যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের গ্রিনল্যান্ড দখলের হুমকির মধ্যে প্রথমবারের মতো নতুন নিয়োগপ্রাপ্ত সেনাদের গ্রিনল্যান্ডে মোতায়েন করেছে ডেনমার্ক। আর্কটিক অঞ্চলের এই ভূখণ্ডের ওপর নিজেদের নিয়ন্ত্রণ আরও দৃঢ় করতেই কোপেনহেগেন এ পদক্ষেপ নিয়েছে।
ডেনমার্কের সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, আগস্টের শুরুতে শ্লেসভিগ পদাতিক রেজিমেন্টের প্রায় ১০০ সেনা গ্রিনল্যান্ডের রাজধানী নুক-এ পৌঁছেছেন। সেখানে তারা সামরিক প্রশিক্ষণের পাশাপাশি বিভিন্ন কার্যক্রমে অংশ নেবেন। একদল সেনাকে নুকে রাখা হয়েছে, আর অন্যদের পাঠানো হয়েছে প্রায় ৩৫০ কিলোমিটার উত্তরে কানগেরলুসুয়াক এলাকায়। সেখানে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ ও স্নায়ুযুদ্ধের সময় যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী একটি বিমানঘাঁটি ব্যবহার করত।
দীর্ঘমেয়াদি সামরিক প্রশিক্ষণে নতুন সেনারা
গ্রিনল্যান্ডে মোতায়েন হওয়া সেনারা ডেনমার্কের সামরিক বাহিনীতে প্রথমবারের মতো ১১ মাসের দায়িত্ব পালনের জন্য নিয়োগ পেয়েছেন। এর আগে ২০২৪ সালে ডেনমার্ক বাধ্যতামূলক সামরিক প্রশিক্ষণের মেয়াদ চার মাস থেকে বাড়িয়ে ১১ মাস করে। একই সঙ্গে নারীদেরও বাধ্যতামূলক নিয়োগের আওতায় আনা হয় এবং বছরে সেনা নিয়োগের সংখ্যা ৫ হাজার থেকে বাড়িয়ে ৭ হাজার করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

ডেনমার্কের সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, অপরিচিত ও কঠিন পরিবেশে সেনাদের সামরিক দক্ষতা অনুশীলনের সুযোগ দিতেই এই মোতায়েন। তবে গ্রিনল্যান্ড নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান উত্তেজনার বিষয়টি বিবৃতিতে সরাসরি উল্লেখ করা হয়নি।
ট্রাম্পের গ্রিনল্যান্ড দখলের হুমকি
গ্রিনল্যান্ড দখলের ইচ্ছার কথা গত বছর থেকেই প্রকাশ্যে বলে আসছেন ট্রাম্প। জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে যুক্তরাষ্ট্রের এই বিশাল ভূখণ্ড প্রয়োজন বলে দাবি করেছেন তিনি। একই সঙ্গে গ্রিনল্যান্ডের বিরল খনিজ সম্পদের প্রতিও যুক্তরাষ্ট্রের আগ্রহের কথা জানিয়েছেন।
ট্রাম্প ও তাঁর প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তারা গ্রিনল্যান্ড দখলে সামরিক শক্তি ব্যবহারের সম্ভাবনা উড়িয়ে না দেওয়ার পর জানুয়ারিতে ডেনমার্ক ‘আর্কটিক এন্ডুরেন্স’ নামে সামরিক মহড়া শুরু করে। এই মহড়ায় ফ্রান্স, জার্মানি ও যুক্তরাজ্যসহ ন্যাটোর আরও ১১টি দেশ অংশ নিচ্ছে।
মহড়াটি অবশ্য সীমিত পরিসরের। সেনা মোতায়েনের আগে একসঙ্গে গ্রিনল্যান্ডে ডেনমার্ক ও মিত্র দেশগুলোর ৩০০-এর কম সেনা অবস্থান করছিলেন।
সামরিক সংঘাতের আশঙ্কা কম, তবু প্রস্তুতি ডেনমার্কের
ডেনমার্কের সরকারি ও সামরিক সূত্রের বরাতে দেশটির গণমাধ্যম জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সরাসরি সশস্ত্র সংঘাতকে অত্যন্ত অসম্ভব হিসেবেই দেখছে কোপেনহেগেন। তবে সম্ভাব্য ঝুঁকি মোকাবিলায় গ্রিনল্যান্ডে সেনা রাখাকে এক ধরনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
গ্রিনল্যান্ডে বিভিন্ন মিত্র দেশের সেনা উপস্থিতি বাড়ানোর মাধ্যমে ডেনমার্ক এমন একটি পরিস্থিতি তৈরি করতে চাইছে, যেখানে যুক্তরাষ্ট্র যদি সামরিকভাবে ভূখণ্ডটি দখল করতে চায়, তাহলে তাকে প্রকাশ্য বৈরী পদক্ষেপ নিতে হবে।
গ্রিনল্যান্ড নিয়ে উত্তেজনা বাড়ছে
গত মাসে একটি মার্কিন তেল কোম্পানি গ্রিনল্যান্ডে খননকাজের সরঞ্জাম নিয়ে যাওয়ার পরও বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় আসে। এর পর ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গ্রিনল্যান্ডকে সামনে রেখে নিজের একটি ছবি প্রকাশ করেন এবং লেখেন, ‘হ্যালো, গ্রিনল্যান্ড!’
ফলে আর্কটিক অঞ্চলের কৌশলগত ও প্রাকৃতিক সম্পদসমৃদ্ধ এই ভূখণ্ডকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও ডেনমার্কের রাজনৈতিক উত্তেজনার পাশাপাশি সামরিক তৎপরতাও বাড়ছে।
গ্রিনল্যান্ড বর্তমানে ডেনমার্কের রাজ্যের অংশ হলেও ব্যাপক স্বায়ত্তশাসন ভোগ করে। ভূখণ্ডটির ভবিষ্যৎ নিয়ন্ত্রণ নিয়ে ট্রাম্পের প্রকাশ্য অবস্থান ডেনমার্কের জন্য নতুন নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে।
গ্রিনল্যান্ডে ডেনমার্কের নতুন সেনা মোতায়েন সেই উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতিতে কোপেনহেগেনের অবস্থান আরও স্পষ্ট করল।
গ্রিনল্যান্ডে ডেনমার্কের সেনা মোতায়েন ও ট্রাম্পের দখলের হুমকি নিয়ে নতুন করে তৈরি হয়েছে আর্কটিক অঞ্চলের নিরাপত্তা উদ্বেগ।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















