঠক নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

সফর স্থগিত বা বাতিলের আশঙ্কা

দ্য এশিয়া গ্রুপের চীনবিষয়ক ব্যবস্থাপনা পরিচালক হান লিন মনে করেন, সফরটি স্থগিত বা বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা ‘নিম্ন থেকে মাঝারি’ পর্যায়ে রয়েছে। তিনি জানান, ফেব্রুয়ারিতে মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয়ের একটি উচ্চপর্যায়ের দল চীনে গিয়ে সম্ভাব্য সফর নিয়ে আলোচনা করেছিল। তখন পরিস্থিতি ইতিবাচক ছিল এবং সফর হওয়ার সম্ভাবনা প্রায় ৮০ শতাংশ বলে মনে করা হয়েছিল।

কিন্তু ইরানে হামলার পর পরিস্থিতি বদলে গেছে। হোয়াইট হাউসের ভেতরে এমন মতও রয়েছে যে, এই মুহূর্তে ট্রাম্পের চীন সফর না করাই ভালো।

বিশ্ব প্রতিদ্বন্দ্বিতার নতুন সমীকরণ

বিশ্লেষকদের মতে, ইরানে হামলা যুক্তরাষ্ট্র-চীন বৈশ্বিক প্রতিদ্বন্দ্বিতাকে আরও তীব্র করেছে। হান লিনের ভাষায়, যুক্তরাষ্ট্র ইতোমধ্যে নানা আন্তর্জাতিক ইস্যুতে ব্যস্ত ও চাপের মুখে রয়েছে, আর চীন পরিস্থিতি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। প্রতিটি আঞ্চলিক সংকট এখন দুই শক্তিধর দেশের বৈশ্বিক প্রতিযোগিতার এক ধরনের পরীক্ষাক্ষেত্রে পরিণত হচ্ছে।

শুল্কনীতি নিয়ে আদালতের রায়

ফেব্রুয়ারি ২০ তারিখে যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট ট্রাম্পের পারস্পরিক শুল্ক আরোপের সিদ্ধান্ত বাতিল করে দেয়। এতে কূটনৈতিক সমীকরণেও পরিবর্তন আসে। বিশ্লেষকদের মতে, শুল্ককে চাপ প্রয়োগের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করার সুযোগ কমে যাওয়ায় ট্রাম্পের দরকষাকষির অবস্থান দুর্বল হয়েছে।

এই প্রেক্ষাপটে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং কেবল সীমিত ও প্রতীকী ছাড় দিতে পারেন বলেই ধারণা করা হচ্ছে।

সম্ভাব্য নীরব সময় পরিবর্তন

হান লিন মনে করেন, সফর সরাসরি বাতিল না করে ‘নীরব সময় পরিবর্তন’ করা হতে পারে। অর্থাৎ আনুষ্ঠানিক ঘোষণা ছাড়াই তারিখ পেছানো হতে পারে, যদি দুই পক্ষ মনে করে বর্তমান পরিস্থিতিতে সফর না করাই কূটনৈতিকভাবে সুবিধাজনক।

অন্য মত: সফর হতে পারে

তবে ইউরেশিয়া গ্রুপের ডেভিড মিলি, যিনি সাবেক মার্কিন কূটনীতিক, মনে করেন সফরটি শেষ পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি। তার মতে, ট্রাম্প একদিকে ইরান পরিস্থিতি সামাল দিতে সক্ষম, অন্যদিকে বৃহত্তর পররাষ্ট্রনীতির লক্ষ্যেও মনোযোগ ধরে রাখতে পারেন।

তিনি আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে উচ্চপর্যায়ের বৈঠকের আগে কিছুটা অনিশ্চয়তা থাকাটা অস্বাভাবিক নয়। অতীত অভিজ্ঞতায় দেখা গেছে, সফরের আগমুহূর্তে নানা জল্পনা-কল্পনা থাকলেও শেষ পর্যন্ত বৈঠক সম্পন্ন হয়েছে।

কঠোর অবস্থানের সম্ভাবনা

বিশ্লেষকরা সতর্ক করছেন, যদি ট্রাম্প মনে করেন চীনের সঙ্গে সম্পৃক্ততা থেকে রাজনৈতিক বা অর্থনৈতিক লাভ সীমিত, তাহলে সম্পর্কের ক্ষেত্রে উত্তেজনা আরও বাড়তে পারে। তখন চীনের বিরুদ্ধে আরও কঠোর পদক্ষেপ দ্রুত সামনে আসতে পারে।

চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ট্রাম্পের সম্ভাব্য সফরের বিষয়টি নিশ্চিত করলেও নির্দিষ্ট তারিখ আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করেনি।

সব মিলিয়ে, ইরানকে কেন্দ্র করে নতুন করে তীব্র হওয়া ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা ট্রাম্পের বেইজিং সফরকে অনিশ্চয়তার মুখে ঠেলে দিয়েছে। এখন নজর দুই পরাশক্তির কূটনৈতিক কৌশল ও পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে।

জনপ্রিয় সংবাদ

স্কুলে সহিংসতা ঠেকাতে আগে বদলাতে হবে আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি

ট্রাম্পের বেইজিং সফর অনিশ্চিত, ইরানে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল হামলার প্রভাব বিশ্লেষকদের সতর্কবার্তা

