ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জ সীমান্তে ভারতের অভ্যন্তরে বিএসএফের গুলিতে আসাদুল হক (৩৮) নামে এক বাংলাদেশি নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় মোস্তাকিম (৩২) ও শ্রী উদা রায় (৩৪) নামে আরও দুই বাংলাদেশি গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। আহত দুজনের অবস্থাও গুরুতর বলে জানা গেছে।
শনিবার ভোরে পীরগঞ্জ উপজেলার চান্দেরহাট বিওপির ৩৩৩ নম্বর মেইন পিলারের কাছাকাছি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
নিহত ও আহতরা একই এলাকার বাসিন্দা
নিহত আসাদুল হক পীরগঞ্জ উপজেলার বৈরচুনা ইউনিয়নের ইন্দ্রইল গ্রামের আব্দুল ওয়াজেদ উদ্দীনের ছেলে। আহত মোস্তাকিম একই এলাকার আহেদ আলীর ছেলে এবং শ্রী উদা রায় মুনষা নারায়ণের ছেলে। স্থানীয় সূত্রে তাদের পরিবারের বসবাসও একই এলাকায় বলে জানা গেছে।
স্থানীয়দের ভাষ্য, সীমান্তের ওই পিলার এলাকায় ভারতের ৬৩ চকশিবানন্দ বিএসএফ ক্যাম্পের একটি টহল দল গুলি চালায়। এতে তিন বাংলাদেশি গুরুতর আহত হন।
ভারতের হাসপাতালে ভর্তি, একজনের মৃত্যু
গুলিবিদ্ধ তিনজনকে পরে বিএসএফ সদস্যরা ভারতের কালিয়াগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আসাদুল হকের মৃত্যু হয়। আহত মোস্তাকিম ও শ্রী উদা রায়ের অবস্থাও গুরুতর বলে স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে।
বৈরচুনা ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য শাহাজাহান আলী বলেন, নিহত ও আহত তিনজনই ইউনিয়নের বাসিন্দা। ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের মাধ্যমে তারা আসাদুলের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত হয়েছেন। আহত দুজনের অবস্থাও ভালো নয় বলে জানান তিনি।
বিজিবির সঙ্গে বিএসএফের যোগাযোগ
ঘটনার বিষয়ে দিনাজপুর ৪২ বিজিবির অধিনায়ক লেফট্যানেন্ট কর্নেল আবদুল্লাহ আল মঈন বলেন, বিভিন্ন মাধ্যমে তারা ঘটনাটি জানতে পেরেছেন। তবে বিএসএফের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি।
তিনি জানান, বিস্তারিত তথ্য জানতে এবং পরবর্তী পদক্ষেপ নির্ধারণে বিএসএফের সঙ্গে যোগাযোগ করা হচ্ছে। রোববার পতাকা বৈঠক হলে ঘটনার বিষয়ে আরও বিস্তারিত তথ্য জানা যেতে পারে।
সীমান্তের ভারতের অংশে ঠিক কী পরিস্থিতিতে গুলির ঘটনা ঘটেছে, সে বিষয়ে বিজিবির পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত তথ্য এখনো জানানো হয়নি।

সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















