০২:১৮ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
স্কুলে সহিংসতা ঠেকাতে আগে বদলাতে হবে আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি জেন জি-র ‘ফ্রেন্ডস’ বানানোর চেষ্টা চলছে, কিন্তু কেন তা অসম্ভব সঙ্কুচিত পোশাক কি নষ্ট না করেই আগের মাপে ফেরানো সম্ভব? ডায়মন্ড লিগের ফাইনালে তৃতীয় অ্যামি হান্ট, দুর্দান্ত ছন্দে ছুটছেন ব্রিটিশ তারকা মারাঠি না জানলে ঝুঁকিতে লাইসেন্স, মহারাষ্ট্রে ট্যাক্সি ও অটোরিকশাচালকদের মিলল আরও এক বছর বয়স বাড়লেই জীবন থেমে যায় না, বরং আসে নিজের মতো বাঁচার স্বাধীনতা: প্রু লেইথ দাঁতের চিকিৎসকের কাছে যাওয়ার পথে বজ্রপাতে আহত, ‘ভয়াবহ’ অভিজ্ঞতার কথা জানালেন নিউইয়র্কের যুবক পেন্টাগনের নিয়ন্ত্রণ কি হারাচ্ছেন পিট হেগসেথ? আফ্রিকার প্রকৃত আয়তন তুলে ধরা মানচিত্রের পক্ষে জাতিসংঘের ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত সন্তান হত্যার মামলায় রায় হয়নি, লিন্ডসে ক্ল্যান্সিকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে তীব্র বিতর্ক

ডলার বন্ড তুলতে দৌড়াচ্ছে ভারতের চার বেসরকারি ব্যাংক

ভারতের চারটি বেসরকারি ব্যাংক চলতি আগস্টের শেষ হওয়ার আগেই আন্তর্জাতিক বাজার থেকে ডলার সংগ্রহের প্রস্তুতি দ্রুত এগিয়ে নিচ্ছে। দেশটির কেন্দ্রীয় ব্যাংকের একটি বৈদেশিক মুদ্রা বিনিময় সুবিধা নির্ধারিত সময়ের এক মাস আগেই বন্ধ হয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্তের পর এই তৎপরতা শুরু হয়েছে।

কোটাক মাহিন্দ্রা ব্যাংক, ইয়েস ব্যাংক, আইডিএফসি ফার্স্ট ব্যাংক ও ফেডারেল ব্যাংক—এই চার প্রতিষ্ঠান মিলিয়ে প্রায় ১৮৫ কোটি ডলার সংগ্রহের লক্ষ্য নিয়েছে। এসব ঋণের মেয়াদ সর্বোচ্চ পাঁচ বছর হতে পারে।

সময়ের আগেই বন্ধ হচ্ছে বিনিময় সুবিধা

ভারতের কেন্দ্রীয় ব্যাংক গত সপ্তাহে জানিয়েছে, প্রবাসী ভারতীয়দের বৈদেশিক মুদ্রা আমানতের জন্য চালু থাকা একটি বিনিময় সুবিধা আগামী ৩১ আগস্ট বন্ধ করে দেওয়া হবে। আগে এটি সেপ্টেম্বরের শেষ পর্যন্ত চালু রাখার পরিকল্পনা ছিল।

এই সিদ্ধান্তের ফলে ব্যাংকগুলো দ্রুত আন্তর্জাতিক ঋণবাজারে প্রবেশের চেষ্টা করছে। এরই মধ্যে আইসিআইসিআই ব্যাংক ও অ্যাক্সিস ব্যাংক একসঙ্গে ১০০ কোটি ডলারের বেশি সংগ্রহ করেছে।

India Kotak Mahindra Bank's 67% profit jump beats expectations | Reuters

কোটাক মাহিন্দ্রা ব্যাংক বর্তমানে সবচেয়ে এগিয়ে রয়েছে। ব্যাংকটি যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি বন্ডের সুদের হারের চেয়ে ১ দশমিক ০৮ শতাংশ বেশি সুদের প্রাথমিক নির্দেশনা দিয়েছে, যা আগের নির্দেশনার তুলনায় ০ দশমিক ২২ শতাংশীয় পয়েন্ট কম।

একজন ব্যাংকারের মতে, চলতি সপ্তাহের মধ্যেই কোটাকের ঋণ সংগ্রহের প্রক্রিয়া চূড়ান্ত হতে পারে। ফলে আগস্টের শেষ সপ্তাহে বাকি তিন ব্যাংককে বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে অর্থ সংগ্রহের জন্য দ্রুত এগোতে হবে।

ইয়েস ব্যাংকের জন্য বড় প্রত্যাবর্তন

ইয়েস ব্যাংক তিন বছর মেয়াদি ডলার বন্ড ছাড়ার জন্য বাণিজ্যিক ব্যাংক নিয়োগ করেছে। চলতি সপ্তাহেই সম্ভাব্য বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে আলোচনা শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।

২০২০ সালে স্থায়ী অতিরিক্ত মূলধন শ্রেণির বন্ডে খেলাপি হওয়ার পর এবারই প্রথমবারের মতো ইয়েস ব্যাংক আন্তর্জাতিক ঋণবাজারে প্রবেশ করতে যাচ্ছে।

অন্যদিকে তুলনামূলক ছোট প্রতিষ্ঠান ফেডারেল ব্যাংক ও আইডিএফসি ফার্স্ট ব্যাংক এবার প্রথমবার ডলার বন্ড বাজারে প্রবেশের প্রস্তুতি নিচ্ছে। তারা ইতোমধ্যে সম্ভাব্য বিনিয়োগকারীদের খোঁজ শুরু করেছে।

ডলার কেন আন্তর্জাতিক মুদ্রা

ভারতীয় ব্যাংকের ডলার সংগ্রহে রেকর্ড

এর আগে আইসিআইসিআই ব্যাংক পাঁচ বছর মেয়াদি বন্ডের মাধ্যমে ৭৫ কোটি ডলার সংগ্রহ করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি বন্ডের তুলনায় এর সুদের ব্যবধান ছিল ১ দশমিক ০৫ শতাংশীয় পয়েন্ট।

অন্যদিকে অ্যাক্সিস ব্যাংক তিন বছর তিন মাস মেয়াদি ডলার বন্ডের মাধ্যমে ৩০ কোটি ডলার সংগ্রহ করেছে। এতে সুদের ব্যবধান ছিল ০ দশমিক ৯৫ শতাংশীয় পয়েন্ট।

তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ৫ জুন এই বিশেষ সুবিধা চালুর পর থেকে ভারতীয় ব্যাংকগুলো সম্মিলিতভাবে প্রায় ৬৩০ কোটি ডলার সংগ্রহ করেছে। বছরের শুরুর দিকে যেখানে এই পরিমাণ ছিল মাত্র ৮৫ কোটি ডলার। ফলে একটি ক্যালেন্ডার বছরে ভারতীয় ব্যাংকগুলোর ডলার সংগ্রহের ক্ষেত্রে এটি নতুন রেকর্ড গড়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বিনিময় সুবিধা নির্ধারিত সময়ের আগে বন্ধ হয়ে যাওয়ায় আন্তর্জাতিক ঋণবাজার থেকে অর্থ সংগ্রহের প্রতিযোগিতা আরও তীব্র হতে পারে।

জনপ্রিয় সংবাদ

স্কুলে সহিংসতা ঠেকাতে আগে বদলাতে হবে আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি

ডলার বন্ড তুলতে দৌড়াচ্ছে ভারতের চার বেসরকারি ব্যাংক

১১:৩৫:৪৫ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৯ অগাস্ট ২০২৬

ভারতের চারটি বেসরকারি ব্যাংক চলতি আগস্টের শেষ হওয়ার আগেই আন্তর্জাতিক বাজার থেকে ডলার সংগ্রহের প্রস্তুতি দ্রুত এগিয়ে নিচ্ছে। দেশটির কেন্দ্রীয় ব্যাংকের একটি বৈদেশিক মুদ্রা বিনিময় সুবিধা নির্ধারিত সময়ের এক মাস আগেই বন্ধ হয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্তের পর এই তৎপরতা শুরু হয়েছে।

কোটাক মাহিন্দ্রা ব্যাংক, ইয়েস ব্যাংক, আইডিএফসি ফার্স্ট ব্যাংক ও ফেডারেল ব্যাংক—এই চার প্রতিষ্ঠান মিলিয়ে প্রায় ১৮৫ কোটি ডলার সংগ্রহের লক্ষ্য নিয়েছে। এসব ঋণের মেয়াদ সর্বোচ্চ পাঁচ বছর হতে পারে।