০৭:৩৫:০৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ১ মার্চ ২০২৬

হিউস্টন থেকে পাওয়া বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ সামরিক হামলার পর যুক্তরাষ্ট্র-চীন সম্পর্ক এক স্পর্শকাতর মুহূর্তে দাঁড়িয়ে। এরই মধ্যে আগামী ৩১ মার্চ বেইজিং সফরের সূচি রয়েছে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের। তবে সাম্প্রতিক পরিস্থিতিতে এই উচ্চপর্যায়ের বৈঠক নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

সফর স্থগিত বা বাতিলের আশঙ্কা

দ্য এশিয়া গ্রুপের চীনবিষয়ক ব্যবস্থাপনা পরিচালক হান লিন মনে করেন, সফরটি স্থগিত বা বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা ‘নিম্ন থেকে মাঝারি’ পর্যায়ে রয়েছে। তিনি জানান, ফেব্রুয়ারিতে মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয়ের একটি উচ্চপর্যায়ের দল চীনে গিয়ে সম্ভাব্য সফর নিয়ে আলোচনা করেছিল। তখন পরিস্থিতি ইতিবাচক ছিল এবং সফর হওয়ার সম্ভাবনা প্রায় ৮০ শতাংশ বলে মনে করা হয়েছিল।

কিন্তু ইরানে হামলার পর পরিস্থিতি বদলে গেছে। হোয়াইট হাউসের ভেতরে এমন মতও রয়েছে যে, এই মুহূর্তে ট্রাম্পের চীন সফর না করাই ভালো।

বিশ্ব প্রতিদ্বন্দ্বিতার নতুন সমীকরণ

বিশ্লেষকদের মতে, ইরানে হামলা যুক্তরাষ্ট্র-চীন বৈশ্বিক প্রতিদ্বন্দ্বিতাকে আরও তীব্র করেছে। হান লিনের ভাষায়, যুক্তরাষ্ট্র ইতোমধ্যে নানা আন্তর্জাতিক ইস্যুতে ব্যস্ত ও চাপের মুখে রয়েছে, আর চীন পরিস্থিতি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। প্রতিটি আঞ্চলিক সংকট এখন দুই শক্তিধর দেশের বৈশ্বিক প্রতিযোগিতার এক ধরনের পরীক্ষাক্ষেত্রে পরিণত হচ্ছে।

শুল্কনীতি নিয়ে আদালতের রায়

ফেব্রুয়ারি ২০ তারিখে যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট ট্রাম্পের পারস্পরিক শুল্ক আরোপের সিদ্ধান্ত বাতিল করে দেয়। এতে কূটনৈতিক সমীকরণেও পরিবর্তন আসে। বিশ্লেষকদের মতে, শুল্ককে চাপ প্রয়োগের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করার সুযোগ কমে যাওয়ায় ট্রাম্পের দরকষাকষির অবস্থান দুর্বল হয়েছে।

এই প্রেক্ষাপটে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং কেবল সীমিত ও প্রতীকী ছাড় দিতে পারেন বলেই ধারণা করা হচ্ছে।

সম্ভাব্য নীরব সময় পরিবর্তন

হান লিন মনে করেন, সফর সরাসরি বাতিল না করে ‘নীরব সময় পরিবর্তন’ করা হতে পারে। অর্থাৎ আনুষ্ঠানিক ঘোষণা ছাড়াই তারিখ পেছানো হতে পারে, যদি দুই পক্ষ মনে করে বর্তমান পরিস্থিতিতে সফর না করাই কূটনৈতিকভাবে সুবিধাজনক।

অন্য মত: সফর হতে পারে

তবে ইউরেশিয়া গ্রুপের ডেভিড মিলি, যিনি সাবেক মার্কিন কূটনীতিক, মনে করেন সফরটি শেষ পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি। তার মতে, ট্রাম্প একদিকে ইরান পরিস্থিতি সামাল দিতে সক্ষম, অন্যদিকে বৃহত্তর পররাষ্ট্রনীতির লক্ষ্যেও মনোযোগ ধরে রাখতে পারেন।

তিনি আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে উচ্চপর্যায়ের বৈঠকের আগে কিছুটা অনিশ্চয়তা থাকাটা অস্বাভাবিক নয়। অতীত অভিজ্ঞতায় দেখা গেছে, সফরের আগমুহূর্তে নানা জল্পনা-কল্পনা থাকলেও শেষ পর্যন্ত বৈঠক সম্পন্ন হয়েছে।

কঠোর অবস্থানের সম্ভাবনা

বিশ্লেষকরা সতর্ক করছেন, যদি ট্রাম্প মনে করেন চীনের সঙ্গে সম্পৃক্ততা থেকে রাজনৈতিক বা অর্থনৈতিক লাভ সীমিত, তাহলে সম্পর্কের ক্ষেত্রে উত্তেজনা আরও বাড়তে পারে। তখন চীনের বিরুদ্ধে আরও কঠোর পদক্ষেপ দ্রুত সামনে আসতে পারে।

চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ট্রাম্পের সম্ভাব্য সফরের বিষয়টি নিশ্চিত করলেও নির্দিষ্ট তারিখ আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করেনি।

সব মিলিয়ে, ইরানকে কেন্দ্র করে নতুন করে তীব্র হওয়া ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা ট্রাম্পের বেইজিং সফরকে অনিশ্চয়তার মুখে ঠেলে দিয়েছে। এখন নজর দুই পরাশক্তির কূটনৈতিক কৌশল ও পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে।