০২:২২ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
স্কুলে সহিংসতা ঠেকাতে আগে বদলাতে হবে আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি জেন জি-র ‘ফ্রেন্ডস’ বানানোর চেষ্টা চলছে, কিন্তু কেন তা অসম্ভব সঙ্কুচিত পোশাক কি নষ্ট না করেই আগের মাপে ফেরানো সম্ভব? ডায়মন্ড লিগের ফাইনালে তৃতীয় অ্যামি হান্ট, দুর্দান্ত ছন্দে ছুটছেন ব্রিটিশ তারকা মারাঠি না জানলে ঝুঁকিতে লাইসেন্স, মহারাষ্ট্রে ট্যাক্সি ও অটোরিকশাচালকদের মিলল আরও এক বছর বয়স বাড়লেই জীবন থেমে যায় না, বরং আসে নিজের মতো বাঁচার স্বাধীনতা: প্রু লেইথ দাঁতের চিকিৎসকের কাছে যাওয়ার পথে বজ্রপাতে আহত, ‘ভয়াবহ’ অভিজ্ঞতার কথা জানালেন নিউইয়র্কের যুবক পেন্টাগনের নিয়ন্ত্রণ কি হারাচ্ছেন পিট হেগসেথ? আফ্রিকার প্রকৃত আয়তন তুলে ধরা মানচিত্রের পক্ষে জাতিসংঘের ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত সন্তান হত্যার মামলায় রায় হয়নি, লিন্ডসে ক্ল্যান্সিকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে তীব্র বিতর্ক

ট্রাম্প কি পিছু হটছেন, না  কূটনৈতিক কৌশল, কেন কথা বলতে চান ইরানের সঙ্গে

ইরান-যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল উত্তেজনার মধ্যেই হঠাৎ সুর বদলেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। যুদ্ধ পরিস্থিতি চলমান থাকলেও তিনি ইরানের নেতাদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। প্রশ্ন উঠেছে, এটি কি কূটনৈতিক কৌশলের পরিবর্তন, নাকি সংঘাত প্রশমনের নতুন উদ্যোগ।

ইরান-যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল উত্তেজনার মধ্যে নতুন কূটনৈতিক ইঙ্গিত দেখা দিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, তিনি ইরানের নেতাদের সঙ্গে কথা বলবেন। তবে কবে সেই আলোচনা হবে, তা স্পষ্ট করেননি। এদিকে মধ্যস্থতাকারী দেশ ওমান যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানিয়ে সংলাপে ফেরার তাগিদ দিয়েছে।

যুদ্ধের দ্বিতীয় দিনে ট্রাম্পের মন্তব্য

রবিবার এক প্রতিবেদনে ট্রাম্পকে উদ্ধৃত করে জানানো হয়, তিনি বলেছেন ইরানের নেতারা আলোচনায় আগ্রহ দেখিয়েছেন এবং তিনি সেই প্রস্তাবে সম্মত হয়েছেন। তাঁর ভাষায়, তারা কথা বলতে চায় এবং আমি রাজি হয়েছি, তাই আমি তাদের সঙ্গে কথা বলব। তবে তিনি আক্ষেপ করে বলেন, এই উদ্যোগ তাদের আরও আগে নেওয়া উচিত ছিল।

শপথের পর প্রথম কোন দেশ সফরে যাবেন ট্রাম্প?

যখন তাঁকে জিজ্ঞেস করা হয় ঠিক কবে এই আলোচনা হতে পারে, তখন ট্রাম্প বলেন, এখনই তা জানানো সম্ভব নয়। তিনি কার সঙ্গে সরাসরি কথা বলতে চান, সে বিষয়েও নির্দিষ্ট করে কিছু বলেননি।

ইরানের নেতৃত্বে বড় ধাক্কা

ট্রাম্প ইঙ্গিত দেন, ইরানের বর্তমান নেতৃত্বে বড় পরিবর্তন এসেছে। তিনি বলেন, যাদের সঙ্গে আগে আলোচনা চলছিল, তাদের অনেকেই আর নেই। এটি ছিল একটি বড় আঘাত। তাঁর এই মন্তব্য ইঙ্গিত করে সাম্প্রতিক হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি এবং আরও কয়েকজন শীর্ষ কর্মকর্তার নিহত হওয়ার ঘটনাকে।

ট্রাম্পের দাবি, ইরান চাইলে আগেই একটি সমঝোতায় পৌঁছাতে পারত। তাঁর মতে, তারা অতিরিক্ত কৌশল দেখাতে গিয়ে সুযোগ হারিয়েছে।

ওমানের মধ্যস্থতা ও যুদ্ধবিরতির আহ্বান

May be an image of text

এদিকে ওমানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বদর আলবুসাইদি ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচির সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেন। আলোচনায় তিনি যুদ্ধবিরতি এবং পুনরায় সংলাপ শুরুর আহ্বান জানান। ওমানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, সব পক্ষের ন্যায্য দাবিকে গুরুত্ব দিয়ে স্থিতিশীলতার পথে ফেরাই তাদের লক্ষ্য।

ইরানের পক্ষ থেকেও শান্তির আহ্বান জানানো হয়েছে বলে ওমানের বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়। আরাঘচি জানান, উত্তেজনা কমিয়ে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে যেকোনো গঠনমূলক প্রচেষ্টায় তেহরান উন্মুক্ত রয়েছে।

উত্তেজনার বিস্তার ও ওমানে হামলা

Israel hits Tehran again after killing Khamenei, leadership council takes  over | KSL.com

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিমান হামলার জবাবে ইরান দ্বিতীয় দিনের মতো পাল্টা হামলা চালায়। প্রথম দিনে উপসাগরীয় অঞ্চলের একমাত্র দেশ হিসেবে ওমান সরাসরি হামলা থেকে রক্ষা পেলেও পরদিন ডুকম বন্দরে দুটি ড্রোন হামলা চালানো হয়। এতে একজন বিদেশি কর্মী আহত হয়েছেন বলে রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে।

এই পরিস্থিতি মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনাকে আরও বাড়িয়ে তুলেছে। একদিকে সামরিক সংঘাত অব্যাহত, অন্যদিকে কূটনৈতিক তৎপরতাও চলছে সমান্তরালে। এখন প্রশ্ন, সম্ভাব্য আলোচনার মাধ্যমে পরিস্থিতি শান্ত হবে, নাকি সংঘাত আরও বিস্তৃত আকার নেবে।

May be an image of ambulance and text

জনপ্রিয় সংবাদ

স্কুলে সহিংসতা ঠেকাতে আগে বদলাতে হবে আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি

ট্রাম্প কি পিছু হটছেন, না  কূটনৈতিক কৌশল, কেন কথা বলতে চান ইরানের সঙ্গে

০৩:৫২:১২ অপরাহ্ন, সোমবার, ২ মার্চ ২০২৬

ইরান-যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল উত্তেজনার মধ্যেই হঠাৎ সুর বদলেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। যুদ্ধ পরিস্থিতি চলমান থাকলেও তিনি ইরানের নেতাদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। প্রশ্ন উঠেছে, এটি কি কূটনৈতিক কৌশলের পরিবর্তন, নাকি সংঘাত প্রশমনের নতুন উদ্যোগ।

ইরান-যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল উত্তেজনার মধ্যে নতুন কূটনৈতিক ইঙ্গিত দেখা দিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, তিনি ইরানের নেতাদের সঙ্গে কথা বলবেন। তবে কবে সেই আলোচনা হবে, তা স্পষ্ট করেননি। এদিকে মধ্যস্থতাকারী দেশ ওমান যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানিয়ে সংলাপে ফেরার তাগিদ দিয়েছে।