সময়ের আগেই বন্ধ হচ্ছে বিনিময় সুবিধা

ভারতের কেন্দ্রীয় ব্যাংক গত সপ্তাহে জানিয়েছে, প্রবাসী ভারতীয়দের বৈদেশিক মুদ্রা আমানতের জন্য চালু থাকা একটি বিনিময় সুবিধা আগামী ৩১ আগস্ট বন্ধ করে দেওয়া হবে। আগে এটি সেপ্টেম্বরের শেষ পর্যন্ত চালু রাখার পরিকল্পনা ছিল।

এই সিদ্ধান্তের ফলে ব্যাংকগুলো দ্রুত আন্তর্জাতিক ঋণবাজারে প্রবেশের চেষ্টা করছে। এরই মধ্যে আইসিআইসিআই ব্যাংক ও অ্যাক্সিস ব্যাংক একসঙ্গে ১০০ কোটি ডলারের বেশি সংগ্রহ করেছে।

India Kotak Mahindra Bank's 67% profit jump beats expectations | Reuters

কোটাক মাহিন্দ্রা ব্যাংক বর্তমানে সবচেয়ে এগিয়ে রয়েছে। ব্যাংকটি যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি বন্ডের সুদের হারের চেয়ে ১ দশমিক ০৮ শতাংশ বেশি সুদের প্রাথমিক নির্দেশনা দিয়েছে, যা আগের নির্দেশনার তুলনায় ০ দশমিক ২২ শতাংশীয় পয়েন্ট কম।

একজন ব্যাংকারের মতে, চলতি সপ্তাহের মধ্যেই কোটাকের ঋণ সংগ্রহের প্রক্রিয়া চূড়ান্ত হতে পারে। ফলে আগস্টের শেষ সপ্তাহে বাকি তিন ব্যাংককে বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে অর্থ সংগ্রহের জন্য দ্রুত এগোতে হবে।

ইয়েস ব্যাংকের জন্য বড় প্রত্যাবর্তন

ইয়েস ব্যাংক তিন বছর মেয়াদি ডলার বন্ড ছাড়ার জন্য বাণিজ্যিক ব্যাংক নিয়োগ করেছে। চলতি সপ্তাহেই সম্ভাব্য বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে আলোচনা শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।

২০২০ সালে স্থায়ী অতিরিক্ত মূলধন শ্রেণির বন্ডে খেলাপি হওয়ার পর এবারই প্রথমবারের মতো ইয়েস ব্যাংক আন্তর্জাতিক ঋণবাজারে প্রবেশ করতে যাচ্ছে।

অন্যদিকে তুলনামূলক ছোট প্রতিষ্ঠান ফেডারেল ব্যাংক ও আইডিএফসি ফার্স্ট ব্যাংক এবার প্রথমবার ডলার বন্ড বাজারে প্রবেশের প্রস্তুতি নিচ্ছে। তারা ইতোমধ্যে সম্ভাব্য বিনিয়োগকারীদের খোঁজ শুরু করেছে।

ডলার কেন আন্তর্জাতিক মুদ্রা

ভারতীয় ব্যাংকের ডলার সংগ্রহে রেকর্ড

এর আগে আইসিআইসিআই ব্যাংক পাঁচ বছর মেয়াদি বন্ডের মাধ্যমে ৭৫ কোটি ডলার সংগ্রহ করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি বন্ডের তুলনায় এর সুদের ব্যবধান ছিল ১ দশমিক ০৫ শতাংশীয় পয়েন্ট।

অন্যদিকে অ্যাক্সিস ব্যাংক তিন বছর তিন মাস মেয়াদি ডলার বন্ডের মাধ্যমে ৩০ কোটি ডলার সংগ্রহ করেছে। এতে সুদের ব্যবধান ছিল ০ দশমিক ৯৫ শতাংশীয় পয়েন্ট।

তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ৫ জুন এই বিশেষ সুবিধা চালুর পর থেকে ভারতীয় ব্যাংকগুলো সম্মিলিতভাবে প্রায় ৬৩০ কোটি ডলার সংগ্রহ করেছে। বছরের শুরুর দিকে যেখানে এই পরিমাণ ছিল মাত্র ৮৫ কোটি ডলার। ফলে একটি ক্যালেন্ডার বছরে ভারতীয় ব্যাংকগুলোর ডলার সংগ্রহের ক্ষেত্রে এটি নতুন রেকর্ড গড়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বিনিময় সুবিধা নির্ধারিত সময়ের আগে বন্ধ হয়ে যাওয়ায় আন্তর্জাতিক ঋণবাজার থেকে অর্থ সংগ্রহের প্রতিযোগিতা আরও তীব্র হতে পারে।