যুদ্ধের দ্বিতীয় দিনে ট্রাম্পের মন্তব্য

রবিবার এক প্রতিবেদনে ট্রাম্পকে উদ্ধৃত করে জানানো হয়, তিনি বলেছেন ইরানের নেতারা আলোচনায় আগ্রহ দেখিয়েছেন এবং তিনি সেই প্রস্তাবে সম্মত হয়েছেন। তাঁর ভাষায়, তারা কথা বলতে চায় এবং আমি রাজি হয়েছি, তাই আমি তাদের সঙ্গে কথা বলব। তবে তিনি আক্ষেপ করে বলেন, এই উদ্যোগ তাদের আরও আগে নেওয়া উচিত ছিল।

শপথের পর প্রথম কোন দেশ সফরে যাবেন ট্রাম্প?

যখন তাঁকে জিজ্ঞেস করা হয় ঠিক কবে এই আলোচনা হতে পারে, তখন ট্রাম্প বলেন, এখনই তা জানানো সম্ভব নয়। তিনি কার সঙ্গে সরাসরি কথা বলতে চান, সে বিষয়েও নির্দিষ্ট করে কিছু বলেননি।

ইরানের নেতৃত্বে বড় ধাক্কা

ট্রাম্প ইঙ্গিত দেন, ইরানের বর্তমান নেতৃত্বে বড় পরিবর্তন এসেছে। তিনি বলেন, যাদের সঙ্গে আগে আলোচনা চলছিল, তাদের অনেকেই আর নেই। এটি ছিল একটি বড় আঘাত। তাঁর এই মন্তব্য ইঙ্গিত করে সাম্প্রতিক হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি এবং আরও কয়েকজন শীর্ষ কর্মকর্তার নিহত হওয়ার ঘটনাকে।

ট্রাম্পের দাবি, ইরান চাইলে আগেই একটি সমঝোতায় পৌঁছাতে পারত। তাঁর মতে, তারা অতিরিক্ত কৌশল দেখাতে গিয়ে সুযোগ হারিয়েছে।

ওমানের মধ্যস্থতা ও যুদ্ধবিরতির আহ্বান

May be an image of text

এদিকে ওমানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বদর আলবুসাইদি ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচির সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেন। আলোচনায় তিনি যুদ্ধবিরতি এবং পুনরায় সংলাপ শুরুর আহ্বান জানান। ওমানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, সব পক্ষের ন্যায্য দাবিকে গুরুত্ব দিয়ে স্থিতিশীলতার পথে ফেরাই তাদের লক্ষ্য।

ইরানের পক্ষ থেকেও শান্তির আহ্বান জানানো হয়েছে বলে ওমানের বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়। আরাঘচি জানান, উত্তেজনা কমিয়ে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে যেকোনো গঠনমূলক প্রচেষ্টায় তেহরান উন্মুক্ত রয়েছে।

উত্তেজনার বিস্তার ও ওমানে হামলা

Israel hits Tehran again after killing Khamenei, leadership council takes  over | KSL.com

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিমান হামলার জবাবে ইরান দ্বিতীয় দিনের মতো পাল্টা হামলা চালায়। প্রথম দিনে উপসাগরীয় অঞ্চলের একমাত্র দেশ হিসেবে ওমান সরাসরি হামলা থেকে রক্ষা পেলেও পরদিন ডুকম বন্দরে দুটি ড্রোন হামলা চালানো হয়। এতে একজন বিদেশি কর্মী আহত হয়েছেন বলে রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে।

এই পরিস্থিতি মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনাকে আরও বাড়িয়ে তুলেছে। একদিকে সামরিক সংঘাত অব্যাহত, অন্যদিকে কূটনৈতিক তৎপরতাও চলছে সমান্তরালে। এখন প্রশ্ন, সম্ভাব্য আলোচনার মাধ্যমে পরিস্থিতি শান্ত হবে, নাকি সংঘাত আরও বিস্তৃত আকার নেবে।

May be an image of ambulance and text